× ই-পেপার প্রচ্ছদ সর্বশেষ জাতীয় রাজনীতি সারা দেশ আন্তর্জাতিক অর্থনীতি খেলা বিনোদন মতামত চাকরি-ক্যারিয়ার শিক্ষা আজকের কার্টুন ফিচার সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

খেলাপি ঋণ কমাতে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নতুন রোডম্যাপ

আহমেদ তোফায়েল

প্রকাশ : ২ ঘণ্টা আগে

গ্রফিক্স: প্রতিদিনের বাংলাদেশ

গ্রফিক্স: প্রতিদিনের বাংলাদেশ

দেশের ব্যাংকিং খাতের বড় চ্যালেঞ্জ এখন খেলাপি ঋণ। এই সংকটের কারণে ব্যাংকগুলোর মুনাফা কমছে। এতে মূলধন ও তারল্য ব্যবস্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। একই সঙ্গে ব্যাহত হচ্ছে মুদ্রানীতির কার্যকারিতা।

এই পরিস্থিতি থেকে উত্তরণের জন্য একটি রূপরেখা দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। আর্থিক খাতের আস্থা ফেরাতে এই মধ্যমেয়াদি রোডম্যাপ ঘোষণা করা হয়েছে। মঙ্গলবার প্রকাশিত জুলাই-ডিসেম্বর ২০২৬ মেয়াদের মুদ্রানীতি বিবৃতিতে এই পরিকল্পনা জানানো হয়। এতে কঠোর তদারকি, দ্রুত ঋণ উদ্ধার এবং আইনি সংস্কারের ওপর জোর দেওয়া হয়েছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্যে দেখা যায়, খেলাপি ঋণের হার বেশ ওঠানামা করছে। ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে খেলাপি ঋণের হার ছিল ২০ দশমিক ২০ শতাংশ। ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে তা বেড়ে ৩৫ দশমিক ৭৩ শতাংশ হয়। তবে ২০২৬ সালের মার্চে এই হার কিছুটা কমে ৩২ দশমিক ২৬ শতাংশে নেমেছে। নিট খেলাপি ঋণের চিত্রও প্রায় একই রকম। এটি ১০ দশমিক ৫৭ শতাংশ থেকে বেড়ে ২৬ দশমিক ৪০ শতাংশ হয়েছিল। পরবর্তীতে ২০২৬ সালের মার্চে তা ১৫ দশমিক ০১ শতাংশে নেমে আসে।

তবে শতাংশ কমলেও টাকার অঙ্কে খেলাপি ঋণ বেড়েছে। গত ডিসেম্বরে মোট খেলাপি ঋণ ছিল ৫ লাখ ৫৭ হাজার ২১৭ কোটি টাকা। ২০২৬ সালের মার্চ শেষে তা ৩১ হাজার ৪৮৭ কোটি টাকা বেড়েছে। এখন মোট খেলাপি ঋণের পরিমাণ ৫ লাখ ৮৮ হাজার ৭০৪ কোটি টাকা। কেন্দ্রীয় ব্যাংক জানায়, গ্রাহকদের ঋণ পরিশোধের সক্ষমতা বদল হওয়ায় এমনটি হয়েছে। এছাড়া চলতি মূলধনের সমন্বয় ও সুদের হিসাবের কারণেও এই পরিবর্তন এসেছে।

ঋণের গুণগত মান বাড়াতে গত অর্থবছর কিছু সংস্কার করা হয়েছে। আদায় অযোগ্য মন্দ ঋণ এখন ব্যাংকগুলো অবলোপন (রাইট-অফ) করতে পারছে। এতে ব্যাংকগুলোর হিসাবের খাতা পরিষ্কার হবে। ভালো ব্যবসার ক্ষেত্রে খেলাপি ঋণ পুনর্গঠনের সুবিধা দেওয়া হয়েছে। এই ঋণ পরিশোধে সর্বোচ্চ ১০ বছর সময় পাওয়া যাবে। সাথে থাকছে ২ বছরের রেয়াতকাল। এই বিশেষ সুবিধা ২০২৬ সালের জুন পর্যন্ত চলবে। এছাড়া ঋণ শৃঙ্খলা রক্ষায় গত ডিসেম্বরে নতুন নীতিমালা করা হয়েছে। তবে কৃষি ও ক্ষুদ্র শিল্পে অর্থায়ন সচল রাখতে কম প্রভিশন রাখার সুবিধা ২০২৬ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত বহাল থাকবে।

এই রোডম্যাপের অন্যতম বড় লক্ষ্য হলো ২০২৭ সালের মধ্যে আন্তর্জাতিক হিসাবমান আইএফআরএস-৯ চালু করা। এর অধীনে 'এক্সপেক্টেড ক্রেডিট লস' বা প্রত্যাশিত ঋণ লোকসান কাঠামো পুরোপুরি বাস্তবায়ন করা হবে। প্রচলিত নিয়মে ঋণ খেলাপি হওয়ার পর প্রভিশন রাখা হয়। তবে নতুন পদ্ধতিতে ঋণ খেলাপি হওয়ার আগেই সম্ভাব্য লোকসান হিসাব করে প্রভিশন রাখতে হবে। এতে ব্যাংকগুলোর আর্থিক অবস্থার প্রকৃত ও স্বচ্ছ চিত্র আগেভাগেই জানা যাবে।

বাংলাদেশ ব্যাংক এবার সাময়িক সুবিধার ওপর নির্ভর করতে চায় না। তারা দীর্ঘমেয়াদি কাঠামোগত সংস্কারের মাধ্যমে খেলাপি ঋণ কমাতে চায়। এই পুরো পরিকল্পনাটি ৪টি প্রধান স্তম্ভের ওপর দাঁড়িয়ে আছে। প্রথমত, যেসব ব্যাংকে সুশাসনের অভাব রয়েছে, সেখানে ঝুঁকিভিত্তিক তদারকি জোরদার করা হবে। বিশেষ করে বড় ঋণ রয়েছে এমন ব্যাংকগুলোতে সম্পদের গুণগত মান যাচাই করা হবে।

দ্বিতীয়ত, ব্যাংকগুলোর মূলধন পুনর্গঠন পরিকল্পনাকে ঋণ আদায়ের সাথে যুক্ত করা হবে। ঋণ আদায়ের লক্ষ্য পূরণ না হলে ব্যাংকগুলোর লভ্যাংশ বিতরণে নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হবে। তৃতীয়ত, কেবল ভালো ও সচল ব্যবসার জন্যই ঋণ পুনর্গঠন সুবিধা দেওয়া হবে। যারা ইচ্ছাকৃতভাবে কিস্তি দেবে না, তাদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। চতুর্থত, বড় খেলাপি ঋণ আদায়ে ব্যাংকগুলোতে বিশেষ ইউনিট গঠন করা হবে। অর্থ ঋণ আদালতের মামলা দ্রুত নিষ্পত্তি করা হবে। একই সাথে বন্ধকী সম্পত্তি বাজেয়াপ্তের প্রক্রিয়া আরও জোরদার হবে।

এর পাশাপাশি সবল ব্যাংকগুলোর জন্য জরুরি তারল্য সহায়তার সুনির্দিষ্ট কাঠামো তৈরি করা হচ্ছে। এটি দুর্বল ব্যাংকের মূলধন পুনর্গঠন থেকে সম্পূর্ণ আলাদা থাকবে। ব্যাংকিং খাতের সুরক্ষায় সম্প্রতি দুটি নতুন আইন করা হয়েছে। এগুলো হলো 'ব্যাংক রেজোলিউশন অ্যাক্ট ২০২৬' এবং 'ডিপোজিট প্রটেকশন অ্যাক্ট ২০২৬'। এই আইনগুলো আমানতকারীদের স্বার্থ রক্ষা করবে এবং আর্থিক খাতের অনিয়ম কমাবে।

খেলাপি ঋণের সংস্কৃতি বন্ধ করতে প্রযুক্তিগত অবকাঠামো শক্তিশালী করা হবে। ব্যাংকগুলোর ঋণ ঝুঁকি বিশ্লেষণের সক্ষমতা বাড়ানোর পরিকল্পনাও রয়েছে। এই উদ্যোগগুলো সফলভাবে বাস্তবায়িত হলে ব্যাংকিং খাত ঝুঁকিমুক্ত হবে। এর ফলে দীর্ঘমেয়াদে একটি স্থিতিশীল ও সুশাসিত আর্থিক ব্যবস্থা গড়ে উঠবে বলে মনে করছে বাংলাদেশ ব্যাংক। 


শেয়ার করুন-

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মারুফ কামাল খান

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮১০, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০ | ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০, +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮০৭, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৩৩২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা