× ই-পেপার প্রচ্ছদ সর্বশেষ জাতীয় রাজনীতি সারা দেশ আন্তর্জাতিক অর্থনীতি খেলা বিনোদন মতামত চাকরি-ক্যারিয়ার শিক্ষা আজকের কার্টুন ফিচার সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

জরাজীর্ণ বিদ্যালয় ঘরে পাঠদান

এম পলাশ শরীফ, মোরেলগঞ্জ (বাগেরহাট)

প্রকাশ : ১ ঘণ্টা আগে

আপডেট : ৪৫ মিনিট আগে

বাগেরহাট মোরেলগঞ্জে ৫ বছর ধরে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের জরাজীর্ণ ঘরে চলছে পাঠদান। ছবি: প্রতিদিনের বাংলাদেশ

বাগেরহাট মোরেলগঞ্জে ৫ বছর ধরে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের জরাজীর্ণ ঘরে চলছে পাঠদান। ছবি: প্রতিদিনের বাংলাদেশ

বাগেরহাটের মোরেলগঞ্জে ১৯০নং পশ্চিম তেলিগাতী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়টি বিদ্যালয় নয়, যেন জরাজীর্ণ ছাপড়াঘর। সেখানে ৫ বছর ধরে পলিথিন টানিয়ে শিক্ষার্থীদের পাঠদান করা হয়। শিক্ষার্থী, অভিভাবক, এলাকাবাসীর দাবি বিদ্যালয়ে একটি নতুন ভবন নির্মাণের। 

জানা গেছে, উপজেলার তেলিগাতী ইউনিয়নের ১৯০নং পশ্চিম তেলিগাতী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়টি ১৯৮৯ সালে স্থাপিত হলেও ২০২১ সালে পুরাতন ভবনটি নিলাম প্রক্রিয়ায় অপসারণ করা হয়। পরবর্তীতে এ বিদ্যালয়ে আর নতুন কোনো ভবন নির্মাণ না হওয়ার ফলে দীর্ঘ ৫ বছর ধরে পলিথিন টাঙিয়ে ৯৭ শিক্ষার্থীকে নিয়মিত দেওয়া হচ্ছে পাঠদান। নতুন ভবনের একাধিকবার তালিকায় নাম গেলেও আজও হয়নি এ স্কুলে নতুন ভবন। বিদ্যালয়ের শিক্ষকমণ্ডলী ৬টি পদ থাকলেও কর্মরত রয়েছেন ৩ জন। 

২০২৪ সাল থেকে প্রধান শিক্ষকের পদ শূন্য থাকায় ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক হিসেবে রজিনা আক্তার দায়িত্ব পালন করছেন। ২০২৫-২০২৬ সাল থেকে সহকারী ২ শিক্ষকের পদও শূন্য রয়েছে। ক্লাসে শিক্ষার্থীর সংখ্যা নিয়মিত বেশি হলেও ৩ শিক্ষকের ক্লাস পরিচালনায় প্রতিনিয়ত সমস্যার সম্মুখীন হতে হচ্ছে কর্মরত শিক্ষকদের। জরাজীর্ণ গোলপাতার ছাপড়াঘরে ২ শিফটে ৩টি শ্রেণির পাঠদান। প্রচণ্ড রোদ আর ঝড়বৃষ্টি দৈনন্দিন শিশু শিক্ষার্থীদের অভাবনীয় দুর্ভোগে থাকতে হয়। অভিভাবকরা বিদ্যালয় থেকে তাদের ছেলে মেয়েদের সরিয়ে অন্য বিদ্যালয়ে মাদ্রাসায় নিয়ে ভর্তি করছেন। ক্লাসে শিক্ষকরা পাঠদান নিচ্ছেন দুপুর ১২টায়। প্রচণ্ড রোদে গরমে ছাপড়াঘরে শিক্ষার্থীরা হিমশিম খাচ্ছেন। শ্রেণিকক্ষে কোথাও নেই বৈদ্যুতিক পাখা। গোলপাতার ছাউনির ঘরটিতে ছাউনিতে পরে পলিথিন দিয়ে কোনো মতে ঢেকে রেখেছেন। বৃষ্টি হলে ক্লাস রুমে শিক্ষার্থীদের পাঠদান থাকে বন্ধ। বই খাতা ভিজে শিক্ষকদের অফিস রুমে জড়ো হতে হয়। পরীক্ষাও নেওয়া হয় শিক্ষকদের অফিস রুমে।

বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী মমিনুল ইসলাম, জেরিন আক্তার, তাছরিন জারিন আবৃতা ও সুরুইয়া আক্তার এরকম একাধিক শিশু শিক্ষার্থীরা বলেন, রোদে পুড়ে, বৃষ্টিতে ভিজে এভাবে কষ্ট করে আর কতদিন আমাদের ক্লাস করতে হবে বলতে পারেন। কবে হবে আমাদের বিদ্যালয়ের নতুন ভবন। 

অভিভাবক তহমিনা বেগম, শারমিন বেগম বলেন, ৭-৮ কিলোমিটার দূর থেকে হেটে এসে এ বিদ্যালয়ে ছেলেমেয়েদের নিয়ে আসি। লেখাপড়ার দিক থেকে এ স্কুলটি খুবই ভালো। ৫ বছর ধরে এ রকম পলিথিন টাঙিয়ে শিক্ষকরা ক্লাস নিচ্ছেন এ জরাজীর্ণ ঘরে। বিদ্যালয়ে একটি নতুন ভবনের জন্য শিক্ষা অধিদপ্তরসহ সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের প্রতি দাবি জানান এ অভিভাবকরা।

এ বিষয়ে বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক রজিনা আক্তার বলেন, “নিয়মিত অভিভাবকদের হাজারো প্রশ্নের সম্মুখীন হতে হয়। পূর্বের ভবন অপসারণের পর থেকেই ২০২৩ সালে ক্ষুদ্র মেরামতের বরাদ্দ থেকে একটি টিনশেডের ছোট ঘর নির্মাণ করা হয়েছিল। সেখানে শিক্ষকরা অফিসের কার্যক্রম পরিচালনা করেন। তার মধ্যে বৃষ্টির সময় ছেলেমেয়েদের এ অফিস ঘরেই ক্লাস নেওয়া হয়। কয়েকবার পরীক্ষাও নেওয়া হয়েছে। উপজেলা শিক্ষা অফিসে নতুন ভবনের জন্য একাধিকবার আবেদন করা হয়েছে। এ সমস্যার বিষয়টি সংশ্লিষ্ট ক্লাস্টার ও পরিদর্শকদের নিকট অবহিত করা হয়েছে।”

বিদ্যালয়ের সভাপতি শেখ মুজিবুর রহমান বলেন, “তিনি এ বিদ্যালয়ে এক সময় প্রধান শিক্ষক ছিলেন, সেই সময় থেকেই বিদ্যালয়টিতে ভবন না থাকায় প্রতিনিয়ত শিক্ষক শিক্ষার্থীদের নানবিধ সমস্যার সম্মুখীন হতে হচ্ছে। বর্তমান পরিস্থিতিতে অভিভাবকরা তাদের ছেলে মেয়েদের নিয়ে যাচ্ছেন। এ বিষয়গুলো ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের জানানো হয়েছে।”

বিদ্যালয়ে নতুন একটি ভবন হলে এ সমস্যা আর থাকবে না বলে তিনি জানান।

এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট ক্লাস্টার সহকারী শিক্ষা অফিসার আসাদুজ্জামান বলেন, ১৯০নং পশ্চিম তেলিগাতী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়টি ভবন না থাকার বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের অবহিত করা হয়েছে। একাধিকবার তালিকায়ও প্রস্তাবনায় রয়েছে বিদ্যালয়টি। পরবর্তী বরাদ্দ হলে এ স্কুলটি নতুন ভবনের তালিকায় থাকবে বলে তিনি মনে করেন। 

শেয়ার করুন-

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মারুফ কামাল খান

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮১০, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০ | ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০, +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮০৭, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৩৩২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা