মালয়েশিয়ায় প্রধানমন্ত্রী
মজুমদার ইমরান, কুয়ালালামপুর থেকে
প্রকাশ : ২ ঘণ্টা আগে
আপডেট : ২ ঘণ্টা আগে
সরকার পর্যাপ্ত প্রশিক্ষণ দিয়ে বিদেশে দক্ষ শ্রমিক পাঠাতে চায় বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। ছবি: বিএনপি মিডিয়া সেল
সরকার পর্যাপ্ত প্রশিক্ষণ দিয়ে বিদেশে দক্ষ শ্রমিক পাঠাতে চায় বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
তিনি মনে করেন, সবকিছুর সঠিক প্রস্তুতি নিয়ে শ্রমশক্তি রপ্তানি করা গেলে তা দেশের জন্য আরও বেশি ফলপ্রসূ হবে।
মালয়েশিয়া প্রথম রাষ্ট্রীয় সফরে গিয়ে গতকাল রবিবার রাতে কুয়ালালামপুরের শাংগ্রি লা হোটেলে প্রবাসী বাংলাদেশিদের সঙ্গে এক মতবিনিময় সভায় প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন।
বক্তব্যের শুরুতেই প্রধানমন্ত্রী উপস্থিত প্রবাসীদের উদ্দেশে তার ব্যক্তিগত ও রাষ্ট্রীয় নানা চিন্তাভাবনা শেয়ার করেন। এক আবেগঘন স্মৃতিচারণায় তিনি জানান, সর্বশেষ ২০১৪ সালে মালয়েশিয়ায় এসেছিলেন তার ছোট ভাই প্রয়াত আরাফাত রহমান কোকোকে দেখতে। এরপর কুয়ালালামপুরের পরিচ্ছন্নতার প্রশংসা করে তিনি বলেন, “মালয়েশিয়ার রাস্তাঘাট খুবই পরিষ্কার। আর এই পরিষ্কার রাখার কাজটি আমাদের প্রবাসী ভাইয়েরাই অত্যন্ত নিষ্ঠার সঙ্গে করছেন। বিদেশে এত পরিষ্কার রাখতে পারলে আমরা দেশে কেন পারব না?”
মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিমের আমন্ত্রণে এই সফর উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, “আমি যখন নির্বাচিত হই, তখন প্রথম দিকেই মালয়েশিয়া সরকারের প্রধান ড. আনোয়ার ইব্রাহিম ফোন করে অভিনন্দন জানিয়েছিলেন। তিনি আমাকে তার দেশে আসার আমন্ত্রণ জানান। সোমবার (আজ) তার সঙ্গে আমার আনুষ্ঠানিক বৈঠক হবে।”
বৈঠকের আলোচ্যসূচি নিয়ে সবার কৌতূহলের কথা উল্লেখ করে সরকারপ্রধান বলেন, ‘কী আলোচনা হবে, তা নিয়ে সবার মাঝে বেশ কৌতূহল আছে। প্রথমেই বলব, এখানে আমাদের বহু শ্রমিক কাজ করছেন। তাই মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার কীভাবে আবার পুরোপুরি খুলতে পারি, তা-ই থাকবে মূল আলোচনায়। এ ছাড়া নানা কারণে প্রায় দুই হাজারের মতো মানুষ মালয়েশিয়ায় আটকে আছেন। তাদের কীভাবে মুক্ত করা যায়, সেই পথও খোঁজা হবে।’
রবিবার স্থানীয় সময় রাত ৮টা ৪৫ মিনিটে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও তার সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমান কুয়ালালামপুর আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছান। তাদের লাল গালিচা সংবর্ধনা দেওয়া হয়। অভ্যর্থনা জানাতে সেখানে মালয়েশিয়ায় নিযুক্ত বাংলাদেশের হাইকমিশনার মনজুরুল করিম খান চৌধুরী ও ডেপুটি হাইকমিশনার সাহানারা মনিকা উপস্থিত ছিলেন।
বিমানবন্দরের আনুষ্ঠানিকতা শেষে বিশেষ মোটর শোভাযাত্রাসহ রাত পৌনে ১০টার দিকে প্রধানমন্ত্রীকে কুয়ালালামপুরের কেন্দ্রস্থলে অবস্থিত শাংগ্রি লা হোটেলে নিয়ে যাওয়া হয়। বিমানবন্দর থেকে হোটেল পর্যন্ত ৫০ মিনিটের সড়কপথ বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়ার জাতীয় পতাকায় বর্ণিলভাবে সজ্জিত করা হয়েছিল।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনের পর ১৭ ফেব্রুয়ারি সরকারপ্রধান হিসেবে দায়িত্ব নেন তারেক রহমান। দায়িত্ব গ্রহণের পর মালয়েশিয়াতেই এটি তার প্রথম রাষ্ট্রীয় সফর। দক্ষিণ এশিয়ায় চীন ও ভারতের পর মালয়েশিয়া বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় বাণিজ্য সহযোগী দেশ হলেও দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যে মালয়েশিয়া অনেকটাই এগিয়ে। সেই ঘাটতি কমিয়ে আনাসহ বহুমাত্রিক সম্পর্ক জোরদার করতে সরকারপ্রধান প্রথম রাষ্ট্রীয় সফরে এই দেশটিকে বেছে নিয়েছেন।
প্রধানমন্ত্রীর এই গুরুত্বপূর্ণ সফরে তার সফরসঙ্গী হিসেবে রয়েছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান, প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী, জ্বালানি ও বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত, প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্র বিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির, বৈদেশিক কর্মসংস্থান বিষয়ক উপদেষ্টা মাহদী আমিন, প্রতিরক্ষা বিষয়ক উপদেষ্টা একেএম শামসুল ইসলাম প্রমুখ। এ ছাড়া প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব এবিএম আবদুস সাত্তার, পররাষ্ট্র সচিব আসাদ আলম সিয়াম এবং প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমনও প্রতিনিধিদলে রয়েছেন।
কর্মসূচি অনুযায়ী, মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম সোমবার (আজ) সকালে পুত্রাজায়ায় তার কার্যালয়ে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীকে আনুষ্ঠানিকভাবে সংবর্ধনা জানাবেন। সেখানে দুই দেশের প্রধানমন্ত্রীর মধ্যে প্রথমে একান্ত বৈঠক হবে। এরপরই উভয় দেশের সরকারপ্রধানের নেতৃত্বে উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদলের মধ্যে অনুষ্ঠিত হবে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক। বৈঠক শেষে দুই প্রধানমন্ত্রী যৌথ সংবাদ সম্মেলনে অংশ নেবেন।
কূটনৈতিক সূত্রমতে, এই সফরে মালয়েশিয়ার সঙ্গে পর্যটন ও সংস্কৃতি বিষয়ক সহযোগিতা নিয়ে দুটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হতে পারে।