× ই-পেপার প্রচ্ছদ সর্বশেষ জাতীয় রাজনীতি সারা দেশ আন্তর্জাতিক অর্থনীতি খেলা বিনোদন মতামত চাকরি-ক্যারিয়ার শিক্ষা আজকের কার্টুন ফিচার সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

সেমিনারে ডা. শফিকুর রহমান

নির্বাচনে ষড়যন্ত্র করে হারানো হয়েছে ১১-দলীয় ঐক্যকে

বিশেষ প্রতিবেদক

প্রকাশ : ২ ঘণ্টা আগে

আপডেট : ২ ঘণ্টা আগে

ঢাকার কাকরাইলের ইনস্টিটিউশন অব ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স বাংলাদেশ মিলনায়তনে আয়োজিত এক জাতীয় সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন শফিকুর রহমান। ছবি: প্রতিদিনের বাংলাদেশ

ঢাকার কাকরাইলের ইনস্টিটিউশন অব ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স বাংলাদেশ মিলনায়তনে আয়োজিত এক জাতীয় সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন শফিকুর রহমান। ছবি: প্রতিদিনের বাংলাদেশ

নির্বাচনে ‘ষড়যন্ত্র’ করে ১১-দলীয় ঐক্যকে হারানো হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন বিরোধীদলীয় নেতা ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমান।
তিনি বলেন, “জামায়াতে ইসলামীসহ ১১ দল সেদিন রিভোল্ট (বিদ্রোহ) করলে বা নির্বাচনের ফলাফল প্রত্যাখ্যান করলে দেশে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হলে, এর শেষ কোথায় গিয়ে দাঁড়াত, তা কেউ জানেন না। তাই ১১ দল দায়িত্বশীলতার পরিচয় দিয়েছে”। তিনি বলেন, তৎকালীন অন্তর্বর্তী সরকারের পরিচয় ছিল নিরপেক্ষ ও দলনিরপেক্ষ। কিন্তু তারাও এই ষড়যন্ত্রে শরিক ছিল। পরে বিষয়টি স্বীকারও করা বুধবার ঢাকার কাকরাইলের ইনস্টিটিউশন অব ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স বাংলাদেশ মিলনায়তনে আয়োজিত এক জাতীয় সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ কথা বলেন শফিকুর রহমান। ‘জুলাই অভ্যুত্থানের চেতনা, গণভোটের রায় বাস্তবায়ন এবং জুলাই গণহত্যার মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচার এবং আমাদের দায়বদ্ধতা’ শীর্ষক সেমিনারের আয়োজক ছিল ১১-দলীয় ঐক্য।
সেমিনার সঞ্চালনায় ছিলেন জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল হামিদুর রহমান আযাদ। প্রবন্ধ পাঠ করেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের সাবেক চিফ প্রসিকউটর তাজুল ইসলাম। আরও বক্তব্য দেন জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার, জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সদস্য সচিব ও বিরোধী দলের সংসদ সদস্য আখতার হোসেন, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মামুনুল হক, এবি পার্টির সাধারণ সম্পাদক আসাদুজ্জামান ফুয়াদ, জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টির (জাগপা) মুখপাত্র রাশেদ প্রধান প্রমুখ। সেমিনারে সভাপতিত্ব করেন লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) সভাপতি কর্নেল (অব.) অলি আহমদ।
বিএনপি নিজেদের দেওয়া কথা না রেখে জনগণের সঙ্গে প্রতারণা করেছে অভিযোগ করে জামায়াতের আমির বলেন, “আমরা বিস্মিত হলাম, জাতীয় সংসদের মতো জায়গায় দাঁড়িয়ে প্রতারণার আত্মস্বীকৃত সাক্ষী পাওয়া যায়। লজ্জা সামান্য, হায়া-শরম থাকলে এটা হওয়ার কথা ছিল না। ভালো হয়েছে জাতি চিনে ফেলছে, এখন আর অন্য কোনো ব্যাখ্যা দেওয়ার সুযোগ নেই। ওখানে যা বলা হয়, কার্যত তা লেখা হয়ে যায়, ইতিহাসের অংশ হয়ে যায়, যদি এটা এক্সপাঞ্জ না হয়ে থাকে। যেহেতু এই বক্তব্য এক্সপাঞ্জ হয় নাই, কাজেই এই আত্মস্বীকৃতিও রেকর্ড হয়ে থাকল”।
শফিকুর রহমান বলেন, বিএনপি সংসদে দাঁড়িয়ে বলেছিল ‘জুলাই চার্টার’ একটা অন্তহীন প্রতারণার দলিল। আর এই সংসদে দাঁড়িয়েই আবার প্রমাণ করল, তারাই জাতির সঙ্গে অন্তহীন প্রতারণা করেছে। তারা বলে, ‘এই চারটা (গণভোটের) প্রশ্ন আমিই বুঝি না, সাধারণ জনগণ বুঝে কীভাবে?’ তার প্রশ্ন হলো— ৪টি প্রশ্ন যদি জনগণ না বোঝে, তাহলে ৩১টি (বিএনপির ৩১ দফা) বুঝে কীভাবে? তিনি বলেন, ‘৪টা তো ছোট ৩১টির চেয়ে। তাহলে ৩১টা বুঝে নাই জনগণ। সুতরাং জনগণকে আপনারা মূর্খ বলছেন... আমরা এখানেও নিন্দা জানাই।’
গণভোটের রায় বাস্তবায়ন না হলে আন্দোলন হবে বলে জানান বিরোধী দলের নেতা শফিকুর রহমান। তিনি বলেন, “তারা সংসদের ভেতরে চিৎকার দেবেন। রাজপথে সমানতালে তাদের বিরুদ্ধে আন্দোলন চলছে, আরও বেগবান হবে। দিনের পর দিন ঝড়বৃষ্টি সবকিছু উপেক্ষা করে এ পর্যন্ত আন্দোলন বাস্তবায়ন হয়েছে। লোহা গরম হয়ে লাল হতে একটু সময় লাগে। কিন্তু লাল যখন হবে, তখন জনগণ হাতে মুগুর নিয়ে ঠিকমতোই পেটাবে”।
বিএনপির প্রতি ইঙ্গিত করে শফিকুর রহমান বলেন, “আমরা দীর্ঘদিন একসঙ্গে মজলুম ছিলাম। আন্দোলন করেছি, সংগ্রাম করেছি। নির্বাচন করেছি, সরকার পরিচালনা করেছি, রাজনীতি করেছি। কিন্তু এখন আমাদের কোনো কোনো বন্ধুর ভাষা ও বক্তব্যে মনে হয়, তারা জীবনে আমাদেরকে কোনো দিন দেখেন নাই। ভুলে গেছেন এত তাড়াতাড়ি? স্মরণ হতে সময় লাগবে না, একটা ঝাঁকুনিই যথেষ্ট”। 
জামায়াতের আমির বলেন, “জুলাই যোদ্ধাদের নিয়ে যে বাড়াবাড়ি করা হচ্ছে, আপনারা সংযত হন। সংযত না হলে জনগণের উত্তাল ঢেউ আর জোয়ারে সমস্ত জঞ্জাল ভেসে যাবে। আইন আমরা হাতে তুলে নেওয়ার পক্ষে নই। কিন্তু আমরা তাও বলব, যে কেউ শালীনতার সীমা লঙ্ঘন করে জুলাইকে অপমান করার দুঃসাহস আর দেখাবেন না। যদি দেখান, মনে রাখবেন, এই যুবসমাজ, এই জনতা এখনও ঘুমিয়ে যায়নি”।
অনুষ্ঠানে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সদস্য সচিব আখতার হোসেন বলেন, “জুলাইয়ের বিপক্ষে নানা কলাকৌশলের মধ্য দিয়ে অবস্থান নিতে চান অনেকে। অনেকে চিত্রনায়িকা সাজেন, অনেকে মডেল সাজেন, অনেকে সিনিয়র সাংবাদিক সাজেন। নানা কিছু সেজে তারা জুলাইয়ের বিপক্ষে অবস্থান গ্রহণ করেন। টকশোতে এসে কথা বলেন, এমনভাবে কথা বলেন যেন বা তারা মতপ্রকাশের স্বাধীনতা প্র্যাকটিস করছেন। কিন্তু বাস্তবতা সেটা নয়; জুলাইয়ের বিপক্ষে নানাভাবে বাংলাদেশকে বিষিয়ে তোলার চেষ্টা হচ্ছে”। তিনি সরকারের কাছে অতিদ্রুত গণভোটের রায় মেনে সংবিধান সংস্কার পরিষদ বাস্তবায়ন করার দাবি জানান। 
বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির আল্লামা মামুনুল হক বলেন, “আমরা লক্ষ করছি, বিএনপি জুলাইয়ের আন্দোলন ও জুলাই বিপ্লবের চেতনাকে বাংলাদেশের মূল রাজনৈতিক ধারার বাইরে ঠেলে দেওয়ার একটি পরিকল্পিত প্রক্রিয়া অনুসরণ করছে। এটি অত্যন্ত দুঃখজনক ও উদ্বেগজনক। জুলাইয়ের চেতনা বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে সরকারের কার্যকর কোনো পদক্ষেপ আমরা দেখতে পাচ্ছি না। বরং সুপরিকল্পিতভাবে সেই চেতনাকে দুর্বল করার নানা প্রচেষ্টা লক্ষ করা যাচ্ছে।’ তিনি বিএনপির প্রতি অভিযোগ করে বলেন, অতীতে আমরা বহু স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনে বিএনপির সঙ্গে ছিলাম। কিন্তু আন্দোলনের পর ক্ষমতায় গিয়ে বিএনপি অনেক প্রত্যাশা পূরণ করতে পারেনি। ফলে বারবার আমরা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছি। এবার আমরা শুধু কারও ওপর নির্ভর করে বসে নেই; আমরা আমাদের নিজস্ব রাজনৈতিক বিকল্প গড়ে তুলেছি। 
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, “আমাদের আন্দোলনের মূল দাবি একটাইÑ গণভোটের গণরায় অবশ্যই মানতে হবে। জনগণ যে রায় দিয়েছে, তা উপেক্ষা করার কোনো নৈতিক বা রাজনৈতিক অধিকার কারও নেই। সরকার বা বিএনপি যত যুক্তিই দেখাক না কেন, গণভোটের রায় বাস্তবায়নের প্রশ্নে আমরা কোনো আপস করব না”।
সেমিনারে সভাপতির বক্তব্যে এলডিপি সভাপতি কর্নেল (অব.) অলি আহমদ প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে উদ্দেশ্য করে বলেন, “১১ দল আপনার শত্রু নয়। আমরা আপনার ও দেশের কল্যাণ চাই। আপনার চারদিক শত্রু দ্বারা বেষ্টিত। আপনি ঢাকার বাইরে রাত্রিযাপন করবেন না”। তিনি বলেন, সংস্কারের যেসব প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা হচ্ছে, সেগুলোতে প্রধানমন্ত্রীরই উদ্যোগ নেওয়া উচিত। ‘বেগম জিয়া ও শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়ার ছেলে হিসেবে এই উদ্যোগ আপনার নেওয়া উচিত। আপনি ইতিহাসের একজন নেতা হয়ে থাকেন, এটার জন্য আপনার ক্ষতি হওয়ার কিছু না।’
বিএনপির অনেকেই ২০১৮ সালের নির্বাচনে শেখ হাসিনার কাছ থেকে টাকা নিয়েছে বলে অভিযোগ করে এলডিপির সভাপতি প্রধানমন্ত্রীর উদ্দেশে বলেন, “আপনি যদি জানতে চান, আমার সাথে কথা বলেন; আমি বলে দেব কে কত কোটি টাকা নিয়েছে। কোন ব্যাংকে রেখে দিয়েছে”।
কর্নেল (অব.) অলি আহমদ বলেন, “আপনার সরকার এ পর্যন্ত বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে, যেগুলোর প্রতি আমরা সমর্থন জানিয়েছি। বিশেষ করে বিদেশ সফর এবং বিভিন্ন কূটনৈতিক উদ্যোগ নিয়ে সংসদে আলোচনা হয়েছে এবং সর্বসম্মতিক্রমে সমর্থনও দেওয়া হয়েছে। কিন্তু ভারতীয় গণমাধ্যমে এ নিয়ে নানা ধরনের মন্তব্য করা হচ্ছে। আমি বলতে চাই, আমাদের জাতীয় স্বার্থই আমাদের কাছে সর্বাগ্রে। দেশের প্রয়োজনে যেখানে যাওয়া দরকার, সরকার সেখানে যাবেÑ এটাই হওয়া উচিত”।

শেয়ার করুন-

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মারুফ কামাল খান

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮১০, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০ | ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০, +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮০৭, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৩৩২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা