× ই-পেপার প্রচ্ছদ সর্বশেষ জাতীয় রাজনীতি সারা দেশ আন্তর্জাতিক অর্থনীতি খেলা বিনোদন মতামত চাকরি-ক্যারিয়ার শিক্ষা আজকের কার্টুন ফিচার সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

পুলিশের নতুন ইউনিট ‘স্পেশাল সিকিউরিটি’

তোফাজ্জল হোসেন কামাল

প্রকাশ : ২ ঘণ্টা আগে

আপডেট : ২ ঘণ্টা আগে

প্রতীকী ছবি

প্রতীকী ছবি

দেশের সার্বিক অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বাংলাদেশ পুলিশে স্পেশাল সিকিউরিটি ইউনিট (এসএসইউ) নামে সম্পূর্ণ নতুন একটি বিশেষায়িত ইউনিট গঠিত হতে যাচ্ছে। পুলিশের বিদ্যমান দুটি বিশেষ শাখাÑ অ্যান্টি-টেরোরিজম ইউনিট (এটিইউ) ও ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) কাউন্টার টেরোরিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম (সিটিটিসি) ইউনিট বিলুপ্ত করে সেগুলোকে একীভূত করার মাধ্যমেই আত্মপ্রকাশ করবে নতুন এই ইউনিট।

পুলিশ সদর দপ্তর ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ইতোমধ্যে নতুন এই ইউনিট গঠনের নীতিগত সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত করে এনেছে। নির্ভরযোগ্য সূত্র জানিয়েছে, কাজের ধরন ও আওতা প্রায় অভিন্ন হওয়ায় দুই ইউনিটকে মিলিয়ে দিয়ে এই বৃহত্তর কাঠামো তৈরি করা হচ্ছে। প্রস্তাবিত এসএসইউর প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন অতিরিক্ত আইজিপি পদমর্যাদার একজন কর্মকর্তা। দুটি ইউনিট বিলুপ্ত করে একীভূত কাঠামোতে নতুন নামে কাজ শুরু করায় সরকারের অতিরিক্ত কোনো আর্থিক সংশ্লেষ বা বাড়তি বাজেটের প্রয়োজন হবে না। শিগগির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে এ বিষয়ে সরকারি আদেশ (জিও) বা গেজেট জারি হবে এবং এরপরই আনুষ্ঠানিকভাবে এসএসইউর কার্যক্রম শুরু হবে।

বিতর্কিত অতীত ও আস্থার সংকট

সংশ্লিষ্ট সূত্র প্রতিদিনের বাংলাদেশকে জানিয়েছে, ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে গঠিত সিটিটিসি ও এটিইউর কার্যক্রম নিয়ে মানবাধিকার লঙ্ঘনের ব্যাপক অভিযোগ রয়েছে। গত ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের পর এই দুই ইউনিটের গুম, বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড ও গোপন বন্দিশালায় নির্যাতনের মতো অন্ধকার দিকগুলো জনসমক্ষে আসতে শুরু করে। গুমের শিকার ব্যক্তিদের স্বজনদের নিয়ে গঠিত মানবাধিকার সংগঠন ‘মায়ের ডাক’-এর সমন্বয়ক ও বর্তমান সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনের সদস্য সানজিদা ইসলাম তুলি জানান, এই ইউনিটগুলোর নিজস্ব গোপন বন্দিশালা ছিল। সেখানে মাসের পর মাস আটকে রেখে বন্দিদের ওপর অমানবিক নির্যাতন চালানো হতো। 

এমনকি বিদায়ী অন্তর্বর্তী সরকারের গঠিত গুমসংক্রান্ত তদন্ত কমিশনের প্রাথমিক প্রতিবেদনেও সিটিটিসি ও এটিইউর বিরুদ্ধে বন্দি নির্যাতন ও তাদের নিজস্ব ‘আয়নাঘর’ বা গোপন বন্দিশালা থাকার প্রমাণ মিলেছে। পুলিশ সদর দপ্তর মনে করছে, এসব কারণে এই ইউনিট দুটির চরম দুর্নাম ও আস্থার সংকট তৈরি হয়েছে। তাই বিতর্কিত অতীত মুছে ফেলে একটি সম্পূর্ণ নতুন ও জনবান্ধব পুলিশ ইউনিট হিসেবে কার্যক্রম পরিচালনার জন্যই নাম ও কাঠামো পরিবর্তনের এই উদ্যোগ। এ কারণে নতুন ইউনিটের নামে ‘সন্ত্রাসবাদ’, ‘উগ্রবাদ’ বা ‘জঙ্গিবাদ’ জাতীয় কোনো শব্দ রাখা হয়নি।

জনবল ও কার্যালয় একীভূতকরণ

সিটিটিসি ও এটিইউ বিলুপ্ত হলেও এই শাখা দুটির কোনো জনবল ছাঁটাই করা হবে না। বরং দুই ইউনিটের বর্তমান অর্গানোগ্রাম বা সাংগঠনিক কাঠামো একীভূত করে এসএসইউর জন্য নতুন একটি আধুনিক কাঠামো তৈরি করা হয়েছে। এই প্রক্রিয়ায় ইউনিটে নতুন কোনো পদ সৃষ্টি করা হবে না। বর্তমান এটিইউর প্রধান (অতিরিক্ত আইজিপি) প্রস্তাবিত নতুন ইউনিটের প্রধান হবেন এবং সিটিটিসির প্রধানও এতে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে অন্তর্ভুক্ত হবেন।

বর্তমানে এটিইউর নিজস্ব কোনো ভবন নেই, রাজধানীর বারিধারায় একটি ভাড়াবাড়িতে তাদের কার্যক্রম চলছে। অন্যদিকে মিন্টো রোডে ডিএমপির গোয়েন্দা বিভাগের (ডিবি) চত্বরে সিটিটিসির নিজস্ব ভবন রয়েছে। প্রস্তাবনা অনুযায়ী, এসএসইউর প্রধান কার্যালয় হিসেবে মিন্টো রোডের সিটিটিসি ভবন ও আগারগাঁওয়ে নবনির্মিত ভবনটি ব্যবহার হবে।

প্রেক্ষাপট ও পূর্ববর্তী কার্যক্রম

দেশে ২০১৪ থেকে ২০১৬ সাল পর্যন্ত জঙ্গি হামলার ঘটনা বেড়ে গেলে ২০১৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে ডিএমপির অধীনে বিশেষায়িত ইউনিট হিসেবে সিটিটিসি কাজ শুরু করে। এর কাজের প্রধান এলাকা ছিল ঢাকা মহানগর। ইউনিটটি সোয়াট, সাইবার ক্রাইম তদন্ত বিভাগ, বম্ব ডিসপোজাল টিম এবং কে-নাইন টিমের মতো সাতটি উপবিভাগে বিভক্ত ছিল। ২০১৬ সালের ১ জুলাই হোলি আর্টিজান বেকারিতে হামলার পর সিটিটিসি রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে অসংখ্য অভিযান চালায়। পুলিশ তখন কল্যাণপুর, আশকোনা, পাতারটেকসহ বিভিন্ন বাড়িকে ‘জঙ্গি আস্তানা’ আখ্যা দিয়ে অভিযান চালিয়েছিল এবং এতে অনেকে নিহত হন। তবে পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে সেসব অভিযান নিয়ে এখন প্রশ্ন উঠেছে। বিশেষ করে কল্যাণপুরের ‘জাহাজবাড়িতে’ নয়জন নিহতের ঘটনায় বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলাও হয়েছে।

অন্যদিকে সিটিটিসি গঠনের এক বছর পর সারা দেশে উগ্রবাদ দমনে ২০১৭ সালের ৭ ডিসেম্বর থেকে এটিইউর কার্যক্রম শুরু হয়। পুলিশ সদর দপ্তরের তত্ত্বাবধানে পরিচালিত এই ইউনিটের মঞ্জুরীকৃত পদ বর্তমানে ৬৯০টি।

নামে যখন কিছু এসে-যায়

এসএসইউ নামকরণের যৌক্তিকতা তুলে ধরে ৭ ও ৮ জুন পুলিশ সদর দপ্তর থেকে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পাঠানো পৃথক চিঠিতে বলা হয়, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও অবাধ তথ্যপ্রবাহের এই যুগে অপরাধের ধরন বদলে গেছে। অপরাধীরা অনলাইনে গুজব ছড়িয়ে, তরুণদের মগজ ধোলাই করে ‘স্লিপার সেল’ তৈরি ও জনাকীর্ণ স্থানে বিস্ফোরক ব্যবহার করে রাষ্ট্রকে অকার্যকর করার মতো বহুমুখী ছক কষছে। গতানুগতিক নিরাপত্তাব্যবস্থা দিয়ে এসব মোকাবিলা সম্ভব নয়। তাই অপরাধ দমনের সংকীর্ণ চিন্তার বাইরে এসে সার্বিক অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এসএসইউ কাজ করবে। স্পেশাল সিকিউরিটি ইউনিট নামটি আন্তর্জাতিকভাবে সুপরিচিত হওয়ায় বিশ্বদরবারে অন্যান্য দেশের পুলিশ ও গোয়েন্দা সংস্থার সঙ্গে এর সমন্বয় আরও গতিশীল হবে।

চিঠির প্রস্তাবনা অনুযায়ী, ডিএমপির সিটিটিসির নাম পরিবর্তন করে ‘এসএসইউ-ডিএমপি’ করা হবে। এর ফলে সংশ্লিষ্ট অতিরিক্ত কমিশনার, যুগ্ম কমিশনার ও উপকমিশনারদের পদনামেও ‘এসএসইউ-ডিএমপি’ যুক্ত হবে।

যা বলছেন কর্মকর্তারা

এ বিষয়ে অ্যান্টি-টেরোরিজম ইউনিটের (এটিইউ) প্রধান অতিরিক্ত আইজিপি মো. রেজাউল করিম প্রতিদিনের বাংলাদেশকে বলেন, ‘আমরা স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের আদেশের অপেক্ষায় আছি। গেজেট জারি হলেই এটিইউর নাম পরিবর্তন করে নতুন এসএসইউ নামে কাজ শুরু করব আমরা।’

একই বিষয়ে ডিএমপির সিটিটিসি প্রধান অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার মো. শামসুল হক এই প্রতিবেদককে বলেন, সিটিটিসি বিলুপ্ত করে নাম পরিবর্তনের বিষয়টি মন্ত্রণালয়ে প্রক্রিয়াধীন। সরকারি আদেশ (জিও) জারি হলেই নতুন নামে পূর্ণোদ্যমে কাজ শুরু করবেন তারা।

শেয়ার করুন-

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মারুফ কামাল খান

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮১০, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০ | ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০, +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮০৭, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৩৩২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা