× ই-পেপার প্রচ্ছদ সর্বশেষ জাতীয় রাজনীতি সারা দেশ আন্তর্জাতিক অর্থনীতি খেলা বিনোদন মতামত চাকরি-ক্যারিয়ার শিক্ষা আজকের কার্টুন ফিচার সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

উপদেষ্টা জাহেদকে ঘিরে ‘দিল্লিকাণ্ডের’ নেপথ্যে

ফসিহ উদ্দীন মাহতাব

প্রকাশ : ১৬ জুন ২০২৬ ০৮:৩২ এএম

ডা. জাহেদ উর রহমান। ছবি: সংগৃহীত

ডা. জাহেদ উর রহমান। ছবি: সংগৃহীত

ঢাকা-দিল্লি সম্পর্কের নানা পর্বে বড় বড় সংকট এসেছে, আলোচনার মাধ্যমে অনেক সংকট থেকে উত্তরণও ঘটেছে; আবার বড় বড় অনেক দ্বিপাক্ষিক সমস্যা সমাধানের লক্ষ্যে মতবিনিময় ও বৈঠক এখনও অব্যাহত রয়েছে। যেমন সীমান্ত হত্যা, তিস্তার পানি বণ্টন, বাণিজ্যবৈষম্য, নাগরিক অনুপ্রবেশ কিংবা রাজনৈতিক পরিবর্তনের মতো স্পর্শকাতর ইস্যুতে প্রতিবেশী এই দুই দেশের মতপার্থক্য নিরসনের প্রচেষ্টা এখনও চলমান। এরই মধ্যে কূটনৈতিক অস্বস্তির কারণ হয়ে উঠেছে ভারতের বিমানবন্দরের ইমিগ্রেশন ডেস্কের এক ঘটনা। যা নিয়ে চলছে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা।

অতি সম্প্রতি দিল্লির ইন্দিরা গান্ধী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর পলিসি ও স্ট্র্যাটেজি এবং তথ্য ও সম্প্রচারবিষয়ক উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমানকে কয়েক ঘণ্টা আটকে রাখা এবং তাৎক্ষণিকভাবে ইমিগ্রেশন ক্লিয়ারেন্স না দেওয়ার এই ঘটনা ঘিরে দেখা দিয়েছে নানা প্রশ্ন। 

ঘটনাটি কেবল একজন ব্যক্তির ভ্রমণ-জটিলতা নয়; এটি রাষ্ট্রীয় মর্যাদা, কূটনৈতিক যোগাযোগ, নিরাপত্তা তালিকা এবং ঢাকা-দিল্লি সম্পর্কের বর্তমান বাস্তবতা নিয়ে নতুন বিতর্ক তৈরি করেছে। উপদেষ্টা জাহেদকে নিয়ে এই দিল্লিকাণ্ডের নেপথ্যে কী রয়েছে, তা নিয়ে চলছে জোর আলোচনা। জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য সাইফুল আলম খান সোমবার জাতীয় সংসদের অধিবেশনে পয়েন্ট অব অর্ডারে ভারতের ইমিগ্রেশনে উপদেষ্টা ডা. জাহেদ রহমানকে ‘আটকে দেওয়ার’ ঘটনায় জাতীয় সংসদে সরকারের পক্ষ থেকে ৩০০ বিধিতে বিবৃতি দেওয়ার দাবি তুলেছেন। বাংলাদেশের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক প্রতিবাদ, ভারতীয় ভারপ্রাপ্ত হাইকমিশনারকে তলব এবং সরকারের উচ্চপর্যায়ের প্রতিক্রিয়া প্রমাণ করছে, ঢাকা বিষয়টিকে সাধারণ প্রশাসনিক ভুল হিসেবে দেখছে না।

কী ঘটেছিল দিল্লি বিমানবন্দরে

কূটনৈতিক সূত্র বলছে, ডা. জাহেদ উর রহমান ভারত সফরে গিয়েছিলেন একটি আন্তর্জাতিক সম্মেলনে অংশ নিতে। দিল্লিতে অনুষ্ঠিত ইন্ডিয়ান ওশান রিম অ্যাসোসিয়েশনের বৈঠকে বাংলাদেশের প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেওয়ার কথা ছিল তার।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও কূটনৈতিক সূত্র জানাচ্ছে, সফরের আগে বাংলাদেশ সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে ভারতীয় কর্তৃপক্ষকে তার এ কর্মসূচি সম্পর্কে জানিয়েছিল। দিল্লিতে বাংলাদেশ হাইকমিশন থেকেও প্রয়োজনীয় যোগাযোগ করা হয়েছিল। কিন্তু বিমানবন্দরে পৌঁছানোর পর তাকে ইমিগ্রেশন কাউন্টারে আটকে দেওয়া হয়। তাকে দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হয় এবং অতিরিক্ত যাচাই-বাছাইয়ের মুখোমুখি হতে হয়। পরে দিল্লির উচ্চপর্যায় থেকে তার ভারতে প্রবেশের অনুমতি এলেও তিনি আর ভারতে না গিয়ে শ্রীলঙ্কা হয়ে ঢাকায় ফিরে আসার সিদ্ধান্ত নেন। এই সিদ্ধান্ত ঘটনাটিকে আরও আলোচিত করে তোলে। শেষ পর্যন্ত প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হলে শুরুতে কেন বাধা দেওয়া হয়েছিলÑ এখন খোঁজা হচ্ছে এ প্রশ্নের উত্তর। 

সাধারণ পাসপোর্ট ব্যবহার কতটা গুরুত্বপূর্ণ

ঘটনার পর সবচেয়ে বেশি আলোচিত বিষয়গুলোর একটি হলো ডা. জাহেদ উর রহমান কূটনৈতিক পাসপোর্ট ব্যবহার করেননি। প্রতিমন্ত্রী মর্যাদার কারণে তিনি কূটনৈতিক পাসপোর্ট পাওয়ার অধিকারী হলেও সফরের সময় তিনি সাধারণ পাসপোর্ট ব্যবহার করেছিলেন। পাশাপাশি তার কাছে পূর্বে ইস্যুকৃত সার্ক স্টিকারও ছিল।

কূটনৈতিক মহলের একাংশের মতে, সাধারণ পাসপোর্ট ব্যবহারের কারণে বিমানবন্দরের কর্মকর্তারা তাকে প্রথমে একজন সাধারণ যাত্রীর মতো বিবেচনা করে থাকতে পারেন। ফলে স্বয়ংক্রিয় নিরাপত্তা যাচাই ব্যবস্থায় কোনো সতর্ক সংকেত সক্রিয় হলে তাৎক্ষণিকভাবে অতিরিক্ত যাচাই শুরু হয়।

তবে সাবেক কূটনীতিকদের একটি বড় অংশ মনে করেন, এ ব্যাখ্যা যথেষ্ট নয়। কারণ আগাম কূটনৈতিক যোগাযোগ শেষ হওয়ার পর একজন রাষ্ট্রীয় প্রতিনিধির পরিচয় নিয়ে বিভ্রান্তি তৈরি হওয়ার কথা নয়। যদি হয়ে থাকে, তবে তা প্রশাসনিক সমন্বয়হীনতার গুরুতর উদাহরণ।

‘ফ্ল্যাগড’ পাসপোর্টের প্রশ্ন

ঘটনার পর আরেকটি প্রশ্ন সামনে এসেছেÑ ভারতীয় নিরাপত্তা ডেটাবেজে ডা. জাহেদ উর রহমানের নাম বা পাসপোর্ট আগে থেকেই ‘ফ্ল্যাগড’ ছিল কি না।

কূটনৈতিক সূত্রগুলোর ধারণা, ইমিগ্রেশন ব্যবস্থায় এমন কোনো সতর্কবার্তা থাকতে পারে, যা কর্মকর্তাদের অতিরিক্ত যাচাইয়ের নির্দেশ দেয়। সরকারি দায়িত্বে আসার আগে ডা. জাহেদ উর রহমান একজন রাজনৈতিক বিশ্লেষক, টেলিভিশন ভাষ্যকার এবং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমভিত্তিক কনটেন্ট নির্মাতা হিসেবে পরিচিত ছিলেন। বিভিন্ন সময়ে তিনি ভারতের আঞ্চলিক নীতি ও ভূমিকাকে সমালোচনামূলকভাবে বিশ্লেষণ করেছেন। কিছু সূত্র দাবি করছে, শেখ হাসিনা সরকারের পতনের আগেই তার ইউটিউব চ্যানেল ভারতে সীমাবদ্ধ বা নিষিদ্ধ করা হয়েছিল। যদিও এ বিষয়ে ভারতের পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি। ফলে বিষয়টি এখনও অনুমান ও আলোচনার পর্যায়েই রয়েছে।

সাবেক রাষ্ট্রদূত মুন্সি ফয়েজ আহমদ মনে করেন, ‘অনেক সময় নিরাপত্তা ডেটাবেজে পুরনো তথ্য থেকে যায়। কিন্তু কোনো ব্যক্তি পরে রাষ্ট্রীয় দায়িত্বে এলে এবং তার সফর সম্পর্কে আনুষ্ঠানিকভাবে অবহিত করা হলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের উচিত সেই তথ্য হালনাগাদ করা।’ তিনি বলেন, ‘বিষয়টি রাজনৈতিক বা কূটনৈতিক বিরোধের চেয়ে প্রশাসনিক সমন্বয়হীনতার ফল হওয়ার সম্ভাবনাই বেশি। তবে ভারতকে অবশ্যই স্পষ্ট ব্যাখ্যা দিতে হবে।’

ইতিহাসের পুনরাবৃত্তি

এই ঘটনার পর রাজনৈতিক অঙ্গন ও কূটনৈতিক মহলে আরেকটি পুরনো ঘটনা সামনে এসেছে। বর্তমানে নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে সাবেক পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী প্রয়াত সৈয়দ আবুল হোসেন সরকারি লাল পাসপোর্ট ব্যবহার না করে সবুজ সাধারণ পাসপোর্টে বিদেশ সফরে গিয়েছিলেন। তখন তিনি বিদেশি বিমানবন্দরে জটিলতার মুখোমুখি হন। বিষয়টি দেশে রাজনৈতিক ও প্রশাসনিকভাবে বিব্রতকর পরিস্থিতি সৃষ্টি করে এবং ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়। পরবর্তীকালে তাকে এ ঘটনায় প্রতিমন্ত্রিত্ব হারাতে হয়। 

তবে বর্তমান ঘটনার সঙ্গে সেই ঘটনার একটি বিশেষ পার্থক্য রয়েছে। প্রয়াত সৈয়দ আবুল হোসেনের ক্ষেত্রে ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত এবং সরকারি পরিচয় ব্যবহারের প্রশ্ন সামনে এসেছিল। কিন্তু ডা. জাহেদ উর রহমানের সফর ছিল সরকারি দায়িত্ব পালনের অংশ এবং সফর সম্পর্কে আগাম কূটনৈতিক যোগাযোগও সম্পন্ন হয়েছিল। তাই দুই ঘটনায় কিছু মিল থাকলেও প্রেক্ষাপট এক নয় বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

প্রশাসনিক বিভ্রাট, নাকি কূটনৈতিক সংকেত

বিশ্লেষকদের মতে, ঘটনার দুটি সম্ভাব্য ব্যাখ্যা রয়েছে। প্রথমত, এটি প্রশাসনিক সমন্বয়হীনতার ফল হতে পারে। দিল্লির পররাষ্ট্র ও নিরাপত্তা কর্তৃপক্ষ সফর সম্পর্কে জানতে পারলেও সেই তথ্য বিমানবন্দরের ইমিগ্রেশন পর্যায়ে যথাসময়ে পৌঁছেনি। ফলে স্বয়ংক্রিয় ডেটাবেজে থাকা সতর্ক সংকেত কার্যকর হয়েছে।

দ্বিতীয়ত, এটি কোনো পুরনো নিরাপত্তা মূল্যায়ন বা নজরদারি তালিকার ফল হতে পারে, যা সময়মতো হালনাগাদ করা হয়নি। সে ক্ষেত্রে সফর সম্পর্কে আগাম অবহিত করা হলেও নিচের স্তরের নিরাপত্তা ব্যবস্থায় পুরনো নির্দেশনা বহাল ছিল। কিন্তু দুই ক্ষেত্রেই প্রশ্ন থেকে যায়, শেষ পর্যন্ত যদি প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হয়, তাহলে শুরুতে বাধা দেওয়া হলো কেন?

ঢাকার কড়া প্রতিক্রিয়া

ঘটনার পরপরই বাংলাদেশ সরকার দ্রুত প্রতিক্রিয়া জানায়। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ঢাকায় নিযুক্ত ভারতের ভারপ্রাপ্ত হাইকমিশনার পাওয়ান কুমার বঢ়েকে তলব করে। তার হাতে আনুষ্ঠানিক প্রতিবাদপত্র তুলে দেওয়া হয়।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান সাংবাদিকদের কাছে ঘটনাটিকে ‘দুঃখজনক ও অনাকাঙ্ক্ষিত’ বলে মন্তব্য করেছেন। অন্যদিকে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম বলেছেন, ‘এ ধরনের ঘটনা কোনোভাবেই প্রত্যাশিত নয়।’ সরকারের দৃষ্টিতে বিষয়টি কেবল একজন কর্মকর্তার সঙ্গে দুর্ব্যবহারের প্রশ্ন নয়; বরং রাষ্ট্রের একজন উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধির মর্যাদা ও সম্মানের সঙ্গেও সম্পর্কিত।

নতুন সরকারের নতুন অস্বস্তি

ঘটনাটি এমন সময়ে ঘটল, যখন বাংলাদেশ ও ভারত উভয় দেশই পারস্পরিক দূরত্ব দূর করে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক উন্নয়নের আগ্রহের কথা প্রকাশ করেছে। কিন্তু পর্যবেক্ষকদের ধারণা, দিল্লি বিমানবন্দরের ঘটনা অস্বস্তিকেই ফের দৃশ্যমান করে তুলেছে। 

এ প্রসঙ্গে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের সরকার ও রাজনীতি বিভাগের সাবেক অধ্যাপক আব্দুল লতিফ মাসুম প্রতিদিনের বাংলাদেশকে বলেন, ‘ঘটনাটিকে দুই দেশের কূটনৈতিক সম্পর্কের প্রেক্ষাপটে গুরুত্বের সঙ্গে দেখা প্রয়োজন। সাম্প্রতিক সময়ে বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কের বিভিন্ন ইস্যুÑ বিশেষ করে সীমান্ত পরিস্থিতি ও অনুপ্রবেশসংক্রান্ত আলোচনাÑ দুই দেশের মধ্যে সংবেদনশীলতা বাড়িয়েছে। এমন অবস্থায় বাংলাদেশের একজন উচ্চপর্যায়ের সরকারি প্রতিনিধির সঙ্গে দিল্লি বিমানবন্দরে ঘটে যাওয়া ঘটনাটি স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্নের জন্ম দিচ্ছে।’

তিনি বলেন, ‘ভারত সরকারের পক্ষ থেকে বিষয়টির একটি স্পষ্ট ও সন্তোষজনক ব্যাখ্যা পাওয়া গুরুত্বপূর্ণ। একই সঙ্গে বাংলাদেশের নীতিনির্ধারকদেরও ঘটনাটির কূটনৈতিক তাৎপর্য মূল্যায়ন করা প্রয়োজন।’ তার মতে, ‘এ ধরনের ঘটনা বিচ্ছিন্ন প্রশাসনিক ভুল, নাকি বৃহত্তর কোনো নীতিগত বা কূটনৈতিক সংকেতÑ সেটি পরিষ্কার হওয়া দরকার। প্রতিবেশী দুই দেশের পারস্পরিক আস্থা ও সহযোগিতার ক্ষেত্রে এ ধরনের ঘটনা দীর্ঘমেয়াদে কী প্রভাব ফেলতে পারে, সেটিও বিবেচনার বিষয়।’

দিল্লির ব্যাখ্যার অপেক্ষায় ঢাকা

বর্তমানে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো এ ঘটনায় ভারতের আনুষ্ঠানিক ব্যাখ্যা। যদি দিল্লি ঘটনাটিকে প্রশাসনিক বিভ্রাট হিসেবে স্বীকার করে এবং ভবিষ্যতে এমন পরিস্থিতি এড়ানোর নিশ্চয়তা দেয়, তাহলে বিষয়টি দ্রুত স্বাভাবিক হয়ে যেতে পারে। কিন্তু যদি ব্যাখ্যা অস্পষ্ট থাকে কিংবা দীর্ঘ সময় ঝুলে থাকে, তাহলে এটি বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতেও বড় বিতর্কের বিষয় হয়ে উঠতে পারে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, কূটনৈতিক সম্পর্কের ভিত্তি কেবল বাণিজ্য, নিরাপত্তা সহযোগিতা কিংবা রাজনৈতিক সমঝোতা নয়; এর একটি বড় অংশ পারস্পরিক সম্মান ও আস্থার ওপর দাঁড়িয়ে থাকে। দিল্লি বিমানবন্দরে ডা. জাহেদ উর রহমানকে আটকে দেওয়ার ঘটনা সেই আস্থার জায়গাতেই প্রশ্ন তুলেছে।

আপাতদৃষ্টিতে এটি একটি ইমিগ্রেশন জটিলতা বলে মনে হতে পারে। কিন্তু এর ভেতরে রয়েছে আরও বড় কিছু প্রশ্নÑ কূটনৈতিক সমন্বয় কতটা কার্যকর ছিল, নিরাপত্তা তালিকা কতটা হালনাগাদ ছিল এবং ঢাকা-দিল্লি সম্পর্ক বাস্তবে কতটা আস্থার ওপর দাঁড়িয়ে আছে।

এখন সবার দৃষ্টি দিল্লির দিকে। ভারত কী ব্যাখ্যা দেয়, সেই ব্যাখ্যা বাংলাদেশ কতটা গ্রহণযোগ্য মনে করে এবং দুই দেশ বিষয়টিকে কীভাবে সামাল দেয়Ñ সেটিই নির্ধারণ করবেÑ এই ঘটনা কেবল বিমানবন্দরের একটি প্রশাসনিক ভুল হয়ে থাকবে, নাকি দক্ষিণ এশিয়ার কূটনীতিতে নতুন এক অস্বস্তিকর অধ্যায়ের সূচনা করবে।

শেয়ার করুন-

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মারুফ কামাল খান

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮১০, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০ | ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০, +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮০৭, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৩৩২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা