× ই-পেপার প্রচ্ছদ সর্বশেষ জাতীয় রাজনীতি সারা দেশ আন্তর্জাতিক অর্থনীতি খেলা বিনোদন মতামত চাকরি-ক্যারিয়ার শিক্ষা আজকের কার্টুন ফিচার সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

বাধ্যতামূলক অবসরের শঙ্কায় ৩২ ওএসডি

বিশেষ প্রতিবেদক

প্রকাশ : ১ ঘণ্টা আগে

আপডেট : ১ ঘণ্টা আগে

সরকারি চাকরি আইন অনুযায়ী, ২৫ বছর চাকরি পূর্ণ হওয়ার পর জনস্বার্থে যে কোনো কর্মকর্তাকে বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠানোর সুযোগ রয়েছে। গ্রাফিক্স: প্রতিদিনের বাংলাদেশ

সরকারি চাকরি আইন অনুযায়ী, ২৫ বছর চাকরি পূর্ণ হওয়ার পর জনস্বার্থে যে কোনো কর্মকর্তাকে বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠানোর সুযোগ রয়েছে। গ্রাফিক্স: প্রতিদিনের বাংলাদেশ

বিসিএস (প্রশাসন) ২০তম ব্যাচের কর্মকর্তাদের চাকরিকালের ২৫ বছর পূর্ণ হয়েছে গত ২৮ মে। এই ব্যাচের অন্তত ৩২ জন কর্মকর্তা ২০১৮ সালের একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জেলা প্রশাসক (ডিসি) ও রিটার্নিং কর্মকর্তার দায়িত্ব পালন করেছিলেন।

আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে অনুষ্ঠিত ওই নির্বাচন এ দেশের ইতিহাসে অন্যতম বিতর্কিত নির্বাচন হিসেবে আলোচিত। নির্বাচনের পর এই কর্মকর্তাদের প্রায় সবাই পদোন্নতি পেয়েছিলেন যুগ্ম সচিব পদে।

কিন্তু ২০২৪ সালের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর তাদের প্রায় সবাইকেই সক্রিয় দায়িত্ব থেকে সরিয়ে জনপ্রশাসনে বিশেষ ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওএসডি) করা হয়। এখন চাকরিকাল ২৫ বছর পূর্ণ হওয়ার পর তাদের ব্যাপারে কী পদক্ষেপ নেওয়া যেতে পারে, তা নিয়ে আলোচনা চলছে সরকারের বিভিন্ন পর্যায়ে। 

২০১৮ সালের সংসদ নির্বাচনে ডিসি ও রিটার্নিং কর্মকর্তার দায়িত্ব পালন করেছিলেন ২০তম ব্যাচের এই কর্মকর্তারা

এই কর্মকর্তাদের বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠানো হবে, নাকি সরকার তাদের অভিজ্ঞতাকে বিশেষভাবে কাজে লাগাবে, তা নিয়ে জনপ্রশাসন বিশেষজ্ঞদের মধ্যেও দেখা দিয়েছে মতদ্বৈধতা।

প্রশাসনের একটি অংশ মনে করছে, ২০১৮ সালের নির্বাচনের সময় দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তাদের বিষয়ে রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক মূল্যায়ন প্রয়োজন।

অন্যদিকে আরেকটি অংশের মতে, দীর্ঘ প্রশাসনিক অভিজ্ঞতাসম্পন্ন কর্মকর্তাদের একযোগে অবসরে পাঠানো রাষ্ট্রের জন্য লাভজনক না-ও হতে পারে। তা ছাড়া তাদের অবসরে পাঠালে সরকারকে একসঙ্গে অর্থও ব্যয় করতে হবে প্রচুর।

প্রসঙ্গত, ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের মুখে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর প্রশাসনে বড় ধরনের রদবদল ঘটে। ওই সময় ২০১৮ সালের নির্বাচনে দায়িত্ব পালনকারী অনেক সাবেক ডিসিকে বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও বিভাগ থেকে সরিয়ে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে সংযুক্ত করা হয়। তাদের বড় অংশ এখনও ওএসডিই রয়েছেন।

এর আগে ১৭ ও ১৮ ব্যাচের কয়েকজন কর্মকর্তাকে চাকরিকাল ২৫ বছর পূর্ণ হওয়ার পর বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠানো হয়। গত ২৮ মে চাকরিকাল পঁচিশ বছর পূর্তি হওয়ায় ২০ ব্যাচের কর্মকর্তাদের মধ্যেও একই ধরনের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। ইতোমধ্যে প্রশাসনে একটি গ্রুপ তাদের বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠানোর জন্য সক্রিয়ও হয়ে উঠেছেন। 

এ ব্যাপারে প্রশাসনের দায়িত্বশীল এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে প্রতিদিনের বাংলাদেশকে বলেন, “২০১৮ সালের নির্বাচনে মাঠ প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে সরকারের ভেতরে আলোচনা রয়েছে। তাদের ভূমিকা ও কার্যক্রম কী ছিলÑ এসব বিষয় নথিপত্রের আলোকে পর্যালোচনা করা হচ্ছে।”

তবে তিনি একই সঙ্গে বলেন, “সরকারি কর্মকর্তারা মূলত রাষ্ট্রের নির্দেশনা বাস্তবায়ন করেন। রাজনৈতিক সিদ্ধান্তের দায় পুরোপুরি প্রশাসনের ওপর বর্তালে ভবিষ্যতে মাঠপর্যায়ে সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে। অনেক কর্মকর্তাই তখন মাঠ প্রশাসনে কাজ করার আগ্রহ হারিয়ে ফেলবেন।”

‘অভিজ্ঞ কর্মকর্তাদের বসিয়ে রাখা সমাধান নয়’

প্রশাসনের একাধিক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা মনে করেন, ওএসডি অবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে কর্মকর্তাদের বসিয়ে রাখা যেমন কার্যকর নয়, তেমনি একযোগে বিপুলসংখ্যক কর্মকর্তাকে অবসরে পাঠানোও বাস্তবসম্মত সমাধান নয়।

এ প্রসঙ্গে সাবেক সচিব ও জনপ্রশাসন বিশেষজ্ঞ আনোয়ার ফারুক প্রতিদিনের বাংলাদেশকে বলেন, “প্রশাসনে জবাবদিহি অবশ্যই থাকতে হবে। কিন্তু জবাবদিহি ও প্রতিশোধমূলক ব্যবস্থা এক বিষয় নয়। যদি কোনো কর্মকর্তার বিরুদ্ধে নির্দিষ্ট অভিযোগ বা প্রমাণ থাকে, তাহলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া যেতে পারে। কিন্তু কেবল একটি সময়ের দায়িত্ব পালনের কারণে পুরো গ্রুপকে অবসরে পাঠানোর সিদ্ধান্ত প্রশাসনের জন্য ইতিবাচক বার্তা নাও দিতে পারে।”

তিনি বলেন, ‘রাষ্ট্রের সবচেয়ে বড় সম্পদ দক্ষ মানবসম্পদ। দীর্ঘ অভিজ্ঞতাসম্পন্ন কর্মকর্তাদের যোগ্যতা ও সক্ষমতা বিবেচনায় নিয়ে উপযুক্ত দায়িত্বে কাজে লাগানো রাষ্ট্রের জন্য বেশি ফলপ্রসূ হতে পারে”

২০১৮ নির্বাচন ঘিরে বিতর্কের দীর্ঘ ছায়া

২০১৮ সালের ৩০ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন নিয়ে ভোটগ্রহণের দিন থেকেই ব্যাপক অভিযোগ ওঠে। বিরোধী রাজনৈতিক দল, নাগরিক সমাজ এবং আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের একটি অংশ ভোটের আগের রাতে ব্যালট বাক্স ভর্তি করা, বিরোধী দলের এজেন্টদের কেন্দ্র থেকে বের করে দেওয়া এবং ভোটারদের ভোটাধিকার প্রয়োগে বাধা দেওয়ার অভিযোগ তোলে।

যদিও নির্বাচন কমিশন এবং তৎকালীন সরকার এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছিল। কিন্তু পরে কমিশনের ভূমিকার পাশাপাশি মাঠ প্রশাসনের নিরপেক্ষতা নিয়েও প্রশ্ন ওঠে। নির্বাচনপূর্ব সময়ে ডিসিদের রিটার্নিং কর্মকর্তা হিসেবে নিয়োগের বৈধতা নিয়ে আদালতেও রিট হয়। 

রাজনৈতিক দায় নাকি প্রশাসনিক বাস্তবতা

প্রশাসনের সাবেক ও বর্তমান কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, মাঠ প্রশাসন প্রায়ই রাজনৈতিক সরকার, নির্বাচন কমিশন এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির বহুমাত্রিক চাপের মধ্যে কাজ করে থাকে। সরকার পরিবর্তনের পর সেই সময়ের সিদ্ধান্ত ও কর্মকাণ্ডের দায় প্রায়ই মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তাদের ওপর এসে পড়ে।

একজন সাবেক সচিব বলেন, “বাংলাদেশে রাজনৈতিক সরকারের সময় প্রশাসনের ওপর চাপ নতুন কিছু নয়। কিন্তু দীর্ঘমেয়াদে রাষ্ট্রের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো প্রশাসনের নিরপেক্ষতা ও পেশাদারত্ব নিশ্চিত করা।”

বিশ্লেষকেরা মনে করেন, অনেক কর্মকর্তাই হয়তো ২০১৮ সালের নির্বাচনের দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে ব্যক্তিগতভাবে দ্বিধায় ছিলেন। কিন্তু বাস্তবতা হলো, প্রশাসনিক কাঠামোয় আদেশ অমান্য করার সংস্কৃতি নেই। ফলে পুরো ব্যবস্থাই একধরনের রাজনৈতিক দায়ের মধ্যে পড়ে গেছে।

তারা বলছেন, প্রশাসন নিরপেক্ষতা হারালে নির্বাচন কমিশনের সাংবিধানিক সক্ষমতাও কার্যত দুর্বল হয়ে পড়ে। বিশেষ করে ডিসি ও এসপিরা যখন একই সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা, মাঠ প্রশাসন ও নির্বাচনি ব্যবস্থাপনার কেন্দ্রে থাকেন, তখন তাদের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে। তবে রাষ্ট্রের সবচেয়ে বড় শক্তি প্রশাসনের নিরপেক্ষতা। যদি কর্মকর্তারা মনে করেন, রাজনৈতিক আনুগত্যই টিকে থাকার একমাত্র পথ, তাহলে ভবিষ্যতের নির্বাচনগুলোতেও একই সংকট ফিরে আসবে।

সামনে কোন পথে যাবে সরকার

সরকারি চাকরি আইন অনুযায়ী, ২৫ বছর চাকরি পূর্ণ হওয়ার পর জনস্বার্থে যে কোনো কর্মকর্তাকে বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠানোর সুযোগ রয়েছে। ফলে ওএসডিদের ভবিষ্যৎ নিয়ে প্রশাসনে জল্পনা-কল্পনা অব্যাহত রয়েছে।

প্রশাসনের একটি অংশ বলছে, অতীতের বিতর্কিত অধ্যায়ের সঙ্গে যুক্ত কর্মকর্তাদের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে গিয়ে সরকার রাজনৈতিক বার্তা দিতে চাইতে পারে।

অন্য অংশের মতে, রাষ্ট্রীয় স্বার্থে অভিজ্ঞ কর্মকর্তাদের দক্ষতা কাজে লাগানোই হবে অধিকতর বাস্তবসম্মত সিদ্ধান্ত।

ফলে এখন সবার দৃষ্টি জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় ও সরকারের পরবর্তী সিদ্ধান্তের দিকে। কারণ এই সিদ্ধান্ত শুধু কয়েকজন কর্মকর্তার চাকরি-ভাগ্য নির্ধারণ করবে না; বরং ভবিষ্যতে প্রশাসন রাজনৈতিক নির্দেশনা, পেশাগত দায়বদ্ধতা এবং ব্যক্তিগত ঝুঁকির প্রশ্নকে কীভাবে দেখবে, সে সম্পর্কেও একটি গুরুত্বপূর্ণ বার্তা দেবে।

শেয়ার করুন-

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মারুফ কামাল খান

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮১০, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০ | ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০, +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮০৭, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৩৩২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা