চট্টগ্রাম আদালত
ফরহাদ সুমন, চট্টগ্রাম
প্রকাশ : ৩ ঘণ্টা আগে
আপডেট : ৩ ঘণ্টা আগে
চট্টগ্রাম আদালত দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তর আদালত। এই আদালতের কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে বেঞ্চ সহকারী, পিয়ন ও স্টোনগ্রাফার দিয়ে। ছবি: সংগৃহীত
চট্টগ্রাম আদালত দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তর আদালত। এই আদালতের কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে বেঞ্চ সহকারী, পিয়ন ও স্টোনগ্রাফারÑ এই তিন কর্মচারীকে নিয়ে।
এতে আদালতে দৈনন্দিন মামলা এবং আগের মামলার কার্যক্রমে গতি আনতে হিমশিম খেতে হচ্ছে তাদের। কাজ সামলাতে না পেরে নিজেরা পকেটের টাকা দিয়ে লোক রেখে কাজ করাচ্ছেন। চট্টগ্রাম আদালতের বেঞ্চ সহকারীরা এ তথ্য জানিয়েছেন।
চট্টগ্রাম আদালতে চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেটসহ ৬টি ম্যাজিস্ট্রেট কোর্ট রয়েছে। এ ছাড়া জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট, অতিরিক্ত চিফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতসহ ৬টি আদালত রয়েছে। সিনিয়র জুডিসিয়াল আদালত ম্যাজিস্ট্রেট আদালত আছে ৩টি, মহানগর দায়রা জজ ও অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ আদালত ১১টি ও ৭টি যুগ্ম মহানগর দায়রা জজ আদালত। তা ছাড়া নারী ও শিশু ট্রাইব্যুনাল ৭টি, সাইবার ট্রাইব্যুনাল, মানব পাচার ট্রাইব্যুনাল, বিভাগীয় স্পেশাল জজ আদালত, দ্রুত বিচার আদালত, বিভাগীয় স্পেশাল জজ আদালত, জেলা জজ আদালত, অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ, যুগ্ম জেলা ও দায়রা জজ আদালত ও সিনিয়র সহকারী জজ ও সহকারী সিভিল জজসহ আরও বিভিন্ন আদালত রয়েছে। এসব আদালতে প্রতিদিনই মামলা পরিচালিত হয়ে থাকে।
নাম প্রকাশ না করার অনুরোধে আদালতের বেঞ্চ সহকারী ও পেশকাররা জানান, আদালতের অধীনে আদালতগুলোয় পর্যাপ্ত লোকবল নেই। যার প্রভাব আদালতের কার্যক্রমের ওপর পড়ছে। প্রতিটি আদালতে একজন বেঞ্চ সহকারী ও একজন পিয়ন দিয়ে দাপ্তরিক কাজ করতে হয়। দাপ্তরিক কাজ সামাল দিতে আমরা নিজেদের পকেটের টাকা দিয়ে লোক রেখে কাজ করাই। তবে লোক রাখতে গিয়ে পকেট থেকে যে টাকা খরচ হয়, তা আমরা ফেরত পাই না। ফেরত আসারও কোনো পথ নেই।
সরেজমিনে চট্টগ্রাম আদালতে দেখা গেছে, বেঞ্চ সহকারী ও পেশকার একাধারে মামলার চার্জশিট, মামলায় আদালতের আদেশ, আসামিদের বিরুদ্ধে ওয়ারেন্ট, আসামিদের বিরুদ্ধে সমনসহ একাধিক কাজ করছেন।
তা ছাড়া একজন বেঞ্চ সহাকারীকে বেলা ১১টা থেকে মামলার কার্যক্রম শেষ হওয়ার পরও অতিরিক্ত কাজ শেষ করতে তাদের রাত ৯টা পর্যন্ত কাজ করতে হয়। বেঞ্চ সহকারী ও পেশকাররা আক্ষেপ করে বলেন, “সকালে বের হয়ে আদালতের দাপ্তরিক কাজ শেষ করে রাত ৯টা-১০টায় বাসায় ফিরতে হয়। সন্তানদের লেখাপড়ার দিকেও সঠিক মনোযোগ দেওয়া যায় না।”
আইনজীবীদের ভাষ্য, আদালতে রাত পর্যন্ত বেঞ্চ সহকারীদের কাজ করতে দেখা যায়। সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী, আমলাদের জন্য অফিসের নির্ধারিত সময় থাকলেও বেঞ্চ সহকারী ও পেশকাররা এ সুবিধা থেকে বঞ্চিত। কাজের চাপে তারা নির্ধারিত সময়ে আদালত থেকে বের হতে পারেন না।
জেলা আইনজীবী মীর শফিকুল বিজন বলেন, “আদালতে বেঞ্চ সহকারীর কাজ শেষ করতে কিংবা নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে কাজ গুছিয়ে আনতে আরও লোকবল দরকার। কিন্তু অপ্রতুল কর্মচারীর কারণে মামলার গতি কমে যাচ্ছে। দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তর আদালতে মামলাজট নিষ্পত্তির জন্য আরও আদালত ও বেঞ্চ সহকারীর জন্য আরও লোকবল না থাকায় বিচারপ্রক্রিয়া ধীরগতির শিকার হচ্ছে।”
এ বিষয়ে চট্টগ্রাম মহানগর আদালতের অতিরিক্ত পাবলিক প্রসিকিউটর মো. জালাল উদ্দিন বলেন, “আদালতে মামলা গতিশীল করতে লোকবল প্রয়োজন। সব আদালতে লোকবল সংকট, তা সঠিক নয়। লোকবল থাকলে যে কাজের গতি বাড়বে, আবার তাও নয়। লোকবল যাই থাকুক বিচারকদের নির্দেশনা, কাজের বণ্টন ইত্যাদি থাকা প্রয়োজন। দেখা গেছে, কিছু কিছু আদালতে লোকজন অলস অবস্থায় রয়েছে। কারণ সেখানে সঠিক কাজের বণ্টন হচ্ছে না। যেসব আদালতে লোকবল সংকট, সেখানে লোকবল নিয়োগ জরুরি। শুধু লোকবল হলে হবে না, তাদের যতক্ষণ পর্যন্ত বিচারকরা নির্দেশনা না দেবেন কিংবা তারা নির্দেশ না পাবেন, ততক্ষণ কাজে গতি আসবে না।”
বাকলিয়ার শিশু ধর্ষণ মামলার রায়ের উদাহরণ দিয়ে এই পিপি বলেন, “চাঞ্চল্যকর এই মামলার রায় আমরা দ্রুত শেষ করতে পেরেছি। কারণ সবার ইচ্ছা, আন্তরিকতা, নির্দেশনা, কাজের গতি ইত্যাদি সব ছিল। আমার কোর্টে বিচারক আলী আজগর সাহেব যথেষ্ট আন্তরিক হওয়ায় বাকলিয়া এবং পটিয়ায় শিশু ধর্ষণ মামলার বিচারকাজ দ্রুত শেষ হয়েছে। কিন্তু আগে যিনি ছিলেন তিনি তেমন ছিলেন না। তাই কাজের গতি ত্বরান্বিত করতে বিচারকদের নির্দেশনা, কাজের বণ্টন ইত্যাদি দরকার।”