× ই-পেপার প্রচ্ছদ সর্বশেষ জাতীয় রাজনীতি সারা দেশ আন্তর্জাতিক অর্থনীতি খেলা বিনোদন মতামত চাকরি-ক্যারিয়ার শিক্ষা আজকের কার্টুন ফিচার সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

মালয়েশিয়ায় বহুমাত্রিক সহযোগিতার পথ খুলল

মজুমদার ইমরান, মালয়েশিয়ার পুত্রজায়া থেকে

প্রকাশ : ৫ ঘণ্টা আগে

মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম এবং প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান যৌথ সংবাদ সম্মেলনে অংশ নেন। ছবি: পিএমও

মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম এবং প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান যৌথ সংবাদ সম্মেলনে অংশ নেন। ছবি: পিএমও

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের দুই দিনের মালয়েশিয়া সফরের শেষ দিন সোমবার দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক উন্নয়নের লক্ষ্যে দুই দেশের মধ্যে একটি সমঝোতা স্মারক ও দুটি দ্বিপাক্ষিক দলিল বিনিময় হয়েছে। এছাড়া দুই শীর্ষ নেতার মধ্যে অনুষ্ঠিত বৈঠকে গুরুত্বের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে জনশক্তি রপ্তানি, মুক্ত বাণিজ্য জ্বালানি সহযোগিতা, হালাল শিল্প, ডিজিটাল ও সেমিকন্ডাক্টর শিল্প, প্রতিরক্ষা নিরাপত্তা এবং আঞ্চলিক সহযোগিতা নিয়ে। গতকালের এ বৈঠকের পর ঘোষিত যৌথ বিবৃতিতে গুরুত্বের সঙ্গে তুলে ধরা হয় বিষয়গুলো।

এরপর গতকাল বিকালেই প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সহফসঙ্গীদের নিয়ে মালয়েশিয়া থেকে চীনের বন্দরনগরী দালিয়ানের উদ্দেশে যাত্রা করেন। প্রধানমন্ত্রীর এই রাষ্ট্রীয় সফরে চীনের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক আরও উঁচুতে ওঠার আশা করা হচ্ছে। আগামী শুক্রবার প্রধানমন্ত্রীর দেশে ফেরার কথা রয়েছে। 

লাল গালিচা সংবর্ধনা

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও তার স্ত্রী জুবাইদা রহমান গতকাল সকালে পুত্রজায়ায় মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় ‘পরদানা পুত্রা’য় পৌঁছলে তাদের লাল গালিচা সংবর্ধনা দেওয়া হয়। মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম এবং তার স্ত্রী ওয়ান আজিজাহ ওয়ান ইসমাইল তাদের স্বাগত জানান। সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের পর প্রথমে একান্ত বৈঠকে মিলিত হন দুই নেতা। পরে তারেক রহমান ও আনোয়ার ইব্রাহিমের নেতৃত্বে দুই দেশের প্রতিনিধিদলের দ্বিপক্ষীয় বৈঠক হয়। সেখানে দুই দেশের মধ্যে বিভিন্ন ক্ষেত্রে সহযোগিতার বিষয়ে আলোচনা হয়।

দ্বিপক্ষীয় বৈঠকের পর সাংস্কৃতিক ক্ষেত্রে সহযোগিতা এগিয়ে নিতে একটি সমঝোতা স্মারকে সই করে বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়া। এছাড়া সন্ত্রাসবাদ দমন বিষয়ে গবেষণা ও সক্ষমতা বৃদ্ধিতে সহযোগিতা এবং বিনিয়োগ সংক্রান্ত বিষয়ে দুটি দ্বিপক্ষীয় দলিল বিনিময় করে দুই দেশ। এ ছাড়াও জনশক্তি রপ্তানি ও মুক্ত বাণিজ্য চুক্তিসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে আলোচনা হয় দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে। 

জনশক্তি রপ্তানিতে জোর

বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশ থেকে আরও বেশি কর্মী নিতে মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রীকে অনুরোধ করেন। সেই সঙ্গে মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার দ্রুত বাংলাদেশি কর্মীদের জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়ার আহ্বান জানান। পাশাপাশি অনিয়মিত শ্রমিকদের বৈধ করা এবং আটক বাংলাদেশিদের সম্ভাব্য প্রত্যাবাসনের বিষয়টিও তিনি বৈঠকে তোলেন। বৈঠকের পর এক যৌথ বিবৃতিতে বলা হয়, শ্রমিক নিয়োগের প্রক্রিয়া স্বচ্ছ, ন্যায্য, বৈষম্যহীন, সাশ্রয়ী ও প্রতিযোগিতামূলক করার বিষয়ে দুই দেশই আলোচনায় জোর দিয়েছে। এছাড়া মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশি কর্মীদের অব্যাহত, নিরাপদ এবং পারস্পরিক লাভজনক অভিবাসন নিশ্চিত করতে জয়েন্ট ওয়ার্কিং গ্রুপের (জেডব্লিউজি) বৈঠক ডাকার সিদ্ধান্ত হয়েছে, যেখানে কর্মী নিয়োগের বিষয়ে নতুন একটি সমঝোতা স্মারকের খসড়া তৈরি করা হবে।

মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে আলোচনা

দ্বিপক্ষীয় বৈঠকের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় ছিল মালয়েশিয়া-বাংলাদেশ মুক্ত বাণিজ্য চুক্তির (এমবিএফটিএ) আলোচনা। বাংলাদেশ দক্ষিণ এশিয়ায় মালয়েশিয়ার দ্বিতীয় বৃহত্তম ব্যবসায়িক অংশীদারÑ এ বিষয়টি তুলে ধরে দুই পক্ষই দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বাড়ানোর ওপর জোর দেয়। ২০২৭ সালের মধ্যে দুই পক্ষের জন্যই লাভজনক একটি মুক্ত বাণিজ্য চুক্তিতে পৌঁছানোর জন্য আলোচনা এগিয়ে নিতে উভয় পক্ষই বৈঠকে সম্মত হয়।

যৌথ বিবৃতিতে বলা হয়, দুই প্রধানমন্ত্রী মালয়েশিয়া-বাংলাদেশ জয়েন্ট বিজনেস কাউন্সিল (জেবিসি) প্রতিষ্ঠার অগ্রগতিকে স্বাগত জানান। বাণিজ্য, বিনিয়োগ এবং টেকসই অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব বাড়ানোর ওপর জোর দেওয়া হয় দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে। সেজন্য টেলিযোগাযোগ, জ্বালানি, অবকাঠামো বন্দর ও লজিস্টিকস, হালাল শিল্প, কৃষি প্রক্রিয়াজাতকরণ, শিক্ষা ও দক্ষতা উন্নয়ন, ডিজিটাল অর্থনীতি, সেমিকন্ডাক্টর, স্মার্ট ম্যানুফ্যাকচারিং এবং অন্যান্য উচ্চ মূল্যের শিল্পকে অগ্রাধিকারের খাত হিসেবে চিহ্নিত করে সহযোগিতা বাড়ানোর বিষয়ে দুই পক্ষ সম্মত হয়।

জ্বালানি সহযোগিতা বাড়ানোর প্রত্যাশা

বৈঠকে বাংলাদেশের তরফে জ্বালানি খাতে সহযোগিতা জোরদার করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়। এলএনজি সরবরাহ ও এলএনজি অবকাঠামো গড়ে তোলার ক্ষেত্রে সহযোগিতার বিষয়ে দুই দেশের রাষ্ট্রায়ত্ত কোম্পানি পেট্রোনাস এবং পেট্রোবাংলার মধ্যে যে সমঝোতা স্মারক রয়েছে, তার সকল সুযোগ কাজে লাগানোর ওপর দুই পক্ষই জোর দেয়। বাংলাদেশ মালয়েশিয়ার কোম্পানিগুলোকে বঙ্গোপসাগরে তেল ও গ্যাস অনুসন্ধান, কয়লা ও চুনাপাথরের মতো খনিজ উত্তোলন এবং নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে রূপান্তরসহ বাংলাদেশের জ্বালানি খাতে বিনিয়োগের আমন্ত্রণ জানায়। পাশাপাশি দুই দেশের জাতীয় জ্বালানি কোম্পানি এবং বেসরকারি খাতের স্টেকহোল্ডারদের মধ্যে সহযোগিতা বাড়ানোর ওপর জোর দেওয়া হয়।

হালাল শিল্পে সহায়তার প্রত্যাশা

বৈঠকে হালাল ইকোসিস্টেমের উন্নয়নে মালয়েশিয়ার দক্ষতা এবং ব্যাপক অভিজ্ঞতার প্রশংসা করে বাংলাদেশ। আর বাংলাদেশের হালাল খাতের উন্নয়নে সহায়তার জন্য দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতা জোরদার করতে সম্মত হয় মালয়েশিয়া। এ বিষয়ে দুই দেশের মধ্যে কূটনৈতিক নথি বিনিময়ের বিষয়টিও আলোচনায় আসে। মালয়েশিয়ার ইসলামী উন্নয়ন বিভাগ (জাকিম) এবং বাংলাদেশের সংশ্লিষ্ট নিয়ন্ত্রক কর্তৃপক্ষের মধ্যে চলমান সহযোগিতা আরও এগিয়ে নেওয়ার পাশাপাশি হালাল সার্টিফিকেশন, নিয়ন্ত্রক কাঠামোর উন্নয়ন, সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং পেশাদারদের গবেষণা ও উদ্ভাবন প্রশিক্ষণ, সেই সঙ্গে প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো শক্তিশালী করাসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে সহযোগিতা আরও বাড়ানোর প্রতিশ্রুতি দেন মালয়েশিয়ার প্রতিনিধিরা।

সেমিকন্ডাক্টর শিল্প নিয়ে আলোচনা

যৌথ বিবৃতিতে বলা হয়, পারস্পরিক বিনিয়োগের সুযোগ সৃষ্টির লক্ষ্যে বৈঠকে বিনিয়োগ সুবিধা, কারিগরি সহযোগিতা, সক্ষমতা বৃদ্ধি, প্রযুক্তি স্থানান্তর, মেধা উন্নয়ন, ব্যবসা ম্যাচিং এবং কৌশলগত অংশীদারত্বের মাধ্যমে দুই দেশের সরকারি সংস্থা ও ব্যবসায়ী সম্প্রদায়ের মধ্যে ঘনিষ্ঠ সহযোগিতাকে উৎসাহিত করা হয়। দুই নেতা অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং প্রতিযোগিতার চালিকাশক্তি হিসেবে ডিজিটাল রূপান্তরের ক্রমবর্ধমান গুরুত্ব স্বীকার করেন এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই), ডিজিটাল অর্থনীতি, ফিনটেক, ডিজিটাল গভর্ন্যান্স, সাইবার সিকিউরিটি এবং অন্যান্য উদীয়মান প্রযুক্তিতে সহযোগিতা জোরদার করতে সম্মত হন।

বৈঠকে সেমিকন্ডাক্টর শিল্প ও পরিষেবায় মালয়েশিয়ার দক্ষতা ও জ্ঞান বাংলাদেশের দ্রুত বাড়তে থাকা আইটি এবং ইঞ্জিনিয়ারিং খাতের সঙ্গে যুক্ত করতে সম্মত হন দুই প্রধানমন্ত্রী। বৈঠকে বাংলাদেশের তরফে একটি দ্বিপক্ষীয় মেধা সহযোগিতা কাঠামো তৈরি করার প্রস্তাব দেওয়া হয়, যার অধীনে উভয় দেশ বিশেষজ্ঞ বিনিময় করতে পারবে।

প্রতিরক্ষা ও নিরাপত্তা সহযোগিতা

যৌথ বিবৃতিতে বলা হয়, সামরিক বিজ্ঞান, প্রযুক্তিগত দক্ষতা এবং প্রতিরক্ষা শিল্প অংশীদারত্বে কৌশলগত সহযোগিতা সম্প্রসারিত করতে দুই দেশের যে এমওইউ রয়েছে, তা সম্পূর্ণভাবে কার্যকর করার লক্ষ্যে দুই পক্ষই সক্রিয় হবে। একটি কাঠামোগত প্রতিরক্ষা রোডম্যাপ তৈরি করতে প্রতিরক্ষা সহযোগিতা বিষয়ক দ্বিপক্ষীয় জয়েন্ট কমিটির সভা আহ্বান করা হবে। যৌথ কৌশলগত মহড়া, মোতায়েন-পূর্ব প্রশিক্ষণ সহযোগিতা এবং দক্ষতা ও জ্ঞান বিনিময়ের মাধ্যমে জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা কার্যক্রমে সহায়তার প্রতিশ্রুতিও পুনর্ব্যক্ত করেন দুই নেতা। তারা গোয়েন্দা তথ্য বিনিময়, তথ্য আদান-প্রদান, সক্ষমতা বৃদ্ধির উদ্যোগ, প্রশিক্ষণ কর্মসূচি এবং সর্বোত্তম চর্চা বিনিময়ের মাধ্যমে সন্ত্রাসবাদ ও সব ধরনের সহিংস চরমপন্থা প্রতিরোধ ও মোকাবিলায় সহযোগিতা জোরদার করার প্রতিশ্রুতি দেন। 

আঞ্চলিক ও বহুপাক্ষিক সহযোগিতা

যৌথ বিবৃতিতে বলা হয়, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আসিয়ানের সেক্টরাল ডায়ালগ পার্টনার স্ট্যাটাস অর্জনের মাধ্যমে আসিয়ানের সঙ্গে সম্পৃক্ততাকে আনুষ্ঠানিক রূপ দেওয়ার জন্য বাংলাদেশের দৃঢ় আকাঙ্ক্ষার কথা দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে পুনর্ব্যক্ত করেন। প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম বাংলাদেশের এই আগ্রহকে স্বাগত জানান এবং আসিয়ান কাঠামোর মধ্যে ঢাকার আকাঙ্ক্ষাকে গঠনমূলকভাবে সমর্থন করার জন্য মালয়েশিয়ার প্রস্তুতির কথা বলেন। রোহিঙ্গা সংকটের সমাধানে আসিয়ান প্লাটফর্ম ব্যবহার করার বিষয়েও আলোচনা হয় দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে।

বাংলাদেশ আসিয়ান, অর্গানাইজেশন অব ইসলামিক কো-অপারেশন (ওআইসি), জাতিসংঘ এবং অন্যান্য বহুপাক্ষিক ফোরামসহ দ্বিপক্ষীয়, আঞ্চলিক এবং আন্তর্জাতিক প্লাটফর্মে রোহিঙ্গা সংকট প্রশ্নে অব্যাহত সমর্থন এবং নীতিগত সহায়তার জন্য মালয়েশিয়ার প্রশংসা করে। বৈঠকে পশ্চিম এশিয়ার পরিস্থিতি নিয়েও আলোচনা করেন তারেক রহমান ও আনোয়ার ইব্রাহিম। যৌথ বিবৃতিতে বলা হয়, তারা ফিলিস্তিনি জনগণের জন্য একটি ন্যায্য ও দীর্ঘস্থায়ী শান্তির প্রতি তাদের সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করেন এবং ওই অঞ্চলে টেকসই শান্তি প্রতিষ্ঠায় সংলাপ ও কূটনৈতিক প্রচেষ্টার প্রতি সমর্থন জানান।

পাঁচ শীর্ষ কোম্পানির নির্বাহী প্রধানের সঙ্গে বৈঠক

বাংলাদেশে বিনিয়োগে আনতে মালয়েশিয়ার পাঁচ শীর্ষ কোম্পানির নির্বাহী প্রধানদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। গতকাল বিকালে হোটেল কুয়ালালামপুরে শাংগ্রি লা হোটেলে এক সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহাদী আমিন একথা জানান।

সংবাদ সম্মেলনে মাহাদী আমিন বলেন, ‘আমরা এখানে যখন প্রেস কনফারেন্স করছি, তখন মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে মালয়েশিয়ার সবচাইতে পাঁচটি ডিফরেন্ট কোম্পানির সঙ্গে বিনিয়োগের বিষয়ে কথা বলছেন। কোম্পানিগুলোর শীর্ষ কর্মকর্তারা আলোচনা করছেন।’ তিনি বলেন, ‘আমাদের মূল উদ্দেশ্য, মালয়েশিয়া থেকে বাংলাদেশে বিনিয়োগ নিয়ে যাওয়া। সেখানে বড় একটা মার্কেট বেইস রয়েছে। স্বাভাবিকভাবে সেখানে কনজিউমার ডিমান্ডও রয়েছে; যা মালয়েশিয়া ফুলফিল করতে পারবে।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমাদের অনেক বড় ডেমোগ্রাফিক ডিভিডেন্ট রয়েছে। যার অর্থ আমাদের কর্মসংস্থানের একটা অবারিত সুযোগ রয়েছে। একদিকে যেমন আমাদের মার্কেট ডিমান্ড অনেক বেশি, একই সাথে আমাদের এমপ্লয়জ সাপোর্ট করার মতো সক্ষমতাও রয়েছে। এই দুটো সমন্বয়ের মাধ্যমে আমরা নিশ্চিত করেছি যে, মালয়েশিয়া যদি বাংলাদেশে বিনিয়োগ করে, আমাদের সরকার তার অবস্থানের ভেতর যতটা সম্ভব নীতিগত সহযোগিতা করবে এবং ডিরেগুলেশনের মাধ্যমে প্রো-বিজনেস প্রো-ইনভেস্টমেন্ট একটা ফ্রেমওয়ার্ক তৈরি করবে।’ 

প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র জানান, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে যে কোম্পানিগুলো সাক্ষাৎ করেছেন, সেগুলোর মধ্যে রয়েছে পেট্রোনাস গ্রুপ, আগজিয়াটা, এয়ার এশিয়া, পারডুয়া এবং এমএমসি ফোর্স।’ 

সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্র বিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির ও প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন ও ডেপুটি প্রেস সচিব জাহিদুল ইসালম রনি ও মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশের ডেপুটি হাইকমিশনার শাহানারা মনিকা উপস্থিত ছিলেন।

অংশীদারত্বকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাওয়ার আশা

চীনের স্টেট কাউন্সিলের প্রধানমন্ত্রী লি ছিয়াংয়ের আমন্ত্রণে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান চীনে সরকারি সফর করছেন। প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন জানান, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান মালয়েশিয়া থেকে চীনের দালিয়ানের উদ্দেশে রওনা হয়েছেন। মালয়েশিয়ার স্থানীয় সময় বিকাল ৫টায় কুয়ালালামপুর আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে বাংলাদেশ বিমানের বিশেষ ফ্লাইটে দালিয়ান রওনা হন। বিমানবন্দরের বুঙ্গা রায় কমপ্লেক্সের এক্সক্লুসিভ ভিআইপি টার্মিনালে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীকে বিদায় জানান মালয়েশিয়ার ধর্মমন্ত্রী জুলফিকলি হাসান ও তার সহধর্মির্ণী। এ সময়ে মালয়েশিয়ায় নিযুক্ত বাংলাদেশের হাইকমিশনার মনজুরুল করিম এবং ডেপুটি হাইকমিশনার শাহানারা মনিকাও উপস্থিত ছিলেন।

দালিয়ানে প্রধানমন্ত্রী দুই দিন কর্মব্যস্ত সময় কাটাবেন। এরপর প্রধানমন্ত্রী চীনের রাজধানী বেইজিংয়ে যাবেন। সেখান দেশটির শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করবেন প্রধানমন্ত্রী। সফরে বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যে ১৫ থেকে ১৭টি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ), চুক্তি, কর্মপরিকল্পনা ও প্রটোকল সই হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। 

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সফর নিয়ে সোমবার বেইজিংয়ে নিয়মিত এক সংবাদ সম্মেলনে চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র গুও জিয়াকুন বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের চীন সফরকে সুযোগ হিসেবে কাজে লাগিয়ে বাংলাদেশের নতুন সরকারের সঙ্গে কৌশলগত যোগাযোগ শক্তিশালী করার প্রত্যাশা করছে বেইজিং। একই সঙ্গে ঐতিহ্যগত বন্ধুত্বকে এগিয়ে নেওয়া, বেল্ট অ্যান্ড রোড ইনিশিয়েটিভের (বিআরআই) আওতায় উচ্চমানের সহযোগিতা ত্বরান্বিত, সব খাতে পারস্পরিক যোগাযোগ ও সহযোগিতা বৃদ্ধি, বহুপাক্ষিক বিভিন্ন বিষয়ে সমন্বয় জোরদার এবং চীন-বাংলাদেশ ব্যাপক কৌশলগত সহযোগিতামূলক অংশীদারত্বকে এক নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাওয়ার আশাও করছে। 

গুও জিয়াকুন বলেন, ‘দায়িত্ব গ্রহণের পর এটিই তারেক রহমানের প্রথম চীন সফর। সফরকালে চীনের শীর্ষ নেতা তার সঙ্গে বৈঠক ও আলোচনা করবেন। বৈঠকে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের পাশাপাশি পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বৈশ্বিক ও আঞ্চলিক বিভিন্ন ইস্যু নিয়ে বিস্তারিত মতবিনিময় হবে; যা দুই দেশের সম্পর্কের ভবিষ্যৎ গতিপথ নির্ধারণ করবে।’

শেয়ার করুন-

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মারুফ কামাল খান

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮১০, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০ | ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০, +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮০৭, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৩৩২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা