× ই-পেপার প্রচ্ছদ সর্বশেষ জাতীয় রাজনীতি সারা দেশ আন্তর্জাতিক অর্থনীতি খেলা বিনোদন মতামত চাকরি-ক্যারিয়ার শিক্ষা আজকের কার্টুন ফিচার সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

কারওয়ান বাজার

মাদকের খোলা হাট

কবির হোসেন

প্রকাশ : ৯ ঘণ্টা আগে

কারওয়ান বাজারের পাশে রেললাইন এলাকায় গড়ে উঠেছে মাদকের কারবার। ছবি: সংগৃহীত

কারওয়ান বাজারের পাশে রেললাইন এলাকায় গড়ে উঠেছে মাদকের কারবার। ছবি: সংগৃহীত

‘কালোটা নাকি সাদাটা? আমার কাছে সবই আছে।’ ‘ভিআইপি একেবারে টাটকা মালÑ এখান থেকে নিয়ে যান।’Ñনারী কিংবা পুরুষ কণ্ঠের এমনসব কথাবার্তা প্রতিদিনই শোনা যায় কারওয়ান বাজারের পাশে রেললাইন এলাকায়। মাদক বেচতে এমন সাংকেতিক ভাষায় ক্রেতাদের সঙ্গে অহরহ তথ্য আদান-প্রদান করেন মাদক কারবারিরা।

গত শুক্রবার বিকালেও একই ঘটনা ঘটল। কাওরানবাজারের পাশে তেজগাঁওয়ে অবস্থিত এফডিসির সামনে থেকে রেললাইন ধরে মাছের আড়তের দিকে হাঁটতে গেলেই দেখা গেল কয়েকজন নেশাগ্রস্ত তরুণ শরীর দুলিয়ে হাঁটাহাঁটি করছে। আরেকটু এগোতেই দেখা গেল ৪/৫ জন যুবক আর একজন নারী হাতে ব্যাগ নিয়ে মাদক কেনার জন্যে পথচারীদের ডাকাডাকি করছে, ‘ নেবেন নাকি? কালো আছে, সাদা আছেÑ লালও আছে।’

পথচারীদের হাবভাবে ক্রেতা বলে মনে হলে তাদের এই ডাকাডাকি আরও বেড়ে যায়। সরেজমিনে দেখা গেল, ওই নারী আর যুবকদের পাশেই মাদক কারবারিদের আরেকটি গ্রুপ রেললাইনে বসে সবজির ডালার মতো করে গাঁজার ডালা সাজিয়ে বসে আছে। এই গ্রুপটিও আগ্রহী কিংবা পথচারীদের উদ্দেশে বলছে, ‘ভিআইপি, ভিআইপি একেবারে টাটকা মাল।’ খোলাখুলি ডেকে ডেকে সেখানে যেভাবে মাদক বেচাকেনা করা হচ্ছে, তাতে যে কারও মনে হবে, এখানে মাদকের খোলা হাট বসেছে। 

মাদকের বিরুদ্ধে এখন দেশব্যাপী চলছে সাঁড়াশি অভিযান। এর মধ্যেই দিনদুপুরে প্রকাশ্যে রাজধানীর কারওয়ান বাজারের আশপাশের বস্তি ও রেলওয়ে এলাকাকে ‘মাদক ও ইয়াবার হটস্পটে’ পরিণত করেছে মাদক ব্যবসায়ীরা। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নিয়মিত অভিযানের পরও এই স্পটে মাদকের রমরমা ব্যবসা বন্ধ হচ্ছে না। মোবাইল ফোনের মাধ্যমেও এখানে মাদক কেনাবেচা করতে দেখা গেছে।

স্থানীয় বিভিন্ন সূত্র জানাচ্ছে, ওই এলাকায় মাদক সহজলভ্য হওয়ায় রাজধানীর বিভিন্ন প্রান্ত থেকে সারাদিনই মাদকসেবীরা আনাগোনা করেন। সুযোগ বুঝে পছন্দের মাদক নিয়ে চলে যান। মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা কারওয়ান বাজার ও আশপাশের বিভিন্ন স্থানে নিয়মিত অভিযান চালিয়ে অনেক কারবারিকে আটক করলেও মূল নেটওয়ার্ক পুরোপুরি ধ্বংস করা সম্ভব হচ্ছে না। তবে অভিযানের মধ্যেও মাদক কারবারিদের এমন প্রকাশ্য সক্রিয়তা নিয়ে বিভিন্ন মহলে প্রশ্ন উঠছে। তারা বলছেন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের (ডিএনসি) শিথিল মনোভাবের কারণে এলাকাটিতে প্রকাশ্যে ও অবাধে চলছে অবৈধ মাদকের বেচাকেনা।

স্থানীয় বাসিন্দা ও ব্যবসায়ীরা বলছেন, ‘এই এলাকার পাশেই নামিদামি সরকারি-বেসরকারি একাধিক স্কুল-কলেজ রয়েছে। সকাল-বিকাল এখানকার রাস্তা দিয়ে শিক্ষার্থীরা স্কুল-কলেজে আসা-যাওয়া করে। এদের কেউ কেউ এর মধ্যেই বিপথগামী হয়ে পড়েছে। যেকোনো সময় আরও অনেকেই নেশাগ্রস্ত হয়ে পড়তে পারে। বিষয়টি নিয়ে পিতা-মাতা ও অভিভাবকরা উদ্বিগ্ন।’ 

কারওয়ান বাজার এলাকার একজন ব্যবসায়ী নাম প্রকাশ না করার শর্তে প্রতিদিনের বাংলাদেশকে বলেন, ‘এই এলাকায় যে দৃশ্য দেখেছেন, তা খুবই স্বাভাবিক। না দেখলেই অবাক হতাম। লোকজনও এসব বিষয়ে কিছু বলে না। বলবে কেমন করে? সবারই তো জীবনের ভয় আছে। পুলিশ এসে মাঝেমধ্যে অভিযান চালায়। গ্রেপ্তার করে। পুলিশ চলে গেলে আবার মাদকসেবী-কারবারিরা এসে জড়ো হয়। এটি এখাকার পরিচিত দৃশ্য।’ এলাকার আরেকজন বাসিন্দা শাহাবুদ্দিন বলেন, ‘এসব নিয়ে অনেক কথা হয়েছে, কিন্তু কাজের কাজ কিছু হয়নি।’ তার মতে, ‘মাদক ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর অভিযান চালাতে পারলে মাদকের ছড়াছড়ি কমবে। এই অভিযান শুধু পুলিশ দিয়ে সম্ভব না। অন্যান্য বাহিনী নিয়ে কঠোর হাতে তাদের দমন করতে হবে।’ 

গণমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০১৮ সালের মে মাসে এলাকায় মাদক ব্যবসা গুঁড়িয়ে দিতে প্রায় এক হাজার সদস্যের একটি বড় দল নিয়ে এখানে অভিযান চালায় পুলিশ। পরে ২০২৪ সালের শুরুর দিকে র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‌্যাব) আরেকটি অভিযান চালায়। এরপরও বিভিন্ন তথ্যের ভিত্তিতে দফায় দফায় অভিযান চালানো হয়েছে। কিন্তু ঠেকানো যায়নি এসব মাদক কারবারিদের। অবৈধ মাদক ব্যবসাকে কেন্দ্র করে এই এলাকায় সক্রিয় রয়েছে ছিনতাইকারী চক্র। যারা দিনদুপুরে প্রকাশ্যে মোবাইল ফোন ও মূল্যবান জিনিসপত্র ছিনিয়ে নেয়। এলাকার বাসিন্দা ও অনেকের দাবি, এই অভিযানগুলোতে মাদক ব্যবসায়ীদের নেটওয়ার্কগুলো ভেঙে ফেলার জন্য ধারাবাহিক পদক্ষেপ বা দীর্ঘমেয়াদি কৌশলের ঘাটতি রয়েছে। মাঝেমধ্যে শীর্ষ কারবারি গ্রেপ্তার এবং প্রচুর মাদকদ্রব্য জব্দ হওয়ার পরও তাই এ এলাকায় জমজমাট মাদক ব্যবসা অব্যাহত রয়েছে।

মাদক অধিদপ্তর জানিয়েছে, মাদক ব্যবসা রোধে ডিএনসির অপারেশনাল টিম ওই এলাকায় ধারাবাহিকভাবে অভিযান চালিয়ে যাচ্ছে। এ বিষয়ে সংস্থাটির অতিরিক্ত পরিচালক (গোয়েন্দা) মোহাম্মদ বদরুদ্দীন বলেন, ‘বাংলাদেশের সকল ল’ ইনফোর্সই মাদক নিয়ে কাজ করছে, সবাই মাদকের চোরাকারবারিদের তালিকা করে থাকে। মাদক অধিদপ্তরেরও একটি নিজস্ব তালিকা রয়েছে। এ ছাড়া বিভিন্ন তথ্যের মাধ্যমে আমরা অভিযান চালাচ্ছি। মাদকের যে হটস্পট আছে, সেগুলো শনাক্ত করে অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করছি।’ 

এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে তেজগাঁও থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) ক্যশৈন্যু মারমা বলেন, ‘কারওয়ান বাজার রেললাইন এলাকায় অভিযোগ পেলেই আমাদের সদস্যরা অভিযান চালায়। গত কয়েক দিনে সেখান থেকে অনেক কারবারি ও মাদকসেবীদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে।’ তিনি বলেন, ‘শুধু পুলিশের অভিযান চালিয়ে মাদক ব্যবসা নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব নয়। মাদকের বিরুদ্ধে সকল পর্যায়ে সচেতন হতে হবে। অভিভাবকদের পারিবারিক পর্যায়ে তাদের সন্তানদের সচেতন করতে হবে, যাতে তারা (শিশুরা) মাদকাসক্তিতে জড়িয়ে না পড়ে। আমাদের সহযোগিতা করতে হবেÑ এসব চক্রের বিষয়ে তথ্য দিতে হবে। সমাজ থেকে মাদক পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণ করতে হলে সবাইকে মাদকের বিরুদ্ধে একসঙ্গে কাজ করতে হবে।’

শেয়ার করুন-

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মারুফ কামাল খান

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮১০, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০ | ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০, +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮০৭, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৩৩২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা