× ই-পেপার প্রচ্ছদ সর্বশেষ জাতীয় রাজনীতি সারা দেশ আন্তর্জাতিক অর্থনীতি খেলা বিনোদন মতামত চাকরি-ক্যারিয়ার শিক্ষা আজকের কার্টুন ফিচার সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

কূটনীতির বিশ্বমঞ্চে প্রথম পা রাখছেন তারেক রহমান

দীপক দেব

প্রকাশ : ৩ ঘণ্টা আগে

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। ফাইল ছবি

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। ফাইল ছবি

মালয়েশিয়া ও চীনে ছয় দিনের রাষ্ট্রীয় সফরের মধ্য দিয়ে কূটনীতির বিশ্বমঞ্চে পা রাখতে চলেছেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সরকার গঠনের চার মাসের মাথায় আজ ২১ জুন রবিবার মালয়েশিয়ার রাজধানী কুয়ালালামপুরে প্রথম রাষ্ট্রীয় সফরে যাচ্ছেন তিনি। দুদিনের এ সফর শেষে ২২ জুন সোমবার রাতে তিনি কুয়ালালামপুর থেকে যাবেন গণচীনের দালিয়ানে।

আগামী ২৬ জুন শুক্রবার পাঁচ দিনের চীন সফরের পর সমাপ্তি ঘটবে প্রধানমন্ত্রীর ছয় দিনের টানা রাষ্ট্রীয় সফরের। এর ফলে দেশ দুটির সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক এক নতুন ও অনন্য উচ্চতায় পৌঁছবে বলে প্রত্যাশা করছেন পররাষ্ট্র বিশেষজ্ঞ ও রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা।

ধারণা করা হচ্ছে, প্রধানমন্ত্রীর এ সফরের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশের অন্যতম শ্রমবাজার মালয়েশিয়ার সঙ্গে চলমান নানা দ্বিপাক্ষিক জটিলতা কাটবে। দুই বছর ধরে বন্ধ থাকার পর উন্মুক্ত ও সম্প্রসারণ ঘটবে জনশক্তি রপ্তানির এ বিশাল বাজারের। কাটবে ভিসা জটিলতা। বাড়বে বাণিজ্য, বিনিয়োগ ও পারস্পারিক সহযোগিতা। অন্যদিকে চীন সফরে দেশটির সঙ্গে ১৫-১৭টি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) বা চুক্তি সই হতে পারে। এছাড়া মতবিনিময় হবে বহুল আলোচিত তিস্তা মহাপরিকল্পনা নিয়ে।

সব মিলিয়ে ভূরাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের এই সফরকে বেশ তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করছেন বিশ্লেষকরা। ভারত-চীন বিতর্ক এড়িয়ে সম্পর্কে ভারসাম্য বজায় রাখতে কৌশলগত কারণে মালয়েশিয়া দিয়ে শুরু হচ্ছে প্রধানমন্ত্রীর এ বিদেশ সফর।

মালয়েশিয়ায় প্রাধান্য পাবে শ্রমবাজার

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান মালয়েশিয়া যাচ্ছেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিমের সাদর আমন্ত্রণে। আজ রবিবার দুপুরে দুদিনের রাষ্ট্রীয় সফরে ঢাকা থেকে মালয়েশিয়ার রাজধানী কুয়ালালামপুর যাচ্ছেন তারেক রহমান। কাল সোমবার তারেক রহমানের সঙ্গে মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিমের একান্ত বৈঠক হবে। পরে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক হবে দুই দেশের সরকারপ্রধানের নেতৃত্বে উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদলের মধ্যে। আলোচনায় প্রাধান্য পাবে শ্রমবাজার ইস্যু। এ ছাড়াও বাণিজ্য, বিনিয়োগ সম্প্রসারণ, জ্বালানি সহযোগিতা, হালাল অর্থনীতি, সেমিকন্ডাক্টর শিল্প এবং কৃষি, শিক্ষা ও জনযোগাযোগ নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা হবে।

শনিবার সকালে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে প্রধানমন্ত্রীর সফর উপলক্ষে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে পররাষ্ট্র সচিব আসাদ আলম সিয়াম বলেন, মালয়েশিয়ার বিভিন্ন সেক্টরে নতুন বাংলাদেশি কর্মী নেওয়া, আসিয়ানে বাংলাদেশের যোগদান, রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসনে মালয়েশিয়ার সমর্থন চাওয়া হবে। এই সফরে মালয়েশিয়ার সঙ্গে সাংস্কৃতিক বিনিময় আর মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে দুটি দলিল সইয়ের সম্ভাবনা রয়েছে।

১৫-১৭টি এমওইউ স্বাক্ষরের আশা ঢাকার

মালয়েশিয়া সফর শেষে ২২ জুন সোমবার রাতে চীনের বন্দরনগরী দালিয়ানে পৌঁছবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। পরদিন ২৩ জুন বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরামের (ডব্লিউইএফ) প্রেসিডেন্ট ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তার (সিইও) সঙ্গে তারেক রহমানের বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে। এদিন ডব্লিউইএফ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ‘ক্লাইমেট লিডারশিপ ইন শিফটিং গ্লোবাল ল্যান্ডস্কেপ’ শীর্ষক একটি অধিবেশনে প্রধান বক্তা হিসেবে বক্তব্য দেবেন। সন্ধ্যায় চীনের প্রধানমন্ত্রী লি কিয়াং আয়োজিত স্বাগত নৈশভোজে প্রধানমন্ত্রী যোগ দেবেন।

২৪ জুন সকালে প্রধানমন্ত্রী সামার দাভোসের ১৩তম বার্ষিক সভার মূল উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে অংশ নেবেন। এরপর দুপুরে তিনি ট্রেনযোগে বেইজিংয়ের উদ্দেশে রওনা হবেন। বেইজিংয়ে তিনি থাকবেন রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবনে। বৃহস্পতিবার সকালে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে চীনের কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিসি) কেন্দ্রীয় কমিটির আন্তর্জাতিক বিভাগের মন্ত্রী ও চীনের এক্সিম ব্যাংকের চেয়ারম্যানের আলাদা বৈঠক হবে। বিকালে চীনের গ্রেট হলে দেশটির প্রধানমন্ত্রী লি কিয়াংয়ের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে যোগ দেবেন তারেক রহমান। সেখানে বাংলাদেশের স্বার্থসংশ্লিষ্ট সব বিষয় এবং ভবিষ্যতে এ সম্পর্ক আরও কীভাবে এগিয়ে নেওয়া যায়, সে বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হবে।

বৈঠকের পর দুই দেশের প্রধানমন্ত্রীর উপস্থিতিতে বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যে বেশ কয়েকটি সমঝোতা স্মারক সই হবে। এরপর প্রধানমন্ত্রী চীনের প্রধানমন্ত্রী আয়োজিত একটি রাষ্ট্রীয় ভোজসভায় অংশ নেবেন। সংবাদ সম্মেলনে পররাষ্ট্র সচিব বলেন, চীনের সঙ্গে বিভিন্ন বিষয়ে ১৫-১৭টা দলিল স্বাক্ষরের আশা করছেন তারা। এর মধ্যে ১৩টি এমওইউ, দুটি চুক্তি, একটা অ্যাকশন প্ল্যান এবং আরেকটি প্রটোকল। শিক্ষা, কৃষি, বাণিজ্য, বিনিয়োগ, উন্নয়ন সহযোগিতা, মিডিয়া কো-অপারেশন এবং গ্রিন এনার্জি খাতে এসব চুক্তি ও সমঝোতা স্মারক সই হওয়ার কথা বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা।

পরদিন শুক্রবার ন্যাশনাল পিপলস কংগ্রেসের স্ট্যান্ডিং কমিটির চেয়ারম্যান ঝাউ লেজির সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী সাক্ষাৎ করবেন। এরপর তার দ্বিপক্ষীয় বৈঠক হবে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিন পিংয়ের সঙ্গে। বৈঠকে দ্বিপক্ষীয়, আঞ্চলিক এবং বৈশ্বিক বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হবে। এদিন বেইজিংয়ে প্রধানমন্ত্রী তিয়েনআনমেন স্কয়ারে সেখানকার বীর যোদ্ধাদের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানাবেন। একই দিন বিকালে প্রধানমন্ত্রী বেইজিং থেকে ঢাকার উদ্দেশে রওনা দেবেন।

হবে তিস্তা নিয়েও আলোচনা

প্রধানমন্ত্রীর সফরে সমন্বিত নদী ব্যবস্থাপনা নিয়ে বিস্তৃত আলোচনার কথা জানিয়েছেন পররাষ্ট্র সচিব। তাতে তিস্তা মহাপরিকল্পা ইস্যু আছে জানিয়ে তিনি বলেন, ‘সমন্বিত নদী ব্যবস্থাপনাও একটা আলোচনার বিষয়। আমি ধারণা করি, সেই আলোচনা অনেক বিস্তৃত ও সম্প্রসারিত। তিস্তা আলোচনা হবে, আমরা তুলব। এ ছাড়া অন্যান্য নদী ব্যবস্থাপনা নিয়ে আলোচনা বিস্তৃত হবে।’ তিস্তা মহাপরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা হলেও এ সফরে এ-সংক্রান্ত কোনো সমঝোতা স্মারক সই হবে না বলেও জানান তিনি।

সফরের আগে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও মার্কিন রাষ্ট্রদূতের বৈঠক

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের প্রথম রাষ্ট্রীয় সফরের আগে গতকাল শনিবার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমানের সঙ্গে বৈঠক করেছেন ঢাকায় নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট ক্রিস্টেনসেন। বৈঠক শেষে বের হওয়ার সময় গণমাধ্যমকর্মীরা আলোচনার বিষয়বস্তু জানতে চাইলে মার্কিন রাষ্ট্রদূত ভূরাজনৈতিক আলোচনার প্রসঙ্গ এড়িয়ে অত্যন্ত চতুর ও কূটনৈতিক পন্থায় ফুটবল বিশ্বকাপের উদাহরণ টানেন।

শুক্রবার রাতে ফুটবল বিশ্বকাপে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে মার্কিন দলের দুর্দান্ত জয়ের সূত্র ধরে ক্রিস্টেনসেন হাস্যোজ্জ্বল মুখে বলেন, ‘একটা খুব গুরুত্বপূর্ণ কারণে আমি এখানে এসেছি। গত রাতে বিশ্বকাপে অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে দারুণ একটা জয় পেয়েছে যুক্তরাষ্ট্র এবং আমরা পরবর্তী পর্বে চলে গেছি।’

বাংলাদেশিদের ফুটবলপ্রেমের প্রশংসা করে মার্কিন রাষ্ট্রদূত আরও বলেন, ‘আমি এখানে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও সব বাংলাদেশিকে উৎসাহিত করতে এসেছি, যাতে সামনের দিনে বিশ্বকাপে যুক্তরাষ্ট্রকে সমর্থন করেন। কারণ দীর্ঘমেয়াদে যুক্তরাষ্ট্রের ওপর বাজি ধরলে আপনাকে কখনও পস্তাতে হবে না।’

কূটনৈতিক সূত্রগুলো মনে করছে, রাষ্ট্রদূতের এই ফুটবলীয় মন্তব্যের আড়ালে মূলত যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক বজায় রাখলে দীর্ঘমেয়াদে বাংলাদেশের উপকৃত হওয়ার সুপ্ত ইঙ্গিত রয়েছে। যদিও মার্কিন রাষ্ট্রদূতের বৈঠকের বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্র উপদেষ্টা হুমায়ূন কবির জানান, রাষ্ট্রদূতের এই বৈঠকটি ছিল নিয়মিত কূটনৈতিক সাক্ষাৎ।

জাতীয় স্বার্থকে অগ্রাধিকার দিয়ে বিদেশ সফর

প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্র বিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ূন কবির বলেছেন, ‘বাংলাদেশ এখন থেকে বিদেশ সফরের সিদ্ধান্ত নিজস্বভাবে নেবে এবং কোন দেশ কখন সফর করা হবে, তা সম্পূর্ণভাবে জাতীয় স্বার্থ ও দ্বিপাক্ষিক প্রয়োজনের ওপর নির্ভর করবে।’ তিনি বলেন, ‘আমরা কোন দেশে যাব, তা নির্ধারণ করব তখনই, যখন আমরা মনে করব সেখানে যাওয়া প্রয়োজনÑ দ্বিপাক্ষিক বোঝাপড়ার ভিত্তিতে।’

যুক্তরাষ্ট্র ও ভারতের মতো বড় শক্তির দেশগুলোতে সম্ভাব্য সফর নিয়ে প্রশ্নের জবাবে হুমায়ূন কবির আরও বলেন, ‘যখন আমাদের যুক্তরাষ্ট্রে যাওয়ার প্রয়োজন হবে, তখন যাব। যখন বেইজিংয়ে যাওয়া দরকার হবে, আমরা সেখানে যাব। সময় ও পরিস্থিতি অনুকূল ও প্রয়োজন হলে আমরা ভারতেও যাব। মধ্যপ্রাচ্যেও সফর হবে। সবকিছুই জাতীয় স্বার্থের ভিত্তিতে নির্ধারিত হবে।’

এর আগে সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রীর মালয়েশিয়া ও চীন সফরের মধ্য দিয়ে সহযোগিতার নতুন নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হবে বলে আশা প্রকাশ করেন পররাষ্ট্র সচিব আসাদ আলম সিয়াম। বিনিয়োগের জন্য চীনের বেসরকারি খাতের সঙ্গে যোগাযোগ করা হচ্ছে বলেও জানান সচিব। তিনি জানান, বাংলাদেশে চীনের একটি সুনির্দিষ্ট অর্থনৈতিক অঞ্চল গড়ে তোলার কথা রয়েছে এবং সেটির কাজও হচ্ছে।

শেয়ার করুন-

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মারুফ কামাল খান

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮১০, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০ | ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০, +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮০৭, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৩৩২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা