প্রতীকী ছবি
স্বল্পোন্নত দেশের (এলডিসি) তালিকা থেকে বাংলাদেশের উত্তরণ তিন বছর পিছিয়ে দেওয়ার আবেদনের পক্ষে আন্তর্জাতিক সমর্থন আদায়ে নতুন কূটনৈতিক উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এ লক্ষ্যে আগামী সপ্তাহে জাতিসংঘের অর্থনৈতিক ও সামাজিক পরিষদের (ইকোসক) সদস্য দেশগুলোর প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠক করতে যুক্তরাষ্ট্র সফরে যাচ্ছে একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদল। সরকারের আশা, বর্তমান বৈশ্বিক ও অভ্যন্তরীণ অর্থনৈতিক বাস্তবতা তুলে ধরে সদস্য রাষ্ট্রগুলোর সমর্থন পাওয়া যাবে।
বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সূত্রে জানা গেছে, বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আবদুল মুক্তাদিরের নেতৃত্বে প্রতিনিধিদলটি ১৩ জুলাই বাংলাদেশ ছাড়বে এবং ১৯ জুলাই দেশে ফিরবে। দলে অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের (ইআরডি) সচিব শাহরিয়ার কাদের সিদ্দিকী, জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি, বেসরকারি খাতের অন্তত দুজন ব্যবসায়ী নেতা এবং সংশ্লিষ্ট সরকারি কর্মকর্তারা থাকবেন। ১৫ থেকে ১৮ জুলাই নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সদর দপ্তরে ইকোসকের সদস্য রাষ্ট্রগুলোর প্রতিনিধিদের সঙ্গে ধারাবাহিক বৈঠকের সূচি রয়েছে।
সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, বৈঠকগুলোতে এলডিসি উত্তরণ তিন বছর পিছিয়ে দেওয়ার আবেদনের কারণ বিস্তারিত তুলে ধরা হবে। বিশেষ করে বর্তমান অর্থনৈতিক পরিস্থিতি এবং উত্তরণের আগে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতির বিষয়টি সদস্য দেশগুলোর কাছে উপস্থাপন করা হবে।
ইআরডির কর্মকর্তারা জানান, এলডিসি থেকে উত্তরণের বিষয়ে নীতিগত সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়ায় ইকোসকের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। জাতিসংঘের উন্নয়ন নীতিবিষয়ক কমিটির (ইউএনসিডিপি) সুপারিশ পর্যালোচনার পর ইকোসক বিষয়টি জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে চূড়ান্ত অনুমোদনের জন্য পাঠায়। আগামী ২২ জুলাই ইকোসকের বৈঠকে বাংলাদেশের আবেদন বিবেচনায় আসতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে।
এর আগে কয়েক মাস আগে বাংলাদেশ আনুষ্ঠানিকভাবে ইউএনসিডিপির কাছে এলডিসি উত্তরণ তিন বছর পিছিয়ে দেওয়ার আবেদন জমা দেয়। আবেদনে বৈশ্বিক বিভিন্ন ধাক্কা, জ্বালানি সরবরাহে সীমাবদ্ধতা, দেশের রাজনৈতিক রূপান্তর এবং অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তার কারণে উত্তরণের আগে অতিরিক্ত সময়ের প্রয়োজনীয়তার কথা উল্লেখ করা হয়। সরকারের মতে, এ সময় দেশের অর্থনীতি ও বাণিজ্যকে নতুন বাস্তবতার সঙ্গে খাপ খাওয়ানোর সুযোগ দেবে।
আন্তর্জাতিক সমর্থন গড়ে তুলতে সরকার ইতোমধ্যে কূটনৈতিক তৎপরতা শুরু করেছে। এর অংশ হিসেবে ২ জুলাই ঢাকায় কর্মরত বিদেশি কূটনীতিকদের বাংলাদেশের অবস্থান সম্পর্কে অবহিত করা হয়। কারণ বিষয়টি শেষ পর্যন্ত জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে উপস্থাপিত হবে এবং সেখানে সংখ্যাগরিষ্ঠ সদস্য রাষ্ট্রের সমর্থন প্রয়োজন হবে।
কর্মকর্তাদের ধারণা, জুলাইয়ে ইকোসকের বৈঠকের পর বিষয়টির অগ্রগতি আরও স্পষ্ট হবে। তবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আসতে পারে আগামী সেপ্টেম্বরে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে। বাংলাদেশ বর্তমানে আগামী নভেম্বর এলডিসি থেকে উত্তরণের সময়সূচিতে রয়েছে। তবে সরকারের মতে, বর্তমান অর্থনৈতিক বাস্তবতায় অতিরিক্ত তিন বছরের অবকাশ দেশের জন্য সহায়ক হবে।
এদিকে বাংলাদেশের মতো নেপালও এলডিসি উত্তরণ তিন বছর স্থগিতের আবেদন করেছে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের ধারণা, দুটি দেশের আবেদন একসঙ্গে বিবেচনা করে জাতিসংঘ অভিন্ন সিদ্ধান্ত নিতে পারে। ইতোমধ্যে ইউএনসিডিপি ১ জুনের এক চিঠিতে বাংলাদেশের আবেদনের প্রতি ইতিবাচক মনোভাব প্রকাশ করেছে। তবে চিঠিতে কোনো নির্দিষ্ট সময়সীমার উল্লেখ ছিল না। এখন ইকোসক এবং পরে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সিদ্ধান্তেই নির্ধারিত হবে বাংলাদেশ অতিরিক্ত সময় পাবে কি না এবং এলডিসি উত্তরণের নতুন সময়সূচি কী হবে।