× ই-পেপার প্রচ্ছদ সর্বশেষ জাতীয় রাজনীতি সারা দেশ আন্তর্জাতিক অর্থনীতি খেলা বিনোদন মতামত চাকরি-ক্যারিয়ার শিক্ষা আজকের কার্টুন ফিচার সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

শিল্পের গ্যাস সংকট সহজে কাটছে না

দীপক দেব

প্রকাশ : ১ ঘণ্টা আগে

আপডেট : ১ ঘণ্টা আগে

সক্ষমতার ঘাটতির কারণে প্রায় দুই হাজার শিল্পপ্রতিষ্ঠানের গ্যাস সংযোগের আবেদন দীর্ঘদিন ধরে ঝুলে আছে।  গ্রাফিক্স: প্রতিদিনের বাংলাদেশ

সক্ষমতার ঘাটতির কারণে প্রায় দুই হাজার শিল্পপ্রতিষ্ঠানের গ্যাস সংযোগের আবেদন দীর্ঘদিন ধরে ঝুলে আছে। গ্রাফিক্স: প্রতিদিনের বাংলাদেশ

দেশে বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ সৃষ্টি করতে আন্তরিক চেষ্টা চালাচ্ছে সরকার। এমনকি বেশ কয়েকটি দেশের প্রতি ইতোমধ্যে বিনিয়োগের জন্য আহ্বানও জানানো হয়েছে।

এদিকে দেশীয় শিল্পোদ্যোক্তারা বলছেন, সরকার ব্যবসা-বাণিজ্য ও বিনিয়োগ নিয়ে বিভিন্ন পদক্ষেপের কথা বললেও মূলত জ্বালানি তথা গ্যাস সংযোগ সংকটের কারণে বেশিরভাগ উদ্যোক্তার শিল্পই উৎপাদনে আসতে পারছে না।

এমনকি থমকে আছে নতুন শিল্পায়ন। সক্ষমতার ঘাটতির কারণে প্রায় দুই হাজার শিল্পপ্রতিষ্ঠানের গ্যাস সংযোগের আবেদন দীর্ঘদিন ধরে ঝুলে আছে। 

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানাচ্ছে, দেশের শিল্পসমূহে গ্যাসের চাহিদার তুলনায় প্রায় ১২০০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস ঘাটতি রয়েছে। উৎপাদন বাড়ানো ছাড়া বিকল্প অন্য কোনো পন্থায় এখন শিল্পে গ্যাস সংযোগ দেওয়ার সুযোগ নেই। ভুক্তভোগীদের অনেকেই বলছেন, এতে করে শুধু শিল্প ও শিল্পোদ্যোগে নয়, দেশীয় অর্থনীতিতেও বিরূপ প্রতিক্রিয়া পড়ছে। কারণ গ্যাসের অভাবে নতুন বিনিয়োগ সিদ্ধান্ত পিছিয়ে যাচ্ছে, শিল্প সম্প্রসারণ থমকে পড়ছে। একই সঙ্গে কর্মসংস্থান সৃষ্টির সম্ভাবনাও নষ্ট হচ্ছে। 

নীতিনির্ধারকরা বলছেন, বিগত সরকারের ভুল নীতির কারণে সংকটাপন্ন দেশীয় শিল্প খাত। দেশীয় উৎপাদন বাড়ানোর দিকে জোর না দিয়ে আমদানি-নির্ভর হয়ে পড়ায় এই খাতে বিপুল পরিমাণ ভর্তুকির চাপ তৈরি হয়েছে। মূলত এ কারণে দেশীয় শিল্পোদ্যোক্তারাও পড়েছেন বিপাকে। কারণ জ্বালানির জোগান নিশ্চিত না হলে শুধু সরকারের আশ্বাসের ওপর বড় ধরনের ঋণ করে শিল্পপ্রতিষ্ঠান করার আগে তাদের অনেক কিছুই ভাবতে হয়। এ কারণে সরকার জ্বালানির বহুমুখী উৎস ও দেশীয় উৎপাদন বাড়ানোর ওপর জোর দিয়ে ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা ও পদক্ষেপ নিচ্ছে। অবশ্য এ পদক্ষেপের বাস্তবায়ন সময়সাপেক্ষ। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে বর্তমানে নতুন শিল্পায়নের জন্য প্রয়োজনীয় গ্যাস এখনই পূরণ করা সম্ভব হচ্ছে না। 

মন্ত্রণালয় ও পেট্রোবাংলার তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে দেশে দৈনিক গ্যাসের চাহিদা প্রায় ৩ হাজার ৮০০ মিলিয়ন ঘনফুট। কিন্তু সরবরাহ করা যাচ্ছে, গড়ে ২ হাজার ৬০০ মিলিয়ন ঘনফুট। অর্থাৎ প্রতিদিনই ১ হাজার ২০০ মিলিয়ন ঘনফুটের বেশি গ্যাস ঘাটতি থাকছে। অন্যদিকে দেশীয় গ্যাসক্ষেত্রগুলোর উৎপাদন ধারাবাহিকভাবে কমে যাওয়ায় বিদেশ থেকে এলএনজি আমদানির মাধ্যমে ঘাটতি পূরণের চেষ্টা করা হচ্ছে। তবে আন্তর্জাতিক বাজারে মূল্য ওঠানামা, বৈদেশিক মুদ্রার চাপ এবং অবকাঠামোগত সীমাবদ্ধতার কারণে চাহিদা অনুযায়ী গ্যাস আমদানি করাও সহজ হচ্ছে না।

সরকারের পরিকল্পনা : দেশের দীর্ঘমেয়াদি জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকার এখন দেশীয় গ্যাস অনুসন্ধান ও উৎপাদন বাড়ানোর ওপর সর্বোচ্চ জোর দিচ্ছে। মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, আগামী তিন বছরে রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান বাপেক্সের মাধ্যমে ২৭০ কিলোমিটার ভূতাত্ত্বিক জরিপ, ৭০০ লাইন কিলোমিটার ২ডি এবং ৭০০ বর্গকিলোমিটার ৩ডি সাইসমিক জরিপ সম্পন্ন করা হবে। মধ্যমেয়াদি পরিকল্পনার অংশ হিসেবে এই সময়ের মধ্যে নতুন ৬৯টি কূপ খনন এবং ৩১টি পুরনো কূপের ওয়ার্কওভার (মেরামত) করা হবে। পাশাপাশি নতুন অনুসন্ধান রিগ কেনার প্রক্রিয়াও শুরু হয়েছে। 

পাশাপাশি সমুদ্রাঞ্চলে তেল ও গ্যাস অনুসন্ধানের গতি বাড়াতে পিএসসি কাঠামো সংশোধন করে নতুন করে ‘বাংলাদেশ অফশোর বিডিং রাউন্ড’ ঘোষণা করা হয়েছে। এ ছাড়া জ্বালানি আমদানিতে একক কোনো উৎসের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে আনতে সরকার কৌশলগত বহুমুখীকরণ নীতি নিয়েছে। মহেশখালীতে বিদ্যমান দুটি ভাসমান এলএনজি টার্মিনালের পাশাপাশি নতুন আরও একটি টার্মিনাল স্থাপনের বিষয়টি এখন সরকারের পর্যালোচনায় রয়েছে। একই সঙ্গে মাতারবাড়ীতে স্থলভিত্তিক এলএনজি টার্মিনাল স্থাপনের কাজও এগিয়ে চলছে।

বিদ্যুৎ উৎপাদনের পর গ্যাস সংকটের সবচেয়ে বড় প্রভাব পড়েছে নতুন বিনিয়োগ ও শিল্প সম্প্রসারণে। সবকিছু প্রস্তুত থাকার পরও শুধুমাত্র জ্বালানি তথা গ্যাস সংযোগের অভাবে পুরোপুরি উৎপাদনে আসতে পারছে না বহু শিল্পপ্রতিষ্ঠান। এদিকে নতুন গ্যাস সংযোগের জন্য দীর্ঘদিন ধরে অপেক্ষায় রয়েছে প্রায় দুই হাজার শিল্পপ্রতিষ্ঠান। যার মধ্যে তিতাস গ্যাস ট্রান্সমিশন অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানির একাই রয়েছে এক হাজারের বেশি নতুন গ্যাস সংযোগের আবেদন। জমে থাকা পুরনো আবেদনের পাশাপাশি প্রতিনিয়ত নতুন নতুন আবেদন জমা পড়ছে। তবে সংযোগ না মেলায় হতাশ হয়ে পড়ছেন বিনিয়োগকারীরা।

জ্বালানি ও খনিজসম্পদ বিভাগের যুগ্ম সচিব মনির হোসেন চৌধুরী প্রতিদিনের বাংলাদেশকে বলেন, ‘বর্তমানে গ্যাসের চাহিদা ও সরবরাহের মধ্যে প্রায় ১২০০ মিলিয়ন ঘনফুট ঘাটতি রয়েছে। এই চাহিদা সামাল দিতেই হিমশিম খেতে হচ্ছে। সেখানে নতুন করে গ্যাস সংযোগের সুযোগ এই মুহূর্তে নেই।’ তিনি বলেন, ‘আমরা ব্যবসায়ীদের নিজস্ব উদ্যোগে এলএনজি আমদানির প্রস্তাব দিয়েছিলাম। কিন্তু কেউ তাতে আগ্রহ দেখায়নি। গ্যাস সংকটের পুরো পরিস্থিতি মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রীকে জানানো হয়েছে। এর ওপর ভিত্তি করেই সরকার বিভিন্ন পদক্ষেপ নিতে শুরু করেছে। তবে এগুলোও সময়সাপেক্ষ। এসব পদক্ষেপ থেকে সুফল পেতে সময় লাগবে। এর আগে তেমন কোনো সুখবর নেই।’ 

বাংলাদেশ নিটওয়্যার ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিকেএমইএ) সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম বলেন, ‘গত সরকারের আমলেও শিল্পের গ্যাসসংযোগ ছিল সোনার হরিণ। সেই সময় গ্যাস সংযোগের জন্য কোটি কোটি টাকা খরচ করতে হতো। এখন গ্যাসসংযোগ পুরোপুরি বন্ধ। এমনকি যে লাইন রয়েছে, সেটার সক্ষমতা বাড়াতে চাইলেও পারা যাচ্ছে না। তাহলে মানুষ বিনিযোগ করবে কেন? বিদ্যুৎ ও গ্যাসসংকটের কারণে দেশি নতুন কোনো শিল্পায়নও হচ্ছে না। এজন্য মানুষ বিনিয়োগ করতে আগ্রহ দেখাচ্ছে না।’ তিনি বলেন, ‘সরকার একদিকে বলছে পুরনো কলকারখানা চালু করা হবে, অন্যদিকে যেসব শিল্পপ্রতিষ্ঠান আছে তাদের কোনো সহযোগিতা করা হচ্ছে না। তা হলে দেশে শিল্পের বিকাশ কীভাবে হবে?’ এ সংক্রান্ত পুরো প্রক্রিয়া ঢেলে সাজানোর পরামর্শ দিয়েছেন এই ব্যবসায়ী নেতা। 

জ্বালানি বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক এম. শামসুল আলম প্রতিদিনের বাংলাদেশকে বলেন, “দীর্ঘদিন ধরে জ্বালানি খাতে নীতিগত দুর্বলতা ও পরিকল্পনার ঘাটতির কারণে দেশি উৎপাদন বাড়ানো সম্ভব হয়নি।’ তিনি বলেন, ‘শুধু এলএনজি আমদানি করে দীর্ঘমেয়াদে জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করা যাবে না। অফশোর ও অনশোর গ্যাস অনুসন্ধান দ্রুত বাড়াতে হবে এবং বিকল্প জ্বালানি উৎস উন্নয়নে গুরুত্ব দিতে হবে। জ্বালানি খাতের সংকট এখন আর কেবল একটি খাতের সমস্যা নয়; এটি জাতীয় অর্থনীতি, শিল্পায়ন, কর্মসংস্থান ও বিনিয়োগের সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত।”

শেয়ার করুন-

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মারুফ কামাল খান

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮১০, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০ | ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০, +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮০৭, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৩৩২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা