তানভীর হাসান ও নূর মোহাম্মদ মিঠু
প্রকাশ : ৩ ঘণ্টা আগে
টেকনাফের শাহপরীর দ্বীপ সড়কে সম্প্রতি কে বা কারা সাদা পতাকা টাঙিয়ে দেয়। ছবি: প্রতিদিনের বাংলাদেশ
একই রকম পতাকা, একই ধরনের বার্তা, একই প্রচারণা কৌশলÑ দেশের বিভিন্ন জেলায় সংঘটিত এমন একটি সংঘবদ্ধ প্রচারাভিযান ব্যাপক কৌতূহল সৃষ্টি করেছে। শুধু সামাজিক মাধ্যমে নয়, পত্রপত্রিকা, অনলাইন সংবাদ মাধ্যম এবং স্যাটেলাইট চ্যানেলগুলোতেও এ নিয়ে চলছে ব্যাপক বিতর্ক-আলোচনা। এর উদ্দেশ্য কি শান্তি প্রতিষ্ঠা নাকি সন্ত্রাস ছড়িয়ে দেওয়াÑ তা নিয়েও উঠছে প্রশ্ন ও সংশয়।
সংঘবদ্ধ চক্রটি তাদের এ প্রচারণার জন্যে বেছে নিয়েছে বিশ্বকাপের এই মৌসুমকে। প্রতি চার বছর পরপর বিশ্বকাপের এই সময় দেশের নানা স্থানে বা বাসাবাড়িতে বিভিন্ন ফুটবল দলের পতাকা উড়তে দেখা যায়। কিন্তু এবার সেই দলীয় পতাকা ওড়ানোর বিষয়টিকে পুঁজি করে বিশেষ একটি চক্র নানা স্থানে হাজার হাজার কালিমাখচিত সাদা-কালো পতাকা উত্তোলনের প্রচারণা চালাচ্ছে। এ জন্যে পতাকা বিক্রির অফারও দেওয়া হচ্ছে। কোথাও আবার প্রচারণা চলছে অর্থ ও বাঁশ চেয়ে। অনেক স্থানে আবার মোটরবাইকে করে শোডাউন, বিক্ষোভ মিছিল ও র্যালি করা হচ্ছে।
সাদা রঙের এই বিশেষ নকশার পতাকায় কালিমা লেখা থাকছে আরবি হরফে। পতাকাবাহীরা এটিকে ‘কালিমাসংবলিত ধর্মীয় নিশান’ বলে অভিহিত করলেও নিরাপত্তা, আন্তর্জাতিক সম্পর্ক, শ্রমবাজার ও ব্যবসা সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা এ কর্মকাণ্ডকে এত সাদামাটা মনে করছেন না। তাদের মতে, আন্তর্জাতিক অঙ্গন এই নকশার পতাকাকে বিভিন্ন জঙ্গি গোষ্ঠীর ব্যবহৃত প্রতীকের সঙ্গে মিলিয়ে দেখতে পারে। যার ফলে নেতিবাচক প্রভাব পড়ার আশঙ্কা রয়েছে বিদেশি বিনিয়োগের ক্ষেত্রে এবং প্রবাসী শ্রমবাজারে। তা ছাড়া দেশের ভাবমূর্তিও প্রশ্নবিদ্ধ হতে পারে।
প্রতিদিনের বাংলাদেশের অনুসন্ধানে দেখা গেছে, দেশের ১৫টি জেলায় অন্তত ২৪টি ফেসবুক আইডি থেকে এ ধরনের কার্যক্রমের তথ্য ছড়ানো হয়েছে। এসব আইডি ও তার নেপথ্যের ব্যক্তিদের ইতোমধ্যেই শনাক্ত করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। গোয়েন্দা সূত্র বলছে, বিষয়টিকে সরকার নিছক নিরীহ, বিচ্ছিন্ন সামাজিক উদ্যোগ হিসেবে দেখছে না; তাই এর পেছনে কোনো সমন্বিত নেটওয়ার্ক, উগ্রবাদী প্রভাব বা রাজনৈতিক উদ্দেশ্য রয়েছে কি না, তা নিবিড়ভাবে অনুসন্ধান করা হচ্ছে। দেশকে অস্থিতিশীল করতে বাইরের কোনো শক্তি কাজ করছে কি-না, তাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে একাধিক সূত্রে জানা গেছে।
গোয়েন্দা সূত্রের দাবি, পবিত্র কালেমা নিয়ে রাষ্ট্র বা প্রশাসনের কোনো আপত্তি নেই। ধর্মপ্রাণ মানুষদের একত্রিত হওয়ার, সমাবেশ করার ও ধর্মচর্চার ক্ষেত্রেও কোনো প্রতিবন্ধকতা নেই। এমন পরিস্থিতিতে বিভিন্ন স্থানে সাদা-কালো পতাকা টাঙানোর উদ্দেশ্য কী, তা খতিয়ে দেখা প্রয়োজন। বিশেষত পতাকার নকশা ও আকৃতি আন্তর্জাতিকভাবে নিষিদ্ধ ঘোষিত বিভিন্ন জঙ্গি সংগঠনের ব্যবহৃত পতাকার সঙ্গে মিলে যাওয়ায় বিষয়টি জটিল ও উদ্বেগজনক হয়ে ওঠেছে। এ কারণে বিষয়টিকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। পুলিশ ও গোয়েন্দা সূত্র জানিয়েছে, রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে কারা, কোথায় এবং কী উদ্দেশ্যে এসব পতাকা লাগাচ্ছে, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তদন্তে যদি প্রমাণ মেলে যে ধর্মীয় আবেগকে ব্যবহার করে আইনবিরোধী বা চরমপন্থী কোনো এজেন্ডা বাস্তবায়নের চেষ্টা চলছে, তাহলে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এখন পর্যন্ত যেসব জেলা ও মেট্রোপলিটন নগরে কালিমার পতাকা উড়ানোর পাশাপাশি র্যালি, মিছিল ও প্রচারণা চালানো হয়েছে সেগুলোর মধ্যে রয়েছে ঢাকা, গাজীপুর, নারায়ণগঞ্জ, বগুড়া, পিরোজপুর, চট্টগ্রাম, জামালপুর, চুয়াডাঙ্গা, নরসিংদী, মৌলভীবাজার, কুমিল্লা, সিরাজগঞ্জ ও ব্রাহ্মণবাড়িয়া এবং ডিএমপি ও সিএমপি। ২৪টি আইডি থেকে এসব কার্যক্রম সম্পর্কে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রচার চালানো হয়েছে। ইতোমধ্যে আইডিগুলো শনাক্ত করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। পাশাপাশি আইডির এডমিনদেরও শনাক্ত করা হয়েছে। তাদের নাম ও মোবাইল ফোন নাম্বার এখন গোয়েন্দাদের হাতে। এমন পরিস্থিতিতে প্রাথমিক পর্যায়ে সংশ্লিষ্টদের ডেকে কাউন্সেলিং করার পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের। সরকার এখনো কাউকে জঙ্গি বলছে না; বরং পুরো ঘটনার নেপথ্য কারণ উদঘাটনের চেষ্টা করছে।
ধর্মান্ধতার বহিঃপ্রকাশও হতে পারে ঘটনাটি
একটি গোয়েন্দা সূত্রের দাবি, ঘটনাটি শুধুমাত্র ধর্মান্ধতার বহিঃপ্রকাশও হতে পারে। পাশের একটি দেশ ধর্মীয় আবেগকে কাজে লাগিয়ে ধর্মপ্রাণ মানুষকে টার্গেট করে উগ্রবাদ উসকে দিয়ে বাংলাদেশেও অস্থিতিশীলতা তৈরির চেষ্টা করছে বলে সন্দেহ করছেন তারা। উদ্দেশ্য দেশকে ধর্মান্ধ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করাÑ যাতে বিনিয়োগ আসা বন্ধ হয়ে যায়। কালিমাসংবলিত পতাকা ওড়ানো ব্যক্তিদের ভেতরেও বিশেষ দু-একটি রাজনৈতিক পক্ষের সম্পৃক্ততার তথ্য যাচাই করা হচ্ছে। প্রাথমিক পর্যায়ে কাউন্সেলিং করানোর পরও তারা এসব কর্মকাণ্ড থেকে যদি বিরত না হন, তাহলে কঠোর অ্যাকশনে যাওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের।
গোয়েন্দা তথ্য অনুযায়ী, ঢাকা মহানগরের যাত্রাবাড়ী থানাধীন যাত্রাবাড়ী ফ্লাইওভার এলাকায় ‘মাদানী ব্র্যান্ড’ ও তামিম আল আদনান নামের আইডি থেকে কালিমা পতাকা ওড়ানোর পোস্ট দেওয়া হয়। ‘মাদানী ব্র্যান্ড’-এর এই পোস্টে আগ্রহীদের প্রতি যোগাযোগের আহ্বান জানানো হয়। পাশাপাশি ফ্লাইওভারে যেভাবে কালিমা পতাকা ওড়ানো হয়েছে, সেভাবে সারা দেশেও কালিমার পতাকা ওড়ানোর ডাক দেওয়া হয়। ঘোষণা দেওয়া হয়, একটি মহাসড়কে যত পতাকা লাগবে, তারা তা সরবরাহ করবেন। শনির আখড়ায় বিদেশি দলের অন্ধ সমর্থন ও বিভক্তির সংস্কৃতির বিরুদ্ধে র্যালির তথ্য দিয়ে পোস্টে বলা হয়, ‘একজন মুসলমানের সবচেয়ে বড় পরিচয় তার ঈমান ও কালেমা।’
গাজীপুর
গাজীপুর মেট্রোপলিটন এলাকায় আব্দুল্লাহপুর থেকে গাজীপুর চৌরাস্তা, টঙ্গী ফ্লাইওভারের নিচে কালিমার পতাকা স্থাপন এবং ঘর, অফিস ও প্রতিষ্ঠানের জন্য পতাকা তৈরির ঘোষণা দেওয়া হয়। ‘আলাদিন’ নামের আইডি থেকে বিশেষ অফারে পতাকা বিক্রির পোস্ট দেওয়া হয়। ওই আইডিটিও শনাক্ত করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
নারায়ণগঞ্জ
তরিকুল ইসলাম তাকি ও শিবলী ইবনে উসমান নামের দুটি আইডি থেকে কালিমার পতাকাবাহী মোটরবাইক শোডাউন ও র্যালির ভিডিও-ছবি পোস্ট করা হয় নারায়ণগঞ্জে। তরিকুল ইসলাম তাকির পোস্টে ওস্তাদ নুরুজ্জামান শিবলীর নেতৃত্বে রূপগঞ্জে তৌহিদি জনতার বাইক শোডাউনের কথা বলা হয়। শিবলী ইবনে উসমানের পোস্টে আড়াইহাজারের মেইন রোডে কালিমার পতাকা হাতে মোটরবাইক র্যালির তথ্য দেওয়া হয়।
বগুড়া
জেলার শেরপুরে ‘অন্বেষণ’ নামের আইডি থেকে মসজিদের ইমাম ও মুসল্লিদের ছবি ব্যবহার করে কালিমার পতাকা অবমাননার প্রতিবাদে বিক্ষোভ মিছিলের ডাক দেওয়া হয়। শাহী মসজিদের খতিব এক হাজার কালিমাখচিত পতাকা নিয়ে বিক্ষোভের আহ্বান জানান।
ব্রাহ্মণবাড়িয়া
এখানে মো. ইমরান হোসেন নামের আইডি থেকে যাত্রাবাড়ীর হানিফ ফ্লাইওভার থেকে কালিমার পতাকা নামিয়ে ফেলার প্রতিবাদে ব্রাহ্মণবাড়িয়া সরকারি কলেজের ছাত্র-জনতার পতাকা উত্তোলনের ছবি পোস্ট করা হয়।
পিরোজপুর
এ জেলাতে ‘রাকি শেখ মোহাম্মদ ফেরদাউস’ ও ‘নাশিদ নেক্টার শিল্পগোষ্ঠী’ নামের দুটি আইডি থেকে পতাকা টাঙানোর আহ্বান জানানো হয়। ফেরদাউসের পোস্টে বেকুটিয়া সেতুতে কালিমার পতাকা উত্তোলনের কাজ চলার কথা বলা হয়। নাশিদ নেক্টার শিল্পগোষ্ঠীর পোস্টে পিরোজপুর সদর উপজেলার সড়কে কালিমার পতাকা উড়ানোর বার্তা দিয়ে পতাকা উত্তোলনের তথ্য দেওয়া হয়।
কুমিল্লা
এ জেলায় নাজিম উদ্দিন সজীব, মুহাম্মদ আনোয়ার হোসাইন মীর ও মিসকাত শপ নামের তিনটি আইডি সক্রিয় ছিল। সজীবের পোস্টে মনোহরগঞ্জের শান্তির বাজার ও শাহরাস্তীর চিতৌষী বাজারসংলগ্ন সেতুতে পতাকার ছবি প্রকাশ করা হয়। আনোয়ারের পোস্টে বেরনাইয়া উত্তর-দক্ষিণ বাজার ও মির্জাপুর সেতুতে পতাকা টানানোর জন্য মুলি বাঁশ বা অর্থ সহায়তা চাওয়া হয়। প্রতি বাঁশের দাম ৮০ টাকা উল্লেখ করা হয়। মিসকাত শপের পোস্টে বলা হয়, ‘ইনশাআল্লাহ এ দেশ কালিমার দেশ।’ মুরাদনগরে কালিমাখচিত পতাকা টাঙিয়ে ইসলামী থিম সং পরিবেশনের তথ্যও দেওয়া হয়।
চট্টগ্রাম
মুহাম্মদ ইমরান হুসেইন, আবাবিল মিডিয়া ও Ababil Media নামের তিনটি আইডি থেকে চট্টগ্রামে পতাকা টাঙানোর প্রচারণা চালানো হয়। ইমরান হুসেইনের পোস্টে বলা হয়, ‘আগুনে কেরোসিন তেল ঢেলে নেভানো যায় না। পতাকা ওই জায়গাতেই উড়বে, সারাদেশেই উড়বে। ৫০টি খুলে ফেলেছো, এবার দুই দিনের মধ্যে অন্তত ৫ হাজার উড়ানো হবে।’ হাটহাজারীর মিছিলের ছবিও প্রকাশ করা হয়। আবাবিল মিডিয়া ফটিকছড়ির নাজিরহাট পৌরসভার পুরনো সেতুতে লাগানো পতাকার ছবি দিয়ে ‘মাশাআল্লাহ’ লিখে পোস্ট করে। Ababil Media-এর পোস্টে পতাকা হাতে কয়েকজনের ছবি পোস্ট করে লেখা হয়, “শাহবাগীরা সাহস থাকলে খুলতে আসো, খেলা হবে।”
জামালপুর
এ জেলায় প্রবাসী আশরাফুল নামের আইডি থেকে পোস্ট দিয়ে জানানো হয়, ইসলামপুর উপজেলার ডিগ্রির চর জামিয়া মফিজিয়া মাদ্রাসা থেকে ডেফলা ব্রিজ পর্যন্ত কালিমার পতাকার শোভাযাত্রা হয়েছে।
চুয়াডাঙ্গা
এ জেলা শহরের বর্ণালী বাজার নামের দোকানের আইডি থেকে কালিমার পতাকা বিক্রির পোস্ট দিয়ে বলা হয়, ‘বিদেশি অপসংস্কৃতি রুখতে আপনার বাড়িতে কালিমার পতাকা উড়ান।’ সারা দেশে পতাকা সরবরাহের কথাও উল্লেখ করা হয়।
ঢাকা
সাভার, নবীনগর ও নবাবগঞ্জে তামিম আল আদনান, মো. তারিকুল ইসলাম মোল্লা ও শফিকুল ইসলাম শফিক নামের তিনটি আইডি থেকে পতাকা ওড়ানোর আহ্বান পোস্ট করা হয়। তামিম আল আদনান নবীনগরে পতাকা উত্তোলনে অংশ নেওয়ার আহ্বান জানান। তারিকুল ইসলাম মোল্লা জানান, আল-খিদমাহ সেবা সংস্থার উদ্যোগে ব্রাহা বাজার থেকে নবাবগঞ্জ পর্যন্ত পতাকা উত্তোলন কর্মসূচি শুরু হবে। শফিকুল ইসলাম শফিক লেখেন, ‘বাংলাদেশে কালিমার পতাকা উড়বে, আর্জেন্টিনা বা ব্রাজিলের পতাকা নয়।’
নরসিংদী
‘নরসিংদী জনকণ্ঠ’ নামের আইডি থেকে মাধবদীতে কালিমার পতাকা হাতে মিছিলের ছবি পোস্ট করা হয়।
মৌলভীবাজার
এ শহরে শুয়াইব আব্দুল্লাহ নামের আইডি থেকে দাবি করা হয়, চাঁদনীঘাটে পাঁচটি পতাকা খুলে নেওয়ার সময় জনতার হাতে একজন ধরা পড়েছে। বাকি পতাকা খুলে নেওয়ার সময়ও এক ‘দুষ্কৃতকারী’ আটক হয়েছে বলে পোস্টে উল্লেখ করা হয়।
চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন এলাকা
মো. আশেক নামের আইডি থেকে শাহ আমানত সেতুতে কালিমার পতাকা উত্তোলনের ভিডিও পোস্ট করে লেখা হয়, ‘উত্তোলনের কাজ চলছে।’
সিরাজগঞ্জ
সাকিন আহমেদ ৯০ নামের আইডি থেকে কাজীপুরের একটি সেতুতে উড়ন্ত পতাকার ছবি দিয়ে লেখা হয়, ‘ইনশাআল্লাহ, একদিন দেশের সব প্রান্তে কালিমার পতাকা উড়বে।’
গোয়েন্দা সূত্র বলছে, সরকার, গোয়েন্দা সংস্থা ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বিভিন্ন পর্যায়ে ‘তৌহিদি জনতা’ পরিচয়ে জঙ্গি সংগঠনের পতাকার আদলে বানানো কালিমাখচিত পতাকা ওড়ানোর ঘটনা নিয়ে ব্যাপক আলোচনা চলছে। কে বা কারা এর নেপথ্যে রয়েছে, সেটিই অনুসন্ধানের মূল বিষয়বস্তু। চলমান ফুটবল বিশ্বকাপকে কেন্দ্র করে দেশে আর্জেন্টিনা-ব্রাজিলের পতাকা উত্তোলনের প্রসঙ্গ সামনে আনা হলেও, প্রকৃতপক্ষে এই সংগঠিত প্রচারের উদ্দেশ্য অনুসন্ধানে কাজ করছে গোয়েন্দা সংস্থাগুলো।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে পুলিশ সদর দপ্তরের এআইজি (মিডিয়া) শাহাদাত হোসাইন প্রতিদিনের বাংলাদেশকে বলেন, ‘বিষয়টি ধর্মান্ধতা না উগ্রবাদ, তা এখনই বলা যাচ্ছে না। অনেকগুলো আইডি শনাক্ত করা হয়েছে। তারা কোন উদ্দেশ্যে এগুলো করেছে তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।’