হাসনাত শাহীন
প্রকাশ : ২৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ০৯:৩৮ এএম
বাংলা একাডেমি আয়োজিত অমর একুশে বইমেলার দুয়ার খুলছে ২৬ ফেব্রুয়ারি। তবে মেলা আয়োজনে চলছে ধীরগতি। অনেক স্টল নির্মানের কাজ এখনও শুরুই হয়নি। সোহরাওয়ার্দী অংশের রবিবারের দৃশ্য। ছবি: প্রতিদিনের বাংলাদেশ
ফের পেছাল ‘অমর একুশে বইমেলা ২০২৬’-এর শুরুর তারিখ। ২৫ ফেব্রুয়ারির পরিবর্তে এক দিন পিছিয়ে আগামী ২৬ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হচ্ছে প্রাণের মেলা। এ উপলক্ষে দুপুর ২টায় বাংলা একাডেমি প্রাঙ্গণের রবীন্দ্রচত্বর বইমেলার মূল মঞ্চে অনুষ্ঠিত হবে উদ্বোধনী আয়োজন। এই আয়োজনে উপস্থিত থেকে প্রথমবারের মতো বইমেলার উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
আবারও বইমেলা পেছানো প্রসঙ্গে বাংলা একাডেমির সচিব ও ‘অমর একুশে বইমেলা ২০২৬’ পরিচালনা কমিটির সদস্য সচিব ড. সেলিম রেজা প্রতিদিনের বাংলাদেশকে বলেন, বিশেষ কারণে মেলার সময় এক দিন পিছিয়ে ২৬ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হবে। এদিন দুপুর ২টায় এবারের ‘অমর একুশে বইমেলা’র উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
এর আগে গত ১৮ ফেব্রুয়ারি বাংলা একাডেমির শহিদ মুনীর চৌধুরী সভাকক্ষে অনুষ্ঠিত এক সভায় সংস্কৃতিমন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রী, মেলার আয়োজক বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক ও সচিবসহ বিভিন্ন বিভাগের কর্মকর্তারা মেলায় অংশ নিতে ইচ্ছুক ও অনিচ্ছুক প্রকাশক প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠক করে সিদ্ধান্ত নেন, ২৫ ফেব্রুয়ারি শুরু হবে অমর একুশে বইমেলা ২০২৬। সেই অনুযায়ী মেলা আয়োজনের প্রস্তুতিও চলছিল। তবে ২১ ফেব্রুয়ারি এক অনুষ্ঠানে সংস্কৃতিমন্ত্রী জানান, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ২৬ ফেব্রুয়ারি সকালে ২১ পদক বিতরণ শেষে বিকালে মেলার উদ্বোধন করবেন।
এদিকে এবারের বইমেলায় প্রকাশক ঐক্যর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট তিন শতাধিক প্রকাশনা প্রতিষ্ঠান অংশ নেবে কি না, তা জানাবে আজ সোমবার। মেলার মাঠে স্টল ও প্যাভিলিয়ন বরাদ্দের অস্বচ্ছতা নিরসন না হওয়া এবং চরম সময়স্বল্পতার কারণে একুশে বইমেলায় অংশগ্রহণ করা কোনোভাবেই সম্ভব হচ্ছে না বলে জানিয়েছে দেশের সৃজনশীল প্রকাশকদের সর্ববৃহৎ প্লাটফর্ম ‘প্রকাশক ঐক্য’। গতকাল রবিবার দেশের শীর্ষস্থানীয় প্রকাশনা সংস্থাসহ তিন শতাধিক প্রকাশনা সংস্থা নিয়ে গড়ে ওঠা ‘প্রকাশক ঐক্য’ নামের অস্থায়ী এই সংগঠনের ব্যানারে এই তথ্য জানানো হয়।
‘প্রকাশক ঐক্য’র অন্যতম নেতা ‘অন্যপ্রকাশ’-এর প্রধান নির্বাহী মাজহারুল ইসলাম ও ‘অন্যনা’র স্বত্বাধিকারী মনিরুল হক প্রতিদিনের বাংলাদেশকে বলেন, আমরা বইমেলায় যাচ্ছি না। এটা চূড়ান্ত।
তারা বলেন, গত ১৮ ফেব্রুয়ারির সভার সিদ্ধান্ত অনুসারে নতুন করে যারা মেলায় অংশ নিতে চায়, তাদের ১৯ তারিখ বেলা ৩টার মধ্যে আবেদন করার বলা হয়েছিল এবং একই দিন সন্ধ্যা ৬টায় লটারির মাধ্যমে স্টল বরাদ্দ দেওয়ার কথা ছিল। সে সময়ের মধ্যে শতাধিক প্রকাশক মেলায় স্টল নেওয়ার জন্য আবেদন করেন। কিন্তু এখন পর্যন্ত নতুন করে আবেদন করা কোনো প্রকাশকই স্টল বরাদ্দ পাইনি, লটারিও হয়নি! এ কারণেই মূলত এবারের বইমেলায় আমরা অংশ নিতে পারছি না।
এর আগে গত শনিবার রাতে বইমেলা পরিচালনা কমিটির সঙ্গে স্টল বরাদ্দের লটারি ইস্যুতে দ্বন্দ্ব বাধে প্রথম সারির প্রকাশকদের। এই প্রকাশকদের জোট ‘প্রকাশক ঐক্য’র পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, স্টল ও প্যাভিলিয়ন বরাদ্দে অস্বচ্ছতা নিরসন না হওয়ায় তারা বইমেলায় অংশ নেবে না। সোমবার সকালে জাতীয় প্রেস ক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করে নিজেদের অবস্থান ব্যাখ্যা করবে প্রকাশক ঐক্য।
জানতে চাইলে বইমেলা পরিচালনা কমিটির সদস্য সচিব ও বাংলা একাডেমির সচিব ড. মো. সেলিম রেজা জানান, প্রথম সারির প্রকাশকদের একটি অংশ চেয়েছিল এবারের বইমেলায় কোনো প্যাভিলিয়ন যেন না থাকে। তারা কাউকে প্যাভিলিয়ন বরাদ্দ না দিতে বইমেলা পরিচালনা কমিটিকে জানান। এরপর সব প্যাভিলিয়ন বাতিল করে সর্বোচ্চ পাঁচ ইউনিটের স্টল সমানভাবে বরাদ্দ দেওয়ার বিষয়ে মৌখিক সমঝোতাও হয়। কিন্তু বাংলা একাডেমি ‘অস্বচ্ছ প্রক্রিয়ায়’ অনেক প্রকাশককে প্যাভিলিয়ন বরাদ্দ দিয়েছে বলে অভিযোগ করেন প্রকাশক ঐক্যের সদস্যরা। তাদের ভাষ্য, এরই মধ্যে বরাদ্দ পাওয়া প্রকাশকরা তাদের নির্মাণকাজ এগিয়ে নেন। এর ফলে মূলধারার প্রকাশকদের জন্য ছোট স্টল নিয়ে মেলায় অংশ নেওয়া অমর্যাদাকর। ফলে সব প্যাভিলিয়ন বরাদ্দ বাতিলের দাবি জানান তারা।
বিষয়টি নিয়ে গতকাল রবিবার সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের বৈঠকেও কোনো সুরাহা হয়নি বলে জানা গেছে। এ বিষয়ে প্রকাশক ঐক্য জানায়, প্যাভিলিয়ন বাতিল না হওয়ায় এখনও স্টল নম্বর বরাদ্দের লটারি হয়নি। মেলা শুরু হওয়ার তিন দিন আগে স্টল নির্মাণ, বিদ্যুৎ সংযোগ ও বই সাজানো বাস্তবিকভাবে সম্ভব নয়। তাই বাধ্য হয়েই ‘প্রকাশক ঐক্য’ এবারের বইমেলায় অংশ না নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। তবে তাদের কোনো সদস্য ব্যক্তিগত বা ব্যবসায়িক বিবেচনায় অংশ নিতে চাইলে তাতে সংগঠনের আপত্তি নেই বলেও জানানো হয়।
প্রকাশক ঐক্য এ বিষয়ে সোমবার জরুরি সংবাদ সম্মেলনের ডাক দিয়েছে। জাতীয় প্রেস ক্লাবের জহুর হোসেন চৌধুরী হলে বেলা সাড়ে ১১টায় এই সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হবে। সংগঠনটি গতকাল এক জরুরি সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে, ‘আসন্ন অমর একুশে বইমেলা ২০২৬’-এ অংশগ্রহণ এবং প্রকাশকদের অন্যান্য যৌক্তিক দাবির বিষয়ে কয়েকদিন ধরে নবগঠিত সরকার ও বাংলা একাডেমি কর্তৃপক্ষের সঙ্গে ‘প্রকাশক ঐক্য’র ধারাবাহিক আলোচনা চলছে। সরকারের যেকোনো ইতিবাচক উদ্যোগের দিকে আমরা গভীরভাবে নজর রাখছি এবং আমাদের যোগাযোগ অব্যাহত রয়েছে। চলমান এই আলোচনার সর্বশেষ অগ্রগতি, আমাদের যৌক্তিক দাবিগুলো আদায়ের বর্তমান অবস্থা এবং সর্বোপরি আসন্ন বইমেলায় ‘প্রকাশক ঐক্য’র অংশগ্রহণের বিষয়ে চূড়ান্ত ও আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত দেশবাসীকে জানানোর জন্য সোমবার একটি জরুরি সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করেছি। সেখানে বইমেলা নিয়ে আমাদের অবস্থান ব্যাখ্যা ও পরবর্তী করণীয় তুলে ধরা হবে।