আসাদুজ্জামান সম্রাট
প্রকাশ : ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ০৯:৩৭ এএম
ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের সময় সংসদ ভবন ছাড়াও সংসদ সদস্য ভবন ও এমপি হোস্টেলগুলো ভাঙচুর ও লুটপাট হলেও এখন পর্যন্ত তা সংস্কার করে ব্যবহারোপযোগী করা যায়নি।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যরা সংসদ সচিবালয়ের কাছে প্রাপ্যতা অনুযায়ী বাসা ও অফিস বরাদ্দ প্রত্যাশা করছেন। তবে এখনও জাতীয় সংসদের স্পিকার-ডেপুটি স্পিকার নির্বাচন, চিফ হুইপ ও হুইপ নিয়োগ করা হয়নি। এ কারণে বাসা ও অফিস বরাদ্দের প্রক্রিয়ায় যেতে পারছে না সংসদ সচিবালয়। এ কারণে জাতীয় সংসদের অধিবেশন শুরুর আগ পর্যন্ত সংসদ সদস্যদের নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় ঢাকায় থাকতে হবে।
নির্বাচিত সাংসদদের বসবাসের জন্য শেরেবাংলা নগরের মানিক মিয়া অ্যাভিনিউ ও নাখালপাড়ায় ‘সংসদ সদস্য ভবন’ রয়েছে। ভবনগুলো সংসদ সদস্য ভবনের চেয়ে ‘ন্যাম ভবন’ নামে বেশি পরিচিত। কারণ এগুলো নির্মাণ করা হয়েছিল জোট নিরপেক্ষ সম্মেলন বা ন্যাম সম্মেলনে যোগ দিতে ইচ্ছুক অতিথিদের জন্য; কিন্তু পরে ওই সম্মেলন বাতিল হয়ে যায়।
মানিক মিয়া অ্যাভিনিউতে সংসদ সদস্যদের জন্য বরাদ্দকৃত ৬টি ভবনে ২১৬টি ফ্ল্যাট রয়েছে। এর মধ্যে মধ্যে তিনটি ভবন ১২০০ বর্গফুটের। যাতে ১০৮টি ফ্ল্যাট রয়েছে। অবশিষ্ট ৩টি ভবনের ১০৮টি ফ্ল্যাট রয়েছে ১৬৫০ বর্গফুটের। সংসদ সদস্যদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি চাহিদা ১৬৫০ বর্গফুটের ফ্ল্যাটগুলোর। নাখালপাড়ায় আরও ৪৮টি ফ্ল্যাট থাকলেও সেগুলোতে থাকতে আগ্রহী নন এমপিরা।
সংসদ সদস্যদের বাসা ও অফিস বরাদ্দের বিষয়টি দেখভাল করেন জাতীয় সংসদের হাউস কমিটি। পদাধিকারবলে সংসদের চিফ হুইপ এই কমিটির সভাপতি হয়ে থাকেন। কিন্তু সংসদের অধিবেশন না বসা পর্যন্ত হাউস কমিটি গঠন করা যাচ্ছে না। ফলে বরাদ্দ প্রক্রিয়ায় যেতে পারছে না সংসদ সচিবালয়। যদিও প্রতিদিনই এমপিরা ফ্ল্যাট বরাদ্দ পেতে জাতীয় সংসদের হোস্টেল শাখায় এসে যোগাযোগ করছেন। যোগাযোগকারীদের অধিবেশন পর্যন্ত অপেক্ষা করতে বলা হচ্ছে।
সংসদ সচিবালয় জানিয়েছে, সংসদ সদস্যদের জন্য নির্ধারিত ভবন ও অফিসগুলো বরাদ্দের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবে সংসদের হাউস কমিটি। এদিকে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের সময় সংসদ ভবন ছাড়াও সংসদ সদস্য ভবন ও এমপি হোস্টেলের অফিসগুলোতে ভাঙচুর ও লুটপাট হয়েছিল। কিন্তু এখন পর্যন্ত সংসদ সদস্য ভবনের ফ্ল্যাট ও অফিসগুলো সংস্কার করে ব্যবহারোপযোগী করা যায়নি।
নবনির্বাচিত এমপিদের জন্য সংসদ সদস্য ভবনের ফ্ল্যাটগুলো বরাদ্দ দেওয়ার আগে তা ব্যবহারোপযোগী করার মতো সংস্কারের কাজ করছে গণপূর্ত অধিদপ্তর। সরেজমিন গিয়ে দেখা গেছে, এখানে সিভিল-স্যানিটারি কাজের গতি খুবই মন্থর। এ পর্যন্ত মাত্র দুটি ভবনে কাজের কিছুটা অগ্রগতি হয়েছে। তবে রঙ করা হয়নি। অন্য ভবনগুলোতেও কাজ হচ্ছে মন্থর গতিতে।
গণপূর্তের এক কর্মকর্তা বলেছেন, আমরা এগুলো সংস্কারের জন্য ১২ মার্চ পর্যন্ত সময় পেলেও সে অনুপাতে কাজের অগ্রগতি অনেক কম। একইভাবে ইলেকট্রো মেকানিকের কাজগুলোও অনেকটা আটকে আছে। এর সঙ্গে অবশ্য পর্যাপ্ত অর্থ বরাদ্দ না পাওয়া বিষয়টিও জড়িত।
এদিকে সংসদ ভবন অধিবেশন-উপযোগী করে গড়ে তোলা হলেও সংসদ ভবনের বামপাশে অবস্থিত এমপি হোস্টেলগুলোতে এমপিদের অফিস সংস্কারের কাজ অনেকটাই পিছিয়ে আছে। প্রয়োজনীয় অর্থ বরাদ্দ না দেওয়ায় জাতীয় সংসদ ভবন সংলগ্ন এমপি হোস্টেলে ‘সংসদ সদস্য অফিসে’ এসি বসানো যাচ্ছে না। এখানে ৬টি ব্লকে সংসদ সদস্যদের জন্য ১৯৬টি অফিস রয়েছে। গণপূর্ত ইএম-৭-এর বার্ষিক ক্রয় পরিকল্পনা থেকে এসব অফিসগুলোতে প্রয়োজনীয় সুইচ-সকেট, লাইট ও ফ্যান লাগানোর কাজ চলছে। অধিবেশন শুরুর পর জাতীয় সংসদের হাউস কমিটি অফিসগুলো এমপিদের জন্য বরাদ্দ দিলেও সেগুলোতে এমপিদের বসতে হবে শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা ছাড়া। গরমের এই সময় শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা ছাড়া অফিস করা তাদের জন্য কষ্টকর হয়ে পড়বে।
তবে সংসদ সদস্যদের ফ্ল্যাটগুলোর ইলেকট্রো মেকানিক্যাল অংশের দায়িত্বপ্রাপ্ত নির্বাহী প্রকৌশলী রুবাইয়াত ইসলাম জানান, ‘কাজগুলো আমরা প্রায় শেষ করে এনেছি। ১২ মার্চ সংসদ বসার আগেই সব কাজ সমাপ্ত হয়ে যাবে।’ গণপূর্ত কাঠের কারখানার নির্বাহী প্রকৌশলী জুবায়ের বিন হায়দার জানান, ‘আমার দায়িত্ব ফার্নিচারসামগ্রী সরবরাহ, যা সম্পূর্ণ প্রস্তুত রয়েছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে তা সরবরাহ করা সম্ভব হবে। ১২ মার্চ পর্যন্ত সময় পাওয়ায় কাজগুলো আরও ভালোভাবে করা সম্ভব হচ্ছে।’