প্রতীকী ছবি
জুলাই মাসে গড় সর্বোচ্চ ও সর্বনিম্ন তাপমাত্রা স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি থাকার পূর্বাভাস দিয়েছে বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তর। সদ্যসমাপ্ত জুনে সর্বোচ্চ ও সর্বনিম্ন তাপমাত্রা স্বাভাবিকের চেয়ে যথাক্রমে ০.৯ ও ০.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস বেশি ছিল।
১১ জুন বর্ষা মৌসুম শুরু হলেও দেশে আশানুরূপ বৃষ্টি হয়নি। ফলে গড় বৃষ্টিপাত কমেছে ২৯.৪ শতাংশ। দেশের ৮টি বিভাগের মধ্যে শুধু ময়মনসিংহ ও সিলেটে স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি বৃষ্টি হয়েছে, বাকি ৬টি বিভাগে বৃষ্টিপাতের পরিমাণ ছিল স্বাভাবিকের চেয়ে কম। বুধবার জুলাই মাসের দীর্ঘমেয়াদি পূর্বাভাসে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।
জুনে যে বিভাগে যত বৃষ্টিপাত
জুনে ঢাকা, চট্টগ্রাম, রাজশাহী, রংপুর, খুলনা ও বরিশাল বিভাগে স্বাভাবিকের চেয়ে কম বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্যমতে, গত মাসে ঢাকায় স্বাভাবিকের চেয়ে ৩১.২ শতাংশ, চট্টগ্রামে ৪১.৮ শতাংশ, রাজশাহীতে ৩৭.৩ শতাংশ, রংপুরে ২.৪ শতাংশ, খুলনায় ২৯.৫ শতাংশ এবং বরিশালে ৪২.২ শতাংশ কম বৃষ্টি হয়েছে।
অন্যদিকে, ময়মনসিংহ ও সিলেট বিভাগে স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। ময়মনসিংহে স্বাভাবিকের চেয়ে ২০.৬ শতাংশ এবং সিলেটে ২৫.৭ শতাংশ বেশি বৃষ্টি হয়েছে। ১২ জুন নেত্রকোনায় দেশের সর্বোচ্চ ১৭৮ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়।
বৃষ্টি কম হওয়ার পাশাপাশি ১-৮, ১৩-১৮ ও ২৫-২৯ জুন দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে মৃদু থেকে মাঝারি তাপপ্রবাহ বয়ে যায়। ৪ জুন যশোরে সর্বোচ্চ তাপমাত্রা উঠেছিল ৩৮.৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস। আর সর্বনিম্ন ১৮.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা নরসিংদীতে রেকর্ড হয় ১৯ জুন।
যেমন যেতে পারে জুলাই
আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, জুলাই মাসে দেশে স্বাভাবিক বৃষ্টিপাত হতে পারে। এ মাসের স্বাভাবিক বৃষ্টিপাতের গড় ৫২৩ মিলিমিটার। এ মাসে বঙ্গোপসাগরে এক থেকে দুটি লঘুচাপ সৃষ্টি হতে পারে, যার একটি মৌসুমি নিম্নচাপে পরিণত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। দিন ও রাতের তাপমাত্রা স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি থাকবে এবং এক থেকে দুটি মৃদু তাপপ্রবাহ বয়ে যেতে পারে। এ ছাড়া দেশের উত্তরাঞ্চল, উত্তর-পূর্বাঞ্চল এবং দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলে স্বল্পমেয়াদি বন্যার আশঙ্কা রয়েছে। জুলাই মাসে দেশের বিভিন্ন বিভাগে স্বাভাবিক বৃষ্টিপাতের কাছাকাছি বা সামান্য কম-বেশি বৃষ্টি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে বলে পূর্বাভাসে বলা হয়েছে।
বৈশ্বিক উষ্ণতা ও বাংলাদেশের জন্য সতর্কবার্তা
বার্কলে আর্থের তথ্যমতে, ২০২৬ সালের মে মাসে বৈশ্বিক গড় তাপমাত্রা প্রাক-শিল্প যুগের (১৮৫০-১৯০০) তুলনায় +১.৩ থেকে +১.৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস বেশি ছিল। ১৯৮০ সালের আগে মে মাসের বৈশ্বিক তাপমাত্রা সাধারণত -০.৪ থেকে +০.৪ ডিগ্রির মধ্যে ওঠানামা করলেও, সাম্প্রতিক দশকগুলোতে তা দ্রুত বেড়েছে। বাংলাদেশ ও আশপাশের গাঙ্গেয় বদ্বীপ অঞ্চলেও গত মে মাসে তাপমাত্রা স্বাভাবিকের তুলনায় +০.৫ থেকে +১.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস বেশি ছিল।
এ বিষয়ে বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউটের জ্যেষ্ঠ বিজ্ঞানী, জলবায়ু বিশেষজ্ঞ ড. মোহাম্মদ কামরুজ্জামান মিলন প্রতিদিনের বাংলাদেশকে বলেন, “তাপমাত্রা বৃদ্ধির এই প্রবণতা বাংলাদেশের জন্য বিশেষ সতর্কবার্তা। কারণ এর সঙ্গে তাপপ্রবাহ, আর্দ্রতাজনিত হিট স্ট্রেস, কৃষি উৎপাদন, নগর তাপদ্বীপ এবং শিশু, বয়স্ক ও শ্রমজীবী মানুষের স্বাস্থ্যঝুঁকি সরাসরি সম্পর্কিত।”
আবহাওয়া অধিদপ্তরের আবহাওয়াবিদ ড. মো. বজলুর রশিদ এই প্রতিবেদককে বলেন, “এল নিনোর দীর্ঘমেয়াদি একটি বৈশ্বিক প্রভাব রয়েছে। দক্ষিণ ভারত ও ইউরোপে এর প্রভাব শুরু হলেও আমাদের এখানে তুলনামূলক কম প্রভাব পড়বে। তবে জুনে প্রায় ৩০ শতাংশ কম বৃষ্টি হয়েছে, জুলাই মাসেও বৃষ্টিপাত কিছুটা কম হতে পারে।”