× ই-পেপার প্রচ্ছদ সর্বশেষ জাতীয় রাজনীতি সারা দেশ আন্তর্জাতিক অর্থনীতি খেলা বিনোদন মতামত চাকরি-ক্যারিয়ার শিক্ষা আজকের কার্টুন ফিচার সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

প্রশাসনে বড় পদোন্নতি: স্বস্তির পাশাপাশি নতুন বিতর্ক

ফসিহ উদ্দীন মাহতাব

প্রকাশ : ২ ঘণ্টা আগে

জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়। ফাইল ছবি

জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়। ফাইল ছবি

বিএনপি নেতৃত্বাধীন নতুন সরকারের প্রশাসনিক যাত্রায় এই প্রথম বড় পরিসরে পদোন্নতির সিদ্ধান্ত এলো। যুগ্ম সচিব পদে পদোন্নতি দেওয়া হলো বিসিএস প্রশাসন ক্যাডারের ১৭৯ জন উপসচিবকে। বৃহস্পতিবার জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের এক প্রজ্ঞাপনে ১৭২ জনকে পদোন্নতি দিয়ে যুগ্ম সচিব করার তথ্য জানানো হয়। পরে আরেক প্রজ্ঞাপনে বিভিন্ন দেশের দূতাবাস, হাইকমিশন ও দপ্তরে দায়িত্বরত সাতজন উপসচিবকে যুগ্ম সচিব পদে পদোন্নতি দেওয়ার কথা জানানো হয়। নতুন সরকারের প্রশাসন ক্যাডারে প্রথম বড় পরিসরের এই পদোন্নতি একটি তাৎপর্যপূর্ণ বার্তা বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা।

জনপ্রশাসন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, দীর্ঘদিন ধরে পদোন্নতির অপেক্ষায় থাকা কর্মকর্তাদের জন্য এ সিদ্ধান্ত স্বস্তি বয়ে এনেছে। তবে পদোন্নতি বঞ্চিত কয়েকটি ব্যাচের মধ্যে এ পদক্ষেপে আবার নতুন করে অসন্তোষ তৈরি হয়েছে। এদের মধ্যে সামনের সারিতেই রয়েছেন বিশেষ করে এবারও তালিকার বাইরে থাকা ২২তম বিসিএস প্রশাসন ক্যাডারের সেই কর্মকর্তারাÑ যারা আওয়ামী লীগ সরকারের শেষ সময় এবং অন্তর্বর্তী সরকারের আমলেও পদোন্নতি পাননি। ২৪তম ব্যাচের বেশ কয়েকজন কর্মকর্তাও রয়েছেন যারা পূর্ববর্তী সরকারের আমলের মতো এবারও পদোন্নতি পাননি। 

নিয়মিত পদোন্নতি বিবেচনায় ২৫তম ব্যাচ : জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় সূত্র জানাচ্ছে, এবারের পদোন্নতিতে মূলত নিয়মানুযায়ী ২৫তম বিসিএস প্রশাসন ক্যাডারের কর্মকর্তাদের যুগ্মসচিব পদে বিবেচনা করা হয়েছে। পাশাপাশি অন্তর্বর্তী সরকারের সময় বিভিন্ন কারণে পদোন্নতি থেকে বাদ পড়া ২৪তম ব্যাচের কয়েকজন কর্মকর্তাকেও এ পদক্ষেপের আওতায় আনা হয়েছে। তবে নতুন সিদ্ধান্ত ঘিরে অস্বস্তি দেখা দিয়েছে ২২তম ব্যাচের কারণে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের দাবি, তারা আওয়ামী লীগ ও অন্তর্বর্তী সরকারের সময় দুই দফায় পদোন্নতি বঞ্চিত হয়েছেন। তাদের প্রত্যাশা ছিল, নতুন সরকারের প্রথম পদোন্নতি তালিকায় তারা অন্তর্ভুক্ত হবেন। কিন্তু সেটি না হওয়ায় তাদের মধ্যে হতাশা ও ক্ষোভ তৈরি হয়েছে।

একজন পদোন্নতি বঞ্চিত কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, ‘ভেবেছিলাম নতুন সরকার আগের বৈষম্য দূর করবে। কিন্তু এবারও বিষয়টি বিবেচনায় নেওয়া হয়নি! এতে অনেকের মনোবল ভেঙে গেছে।’

পরিবর্তন আসছে মাঠ প্রশাসনে

পদোন্নতি পাওয়া কর্মকর্তাদের মধ্যে বর্তমানে দায়িত্ব পালনরত কয়েকজন জেলা প্রশাসকও রয়েছেন। ঢাকা, গাজীপুর, মাগুরাসহ বিভিন্ন জেলার জেলা প্রশাসক এই তালিকায় স্থান পেয়েছেন। প্রশাসন সংশ্লিষ্টরা বলছেন, যুগ্মসচিব পদে উন্নীত হওয়ার ফলে শিগগিরই মাঠ প্রশাসন এবং সচিবালয়ে নতুন করে দায়িত্ব পুনর্বিন্যাস হতে পারে। এতে জেলা প্রশাসনে এক দফা রদবদল ঘটার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।

জনপ্রশাসন কর্মকর্তারা জানান, বড় পরিসরের পদোন্নতির পর সাধারণত শূন্য পদ পূরণ এবং প্রশাসনের বিভিন্ন স্তরে ভারসাম্য বজায় রাখতে বদলির প্রক্রিয়া শুরু হয়। ফলে আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যে প্রশাসনে আরও কিছু গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত আসতে পারে।

প্রশাসন যে বার্তা পেল

নতুন সরকারের প্রথম বড় এ পদোন্নতিকে প্রশাসনের একটি অংশ ইতিবাচকভাবেই নিয়েছেন। তাদের মতে, দীর্ঘদিন ধরে পদোন্নতি আটকে থাকায় অনেক কর্মকর্তার মধ্যে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছিল। নতুন সরকার দ্রুত পদোন্নতির মাধ্যমে প্রশাসনে ইতিবাচক বার্তা দিয়েছেন। 

তবে অন্য একটি অংশের মতে, শুধু পদোন্নতির সংখ্যা বাড়ানো নয়, পদোন্নতির ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা, জ্যেষ্ঠতা, কর্মদক্ষতা এবং পেশাগত মূল্যায়নের বিষয়টি নিশ্চিত করাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। তা ছাড়া পদোন্নতি নিয়ে বিতর্ক পুরোপুরি দূর হবে না। 

বিশ্লেষকদের মতে, নতুন সরকারের প্রথম দিকের প্রশাসনিক সিদ্ধান্তগুলো সরকারি কর্মকর্তাদের কাছে সরকারের নীতিগত অবস্থান তুলে ধরে। সে দৃষ্টিকোণ থেকে ১৭৯ কর্মকর্তার একযোগে পদোন্নতি প্রশাসনের মনোবল বৃদ্ধির একটি প্রচেষ্টা হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।

তবে একই সঙ্গে পদোন্নতি বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অসন্তোষও সরকারের জন্য একটি চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে। কারণ দীর্ঘদিন ধরে প্রশাসনে পদোন্নতি নিয়ে রাজনৈতিক বিবেচনা, ব্যাচভিত্তিক বৈষম্য এবং মামলা-সংক্রান্ত জটিলতার অভিযোগ রয়েছে। নতুন সরকার এসব বিষয়ে কী ধরনের দীর্ঘমেয়াদি সংস্কার আনে, সেটিই এখন দেখার বিষয়। 

যা বলছেন জনপ্রশাসন বিশেষজ্ঞ

জনপ্রশাসন বিশেষজ্ঞ ও সাবেক সচিব আনোয়ার ফারুক মনে করেন, নতুন সরকারের প্রথম বড় পদোন্নতি প্রশাসনে ইতিবাচক বার্তা দিলেও এটি যেন কোনোভাবেই বিতর্কের জন্ম না দেয়, সেদিকে নজর রাখতে হবে।

তার ভাষায়, ‘পদোন্নতি সরকারি কর্মকর্তাদের স্বাভাবিক ক্যারিয়ার অগ্রগতির অংশ। এটি যদি নিয়ম, জ্যেষ্ঠতা, কর্মদক্ষতা ও গ্রহণযোগ্য মূল্যায়নের ভিত্তিতে হয়, তাহলে প্রশাসনের মনোবল বাড়ে এবং সেবার মান উন্নত হয়। কিন্তু কোনো ব্যাচ বা গোষ্ঠী যদি বারবার বঞ্চিত হয়, তাহলে অসন্তোষ তৈরি হয় এবং সেটি প্রশাসনের সামগ্রিক কার্যকারিতার ওপরও প্রভাব ফেলতে পারে।’

তিনি আরও বলেন, ‘নতুন সরকারের সামনে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হবে পদোন্নতি ব্যবস্থাকে এমনভাবে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেওয়া, যাতে ভবিষ্যতে কোনো কর্মকর্তা রাজনৈতিক বা অন্য কোনো অপ্রাসঙ্গিক কারণে নিজেকে বঞ্চিত মনে না করেন। যোগ্যতা, কর্মদক্ষতা এবং নির্ধারিত নীতিমালার ভিত্তিতে পদোন্নতির সংস্কৃতি প্রতিষ্ঠা করতে পারলে প্রশাসনের প্রতি আস্থা আরও বাড়বে।’

প্রশাসন বিশ্লেষকদের মতে, নতুন সরকারের এই পদোন্নতি একদিকে যেমন দীর্ঘদিনের অপেক্ষার অবসান ঘটিয়েছে, অন্যদিকে পদোন্নতি বঞ্চিত কর্মকর্তাদের প্রশ্নও সামনে এনেছে। ফলে এটিকে কেবল একটি প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত হিসেবে নয়, বরং নতুন সরকারের প্রশাসন পরিচালনার দর্শনের প্রথম গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা হিসেবেই দেখা হচ্ছে। আগামী দিনে পদায়ন, বদলি এবং পরবর্তী পদোন্নতির সিদ্ধান্তগুলোই নির্ধারণ করবে প্রশাসনের ভেতরে এই ইতিবাচক বার্তা কতটা টেকসই হয়েছে।

শেয়ার করুন-

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মারুফ কামাল খান

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮১০, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০ | ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০, +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮০৭, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৩৩২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা