× ই-পেপার প্রচ্ছদ সর্বশেষ জাতীয় রাজনীতি সারা দেশ আন্তর্জাতিক অর্থনীতি খেলা বিনোদন মতামত চাকরি-ক্যারিয়ার শিক্ষা আজকের কার্টুন ফিচার সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ চুরি

নজরদারিতে অভিযুক্তরা, সকলের পাসপোর্ট ব্লক

তানভীর হাসান

প্রকাশ : ১ ঘণ্টা আগে

আপডেট : ১ ঘণ্টা আগে

দেশের ইতিহাসের সবচেয়ে বড় ও চাঞ্চল্যকর আর্থিক কেলেঙ্কারিÑ বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ চুরির ঘটনার দীর্ঘ তদন্ত শেষে অবশেষে বড় ধরনের অগ্রগতি এসেছে। গ্রাফিক্স: প্রতিদিনের বাংলাদেশ

দেশের ইতিহাসের সবচেয়ে বড় ও চাঞ্চল্যকর আর্থিক কেলেঙ্কারিÑ বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ চুরির ঘটনার দীর্ঘ তদন্ত শেষে অবশেষে বড় ধরনের অগ্রগতি এসেছে। গ্রাফিক্স: প্রতিদিনের বাংলাদেশ

দেশের ইতিহাসের সবচেয়ে বড় ও চাঞ্চল্যকর আর্থিক কেলেঙ্কারিÑ বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ চুরির ঘটনার দীর্ঘ তদন্ত শেষে অবশেষে বড় ধরনের অগ্রগতি এসেছে।

পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) প্রস্তুত করা খসড়া অভিযোগপত্রে (চার্জশিট) সাবেক গভর্নর ড. আতিউর রহমানসহ ১০ জন বাংলাদেশির সরাসরি সম্পৃক্ততা ও চরম গাফিলতির প্রমাণ মিলেছে।

তাদের গ্রেপ্তারের জন্য ইতোমধ্যে প্রয়োজনীয় আইনি ও কৌশলগত প্রস্তুতি শুরু করেছে সিআইডি। দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা দিয়ে ইমিগ্রেশন পুলিশকে চিঠি দেওয়ার পাশাপাশি সবার পাসপোর্ট ব্লক করা হয়েছে।

তবে পুলিশের এই কঠোর তৎপরতার আগেই আতিউরসহ তিন শীর্ষ অভিযুক্ত দেশ ছেড়েছেন বলে জোরালো গুঞ্জন রয়েছে।

নজরদারিতে অভিযুক্তরা, পাসপোর্ট ব্লক

সিআইডির দায়িত্বশীল সূত্রগুলো নিশ্চিত করেছে, ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর এই স্পর্শকাতর মামলার তদন্তে নতুন করে গতি আসে। তদন্তের দায়িত্ব পাওয়া কর্মকর্তারা অবিলম্বে বাংলাদেশ ব্যাংকের সন্দেহভাজন ও অভিযুক্ত কর্মকর্তাদের পাসপোর্ট ব্লক করার ব্যবস্থা করেন।

তবে পুলিশের এই পদক্ষেপের আগেই অন্তত তিন অভিযুক্তÑ সাবেক গভর্নর ড. আতিউর রহমান, বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক কর্মকর্তা এএফএম আসাদুজ্জামান ও শুভঙ্কর সাহা দেশ ছেড়েছেন বলে জোরালো গুঞ্জন রয়েছে।

মূলত তারা ৫ আগস্টের পরিবর্তিত পরিস্থিতির আগেই বিদেশে পাড়ি জমিয়েছেন। তবে সিআইডির দায়িত্বশীল কর্তারা এ বিষয়টি নিশ্চিত করেননি।

দেশে থাকা বাকি অভিযুক্তরা যেন কোনোভাবেই সীমান্ত বা বিমানবন্দর ব্যবহার করে পালাতে না পারেন, সে জন্য গোয়েন্দা নজরদারি সর্বোচ্চ পর্যায়ে বাড়ানো হয়েছে। তারা বর্তমানে একপ্রকার নজরবন্দি অবস্থায় রয়েছেন।

অভিযুক্ত দেশি ১০

দীর্ঘ ও জটিল তদন্ত শেষে প্রস্তুত করা খসড়া অভিযোগপত্রে মোট ৬৪ জন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানকে অভিযুক্ত করা হয়েছে। এর মধ্যে বাংলাদেশের ১০ জন; যাদের মধ্যে বাংলাদেশ ব্যাংকেরই নয় সাবেক শীর্ষ কর্মকর্তা রয়েছেন।

অভিযুক্তরা হলেন ড. আতিউর রহমান, কেএম আব্দুল ওয়াদুদ, শুভঙ্কর সাহা, রেজাউল করিম, জোবায়ের বিন হুদা, এএফএম আসাদুজ্জামান, মেজবাউল হক, আবুল কাসেম ও মো. সুলতান মাসুদ আহম্মেদ এবং আনিস এ খান।

তদন্ত প্রতিবেদনে তাদের বিরুদ্ধে দায়িত্বে চরম অবহেলা, নিরাপত্তা ব্যবস্থায় মারাত্মক ঘাটতি রাখা ও চুরির ঘটনা জানার পরও সময়মতো পদক্ষেপ নিতে ব্যর্থ হওয়ার সুনির্দিষ্ট অভিযোগ আনা হয়েছে।

যেভাবে অরক্ষিত হয় সুইফট সিস্টেম

তদন্তে বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তাদের যে গাফিলতির চিত্র উঠে এসেছে, তা রীতিমতো বিস্ময়কর।

তদন্তসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, ২০১৬ সালের ফেব্রুয়ারির সেই ঘটনার দিন অভিযুক্তরা সুইফট পেমেন্ট সিস্টেমের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে চরম উদাসীনতার পরিচয় দেন। ব্যাংকিং কার্যক্রম শেষে কর্মকর্তারা হ্যাকারদের পাঠানো একটি ফিশিং লিংকে (প্রতারণামূলক ওয়েব লিংক) ক্লিক করেন। এরপর সিস্টেমটির সংযোগ বিচ্ছিন্ন না করে বা যথাযথ তথ্যপ্রযুক্তিগত নিরাপত্তা প্রটোকল না মেনেই সেটি অরক্ষিত অবস্থায় ফেলে রেখে তারা অফিস থেকে বেরিয়ে যান।

এই সুযোগটিই কাজে লাগায় সংঘবদ্ধ হ্যাকার চক্র। তারা ওই ফিশিং লিংকের মাধ্যমে সরাসরি কেন্দ্রীয় ব্যাংকের অভ্যন্তরীণ সিস্টেমে প্রবেশ করে ও সুইফট পেমেন্ট ব্যবস্থায় ভুয়া বার্তা পাঠিয়ে রিজার্ভের বিপুল অর্থ সরিয়ে নেয়।

সবচেয়ে চাঞ্চল্যকর বিষয় হলো, ঘটনার পরপরই অভিযুক্ত কর্মকর্তারা রিজার্ভ চুরির বিষয়টি জানতে পেরেছিলেন। কিন্তু তারা তাৎক্ষণিকভাবে অর্থ স্থানান্তর ঠেকাতে কোনো আন্তর্জাতিক বা স্থানীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করেননি। উল্টো নিজেদের ব্যর্থতা ঢাকতে তারা পুরো ঘটনাটি ধামাচাপা দেওয়ার নানা অপচেষ্টা চালান।

সিআইডির ভারপ্রাপ্ত প্রধান যা বলছেন

মামলার সার্বিক অগ্রগতি ও আসামিদের গ্রেপ্তারের বিষয়ে সিআইডির ভারত প্রধান ডিআইজি আলি আকবর খান প্রতিদিনের বাংলাদেশকে বলেন, “এটি কোনো সাধারণ অপরাধের মামলা নয়। এর সঙ্গে অত্যন্ত জটিল প্রযুক্তিগত বিষয় এবং দেশি-বিদেশি বিভিন্ন সংস্থার সম্পৃক্ততা জড়িয়ে আছে। এফবিআইয়ের মতো আন্তর্জাতিক সংস্থার কাছ থেকে প্রতিবেদন বা তথ্য পেতে তাদের সর্বোচ্চ পর্যায়ের অনুমোদন লাগে, যা বেশ সময়সাপেক্ষ। এসব কারণেই তদন্তে দীর্ঘ সময় লেগেছে।”ৎ

তিনি জানান, তদন্ত কার্যক্রম এখন একেবারেই চূড়ান্ত পর্যায়ে। খসড়া অভিযোগপত্র প্রস্তুত করে আইনি মতামতের জন্য অ্যাটর্নি জেনারেলের কার্যালয়ে যোগাযোগ করা হয়েছে। সেখান থেকে মতামত পেলেই খুব শিগগিরই আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেওয়া হবে। অভিযুক্ত বাংলাদেশিদের গ্রেপ্তারের বিষয়ে তিনি স্পষ্ট করে বলেন, “অভিযোগপত্র আদালতে চূড়ান্তভাবে জমা হলে আইন অনুযায়ী আমরা অবশ্যই তাদের গ্রেপ্তার করব। সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচারের স্বার্থে যা যা করা প্রয়োজন, সিআইডি তার সবকিছুই করবে।”

২০১৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে নিউইয়র্কের ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংকে গচ্ছিত বাংলাদেশ ব্যাংকের অ্যাকাউন্ট থেকে ১০ কোটি ১০ লাখ ডলার চুরি হয়। অজ্ঞাতনামা হ্যাকাররা সুইফট সিস্টেমে ভুয়া বার্তা পাঠিয়ে এই বিপুল পরিমাণ অর্থ সরিয়ে নেয়। ঘটনাটি তাৎক্ষণিকভাবে ঘটলেও বাংলাদেশ ব্যাংক তা গোপন রাখে এবং ৩৯ দিন পর ঢাকার মতিঝিল থানায় মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ আইনে একটি মামলা দায়ের করে।

বিষয়টি যখন প্রকাশ্যে আসে, তখন সারা বিশ্বে ব্যাংকিং খাতে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি হয়। শুরু থেকেই এই আলোচিত মামলার তদন্তভার সিআইডির ওপর ন্যস্ত রয়েছে।

সিআইডি সূত্র জানায়, রিজার্ভ চুরির এই স্পর্শকাতর মামলার তদন্ত তদারকির জন্য গত বছরের ১১ মার্চ তৎকালীন অন্তর্বর্তী সরকারের আইন উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুলকে প্রধান করে ছয় সদস্যের একটি পর্যালোচনা কমিটি গঠন করা হয়।

ওই কমিটির নিবিড় তত্ত্বাবধানেই তদন্তের কাজ শেষ হয় এবং গত ১ এপ্রিল খসড়া অভিযোগপত্রটি অ্যাটর্নি জেনারেলের কাছে হস্তান্তর করা হয়।

এই চার্জশিটে থাকা ৬৪ ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের মধ্যে বিদেশি নাগরিক ও প্রতিষ্ঠানই বেশি। এর মধ্যে ফিলিপাইনের ৩৬, শ্রীলঙ্কার ৮, ভারতের ৪, চীনের ৩, উত্তর কোরিয়ার ২ ও জাপানের ১ জন ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান রয়েছে।

শেয়ার করুন-

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মারুফ কামাল খান

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮১০, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০ | ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০, +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮০৭, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৩৩২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা