প্রাথমিক শিক্ষক বদলি-পদায়ন
হয়রানি আর ঘুষ লেনদেন ঠেকাতে দীর্ঘদিনের রেওয়াজ বাদ দিয়ে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের বদলি-পদায়নে নতুন যে পদ্ধতি চালু করেছে সরকার, তা মনে ধরেনি শিক্ষা কর্মকর্তাদের। গ্রাফিক্স: প্রতিদিনের বাংলাদেশ
হয়রানি আর ঘুষ লেনদেন ঠেকাতে দীর্ঘদিনের রেওয়াজ বাদ দিয়ে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের বদলি-পদায়নে নতুন যে পদ্ধতি চালু করেছে সরকার, তা মনে ধরেনি শিক্ষা কর্মকর্তাদের।
সেইসঙ্গে উপজেলা ও জেলা পর্যায়ের কমিটির প্রধান নিয়েও রয়েছে তাদের চরম আপত্তি।
শিক্ষা কর্মকর্তাদের ভাষ্য, ওই দুই কমিটির প্রধান করা হয়েছে জেলা প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাদেরÑ যা তাদের জন্য চরম অবমূল্যায়ন।
গত ২১ জুন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের বিদ্যালয়-২ অধিশাখা থেকে উপসচিব রাজীব কুমার সরকার স্বাক্ষরিত প্রজ্ঞাপনে নতুন পদ্ধতি চালু করার কথা জানায় সরকার। এ প্রজ্ঞাপনের পরপরই আপত্তির বিষয়গুলো ওঠে এলে মন্ত্রণালয়ও শিক্ষা কর্মকর্তাদের কঠোর বার্তা দিয়ে মৌখিক নির্দেশে জানায়, তা না হলে পুরাতন নিয়মেই ফিরতে হবে।
এদিকে প্রজ্ঞাপনে জনস্বার্থে গঠিত কমিটিগুলো অবিলম্বে কার্যকরের কথা বলা হলেও এক্ষেত্রে ‘ধীরে চলা’র অনুরোধ জানিয়েছেন সংসদ সদস্যরা। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে মৌখিকভাবে ১০ জুলাই পর্যন্ত ওই প্রজ্ঞাপনের কার্যকারিতা স্থগিত করা হয়েছে। এ সময়ের মধ্যে শিক্ষা কর্মকর্তাদের আপত্তিসহ নানা বিষয়ের নিষ্পত্তি, প্রজ্ঞাপনে বাদ পড়া ‘পৌরসভা’ যুক্ত করে নতুন প্রজ্ঞাপন তৈরির কাজ চলছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট সূত্র।
জানা গেছে, সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের নতুন নিয়োগপ্রাপ্ত সহকারী শিক্ষকদের পদায়ন এবং কর্মরত শিক্ষকদের বদলি কার্যক্রম আরও স্বচ্ছ, সুশৃঙ্খল ও জবাবদিহিমূলক করতে জাতীয়, বিভাগীয়, জেলা এবং উপজেলা বা থানা পর্যায়ে চার স্তরের কমিটি গঠন করে সরকার। এই চার স্তরের কমিটি বদলির আবেদন যাচাই-বাছাই ও নিষ্পত্তির কাজটি করবে। কমিটিগুলো কাদের দিয়ে হবে এবং কাজের ধরন কী হবেÑ তা জানিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়।
জানতে চাইলে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা সচিব মো. শাখাওয়াত হোসেন প্রতিদিনের বাংলাদেশকে বলেন, শিক্ষক বদলি কার্যক্রমে স্থবিরতা দূর করা এবং মন্ত্রণালয়ের ওপর চাপ কমাতে এ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, শিক্ষক বদলির জন্য একটি পূর্ণাঙ্গ নীতিমালা প্রণয়ন করা হবে। তা চূড়ান্ত না হওয়া পর্যন্ত সাময়িক ব্যবস্থা হিসেবে এসব কমিটি কাজ করবে।
শিক্ষা কর্মকর্তাদের আপত্তি যেখানে
প্রজ্ঞাপনটি জারির পর সংশ্লিষ্ট শিক্ষা কর্মকর্তারা চরম আপত্তি তোলেন। তাদের এই আপত্তির বিষয়গুলো অধিদপ্তরসহ মন্ত্রণালয়কে জানানো হয়েছে। জেলা প্রশাসক (ডিসি) ও উপজেলা নির্বাহী অফিসারদের (ইউএনও) জেলা ও উপজেলা কমিটির প্রধান করাতেই তাদের মূল আপত্তি। জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের শিক্ষা কর্মকর্তারা বলছেন, ডিসি ও ইউএনওদের ওই দুই পর্যায়ের কমিটির প্রধান করে তাদেরকে অবমূল্যায়ন করা হয়েছে। তারা মনে করছেন, এতে করে খবরদারি বাড়বে। তাই তারা এই দুই কমিটির প্রধান হিসেবে জেলা পর্যায়ে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার (ডিপিইও) ও উপজেলা পর্যায়ে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসারকে (ইউইও) চান।
প্রজ্ঞাপনের কার্যক্রম আপাতত স্থগিত
মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, প্রজ্ঞাপনটি স্থগিত চেয়েছেন বেশ কয়েকজন সংসদ সদস্য। তারা নানা মাধ্যমে মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রীসহ সচিবকে অনুরোধ জানিয়ে বলেছেন, সংসদে বাজেট অধিবেশন চলছে। এজন্য তারা ব্যস্ত। এই অধিবেশন শেষে তারা নির্বাচনী এলাকায় যাবেন। সবার সঙ্গে আলাপ-আলোচনা করবেন। সে পর্যন্ত প্রজ্ঞাপনটি কার্যকর না করা হোক। এ অবস্থায় প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে প্রজ্ঞাপনটির কার্যক্রম ১০ জুলাই পর্যন্ত মৌখিকভাবে স্থগিত করা হয়েছে।
মন্ত্রণালয়ের হাতে ৫ হাজারের বেশি বদলির আবেদন
শিক্ষক বদলির ক্ষেত্রে আবেদনের যে পুরনো নিয়ম ছিল, সে নিয়মে প্রায় ৫ হাজারের বেশি আবেদন জমা পড়ে আছে মন্ত্রণালয়ে। নতুন পদ্ধতি, নীতিমালা জারি হবেÑ এ কারণে জমা পড়া আবেদনগুলোর কোনো নিষ্পত্তি করা যায়নি। সূত্র জানিয়েছে, অপেক্ষায় রাখা এসব আবেদন প্রজ্ঞাপনের কার্যকারিতা শুরু হলে সংশ্লিষ্টদের কাছে পাঠিয়ে দেয়া হবে। ফলে আবেদনকারীদের ভোগান্তিতে পড়ার আশংকা রয়েছে।