× ই-পেপার প্রচ্ছদ সর্বশেষ বাংলাদেশ রাজনীতি দেশজুড়ে বিশ্বজুড়ে বাণিজ্য খেলা বিনোদন মতামত চাকরি শিক্ষা আজকের কার্টুন ফিচার সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

অপতথ্যের ভান্ডার সিআরআইকে মোটা অঙ্কের চাঁদা দিত বিকাশ

তানভীর হাসান ও নূর মোহাম্মদ মিঠু

প্রকাশ : ২৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ০৯:৩৬ এএম

বিকাশের লোগো। ছবি: সংগৃহীত

বিকাশের লোগো। ছবি: সংগৃহীত

বিকাশের বিরুদ্ধে ২২ হাজার কোটি টাকা পাচারের অভিযোগ তদন্ত চলাকালেই দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) তদন্তে উঠে এসেছে নতুন এক তথ্য। দুদকের তদন্তে উঠে এসেছে, জুলাই গণঅভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগের গবেষণা প্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর রিসার্চ অ্যান্ড ইনফরমেশনের (সিআরআই) সরাসরি ডোনারের তালিকায়ও রয়েছে বিকাশ। ২০২১ থেকে ২০২৪ সালের ১০ জুলাই পর্যন্ত ব্যাংকিং চ্যানেলে ধারাবাহিক কিস্তির মাধ্যমে সিআরআইকে মোটা ডোনেশন দিয়েছে বিকাশÑ এমন তথ্যপ্রমাণ পেয়েছে সংস্থাটি। প্রোপাগান্ডা ছড়ানোর জন্য সিআরআইর বেতনভুক্ত বিশেষ উইংয়ের বাইরেও ডোনেশনের এই অর্থ যেত ছাত্রলীগ-যুবলীগসহ আওয়ামী লীগের অন্যান্য সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীদের হাতেও। সিআরআই ছাড়াও আরও ২২টি শিল্প গ্রুপকে দেওয়া ডোনেশনের সুনির্দিষ্ট তথ্যও পেয়েছে দুদক।

এ বিষয়ে দুদকের দায়িত্বশীল পর্যায় থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক কর্মকর্তা দাবি করেন, বিকাশের কাছে ডোনেশনের বিষয়ে জানতে চাইলে তারা কোনো সদুত্তর দিতে পারেনি। তারা দাবি করেছেন, সিআরআইর প্রকাশনায় তারা বিজ্ঞাপন প্রকাশের জন্য টাকা দিয়েছেন। কিন্তু অনুসন্ধানে সিআরআইর কোনো প্রকাশনা পাওয়া যায়নি। তদন্তের তথ্যমতে, বিভিন্ন বিষয়ভিত্তিক গবেষণার আড়ালে এ সংস্থাটি কার্যত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অপতথ্য ছড়াত। এ কারণে বিকাশ কেন সংস্থাটিকে টাকা দিত সে বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

সূত্র জানাচ্ছে, আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় প্রোপাগান্ডা সেল সিআরআইর পরিচালনা ব্যয় মেটাতেই বিপুল অঙ্কের ডোনেশন দিত বিকাশ। প্রতিষ্ঠানটির দেওয়া ধারাবাহিক কিস্তির টাকায় সিআরআইর নামে গড়ে উঠেছিল ডিজিটাল দমনযন্ত্র, গুজব ছড়ানোর নেটওয়ার্ক এবং রাষ্ট্রীয় অপতথ্যের কাঠামো। শুধু তাই নয়, বিকাশসহ অন্যান্য শিল্প গ্রুপ থেকে পাওয়া ডোনেশন আত্মসাৎও করেছে সিআরআই ট্রাস্টি বোর্ডের চেয়ারম্যান ও গণঅভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয়, ভাইস চেয়ারম্যান ও শেখ হাসিনার মেয়ে সায়মা ওয়াজেদ পুতুল, ট্রাস্টি এবং শেখ হাসিনার বোন শেখ রেহানার ছেলে রাদওয়ান মুজিব সিদ্দিক ববি। ‘নিবন্ধন ছাড়াই’ কর অব্যাহতি নেওয়া, কর অব্যাহতি সুবিধা নিয়ে তহবিল ‘আত্মসাৎ’ এবং বিপুল অর্থ স্থানান্তরের মাধ্যমে মানি লন্ডারিংয়ের অভিযোগে ইতোমধ্যে তাদের বিরুদ্ধে মামলাও করেছে দুদক। ওই মামলায় সাবেক অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল, সাবেক জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ বিপু, সাবেক এনবিআর চেয়ারম্যান মোশারফ হোসেন ভূঁইয়া, সাবেক এনবিআর সদস্য রওশন আরা আক্তার, সিআরআইর এক্সিকিউটিভ ডিরেক্টর শাব্বির বিন শামসকেও আসামি করা হয়েছে। 

কীভাবে কবে কত ডোনেশন দেওয়া হয়েছে 

দুদকের অনুসন্ধানে বিকাশের বিরুদ্ধে এ পর্যন্ত পাঁচ কিস্তিতে ৬১ লাখ টাকারও বেশি ডোনেশন দেওয়ার তথ্য মিলেছে। এর মধ্যে প্রথম কিস্তি দেওয়া হয় ২০২১ সালের ১৭ জুন। ওই কিস্তিতে বিকাশের স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড ব্যাংকের অ্যাকাউন্ট (নং-০০১৫০১১৩০৭৬৩১০১) থেকে সিআরআইর ন্যাশনাল ব্যাংকের অ্যাকাউন্টে (নং-১০৯০০০০৪৮৬৮৪) মোট ১৫ লাখ ৪৫ হাজার টাকা দেওয়া হয়। ২০২২ সালের ১৭ নভেম্বর ব্র্যাক ব্যাংক থেকে অনলাইন ট্রান্সফারের মাধ্যমে সিআরআইর ন্যাশনাল ব্যাংকের অ্যাকাউন্টে (নং-১০৯০০০০৪৯২০৬) দ্বিতীয় কিস্তিতে দেওয়া হয় ১৫ লাখ টাকা। তৃতীয় কিস্তি দেওয়া হয় ২০২৩ সালের ১২ মার্চ। ওই কিস্তিতেও ব্র্যাক ব্যাংক থেকে অনলাইন ট্রান্সফারের মাধ্যমে সিআরআইর ন্যাশনাল ব্যাংকের একই অ্যাকাউন্ট নাম্বারে দেওয়া হয় ১০ লাখ টাকা। ২০২৪ সালের ৬ মে চতুর্থ কিস্তিতে ব্র্যাক ব্যাংকের করপোরেট অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে (ট্র্যাক নং-০৬০২৭০০০০০০০০৫২) সিআরআইর ন্যাশনাল ব্যাংকের অ্যাকাউন্টে (নং-১০৯০০০০৪৮৬৮৪) দেওয়া হয় ১৫ লাখ ৪৫ হাজার টাকা। সবশেষ ২০২৪ সালের ১০ জুলাই ব্র্যাক ব্যাংক থেকে অনলাইন ট্রান্সফারের মাধ্যমে পঞ্চম কিস্তিতে দেওয়া হয় ১০ লাখ ৫০ হাজার টাকা। 

দুদক সূত্র জানায়, ২০১৪ সালের ৩০ ডিসেম্বর থেকে ২০২৪ সালের ১০ জুলাই পর্যন্ত ২৩টি শিল্প গ্রুপ থেকে ডোনেশন পায় সিআরআই। এর মধ্যে ২০২১ সালের ১৭ জুন থেকে ২০২৪ সালের ১০ জুলাই পর্যন্ত ডোনেশন দেয় বিকাশ। ২০২৪ সালের ১০ জুলাই সবশেষ ডোনেশনটিও ছিল বিকাশের এবং পঞ্চম কিস্তি। যা বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের মোড় ভিন্নখাতে প্রবাহিত করার উদ্দেশ্যে দেওয়া হয় বলে দুদক সূত্র দাবি করেছে। ডোনেশনের অর্থ আত্মসাৎ মামলার অধিকতর তদন্তে নেমে এসব তথ্য জানতে পারে দুদক।

আরও লেনদেন থাকতে পারে 

দুদকের অনুসন্ধানে এখন পর্যন্ত বিকাশের পাঁচটি লেনেদেনের ব্যাংক ডিটেইলস পাওয়া গেলেও ধারণা করা হচ্ছে, এর বাইরে আরও লেনদেন থাকতে পারে। ব্যাংকিং চ্যানেলের বাইরেও বিভিন্ন মাধ্যমে সিআরআইকে ডোনেশন দিয়ে থাকতে পারে বিকাশ। অনুসন্ধানে এ ব্যাপারে তথ্য পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। 

দুদক সূত্র জানায়, সমাজসেবা অধিদপ্তরের নিবন্ধন না থাকলেও বিকাশের ৬১ লাখ টাকাসহ আরও ২২টি শিল্প গ্রুপ থেকে মোট ৪৫ কোটি ৩৫ লাখ ৯৫ হাজার টাকা ডোনেশন নিয়েছে সিআরআই। তবে ‘নিবন্ধন ছাড়াই’ কর অব্যাহতি নেওয়া, কর অব্যাহতি সুবিধা নিয়ে তহবিল ‘আত্মসাৎ’ এবং বিপুল অর্থ স্থানান্তরের মাধ্যমে মানি লন্ডারিংয়ের অভিযোগ থাকলেও এখনও ডোনারদের বিরুদ্ধে দৃশ্যমান কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। অবশ্য সিআরআই ট্রাস্টি বোর্ডের চেয়ারম্যান ও গণঅভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয়, ভাইস চেয়ারম্যান ও শেখ হাসিনার মেয়ে সায়মা ওয়াজেদ পুতুল, ট্রাস্টি এবং শেখ হাসিনার বোন শেখ রেহানার ছেলে রাদওয়ান মুজিব সিদ্দিক ববিসহ বেশ কজনের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। 

সংশ্লিষ্টদের বক্তব্য

এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে বিকাশের হেড অব কমিউনিকেশনস শামসুদ্দিন হায়দার ডালিম প্রতিদিনের বাংলাদেশকে বলেন, ‘সিআরআইর একটা পাবলিকেশন্সকে আমরা ডোনেট করতাম।’ এত অল্প সময়ে একটা পাবলিকেশনের জন্য এই পরিমাণ টাকা ডোনেশন করার কারণ জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘এটা পরে জেনে জানাতে পারব।’ যদিও সিআরআইর পৃথক কোনো পাবলিকেশন্সের তথ্য জানা যায়নি।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, ‘বিকাশের প্রতারণার বিষয়টি সম্পর্কে ধারাবাহিক সংবাদ প্রকাশের পর তদন্তে নামে সিআইডি। এরপর তারা নিজেরা রক্ষা পেতে যোগাযোগ করেন তৎকালীন সরকারের ওপর মহলে। তারা সেসময় সিআরআইর সঙ্গে যুক্ত তৎকালীন তথ্য প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ এ আরাফাতের সঙ্গে যোগাযোগ স্থাপন করে। এরপর সেখানে নিয়মিত টাকা দেওয়া শুরু করে বিকাশ। মূলত নিজেদের অপকর্ম রক্ষা করতেই তারা সিআরআইর দ্বারস্থ হয়।

শেয়ার করুন-

মন্তব্য করুন

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মারুফ কামাল খান

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮১০, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০ | ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০, +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮০৭, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৩৩২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা