× ই-পেপার প্রচ্ছদ সর্বশেষ বাংলাদেশ রাজনীতি দেশজুড়ে বিশ্বজুড়ে বাণিজ্য খেলা বিনোদন মতামত চাকরি শিক্ষা আজকের কার্টুন ফিচার সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

নির্বাচন ঘিরে ২৪ জেলায় খুনোখুনির শঙ্কা

তানভীর হাসান ও কবির হোসেন

প্রকাশ : ২৬ জানুয়ারি ২০২৬ ০৮:৪৯ এএম

প্রতীকী ছবি।

প্রতীকী ছবি।

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটকে সামনে রেখে তিন পার্বত্য জেলাসহ ২৪ জেলায় খুনোখুনির শঙ্কা তৈরি হয়েছে। প্রচারণা শুরু হওয়ার পর থেকে দেশের বিভিন্ন স্থানে হামলা ও সংঘর্ষের খবর পাওয়া যাচ্ছে। এরই মধ্যে কেরানীগঞ্জে এক বিএনপি নেতা খুন হয়েছেন। মাথাব্যথার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে আওয়ামী লীগ ও সংখ্যালঘুদের ভোট। কারণ বিএনপি ও জামায়াত দুদলই এই ভোট পেতে মরিয়া। এ কারণে স্থানীয় পর্যায়ে এই দুদলের বিরোধ এখন চরমে। এ ছাড়াও ৫ আগস্ট-পরবর্তী সময়ে জামিনে মুক্ত জঙ্গিরাও এখন নিরাপত্তার জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে বলে একটি গোয়েন্দা সংস্থার প্রতিবেদনে উঠে এসেছে।

সম্প্রতি সরকারের ঊর্ধ্বতনদের কাছে জমা দেওয়া ওই প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থার মধ্যেও সম্প্রতি কিছু ঘটনা নতুন করে দেশকে অস্থিরতার দিকে নিয়ে যাচ্ছে। এসব বিষয় সামনে এনে বিদেশি দূতাবাস ও তাদের নাগরিকদের নিরাপদে সরিয়ে নেওয়ার তৎপরতাও দেখা গেছে। এরই মধ্যে ভারত এবং যুক্তরাষ্ট্র তাদের নাগরিকদের নিরাপদে সরিয়ে নিয়েছে। এ ছাড়া নাগরিকদের জন্য ৩ জেলায় ভ্রমণ সতর্কতা জারি করেছে যুক্তরাজ্য। সম্ভাব্য রাজনৈতিক অস্থিরতা ও নিরাপত্তার ঝুঁকির কথা বিবেচনা করে পার্বত্য চট্টগ্রামের তিন জেলাÑ রাঙামাটি, খাগড়াছড়ি ও বান্দরবান ভ্রমণে বিশেষ কড়াকড়ি আরোপ করেছে দেশটি। এমন পরিস্থিতিতে নির্বাচনকে সামনে রেখে দেশে কঠোর নিরাপত্তা সাজানোর বিষয়টি কাগজ-কলমে দেখা গেলেও বাস্তবে এর গরমিল দেখছেন অপরাধ বিশ্লেষকরা। যদিও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর দাবি, যেকোনো পরিস্থিতি মোকাবিলায় তারা প্রস্তুত। 

জানতে চাইলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজকল‍্যাণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের সহযোগী অধ্যাপক এবং সমাজ ও অপরাধ বিশেষজ্ঞ ড. তৌহিদুল হক প্রতিদিনের বাংলাদেশকে বলেন, নির্বাচনকে সামনে রেখে যে ধরনের নিরাপত্তা ঝুঁকি তৈরি হতে পারে তার রেফারেন্স দিয়ে ইতোমধ্যে দুটি দেশ ভারত এবং যুক্তরাষ্ট্র তাদের দেশের নাগরিক ও দূতাবাসে কর্মরত সবাইকে সরিয়ে নিচ্ছে। তিনি বলেন, সম্প্রতি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ওপর আক্রমণ এ ঘটনাগুলো কিন্তু পুরোপুরিভাবে নিয়ন্ত্রণ হচ্ছে না। একটি দেশে যখন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ওপরে আক্রমণ হয়, এসব বিষয়ে ব্যবস্থা নিতে যখন সময় লেগে যায় বিষয়টি বিদেশি কূটনীতিক যারা আছেন তাদেরকে ভীত করে। আর তখন তারা পদক্ষেপ নেন। আমরা চাই দেশে এমন একটা নিরাপত্তা কাঠামো তৈরি হোক সেখানে বিদেশি-দেশি বলে কথা না, সকল নাগরিকই স্বস্তিতে থাকবে, নিরাপদ থাকবে। এ ধরনের ব্যবস্থা যত দিন বাস্তবায়ন না হবে তত দিন আমাদের বদনামের মুখোমুখি হতে হবে।

জানা গেছে, আসন্ন জাতীয় ‍নির্বাচন ও গণভোট বানচালের গভীর ষড়যন্ত্র, রাজনৈতিক হত্যাকাণ্ড, গুপ্ত হামলা, সাম্প্রদায়িক সহিংসতা এবং সন্ত্রাসী তৎপরতার আশঙ্কা সর্বোচ্চ নিরাপত্তা সতর্কতায় রয়েছে রাষ্ট্র। আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি নির্ধারিত নির্বাচনে অবাধ, সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ভোট নিশ্চিত করতে সেনাবাহিনীসহ প্রায় ৯ লাখ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য, ড্রোন, ডগ স্কোয়াড, বডি ক্যামেরা ও আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর নজরদারির নজিরবিহীন নিরাপত্তা পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করছে সরকার। এর মধ্যে পুলিশের প্রায় দেড় লাখ সদস্য এবং আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর ৫ লাখ ৫৫ হাজার ৯৫৮ সদস্য মোতায়েন থাকবেন। এ ছাড়া বিজিবির ৩৭ হাজার ৪৫৩, সশস্ত্র বাহিনীর প্রায় এক লাখ, র‍্যাবের প্রায় ৮ হাজার, নৌবাহিনীর ৫ হাজার, কোস্ট গার্ডের ৩ হাজার ৫০০ এবং ফায়ার সার্ভিসের ১৩ হাজার সদস্য নির্বাচনী দায়িত্ব পালন করবেন। এ ছাড়া নজরদারিতে থাকছে ড্রোন, যার ব্যবহার ইতোমধ্যে পুলিশসহ অন্যান্য বাহিনী শুরু করেছে। তারপরও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সদস্যদের ওপর আক্রমণ ও হত্যার মতো ঘটনাগুলো নতুন করে শঙ্কা তৈরি করছে।

গোয়েন্দা সূত্রগুলো বলছে, নির্বাচন বানচালের প্রধান কৌশল হিসেবে বেছে নেওয়া হয়েছেÑ রাজনৈতিক হত্যাকাণ্ড ও গুপ্ত হামলার মাধ্যমে আতঙ্ক ছড়ানো, সাম্প্রদায়িক উত্তেজনা সৃষ্টি, ককটেল বিস্ফোরণ ও অস্ত্রের ঝনঝনানি দেখিয়ে ভোটারদের কেন্দ্রে যেতে নিরুৎসাহিত করা এবং সামাজিক মাধ্যমে পরিকল্পিত গুজব ছড়ানো। সহিংসতা খুনোখুনি হতে পারে এমন ২৪টা জেলার নাম পাওয়া গেছে। এর মধ্যে তিন পার্বত্য জেলা ছাড়াও কুমিল্লা, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, নারায়ণগঞ্জ, মুন্সীগঞ্জ, নোয়াখালী, গোপালগঞ্জ, যশোর, ঝিনাইদহ, চুয়াডাঙ্গা, গাইবান্ধা, সাতক্ষীরা, মেহেরপুর, কুষ্টিয়া, নীলফামারী, পাবনা, নাটোর, ফরিদপুর, পিরোজপুর, পটুয়াখালী, কক্সবাজার ও চট্টগ্রাম। এর মধ্যে সব চেয়ে বেশি খুনের ঘটনা ঘটেছে চট্টগ্রাম জেলার রাউজানে।

গোয়েন্দা প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কক্সবাজার জেলার রোহিঙ্গা ক্যাম্পগুলোতে সশস্ত্র সন্ত্রাসী গোষ্ঠী অবস্থান করছে তারা আসন্ন নির্বাচনে ভাড়াটে হিসেবে ব্যবহৃত হতে পারে। এ ছাড়া বাকি জেলাগুলোতে জামায়াত ও বিএনপি মুখোমুখি অবস্থানে রয়েছে। ওই প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, ৫ আগস্ট-পরবর্তী সময়ে জেল থেকে জামিনে মুক্ত হয়ে ফের তৎপরতা বাড়াচ্ছে নিষিদ্ধ জঙ্গি সংগঠনগুলো। এরই মধ্যে কেরানীগঞ্জের একটি মাদ্রাসায় বোমা তৈরির সময় বিস্ফোরণ ঘটেছে। তদন্তে সেখানে জঙ্গি সংগঠনের এক নেতা বোমা বানাচ্ছিল বলে উঠে এসেছে। 

গোয়েন্দা সংস্থার এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, আওয়ামী লীগের ভোট নিয়ে কাড়াকাড়ি করার শঙ্কা রয়েছে বিএনপি ও জামায়াতের মধ্যে। এ ছাড়া সংখ্যালঘুদেরও টার্গেট করেছে দল দুটি। এরই মধ্যে বিভিন্ন স্থানে তাদের হাতাহাতির ঘটনাও ঘটেছে। উভয় দলই হানাহানিতে মেতে উঠতে পারে। এ কারণে এখই দল দুটির শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে বসে আলোচনায় পরামর্শ দেওয়া হয়েছে সরকারকে।

সূত্রমতে, নির্বাচনকে ঘিরে দলীয় কোন্দল একটি বড় সমস্যা। এরই মধ্যে বিএনপির ৬০টির অধিক আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থীর রয়েছে। সেখানে দলের নেতাকর্মী বিভক্ত। তারাও এরই মধ্যে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েছে। অন্তত ১১টি স্থানে প্রচারণার পর এ ধরনের চিত্র দেখা গেছে। সামনে এর সংখ্যা বাড়বে বলে শঙ্কা রয়েছে। এরই মধ্যে ঝিনাইদহ-৪, পটুয়াখালী-৩, কিশোরগঞ্জ-৪ ও ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনে এর চিত্র দেখা গেছে। 

জানা গেছে, গত সোমবার অভিযান চলাকালে চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডের জঙ্গল সলিমপুর এলাকায় সন্ত্রাসীদের গুলিতে র‌্যাবের এক কর্মকর্তা নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আরও কয়েকজন আহত হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। এ ছাড়া গত বৃহস্পতিবার রাতে ঢাকার কেরানীগঞ্জ ৭-নং ওয়ার্ডে হযরতপুর ইউনিয়নের বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মো. হাসান মোল্লা (৪৫) দুর্বৃত্তের গুলিতে গুরুতর আহত হয়ে গতকাল শনিবার ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। এসব ঘটনা নতুন করে উদ্বেগ বাড়িয়েছে। 

পুলিশ, র‍্যাব ও একাধিক গোয়েন্দা সংস্থার শীর্ষ কর্মকর্তারা বলছেন, ভোটের মাঠের পরিবেশ স্থিতিশীল রাখতে প্রস্তুত আছেন তারা। এমনকি যে কোনো পরিস্থিতি মোকাবিলায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সক্ষমতাও রয়েছে বলে জানিয়েছে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। পুলিশ জানিয়েছে, অবৈধ অস্ত্রের ব্যবহার রোধে জোরালো অভিযান চালানোর পাশাপাশি কারাগার থেকে বের হওয়া সন্ত্রাসীদেরও নজরদারিতে রাখা হয়েছে। সেই সঙ্গে রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখা হচ্ছে এবং বিভিন্ন দিকনির্দেশনা দেওয়া হচ্ছে। ভোটের ক্ষেত্রে হুমকি হতে পারেÑ এমন ব্যক্তিদের ওপর নজর রাখতে এবং ক্ষেত্রবিশেষে তাদের আইনের আওতায় আনতে সব জেলার পুলিশ সুপার (এসপি) ও মহানগর পুলিশ কমিশনারদের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

সম্প্রতি পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বাহারুল আলম বলেন, মানুষের মধ্যে নিরাপত্তাবোধ বাড়ানোর ব্যাপারে গুরুত্ব দিচ্ছি আমরা। নজরদারি ও পুলিশের কার্যক্রম আরও বেশি দৃশ্যমান করতে হবে। এ ছাড়াও সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, এবারের নির্বাচনে আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণে সবচেয়ে কার্যকর ভূমিকা রাখবে ‘নির্বাচন সুরক্ষা অ্যাপ-২০২৬’। এর ব্যবহার ন্যাশনাল টেলিকমিউনিকেশন মনিটরিং সেন্টার (এনটিএমসি) কর্তৃক প্রস্তুত করা হয়েছে। এর সঙ্গে বিভিন্ন আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, রিটার্নিং অফিসার, সহকারী রিটার্নিং অফিসারসহ স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কেন্দ্রীয় কন্ট্রোল রুমে যুক্ত থাকবে। এটি তাৎক্ষণিকভাবে আইনশৃঙ্খলা সংক্রান্ত অভিযোগ গ্রহণ ও এর দ্রুত প্রতিকার বা নিয়ন্ত্রণে ভূমিকা রাখবে।

শেয়ার করুন-

মন্তব্য করুন

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মারুফ কামাল খান

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮১০, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০ | ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০, +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮০৭, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৩৩২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা