× ই-পেপার প্রচ্ছদ সর্বশেষ জাতীয় রাজনীতি সারা দেশ আন্তর্জাতিক অর্থনীতি খেলা বিনোদন মতামত চাকরি-ক্যারিয়ার শিক্ষা আজকের কার্টুন ফিচার সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

সংকটে কে

আদ্-দ্বীন নাকি মানুষ

হাসনাত শাহীন

প্রকাশ : ৩ ঘণ্টা আগে

আপডেট : ৩ ঘণ্টা আগে

মগবাজারে আদ্-দ্বীন উইমেন্স মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের চিকিৎসাসেবা বন্ধ, তাই নিরাপত্তা ব্যাবস্থাও শিথিল। কোন এক ফাঁকে হাসপাতাল করিডোরে কুকুর প্রবেশ করে শুয়েছে আয়েসি ভঙ্গিতে। ছবি: প্রতিদিনের বাংলাদেশ

মগবাজারে আদ্-দ্বীন উইমেন্স মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের চিকিৎসাসেবা বন্ধ, তাই নিরাপত্তা ব্যাবস্থাও শিথিল। কোন এক ফাঁকে হাসপাতাল করিডোরে কুকুর প্রবেশ করে শুয়েছে আয়েসি ভঙ্গিতে। ছবি: প্রতিদিনের বাংলাদেশ

ঢাকা মগবাজারের আদ্-দ্বীন উইমেন্স মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের লাইসেন্স বাতিলের পর থেকেই সেবাগ্রহীতা সাধারণ মানুষ ও প্রতিষ্ঠানটির শিক্ষার্থীরা পড়েছেন গভীর সংকটে।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এ প্রতিষ্ঠানটির বিকল্প নেই। লাইসেন্স বাতিলের ঘটনায় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ যেমন প্রতিকূল পরিস্থিতিতে পড়েছে, তেমনি মহাসংকটে পড়েছেন সেবাগ্রহীতা অসংখ্য সাধারণ মানুষ থেকে শুরু করে হাসপাতালটির দেশি-বিদেশি মেডিক্য়াল শিক্ষার্থী ও কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। সেবার মান, স্বল্পমূল্য ও বিনামূল্যে এই প্রতিষ্ঠানটির মতো স্বাস্থ্যসেবা দিতে পারে এমন বিকল্প এই মুহূর্তে দেশে নেই।

ছয় নবজাতকের মর্মান্তিক মৃত্যুর ঘটনাকে কেন্দ্র করে গত ১১ জুন সরকার হাসপাতালটির লাইসেন্স বাতিল করে তিন দিনের মধ্যে সব রোগী সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দেয়। এরপর থেকে কার্যত বন্ধ রয়েছে এটি। এতে যেমন হাজার হাজার গরিব রোগী ও স্বাস্থ্যসেবা গ্রহীতা চিকিৎসাবঞ্চিত হচ্ছেন; তেমনি চরম বিপাকে পড়েছেন চিকিৎসক-নার্স থেকে শুরু করে হাসপাতালটির কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। এসবের মাঝে আরও গভীর সংকট ও অনিশ্চয়তায় পড়েছে হাসপাতালটিতে ইন্টার্নশিপ করা দেশ-বিদেশের শত শত মেডিকেল শিক্ষার্থী। অনেকের শিক্ষাজীবনের অন্ধকার নেমে আসার শঙ্কা তৈরি হয়েছে, বিশেষত ভারতীয় শিক্ষার্থীদের, যারা ইন্টার্ন পর্যায়ে রয়েছেন। কারণ ভারতের ন্যাশনাল মেডিক্যাল কমিশনের নিয়ম অনুযায়ী, একই মেডিক্যাল  কলেজ ও হাসপাতাল থেকে এমবিবিএস ইন্টার্নশিপ সম্পন্ন না করলে ডিগ্রি গ্রহণযোগ্য হয় না।

এদিকে হাসপাতালের লাইসেন্স বাতিলের ঘটনাকে ‘মাথাব্যথা হলে মাথা কেটে ফেলার শামিল হিসেবে দেখছেন’ চিকিৎসাসেবার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সংগঠন, ব্যক্তি, জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ও ভুক্তভোগীরা।

ভোগান্তিতে রোগীরা

আদ্-দ্বীন উইমেন্স মেডিক্য়াল কলেজ হাসপাতাল; মূলত মা ও শিশুদের সাশ্রয়ী মূল্যে মানসম্মত সেবা প্রদান করত। হার্টের অপারেশন ছাড়া প্রায় সব ধরনের অপারেশন করা হতো হাসপাতালটিতে। প্রতিদিন ২ থেকে আড়াই হাজার রোগী হাসপাতালে বিভিন্ন সেবা নিত। যার ফলে চরম ভোগান্তিতে পড়েছে গরিব ও মধ্যবিত্ত পরিবারের রোগীরা।

সরেজমিন ঘুরে এ প্রতিবেদক জানতে পেরেছেন হাসপাতালের ৭০০টি বেডের মধ্যে অধিকাংশই রোগীতে পূর্ণ থাকত। বর্তমানে মাত্র ২০-২২ জন রোগী ভর্তি আছেন, যাদের মধ্যে এনআইসিইউতে ১৬ জন শিশু চিকিৎসাধীন। এসব রোগী কোনোভাবে স্থানান্তরের মতো নয় বলে ভর্তি আছে। এ ছাড়া প্রতিদিনি এই হাসপাতালে ২ থেকে আড়াই হাজার রোগী সেবা নিত, যারা এখন বিকল্প খুঁজছে।

গত কয়েক দিন বিভিন্ন সময়ে হাসপাতালে সরেজমিন গিয়ে পাওয়া তথ্য মতে এই হাসপাতালের ১৮০টি বেড দুস্থ-অসহায় রোগীদের ফ্রি দেওয়া হতো। সিজারিয়ান অপারেশন ১০ হাজার ৮০০ থেকে ১৫ হাজার টাকার মধ্যে সম্পন্ন হতো। ১০১টি এনআইসিইউ (NICU) বেডের ব্যবস্থা ছিল, যেখানে নামমাত্র মূল্যে চিকিৎসা দেওয়া হতো। এর পাশাপাশি তুলনামূলক কম খরচে প্রায় সব ধরনের অপারেশন এবং গরিব-অসহায় রোগীর জন্য বিশেষ সেবার ব্যবস্থা ছিল। মাত্র ২৫০ টাকা থেকে ৪০০ টাকায় প্রতিদিন ৫৬ জন কিডনি রোগীর ডায়ালাইসিস করা হতো।

সরকারি সিদ্ধান্ত ও নির্দেশ মেনে হাসপাতালটি চিকিৎসাসেবা বন্ধ রাখলেও প্রতিদিনই বহু নতুন রোগী এখানে আসে। তারা চিকিৎসা না পেয়ে অন্যত্র চলে যায়। পুরনো অনেক রোগীও আসেন। এদের মধ্যে একজন কিডনি রোগী শফিকুল ইসলাম প্রতিদিনের বাংলাদেশকে বলেন, আমার কিডনিতে সমস্যা। প্রতি সপ্তাহে দুদিন ডায়ালাইসিস করতে হয়। গত তিন বছর ধরে এই হাসপাতালে ডায়ালাইসিস করেছি। এখানে ডায়ালাইসিস সেশন প্রতি খরচ ছিল ৪০০ টাকা। মাসে আটটি ডায়ালাইসিসের জন্য খরচ হতো ৩ হাজার ২০০ টাকা। অথচ এখন বাইরে একটি ডায়ালাইসিস সেশনের জন্যই ৩ হাজার থেকে সাড়ে ৩ হাজার টাকা গুনতে হচ্ছে। এছাড়া প্রতি মাসে আমার এক ব্যাগ রক্ত লাগে। আদ্-দ্বীনে মাত্র ৩০ টাকায় রক্ত কিনতে পারতাম; এখন অন্য জায়গা থেকে কিনতে ৪ হাজার টাকার বেশি খরচ হচ্ছে। এভাবে বাইরে চিকিৎসা নিলে ছয় মাস পর আমাকে সহায়-সম্বল বিক্রি করতে হবে। কী যে করি, খুব টেনশনে আছি।

জানা গেছে, ঢাকা শহরের কোথাও ২০০ টাকায় বেসরকারি হাসপাতালে ডাক্তার দেখানো সম্ভব নয়, যা আদ্-দ্বীনে সম্ভব ছিল। আর যেসব পরীক্ষায় অন্য হাসপাতালে ২ হাজার টাকা লাগে, আদ্-দ্বীনে তা ১ হাজার ২০০ টাকায় করা যেত। এখন রোগীকে টাকা যেমন বেশি গুনতে হচ্ছে; তেমনই ভোগান্তিও হচ্ছে। ঢাকা শহরের মধ্যে অ্যাম্বুলেন্স সার্ভিস মাত্র ৩৮০ টাকায় এ হাসপাতাল দিত, যা অন্য কেউ দেয় না। জরুরি চিকিৎসায় রোগীরা এ সার্ভিস থেকেও বঞ্চিত হচ্ছে। 

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক নারী বলেন, আমি সন্তানসম্ভবা। মগবাজারে আমার বাসা হওয়ায় শুরু থেকে এখানে (আদ্-দ্বীনে) চিকিৎসা নিচ্ছিলাম। এখন চিকিৎসা বন্ধ হওয়ায় বিপাকে পড়েছি। তবে স্বস্তির ব্যাপার হচ্ছে, আদ্-দ্বীন কর্তৃপক্ষ ফ্রিতে অ্যাম্বুলেন্সে করে জুরাইনের আদ্-দ্বীন হাসপাতালে চিকিৎসা করাতে নিয়ে যাচ্ছে এবং সেখানে চিকিৎসা শেষে আবার এখানে (মগবাজারের আদ্-দ্বীন হাসপাতালে) নিয়ে আসছে। কিন্তু দূরের রাস্তা আর যানজট ঠেলে চিকিৎসা নিতে যাওয়াটা খুব কষ্টকর। সরকার আদ্-দ্বীনের লাইসেন্স বাতিল করে তো ভালো করেনি, এতে আমাদের মতো গরিব মানুষের আরও দুর্ভোগ বাড়িয়েছে।

অনিশ্চয়তায় আদ্‌-দ্বীন উইমেন্স মেডিক্যাল কলেজের বিদেশি শিক্ষার্থীরা

বড় সংকটে পড়েছে আদ্-দ্বীন উইমেন্স মেডিকেল কলেজের বিদেশি শিক্ষার্থীরা, বিশেষ করে ভারতের জম্মু ও কাশ্মির, মালদ্বীপ থেকে আসা শিক্ষার্থীরা চরম অনিশ্চয়তায় দিন কাটাচ্ছে। এমবিবিএস শেষ করে ইন্টার্ন শুরু করা শিক্ষার্থীরা বেশি অনিশ্চয়তায় পড়েছে। কারণ এসব শিক্ষার্থী ইন্টার্নশিপ সম্পন্ন করার পর দেশে ফিরে চিকিৎসক হিসেবে কর্মজীবন শুরু করতে চান। কিন্তু ভারতের ন্যাশনাল মেডিক্যাল কমিশনের নিয়ম অনুযায়ী, একই মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতাল থেকে এমবিবিএস ইন্টার্নশিপ সম্পন্ন না করলে ডিগ্রি গ্রহণযোগ্য হবে না। এ নিয়ে বিপাকে পড়েছে আদ্-দ্বীন উইমেন্স মেডিকেল কলেজ কর্তৃপক্ষও। জানা গেছে, বিদেশি শিক্ষার্থীরা নিজেদের উদ্বেগের কথা জানাতে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে গেলেও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সাড়া পাননি। ভারতীয় দূতাবাসও বিষয়টিকে বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ বিষয় উল্লেখ করে ইতিবাচক সাড়া দেয়নি। গত ২২ জুন আদ্‌-দ্বীন হাসপাতালে ইন্টার্নশিপ চালিয়ে যাওয়াসহ পাঁচ দফা দাবি জানিয়ে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে গিয়ে মহাপরিচালক বরাবর স্মারকলিপি জমা দিয়েছে বিদেশি শিক্ষার্থীদের একটি প্রতিনিধিদল। 

স্মারকলিপিতে বলা হয়, অনেকেই ইতোমধ্যে চিকিৎসাশিক্ষার কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বছর সম্পন্ন করেছেন। তারা বিশেষভাবে উদ্বিগ্ন ৩২ জন শিক্ষার্থীর অবস্থা নিয়ে, যারা বর্তমানে এই হাসপাতালে ইন্টার্নশিপ করছেন। তারা সফলভাবে একাডেমিক শিক্ষা সম্পন্ন করেছেন এবং বর্তমানে নিবন্ধন ও ভবিষ্যৎ চিকিৎসা পেশায় প্রবেশের জন্য বাধ্যতামূলক ইন্টার্নশিপ প্রশিক্ষণ নিচ্ছেন।

ইন্টার্ন চিকিৎসকদের পক্ষে এক বিদেশি শিক্ষার্থী ইলিয়াস মানসুর বলেন, ‘আমাদের দেশে এক প্রতিষ্ঠানে পড়াশোনা শেষ করে অন্য প্রতিষ্ঠানে ইন্টার্নশিপ করার অনুমতি নেই। তাই আমাদের এই বিশেষ পরিস্থিতি মানবিকভাবে বিবেচনা করার জন্য স্বাস্থ্য প্রশাসনের কাছে অনুরোধ জানিয়েছি।’

তিনি বলেন, ‘ভারতের ন্যাশনাল মেডিক্যাল কমিশনের (এনএমসি) নিয়ম অনুযায়ী, দুটি ভিন্ন প্রতিষ্ঠানে ইন্টার্নশিপ সম্পন্ন করা যায় না। যদি আমাদের এখন অন্য প্রতিষ্ঠানে স্থানান্তর করা হয়, তাহলে আমাদের পুরো ইন্টার্নশিপই অবৈধ বলে গণ্য হতে পারে।’

এ বিষয়ে স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (চিকিৎসা শিক্ষা) রুবীনা ইয়াসমীন বলেন, বিদেশি শিক্ষার্থীদের দাবির বিষয়ে এখনও আনুষ্ঠানিক কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। এ বিষয়ে আলোচনা করে প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

আদ্-দ্বীন উইমেন্স মেডিক্যাল কলেজ কর্তৃপক্ষীয় একজন নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানিয়েছেন, বর্তমানে আদ-দ্বীন উইমেন্স মেডিক্যাল কলেজের বিদেশি শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রায় ২০৯ জন ভারতের জম্মু ও কাশ্মির থেকে এসেছেন। আর আদ্-দ্বীন হাসপাতালে ৩২ জন শিক্ষার্থী ইন্টার্নশিপ করছেন। এর মধ্যে ৩০ জন কাশ্মিরি, ১ জন মালদ্বীপ ও ১ জন নেপালের । এদের শিক্ষা শেষ করা নিয়ে তারা (মেডিক্যাল কলেজ কর্তৃপক্ষ) বেশ বিপাকে পড়েছে।

আদ্-দ্বীনের লাইসেন্স বাতিল মাথা কেটে ফেলার শামিল

আদ্-দ্বীন হাসপাতালের লাইসেন্স বাতিলের সিদ্ধান্ত ‘মাথাব্যথার জন্য মাথা কেটে ফেলার শামিল’ বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ প্রাইভেট হসপিটাল, ক্লিনিক অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক অ্যাসোসিয়েশনের (বিপিএইচসিডিএ) সভাপতি ডা. মো. মোসাদ্দেক হোসেন বিশ্বাস ডাম্বেল। তিনি প্রতিদিনের বাংলাদেশকে বলেন, মাথাব্যথা হলে মাথা কেটে ফেলতে হবে এটা কোনো যুক্তি নয়? মাথা কেটে ফেললেই সমস্যার যৌক্তিক সমাধান হয় না। আমি এটা (হাসপাতালের লাইসেন্স বাতিল) চাই না। আমি চাই ঘটনার মূল কারণ অনুসন্ধান করে দায়ীদের বিরুদ্ধে কার্যকর ও বাস্তবসম্মত ব্যবস্থা নেওয়া হোক ও শাস্তি নিশ্চিত করা হোক। এ সময় তিনি উল্লেখ করেন, আইন থাকা সত্ত্বেও এর আগে অন্যান্য বড় হাসপাতালে অগ্নিকাণ্ড বা শিশু মৃত্যুর ঘটনায় এমন কঠোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি।

এ প্রসঙ্গে হাসপাতালের সেবাগ্রহীতা শফিকুল ইসলাম বলেন, লাইসেন্স বাতিল করে সরকার ভালো করেনি, বরং সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ বাড়িয়েছে। এখানে গরিব ও মধ্যবিত্ত মানুষেরাই স্বল্পমূল্যে মানসম্মত চিকিৎসাসেবা নিত।

আব্দুল্লাহ আল মামুন নামের মগবাজারের এক বাসিন্দা প্রতিদিনের বাংলাদেশকে বলেন, আদ্-দ্বীন মা ও শিশুদের জন্য সাশ্রয়ী মূল্যে মানসম্মত সেবার জন্য পরিচিত। যারা মধ্যবিত্ত এবং গরিব মানুষ তারাই আদ্-দ্বীনে চিকিৎসা বেশি নেয়। আমার দুই সন্তান এখানে হয়েছে। এদের চিকিৎসার মান ভালো। লাইসেন্স বাতিল করে জনভোগান্তি বাড়িয়েছে সরকার।

বাংলাদেশ মেডিক্যাল অ্যান্ড ডেন্টাল কাউন্সিলের (বিএমডিসি) সভাপতি অধ্যাপক ডা. মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘লাইসেন্স বাতিল করার সময় আদ্-দ্বীন হাসপাতাল যে একটি মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল, সরকারের এ ব্যাপারে সতর্কতা বা সচেতনতা থাকা দরকার ছিল। এটি একটি সাধারণ হাসপাতাল নয়, বরং একটি মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল। এটা বড় সেবার অংশ।’ তার মতে, ছয় শিশু মৃত্যুর ঘটনার প্রকৃত কারণ নিশ্চিতভাবে নির্ধারণ না হওয়া সত্ত্বেও একটি মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের লাইসেন্স বাতিল স্বাস্থ্যসেবা ও চিকিৎসা শিক্ষার জন্য নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে।

গত ২৭ মে হাসপাতালটিতে ছয় নবজাতকের মৃত্যুর যে ঘটনা ঘটেছিল, সে ঘটনায় গভীর দুঃখ ও পরিবারগুলোর প্রতি সমবেদনা জানিয়েছে বিপিএইচসিডিএ ও গণস্বাস্থ্য কেন্দ্র। তারা বলেছে, এ ঘটনায় আদ্‌-দ্বীন মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের লাইসেন্স বাতিল করা সুবিবেচনাপ্রসূত ও সর্বোত্তম সমাধান নয়। এ ছাড়াও লাইসেন্স বাতিলের প্রতিবাদ জানিয়েছে ‘ন্যাশনাল হেলথ এলায়েন্স (এনএইচএ)’, ‘ন্যাশনাল ডক্টরস ফোরামের (এনডিএফ)’-সহ বিভিন্ন সংগঠন। 

অপরদিকে, আদ্-দ্বীন হাসপাতাল কর্তৃপক্ষর একটি সূত্র প্রতিদিনের বাংলাদেশকে জানিয়েছেÑ লাইসেন্স ফিরে পাওয়ার প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তদন্ত প্রতিবেদনে যেসব ত্রুটির কথা বলা হয়েছিল, যে অনুযায়ী বুয়েটের তিনজন ইঞ্জিনিয়ারের তত্ত্বাবধানে হাসপাতালের ভেন্টিলেশন ও অন্যান্য সংস্কার কাজ শুরু করেছে। কর্তৃপক্ষ আশা করছে, এক সপ্তাহের মধ্যেই এই সংস্কার সম্পন্ন হবে। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, স্বাস্থ্য অধিদপ্তর বরাবর একটি আবেদন জমা দিয়েছে তারা। যেখানে মানবিক দিক বিবেচনা করে এবং সেবাপ্রাপ্তিতে সাধারণ মানুষের সমস্যার কথা চিন্তা করে সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার অনুরোধ করা হয়েছে।

হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের পক্ষের কেউ সরাসরি কথা বলতে না চাইলেও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের একটি সূত্র প্রতিদিনের বাংলাদেশকে জানিয়েছেÑ তারা এখনও আদালতের মাধ্যমে কোনো ‘রিট’ আবেদন করেনি। বর্তমানে তারা প্রশাসনিক উপায়ে বা অধিদপ্তরের মাধ্যমে বিষয়টি সমাধানের চেষ্টা করছেন। তবে লাইসেন্স ফিরে পাওয়ার বিষয়ে এখন পর্যন্ত সরকারের পক্ষ থেকে কোনো ধরনের ইতিবাচক আভাস বা নিশ্চয়তা পাওয়া যায়নি।

সার্বিক বিষয়ে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে একাধিকবার বিভিন্নভাবে যোগাযোগ করেও তাদের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

শেয়ার করুন-

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মারুফ কামাল খান

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮১০, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০ | ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০, +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮০৭, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৩৩২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা