নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ
সাইফুল ইসলাম, রূপগঞ্জ (নারায়ণগঞ্জ)
প্রকাশ : ২১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ০৯:২১ এএম
আপডেট : ২১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ০৯:৪৫ এএম
তিতাস গ্যাস ট্রান্সমিশন এণ্ড ডিস্ট্রিবিউশন পিএলসি, রূপগঞ্জ, নারায়ণগঞ্জ । ছবি: প্রতিদিনের বাংলাদেশ
নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে কয়েকদিন ধরে গ্যাস সংকটে শিল্প-কারখানার উৎপাদন চরমভাবে ব্যাহত হচ্ছে। শতভাগ উৎপাদন করতে পারছেন না মালিকরা। অনেক প্রতিষ্ঠান বন্ধ হয়ে গেছে। আবার অনেক প্রতিষ্ঠানে শ্রমিক ছাঁটাই করা হচ্ছে। এতে দুর্ভোগে পড়ছেন ছাঁটাই হওয়া শ্রমিকরা।
প্রেসার না থাকায় প্রায় সময় বন্ধ থাকে সিএনজি পাম্প, ভোগান্তিতে গাড়িচালকরা। আবাসিক গ্রাহকরা অতিরিক্ত দাম দিয়ে গ্যাস সিলিন্ডার ব্যবহার করছেন। দ্রুত গ্যাসের সমস্যার সমাধান চায় সবাই। নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ একটি শিল্প এলাকা। উপজেলার যাত্রামুড়া, বরাব, বরপা, ভুলতা, আড়িয়াবো, কর্ণগোপ, গোলাকান্দাইল, মুড়াপাড়া, কাঞ্চন, হাটাবো, সাওঘাট, কাতরারচক, ডহরগাঁও, পাড়াগাঁও, বানিয়াদিসহ বেশ কয়েকটি এলাকায় হারবেস্ট রিচ গার্মেন্টস, অলটেক্স, অন্তিম নিটিং ডায়িং অ্যান্ড ফিনিশিং কারখানা, গ্রামটেক নিট ডায়িং অ্যান্ড ফিনিশিং কারখানা, ফকির ফ্যাশন, সিটি অয়েল মিল, রবিন টেক্স অ্যান্ড গার্মেন্টস লিমিটেডসহ ছোটবড় মিলিয়ে প্রায় দুই হাজার শিল্প-কারখানা রয়েছে এখানে। এসব কারখানায় উৎপাদন হয় প্যান্ট, শার্ট, গেঞ্জি, থ্রি-পিস, চাদর, প্রিন্ট কাপড়, লুঙ্গি, প্লাস্টিকজাতীয় পণ্যসহ হরেক রকমের জিনিস। রয়েছে নিটিং ডায়িং অ্যান্ড ফিনিশিং কারখানা। এর মধ্যে অনেক কারখানায় গ্যাস ব্যবহার করে জেনারেটরের মাধ্যমে বিদ্যুৎ উৎপাদন করা হয়। আর ওই বিদ্যুৎ দিয়েই কারখানা চলে।
কয়েকদিন ধরে গ্যাসের
চাপ কমে যাওয়ায় কারখানার উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে বলে অভিযোগ শিল্প-কারখানার মালিক ও ব্যবসায়ীদের।
এতে লোকসানের মুখে রয়েছেন তারা। গ্যাস সংকটে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে আবাসিক এলাকার জনজীবন।
শিল্প-কারখানার মালিকরা তেলচালিত জেনারেটরে কারখানা চালানোর চেষ্টা করছেন। এতে তাদের
অতিরিক্ত খরচ করতে হচ্ছে। এভাবেও শতভাগ উৎপাদন করতে পারছেন না। গ্যাস সংকট চলতে থাকলে
কারখানাগুলো সচল রাখা কঠিন হয়ে পড়বে বলে মনে করছেন রূপগঞ্জের শিল্পমালিক ও ব্যবসায়ীরা। এভাবে
প্রতিষ্ঠানগুলোতে ৫০ ভাগ খরচ বেড়ে যাচ্ছে। ইতোমধ্যে কয়েকটি কারখানা বন্ধ করে
দেওয়া হয়েছে।
এদিকে সিএনজি স্টেশনগুলোতে
একই অবস্থা। চাপ না থাকায় সিএনজিচালিত যানবাহনে গ্যাস দিতে না পারছেন না অনেকে। এতে
ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন যানবাহন চালকরা। চারগুণ তেল ব্যবহার করে গাড়ি চালাতে হচ্ছে।
কয়েকটি এলাকায় আবাসিক গ্রাহকরা গ্যাস সংকটে অতিরিক্ত দাম দিয়ে বোতল গ্যাস ব্যবহার
করছেন।
শিল্প মালিকপক্ষ,
শ্রমিক, গাড়িচালক ও সিএনজি স্টেশন কর্তৃপক্ষ জানায়, গ্যাস সংকট থাকলে উৎপাদন অর্ধেকে
চলে আসবে। বেকার হয়ে পড়বেন শ্রমিকরা। তারা যাতে বেকার হয়ে না পড়েন, সেজন্য সরকারকে
দৃষ্টি দিতে হবে। তাই গ্যাস সংকট সমাধান করতে হবে দ্রুত সময়ের মধ্যে।
এ ব্যাপারে উপজেলার
রূপসী এলাকায় অবস্থিত তিতাস গ্যাস ট্রান্সমিশন অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানির কার্যালয়ে
গিয়ে রূপগঞ্জ আঞ্চলিক বিপণন বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত উপমহাব্যবস্থাপক প্রকৌশলী মোহাম্মদ
জাহাঙ্গীর আলমের সঙ্গে কথা বলার চেষ্টা করা হলেও তিনি রাজি হননি। পরে তিনি জানান, আড়াইহাজার
উপজেলায় তিতাস গ্যাসের পাইপ লিকেজ হয়ে গেছে। মেরামতের কাজ চলছে। এ কারণে তিতাস গ্যাসের
প্রেসার ডিআরএস থেকে কমিয়ে দেওয়া হয়েছে। হয়তো কিছুদিনের মধ্যে ঠিক হয়ে যাবে।