সচিবালয়ে সোমবার সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন। ছবি: প্রতিদিনের বাংলাদেশ
বাংলাদেশে উৎপাদিত ওষুধ বর্তমানে বিশ্বের ১৪০টি দেশে রপ্তানি হচ্ছে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন।
তিনি বলেন, দেশীয় উৎপাদকরা ভ্যাকসিন উৎপাদনে সক্ষম হলে এই বাজার আরও সম্প্রসারিত হবে।
সচিবালয়ে সোমবার সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে স্বাস্থ্যমন্ত্রী এসব কথা বলেন।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, গত ১৭ বছরে স্বাস্থ্য খাতে প্রয়োজনীয় ভেন্টিলেটর, চিকিৎসা–যন্ত্রপাতি, ভ্যাকসিন কিংবা সিরিঞ্জের পর্যাপ্ত ব্যবস্থা রেখে যাওয়া হয়নি। তবে বেসরকারি উদ্যোক্তাদের সহযোগিতায় সরকার হামসহ বিভিন্ন স্বাস্থ্যঝুঁকি মোকাবিলা করেছে।
হাম পরিস্থিতি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আক্রান্তদের শরীরে অ্যান্টিবডি তৈরি হতে আগামী ২০ জুন পর্যন্ত সময় লাগবে।
ডেঙ্গু মোকাবিলায় প্রস্তুতির কথা উল্লেখ করে মন্ত্রী জানান, বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব ফার্মাসিউটিক্যালস ইন্ডাস্ট্রিজ আজ অনুদান হিসেবে এক লাখ ইন্ট্রাভেনাস (আইভি) স্যালাইন দিয়েছে। কেন্দ্রীয় মজুতেও এক লাখ স্যালাইন রয়েছে।
এর পাশাপাশি উপজেলা পর্যায়ে আরও ২০ থেকে ২৫ হাজার স্যালাইন সংরক্ষিত আছে। তবে পরিস্থিতির অবনতি হলে অতিরিক্ত স্যালাইনের প্রয়োজন হতে পারে বলে তিনি মন্তব্য করেন।
ঢাকার আদ্-দ্বীন হাসপাতালে শিশুমৃত্যুর ঘটনায় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে দেওয়া কারণ দর্শানোর নোটিশের জবাব দেওয়ার জন্য আরও দুই দিন সময় বাড়ানো হয়েছে বলেও জানান স্বাস্থ্যমন্ত্রী।
তিনি বলেন, মঙ্গলবারের মধ্যে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের জবাব পাওয়ার পর মন্ত্রণালয় পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেবে।
মন্ত্রী বলেন, আইন অনুযায়ী কী ধরনের অনিয়ম বা অপরাধ সংঘটিত হয়েছে, তা পর্যালোচনা করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ক্ষতিপূরণের বিষয়টি হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের নিজস্ব বিষয় হলেও জনস্বার্থ রক্ষায় সরকার কঠোর অবস্থানে থাকবে।
অনুষ্ঠানে স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী ড. এম এ মুহিত বলেন, ডেঙ্গুর মৌসুম সামনে রেখে সংক্রমণ কমাতে বিভিন্ন পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। আক্রান্ত রোগীদের সময়মতো চিকিৎসা নিশ্চিত করতেও প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।
জনস্বাস্থ্যব্যবস্থার পুনর্গঠনে সরকার কাজ করছে উল্লেখ করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, স্বাস্থ্য খাতের সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে সম্পৃক্ত করেই কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে।
একই সঙ্গে ওষুধশিল্পের বিকাশে নীতিগত সহায়তা দেওয়ার বিষয়েও সরকার ভাবছে। দেশের মানুষের কাছে সঠিক ওষুধ সাশ্রয়ী মূল্যে বা প্রয়োজন অনুযায়ী বিনা মূল্যে পৌঁছে দেওয়াই সরকারের লক্ষ্য বলে তিনি জানান।