× ই-পেপার প্রচ্ছদ সর্বশেষ জাতীয় রাজনীতি সারা দেশ আন্তর্জাতিক অর্থনীতি খেলা বিনোদন মতামত চাকরি-ক্যারিয়ার শিক্ষা আজকের কার্টুন ফিচার সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

সংবিধান: সংস্কার না সংশোধন

আসাদুজ্জামান সম্রাট

প্রকাশ : ১ ঘণ্টা আগে

আপডেট : ১ ঘণ্টা আগে

সরকার গঠন করতে পারলে সংবিধানের ৩৫টি সংস্কার করা হবে বলে নির্বাচনি ইশতেহারে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল বিএনপি। কোলাজ: প্রতিদিনের বাংলাদেশ

সরকার গঠন করতে পারলে সংবিধানের ৩৫টি সংস্কার করা হবে বলে নির্বাচনি ইশতেহারে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল বিএনপি। কোলাজ: প্রতিদিনের বাংলাদেশ

জনগণের ভোটে নির্বাচিত হয়ে সরকার গঠন করতে পারলে সংবিধানের ৩৫টি সংস্কার করা হবে বলে নির্বাচনি ইশতেহারে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল বিএনপি। এখন সংবিধান সংস্কার নাকি সংশোধন করা হবেÑ এ ইস্যুতে সরকার ও বিরোধী দলের বিতর্কে আটকে আছে পুরো প্রক্রিয়া।

বিধান সংশোধনের জন্য একটি বিশেষ কমিটি গঠনের উদ্যোগ নেওয়া হলেও জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন রাজনৈতিক জোটের অনাগ্রহে সরকার গঠনের সাড়ে চার মাসেও সেটি গঠন করা যায়নি। ফলে কার্যত পিছিয়ে যাচ্ছে বিএনপির নির্বাচনি ইশতেহার বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া।

গত ৬ ফেব্রুয়ারি রাজধানী ঢাকার হোটেল সোনারগাঁওয়ে রাষ্ট্র পরিচালনার মূল দর্শন হিসেবে ‘সবার আগে বাংলাদেশ’ প্রতিপাদ্য সামনে রেখে নির্বাচনের ইশতেহার ঘোষণা করে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। মহান আল্লাহর প্রতি পূর্ণ আস্থা ও বিশ্বাসের ভিত্তিতে একটি ইনসাফভিত্তিক, মানবিক ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গঠনে দলটির সুদৃঢ় অঙ্গীকার ঘোষণা করেন দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমান। নির্বাচনী ইশতেহারের রাষ্ট্রব্যবস্থা সংস্কার অংশে বিএনপির পক্ষ থেকে ‘সাংবিধানিক সংস্কার’ শিরোনামে ৩৫টি প্রস্তাব করা হয়। তবে সরকার গঠনের পর তারা ‘সংবিধান সংশোধনে’র পথে হাঁটছে। কিন্তু এ পদক্ষেপের বিপরীত অবস্থান নিয়েছে বিরোধী দল জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন জোট। আর এ কারণে তারা বিএনপির প্রস্তাবিত সংবিধান সংশোধন কমিটির জন্য কোনো প্রতিনিধির নামও দেয়নি।

কী ছিল বিএনপির ইশতেহারে

বিএনপির পক্ষ থেকে দেওয়া নির্বাচনি ইশতেহারেরর প্রথম প্রতিশ্রুতি হলোÑ ‘সাংবিধানিক সংস্কার’ প্রস্তাবে বলা হয়েছিল, সংবিধান সংস্কারের বিষয়ে বিগত ১৭ অক্টোবর ২০২৫ ইং তারিখে জুলাই জাতীয় সনদ যে আঙ্গিকে ঐকমত্য ও স্বাক্ষরিত হয়েছে, সেগুলো সে মতে বাস্তবায়নে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হবে।

সাংবিধানিক সংস্কারের দ্বিতীয় প্রস্তাবে বলা হয়েছে, “সর্বশক্তিমান আল্লাহর প্রতি পূর্ণ আস্থা ও বিশ্বাস’ রাষ্ট্র পরিচালনার মূলনীতি হিসেবে সংবিধানে পুনঃস্থাপন করা হবে। বিএনপি সকল বিতর্কিত ও অগণতান্ত্রিক সাংবিধানিক সংশোধনী ও বিধানাবলি পর্যালোচনা ও পুনঃপরীক্ষা করে প্রয়োজনীয় সাংবিধানিক সংস্কার করবে। রাষ্ট্র কাঠামোর গণতান্ত্রিক সংস্কারের লক্ষ্যে ৩১ দফার ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় সাংবিধানিক সংস্কার সাধন করা হবে।”

ইশতেহারে বলা হয়েছিল, বাংলাদেশে গণতন্ত্র ও ভোটাধিকার পুনঃপ্রতিষ্ঠায় এবং স্বচ্ছ গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াকে স্থায়ী সাংবিধানিক ও প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেওয়ার লক্ষ্যে একটি ‘নির্বাচনকালীন দল নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকার’ ব্যবস্থা প্রবর্তন করা হবে। তত্ত্বাবধায়ক সরকারের রূপরেখা কেমন হবে তা পরবর্তী সংসদে আলোচনা এবং স্বাক্ষরিত জুলাই জাতীয় সনদের ভিত্তিতে নির্ধারিত হবে। একজন উপ-রাষ্ট্রপতির পদ সৃজন করা হবে এবং তিনি রাষ্ট্রপতির মতোই নির্বাচিত হবেন। একজন ব্যক্তি প্রধানমন্ত্রী পদে যত মেয়াদ বা যতবারই হোক, তিনি সর্বোচ্চ ১০ (দশ) বছর অধিষ্ঠিত থাকতে পারবেন। প্রধানমন্ত্রীর পদে আসীন ব্যক্তি দলীয় প্রধানের পদেও অধিষ্ঠিত থাকতে পারবেন, রাষ্ট্রপতি এবং প্রধানমন্ত্রীর ক্ষমতায় ভারসাম্য আনা হবে।

এ ছাড়া বিচার বিভাগের স্বাধীনতা নিশ্চিত করা হবে। সংবিধানের এককেন্দ্রিক চরিত্র অক্ষুণ্ন রেখে বিদ্যমান সংসদীয় ব্যবস্থার পাশাপাশি বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে রাষ্ট্র পরিচালনায় সহযোগিতার লক্ষ্যে দেশের বিশিষ্ট নাগরিক, প্রথিতযশা শিক্ষাবিদ, আইনজীবী, রাষ্ট্রবিজ্ঞানী, সমাজবিজ্ঞানী, প্রশাসনিক অভিজ্ঞতাসম্পন্ন ব্যক্তি ও অন্যান্য পেশাজীবীর সমন্বয়ে সংসদে ১০০ সদস্যবিশিষ্ট উচ্চকক্ষ প্রবর্তন করা হবে। রাজনৈতিক দলসমূহ নিম্নকক্ষের অর্জিত আসন সংখ্যার আনুপাতিক হারে উচ্চকক্ষে প্রতিনিধিত্ব করবে। আইনসভার উভয়কক্ষে দুইজন ডেপুটি স্পিকারের মধ্য থেকে একজন ডেপুটি স্পিকার সরকারদলীয় ব্যতীত অন্য সদস্যদের মধ্য থেকে মনোনীত করা হবে।

প্রস্তাবে বলা হয়েছিল, নিম্নকক্ষের সাধারণ নির্বাচনের চূড়ান্ত প্রার্থী তালিকা প্রকাশের সময় উচ্চকক্ষের প্রার্থী তালিকা প্রকাশের প্রয়োজন হবে না। উচ্চকক্ষে কমপক্ষে ১০% নারী সদস্য থাকবেন। সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদ সংশোধন করা হবে। সংবিধান সংশোধনী, অর্থবিল, আস্থাভোট এবং জাতীয় নিরাপত্তা (যুদ্ধ পরিস্থিতি) ইত্যাদি ছাড়া অন্যসব বিল উচ্চকক্ষে প্রেরণ করা হবে। উচ্চকক্ষ কোনো বিল সর্বোচ্চ ১ (এক) মাসের বেশি আটকে রাখলে তা উচ্চকক্ষ কর্তৃক অনুমোদিত বলে বিবেচিত হবে। আন্তর্জাতিকভাবে সম্পাদিত চুক্তি সম্পর্কে জাতীয় সংসদকে অবহিত রাখা হবে।

ইশতেহারে বলা হয়েছিল, কার্যকর নির্বাচন কমিশন, সরকারি কর্মকমিশন ও দুর্নীতি দমন কমিশন গঠনের জন্য এবং মহাহিসাব নিরীক্ষক ও নিয়ন্ত্রক পদে নিয়োগের জন্য প্রয়োজনীয় আইন প্রণয়ন করা হবে। সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের জ্যেষ্ঠতম দুইজন বিচারপতির মধ্য থেকে একজনকে প্রধান বিচারপতি হিসেবে রাষ্ট্রপতি কর্তৃক নিয়োগ প্রদানের সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতা নিশ্চিত করা হবে। প্রধান বিচারপতি প্রতিটি বিভাগে এক বা একাধিক স্থায়ী বেঞ্চ প্রতিষ্ঠা করতে পারবেন। সুপ্রিম জুডিসিয়াল কাউন্সিলকে অধিকতর শক্তিশালী ও এর এখতিয়ার বাড়ানো হবে। অধ্বস্তন আদালতের বিচারকদের চাকরির নিয়ন্ত্রণ সম্পূর্ণভাবে সুপ্রিম কোর্টের ওপর ন্যস্ত করার জন্য সংবিধানে প্রয়োজনীয় সংশোধনী আনা হবে।

নির্বাচনি ইশতেহারে বলা হয়েছিল, নির্বাচন কমিশনের সরাসরি তত্ত্বাবধানে স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানসমূহের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে, স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানের কার্যকর স্বায়ত্তশাসন নিশ্চিত করার লক্ষ্যে এরূপ প্রতিষ্ঠানের আর্থিক ও তহবিল ব্যবস্থাপনার জন্য যথাযথ আইন প্রণয়ন করা হবে। স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানের কাজে নিয়োজিত সরকারি কর্মকর্তা/কর্মচারীদের সাথে এরূপ প্রতিষ্ঠানের সম্পর্ক যথাযথ আইন দ্বারা নির্ধারিত হবে। পুলিশ বাহিনীর পেশাদারত্ব ও দায়বদ্ধতা নিশ্চিতকরণ এবং পুলিশি সেবাকে জনবান্ধব হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করার লক্ষ্যে একটি পুলিশ কমিশন গঠন করা হবে। একটি স্বতন্ত্র ফৌজদারি তদন্ত সার্ভিস গঠন করা, গণঅভ্যুত্থানকারীদের আইনি ও সাংবিধানিক সুরক্ষা নিশ্চিত করা, ‘ন্যায়পাল’ নিয়োগ করা হবে। বাংলাদেশকে রাষ্ট্রীয়ভাবে ‘ওপেন গভর্নমেন্ট পার্টনারশিপ’-এর পক্ষভুক্ত করা, আয়কর রিটার্ন প্রাইভেট ডকুমেন্ট হলেও দুর্নীতি দমন কমিশন অথবা অন্য কোনো কর্তৃপক্ষ যেন আদালতের মাধ্যমে তা তলব করতে পারবে, তার নিশ্চয়তা বিধান করা হবে।

শপথ নিয়েই বিতর্ক

গত ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত হয় ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট। নির্বাচনে বিএনপির নেতৃত্বাধীন জোট জয়লাভ করে এবং গণভোটে ৬৮.২৬% ‘হ্যা’ ভোট পড়েছে। নির্বাচনের পর বিজয়ী সংসদ সদস্যদের জন্য দুটি শপথ গ্রহণের ব্যবস্থা রাখা হয়। একটি হচ্ছে সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ গ্রহণ এবং অন্যটি গণভোটের ফলাফলের আলোকে সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে শপথ গ্রহণ। জামায়াতের নেতৃত্বাধীন জোটের সদস্যরা দুটিতেই শপথ নিলেও বিএনপি সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে শপথ গ্রহণ করেনি। বিদ্যমান সংবিধানে এই ‘সংবিধান সংশোধন পরিষদে’র অস্তিত্ব না থাকায় বিএনপি শপথ গ্রহণ করেনি। একইভাবে জাতীয় সংসদে গণভোটের বিপক্ষে অবস্থান নেয় বিএনপি। তারা ‘গণভোট’ সম্পর্কিত অধ্যাদেশটি বিল আকারে এনে সংসদে পাস না করায় বাতিল হয়ে যায় গণভোট।

থমকে আছে কমিটি গঠন

জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনেই সংবিধান সংশোধনে বিশেষ কমিটি গঠনের উদ্যোগ নেওয়া হলেও বিরোধী দল তাতে সম্মত না হয়নি। গত ২৯ এপ্রিল জাতীয় সংসদে বিশেষ কমিটি গঠনের প্রস্তাব করেন আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান। তাতে বলা হয়, ১৭ সদস্যের বিশেষ কমিটিতে বিএনপির সাতজন এবং গণঅধিকার পরিষদ, গণসংহতি আন্দোলন, বাংলাদেশ জাতীয় পার্টি (বিজেপি) ও স্বতন্ত্র সংসদ সদস্যদের মধ্য থেকে পাঁচজন রাখা হয়েছে। আর বিরোধী দল থেকে পাঁচজনের নাম দিলে মোট ১৭ সদস্যের কমিটি হবে। সরকারি দলের দেওয়া প্রস্তাবের পর দুই মাসেরও বেশি সময় পেরিয়ে গেলেও এ নিয়ে জামায়াত ও এনসিপির পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো জবাব দেওয়া হয়নি। সরকারি দলের পক্ষ থেকেও নতুন করে তাগিদ দেওয়া হয়নি। তবে বিভিন্ন ফোরামে বিরোধী দলের পক্ষ থেকে পরিষ্কারভাবে বলা হয়েছে, তারা সংবিধান সংশোধনে বিশেষ কমিটিতে নাম দেবেন না।

যা বলছেন জামায়াতের আমির

গত বুধবার প্রতিদিনের বাংলাদেশের এক প্রশ্নের জবাবে জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান পরিষ্কারভাবে জানিয়ে দিয়েছেন, তারা সংবিধান সংশোধনের পক্ষে নন।

তিনি যুক্তি দিতে গিয়ে বলেন, “সংবিধান সংশোধন করা হলে তাতে কোনো অসঙ্গতি থাকলে তাতে আদালত হস্তক্ষেপ করতে পারে। যে প্রক্রিয়ায় একটি মামলার রায়ের রেফারেন্সে সংবিধান থেকে তত্ত্বাবধায়ক ব্যবস্থা হাওয়া হয়ে গিয়েছিলÑ তেমন কোনো প্রক্রিয়ায় আমরা যেতে পারি না। সংবিধান সংস্কার করা হলে তার ওপর আদালতের কোনো কর্তৃত্ব থাকবে না। বরং আদালত এই সংবিধানের রক্ষক হবে।”

সরকারি দলের সঙ্গে মতপার্থক্যের এই পরিণতি কী হবে, তা জানতে চাইলে তিনি বলেন, “আমরা জনগণের কাছে যাব। পার্লামেন্টে কিছু করতে না পারলে আমরা জনগণের পার্লামেন্টে যাব।”

যা ভাবছে সরকারি দল

এ প্রসঙ্গে বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান ও জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম মনি বলেন, “আমাদের সামনে তিনটি পথ রয়েছেÑ নতুন সংবিধান প্রণয়ন, সংবিধান স্থগিত রেখে নতুন ব্যবস্থা চালু করা, অথবা বিদ্যমান সংবিধান সংশোধন ও সংস্কার করা। আমরা তৃতীয় পথেই এগোচ্ছি, অর্থাৎ সংবিধান সংশোধনের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় সংস্কার করতে চাই। এ ক্ষেত্রে সরকার ও বিরোধী দলের মধ্যে মূল উদ্দেশ্যের কোনো বড় পার্থক্য আমি দেখি না।”

তিনি বলেন, “প্রধানমন্ত্রীও বলেছেন, সংস্কার-সংক্রান্ত আলোচনা সংসদের বাইরে সব রাজনৈতিক দলকে নিয়ে চলবে, আর সংসদের ভেতরে সংবিধান সংশোধনের আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া এগোবে। সংবিধান সংশোধনের কাজ সময়সাপেক্ষ। এটি দেশের সর্বোচ্চ আইন, তাই সব দিক বিবেচনা করে ধীরে-সুস্থে এগোতে হবে।”

এই বিলম্বের কারণে বিএনপির নির্বাচনি ইশতেহার বাস্তবায়ন কতটা বাধাগ্রস্ত হবে জানতে চাইলে তিনি বলেন, “পরিস্থিতি বুঝেই আমাদের সিদ্ধান্ত নিতে হবে।”

বিশেষ কমিটির কী হবে তাহলে

বিরোধী দল সহযোগিতা না করলে সংবিধান সংস্কারে একতরফা কমিটি গঠন করার রেকর্ড জাতীয় সংসদে রয়েছে। নবম জাতীয় সংসদে ২০১০ সালে সংবিধান সংশোধনে বিশেষ কমিটি গঠন করা হয়েছিল। সে সময়ে গঠিত বিশেষ কমিটিতে যোগ দেয়নি তত্কালীন বিরোধী দল বিএনপি। ১৫ সদস্যের কমিটিতে বিএনপির পক্ষ থেকে তিনজন সদস্যের নাম দিতে বলা হয়েছিল। বিএনপি তাতে সাড়া না দিলে তত্কালীন সংসদ উপনেতা সৈয়দা সাজেদা চৌধুরীর নেতৃত্বে বিশেষ কমিটি গঠন করা হয়। ওই কমিটিতে তিনি ছিলেন চেয়ারপারসন এবং প্রয়াত সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত ছিলেন কো-চেয়ারম্যান। ১৫ সদস্যের ঐ কমিটিতে জাতীয় পার্টি (জাপা), ওয়ার্কার্স পার্টি এবং জাসদের একজন করে এমপি ছিলেন। বিএনপির অংশগ্রহণ ছাড়াই ওই কমিটির সুপারিশের ভিত্তিতে সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনীর মাধ্যমে নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা বিলুপ্তসহ আরও কিছু সংশোধনী আনা হয়েছিল।

শেয়ার করুন-

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মারুফ কামাল খান

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮১০, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০ | ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০, +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮০৭, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৩৩২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা