× ই-পেপার প্রচ্ছদ সর্বশেষ জাতীয় রাজনীতি সারা দেশ আন্তর্জাতিক অর্থনীতি খেলা বিনোদন মতামত চাকরি-ক্যারিয়ার শিক্ষা আজকের কার্টুন ফিচার সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

‘নিখোঁজের’ চক্করে বন্দি অসংখ্য উত্তরাধিকার

ফরহাদ সুমন, চট্টগ্রাম

প্রকাশ : ১৬ জুন ২০২৬ ১০:২৭ এএম

মৃত্যু সনদ। ছবি: সংগৃহীত

মৃত্যু সনদ। ছবি: সংগৃহীত

চারিত্রিক সনদ, নাগরিক সনদ ও মৃত্যু সনদ পাওয়া প্রত্যেক নাগরিকের অধিকার। এসব সনদ ওয়ার্ড কাউন্সিলর কার্যালয় ও ইউনিয়ন পরিষদ থেকে দেওয়া হয়। মৃত্যু সনদের জন্য মৃত ব্যক্তির এনআইডি, জমির খতিয়ান এবং আবেদনকারীর এনআইডির কপি জমা দিতে হয়। পরে বিষয়টি জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে যাচাইয়ের জন্য পাঠানো হয়। তবে গুম বা নিখোঁজ ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে আইনি জটিলতায় সনদপ্রাপ্তি বাধাগ্রস্ত হয়। মৃত্যু নিশ্চিত না হওয়ায় জনপ্রতিনিধিরা মৃত্যু সনদ দিতে অনীহা দেখান, ফলে ওয়ারিশ সনদ ঝুলে থাকে অসংখ্য পরিবারের। যে কারণে ব্যাংকে গচ্ছিত অর্থ উত্তোলন ও সম্পত্তি ভাগবাটোয়ারায় দেখা দেয় চরম জটিলতা।

ওয়ার্ড কাউন্সিলর কার্যালয়ের কর্মকর্তারা জানান, সাধারণত চিকিৎসকের প্রত্যয়নপত্র ও মৃত ব্যক্তির জাতীয় পরিচয়পত্রের কপি জমা দিয়ে মৃত্যু সনদের আবেদন করতে হয়। যাচাই-বাছাই শেষে সিটি করপোরেশন বা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ মৃত্যু সনদ দেয়। এর আগে ডিসি অফিস থেকে ক্লিয়ারেন্স এসএমএস পাঠানো হয়। এরপর ওয়ারিশ সনদের জন্য আবেদন করা যায়।

রাজনৈতিক প্রতিহিংসার শিকার হয়ে গুম বা নিখোঁজ হওয়া ব্যক্তিদের সনদপ্রাপ্তি নিয়ে উদ্বেগে রয়েছেন স্বজনরা। তারা জানেন না, নিখোঁজ ব্যক্তিরা জীবিত নাকি মৃত। পরিবারের সদস্যদের অভিযোগ, কোনো সরকারি সংস্থা এ বিষয়ে নিশ্চিত তথ্য দিতে পারেনি। ফলে সম্পত্তি বণ্টন, নামজারি এবং সন্তানদের বিভিন্ন দাপ্তরিক কাজ সম্পন্ন করতে আইনি জটিলতায় পড়তে হচ্ছে। জনপ্রতিনিধিরাও এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত দিতে পারছেন না।

স্থানীয় সরকার বিভাগের উপপরিচালক গোলাম মাঈনউদ্দিন হাসান প্রতিদিনের বাংলাদেশকে বলেন, কোনো ব্যক্তি তিন বছরের বেশি সময় নিখোঁজ থাকলে পরিবার তাকে মৃত দাবি করতে পারে এবং এ বিষয়ে আইনি বিধান রয়েছে। তবে মৃত্যু সনদের জন্য নির্ধারিত প্রক্রিয়ায় ওয়ার্ড কাউন্সিলর অফিস বা ইউনিয়ন পরিষদে আবেদন করতে হবে।

৫ আগস্টের গণঅভ্যুত্থানের পর অনেক নিখোঁজ ব্যক্তি ফিরে এলেও এখনও অনেকে নিখোঁজ রয়েছেন। তাদের পরিবার জানায়, জীবিকার সংকটের পাশাপাশি প্রিয়জন জীবিত নাকি মৃত— এ অনিশ্চয়তায় দিন কাটছে। অন্যদিকে বিভিন্ন সরকারি কাজে সনদ সংক্রান্ত জটিলতার মুখোমুখি হতে হচ্ছে।

ভুক্তভোগী সুলতানা পারভীন জানান, তার স্বামী ও ফটিকছড়ি লেলাং ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান শহিদুল আলম সিরাজ ১৪ বছরের বেশি সময় ধরে নিখোঁজ। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে জানানো হলেও আজ পর্যন্ত কোনো তথ্য মেলেনি। ফলে নামজারি, রেজিস্ট্রি ও সন্তানদের এনআইডি করার ক্ষেত্রেও সমস্যায় পড়তে হচ্ছে।

আরেক ভুক্তভোগী হোসনেয়ারা বেগম বলেন, তার ছেলে মো. জাহিদ সাত বছর আগে র‌্যাব পরিচয়ে তুলে নেওয়ার পর থেকে নিখোঁজ। কর্ণফুলী থানা ও র‌্যাব-৭ কার্যালয়ে খোঁজ নিয়েও কোনো তথ্য পাননি। প্রশাসনের বিভিন্ন দপ্তরে ঘুরেও ছেলের সন্ধান মেলেনি।

জিসানুর রহমান জানান, তার বাবা রাউজানের সাবেক চেয়ারম্যান জাফর ১৫ বছর ধরে নিখোঁজ। তিনি জীবিত নাকি মৃত, তা না জানায় পারিবারিক সম্পত্তি নিয়ে কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া যাচ্ছে না।

চট্টগ্রাম জেলা ও দায়রা জজ আদালতের অতিরিক্ত সরকারি কৌঁসুলি মোহাম্মদ সেকান্দর বাদশা বলেন, আইনে সাত বছর নিখোঁজ থাকলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে মৃত হিসেবে গণ্য করার বিধান রয়েছে, তবে এজন্য সিভিল কোর্টে মামলা করতে হয়। তিনি বলেন, গুম বা নিখোঁজ ব্যক্তিদের সম্পত্তি ব্যবস্থাপনা ও সনদপ্রাপ্তির ক্ষেত্রে পরিবারগুলোকে ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। এ সমস্যা সমাধানে রাষ্ট্র চাইলে পৃথক আইন প্রণয়ন করতে পারে, যা ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর দুর্ভোগ অনেকটাই কমাবে।

শেয়ার করুন-

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মারুফ কামাল খান

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮১০, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০ | ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০, +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮০৭, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৩৩২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা