× ই-পেপার প্রচ্ছদ সর্বশেষ জাতীয় রাজনীতি সারা দেশ আন্তর্জাতিক অর্থনীতি খেলা বিনোদন মতামত চাকরি-ক্যারিয়ার শিক্ষা আজকের কার্টুন ফিচার সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

বিআরটিসি ধুঁকছে, সেবার মান তলানিতে

মাসুদুল হাসান

প্রকাশ : ১ ঘণ্টা আগে

বিআরটিসি বাস। ছবি: সংগৃহীত

বিআরটিসি বাস। ছবি: সংগৃহীত

দীর্ঘদিন ধরে রাজধানীর গণপরিবহন সংকট পুঞ্জীভূত হয়েছে। সড়কে দাঁড়িয়ে নির্দিষ্ট রুটের বাসের জন্য লম্বা সময় অপেক্ষা করতে হয় যাত্রীদের। তবুও যেন দেখা মেলে না কাঙ্ক্ষিত বাসের। সাড়ে তিন কোটি জনসংখ্যা অধ্যুষিত এ শহরে গণপরিবহন সংকট লাঘবে সরকারি সংস্থা বিআরটিসির (বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন করপোরেশন) ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

সংশ্লিষ্টদের অভিযোগ, জনগণের সেবা দেওয়ার পরিবর্তে বিআরটিসি এখন পুরোদমে ব্যবসায় নেমে পড়েছে। এসব বাসের বড় অংশ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও সংস্থার কাছে ভাড়া দিয়ে রাখা হয়েছে। অতিরিক্ত বাণিজ্যিকীকরণের ফলে বিআরটিসি সেবা, গণপরিবহন সেবা থেকে সরে ক্রমান্বয়ে বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানে রূপান্তরিত হচ্ছে। এর সাথে সার্বিক অব্যবস্থাপনা ভোগান্তির বাড়তি মাত্রা যোগ করেছে।

এদিকে যাত্রীদের অভিযোগ, রাজধানীর সড়কগুলোতে যেসব বিআরটিসি বাস চলতে দেখা যায় সেগুলোর সার্ভিস খুবই নিম্নমানের। নির্দিষ্ট গন্তব্যে পৌঁছতে এ পরিবহন অতিরিক্ত সময় ব্যয় করে। ফলে নির্দিষ্ট রুটে অন্য কোনো বাস না পাওয়া গেলে কার্যত বাধ্য হয়েই অনেকে বিআরটিসি বাস বেছে নেয়। যাত্রীদের ভাষ্যমতে, গুরুত্বপূর্ণ এ বাসসেবাকে অজনপ্রিয় করে ফেলা হয়েছে। অনেকটা স্বেচ্ছাচারিতার বৃত্তে বন্দি সরকারি এ পরিবহনসেবা।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ঢাকার রাস্তায় চলা প্রায় সব কয়টি বাস চুক্তিতে ভাড়া নিয়ে চালক ও সহকারী মিলে নিজেদের মর্জিমতো পরিচালনা করেন। চুক্তিতে ভাড়া দেওয়ায় বিআরটিসি কর্তৃপক্ষের এতে আর কোনো নিয়ন্ত্রণ থাকে না। ফলে পরিবহন শ্রমিকদের স্বেচ্ছাচারিতায় সেবার মান নিম্নগামী হচ্ছে।

রাজধানীর বিভিন্ন বাস ঘুরে দেখা যায়, ৭০ শতাংশ বিআরটিসি বাসের লাইট পাখা ঠিক নেই, আসনগুলো ভাঙাচুরা ও নড়বড়ে। এমনকি বৃষ্টিতে পানি ঢুকে পড়ে। যথাযথ রক্ষণাবেক্ষণ ও দক্ষ মেকানিকের অভাবে বিআরটিসি বাসগুলো খুব দ্রুতই বিকল বা চলাচলের অযোগ্য হয়ে পড়ে। বর্তমানেও বহরের ১০০টির বেশি বাস ডিপোগুলোতে মেরামতের অপেক্ষায় পড়ে আছে বলে বিআরটিসি ডিপোর কর্মচারীরা জানান। 

তবে ভাড়ার জন্য বাস সরবরাহের কোনো সংকট নেই বলছেন বিআরটিসি সংশ্লিষ্টরা। মিরপুর ১২ নম্বর বিআরটিসি বাসের চালক জনি এই প্রতিবেদককে জানান, যেকোনো ধরনের বাস ভাড়া পাওয়া যায়। এ ডিপোতে প্রায় ২০০ বাস আছে। ঐ এলাকার বিআরটিসির ট্রাফিক বিভাগের মিসবাহ জানান, তাদের ডিপো থেকে ঢাকার ১৩টি প্রতিষ্ঠানে বাস ভাড়া দেওয়া হয়েছে। ভাড়ার জন্য বাস সরবরাহে কোনো সংকট নেই।

রাজধানীর তেজগাঁওয়ে বিআরটিসি বাসের ডিপো ও মেকানিক্যাল ডিপার্টমেন্টে সরেজমিনে জানা গেছে, মিরপুর ও মতিঝিল থেকে বাস ভাড়া দেওয়ার বিষয়টি নির্ধারণ করা হয়। যেকোনো ব্যক্তিগত ও প্রাতিষ্ঠানিক প্রয়োজনে বাস ভাড়া পাওয়া যায়। 

বিআরটিসি মতিঝিল ডিপোর ট্রাফিক বিভাগের মোস্তাফিজুর জানান, বিআরটিসির শীতাতপনিয়ন্ত্রিত বাসগুলো ১০০ কিলোমিটার দূরত্বের জন্য মাসিক ৩১,৮৮৭ টাকা ভাড়া নির্ধারিত। একই দূরত্বে নন এসি বাস ১৮,৪০০ টাকা ভাড়া। আবার ৬০ কিলোমিটার দূরত্বের জন্য মাসিক ১৩,৮০০ টাকা ভাড়া নির্ধারিত। ট্রাফিকের এ কর্মকর্তা জানান, অশোক লিল্যান্ডের শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত ৪৫ আসন, ৫১ আসন ও দ্বিতল ৭৫ আসনের বাসগুলো সুলভ রয়েছে। 

বাস কমে যাওয়ার কারণ 

পরিবহন সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ঢাকার রাস্তায় বিআরটিসি বাস সংকটের প্রধান কারণ, বাসের একটা বড় অংশই সাধারণ মানুষের যাতায়াতের রুটগুলোতে না চলে লিজ ও দূরপাল্লার রুটে নিয়োজিত। বিআরটিসির মোট সচল বাসের প্রায় ৪০% বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি অফিস, স্বায়ত্তশাসিত সংস্থা এবং বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় ও স্কুলের বাস হিসেবে চুক্তিতে ভাড়া দেওয়া থাকে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন এ সংস্থায়, আধুনিক অশোক লিল্যান্ড একতলা সিটি এসি বাস ১০০টি, অশোক লিল্যান্ড একতলা ইন্টার-সিটি বাস ১০০টি, অশোক লিল্যান্ড দ্বিতল বাস ৩০০টি, টাটা একতলা নন এসিবাস ১০০টি রাজধানীর তেজগাঁও, মিরপুরসহ বিভিন্ন ডিপোতে রয়েছে। তবে এর ৪০-৫০ শতাংশ ঢাকার বাইরে এবং বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি কোম্পানির কাছে লিজ দেওয়া। ঢাকার ভেতরে যানজটের কারণে বাসের ট্রিপ সংখ্যা কম হয় এবং আয় কম আসে। তাই লাভজনক করার জন্য বিআরটিসি কর্তৃপক্ষ তাদের ভালো ও নতুন বাস ঢাকার অভ্যন্তরীণ রুটের চেয়ে দূরপাল্লার রুটে চালাতে বেশি পছন্দ করে।

বিআরটিএ’র ঢাকা অঞ্চলের পরিচালক শফিকুজ্জামান ভূঁইয়া প্রতিদিনের বাংলাদেশকে জানান, বিআরটিসি তাদের গাড়ি সড়কে চালানোর জন্য কোনো রুট পারমিট দরকার হয় না। তারা নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় বিষয়টি দেখভাল করে। রুট পারমিট ছাড়ের বিষয়ে বিআরটিএ চেয়ারম্যান হাবীবুর রহমানও একই কথা বলেন। 

পরিবহন বিশেষজ্ঞের ভাষ্য

বুয়েটের অধ্যাপক ও পরিবহন বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক হাদিউজ্জামান বলেন, গণপরিবহন সংকটের সমাধান আছে মূলত দায়বদ্ধতা ও জবাবদিহিতার মধ্যে। তিনি বলেন, বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে ভাড়ায় চলা বাসগুলো সারাদিনে দুটো ট্রিপ দিয়ে অলস বসে থাকে। যদি জনগণের অর্থে কেনা বাসগুলো ইজারা দিয়ে চালাতে হয়, ইজারার শর্ত এমন হওয়া উচিত, দুই ট্রিপের মধ্যের সময়টা তারা গণপরিবহন হিসেবে সড়কে যাত্রীবহন করবে। কারণ তারা সাধারণ যাত্রীদের কাছে দায়বদ্ধ। 

বিআরটিসি রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান হিসেবে রুটপারমিট ছাড় পায়, নিজস্ব ওয়াপর্কশপ ও ডিপো আছেÑ এসব বিষয় উল্লেখ করে তিনি প্রশ্ন করেন, বিআরটিসি এত সুযোগ-সুবিধা পাওয়ার পরেও তাদের বাসগুলোর আয়ুষ্কাল কেন কম হবে? কেন সেবার মান নিম্নমুখী হবে? 

বিআরটিসির চেয়ারম্যান আব্দুল লতিফ মোল্লা বলেন, বিআরটিসি বহরের অপেক্ষাকৃত স্বল্প দূরত্বে চলাচল উপযোগী গাড়িগুলো করপোরেশনের আর্থিক সক্ষমতার বিষয় বিবেচনা করে বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে তাদের চাহিদার প্রেক্ষিতে মাসিক চুক্তিতে সরকার নির্ধারিত ভাড়ায় পরিচালনা করা হয়ে থাকে। এতে করে প্রতিষ্ঠানের আয় বেড়েছে ও বেসরকারি-সরকারি প্রতিষ্ঠানে রাষ্ট্রীয় পরিবহনসেবা দেওয়া সম্ভব হচ্ছে। বিআরটিসি আইন ও প্রবিধানমালা অনুযায়ী, সরকার কর্তৃক নির্ধারিত ভাড়ায় যেকোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানকে করপোরেশন গাড়ি ভাড়া বা রিজার্ভ দিতে পারে বলেও জানান তিনি। 

প্রতিদিনের বাংলাদেশের পক্ষ থেকে এসব বিষয়ে যোগাযোগ করা হলে, সড়ক ও মহাসড়ক বিভাগের সচিব ড. মোহাম্মদ জিয়াউল হক বিষয়টি এড়িয়ে যান। আপাতত এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি তিনি।

শেয়ার করুন-

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মারুফ কামাল খান

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮১০, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০ | ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০, +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮০৭, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৩৩২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা