× ই-পেপার প্রচ্ছদ সর্বশেষ বাংলাদেশ রাজনীতি দেশজুড়ে বিশ্বজুড়ে বাণিজ্য খেলা বিনোদন মতামত চাকরি শিক্ষা আজকের কার্টুন ফিচার সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

শরিকদের দুশ্চিন্তায় ফেলেছেন বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থীরা

দীপক দেব

প্রকাশ : ০৬ জানুয়ারি ২০২৬ ১২:০০ পিএম

আপডেট : ০৬ জানুয়ারি ২০২৬ ১২:০৮ পিএম

শরিকদের দুশ্চিন্তায় ফেলেছেন বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থীরা

পূর্বঘোষণা অনুযায়ী যুগপৎ আন্দোলনের শরিক দলগুলোর সঙ্গে আসন সমন্বয় করে জাতীয় নির্বাচনের জন্য কমপক্ষে ১৪টি আসন ছেড়ে দিয়েছে বিএনপি। কিন্তু এ পরিকল্পনায় বাদ সেধেছে দলটির বিদ্রোহী প্রার্থীরা। মনোনয়ন বঞ্চিত হয়ে তারা দলের ছেড়ে দেওয়া আসনে ভোটের মাঠে উপস্থিত হয়েছেন স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে। বিদ্রোহী প্রার্থীদের কাউকে কাউকে বিএনপির হাইকমান্ড থেকে বহিষ্কার করলেও অন্যদের ওপর সে সিদ্ধান্ত কোনো প্রভাব ফেলেনি। এই পরিস্থিতিতে বিএনপি থেকে আসন ছাড় পেলেও দলটির বিদ্রোহী প্রার্থীদের কারণে দুশ্চিন্তায় পড়ে গেছেন শরিক দলের প্রার্থীরা। তাদের অভিযোগ, কেন্দ্রের সমর্থন থাকলেও বিএনপির তৃণমূলের পূর্ণ সমর্থন পাওয়া যাচ্ছে না। বিএনপির হাইকমান্ড কোনো জোরালো পদক্ষেপ না নিলে শেষ পর্যন্ত নির্বাচনের ফল কী হবে, তা নিয়ে আশঙ্কিত তারা। তবে সংশ্লিষ্ট সূত্র মতে, বিএনপির শীর্ষ মহল থেকে শরিক দলের প্রার্থীদের পূর্ণ সহযোগিতার পাশাপাশি বিদ্রোহী প্রার্থীদের নিবৃত্ত করার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।

প্রসঙ্গত, বিএনপির পক্ষ থেকে যুগপৎ আন্দোলনের শরিকদের আসন ছাড় ও নির্বাচনের মধ্য দিয়ে সরকার গঠনের সুযোগ পেলে সবাইকে নিয়ে জাতীয় সরকার গঠনের আশ্বাস দেওয়া হয়েছে। এ আশ্বাসের অংশ হিসেবে শরিক দলগুলোকে আসন ছাড়ও দেওয়া হয়েছে। শরিকদের জন্য মোট ১৪টি আসন ছেড়েছে বিএনপি। এর মধ্যে ছয়টি আসনে প্রার্থী হয়েছেন সদ্য বিএনপিতে যোগ দেওয়া নেতারা। বিএনপির পক্ষ থেকে ছাড় দেওয়া আসনগুলোর মধ্যে জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশকে পাঁচটি (নিবন্ধিত ও অনিবন্ধিত মিলিয়ে), গণতন্ত্র মঞ্চকে তিনটি, জাতীয়তাবাদী সমমনা জোটকে একটি, গণঅধিকার পরিষদকে একটি আসন ছাড়া হয়েছে। আরপিওতে বেঁধে দেওয়া শর্তের জন্য এবার জোট করলেও শরিক দলগুলোকে নিজ প্রতীকে নির্বাচন করতে হবে। এজন্য নিবন্ধিত শরিকরা তাদের নিজেদের প্রতীকে আর অনিবন্ধিত শরিকরা বিএনপির ধানের শীষ প্রতীকে ভোট করছে। এ ছাড়া বিজয় নিশ্চিত করার কৌশল হিসেবে শরিক কয়েকটি দলের নেতা বিএনপিতে যোগ দিয়ে ধানের শীষ প্রতীক নিয়েছেন। কিন্তু মনোনয়ন বঞ্চিত হয়ে বিএনপির কিছু নেতা বিদ্রোহী বা স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন করছেন। এর ফলে আসন ভাগাভাগির সমঝোতা কার্যত ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। স্থানীয় বিএনপি নেতাকর্মীদের সহযোগিতা পাওয়ার কথা থাকলেও বাস্তবে তা হচ্ছে না। এমনকি তাদের উপস্থিতিতে ভোটাররা বিভ্রান্ত হচ্ছেন, তৃণমূলের কাজের সমন্বয় নষ্ট হচ্ছে এবং কার্যক্রম দুর্বল হয়ে পড়ছে।

এদিকে বিএনপি সূত্রে জানা গেছে, এরই মধ্যে সিদ্ধান্ত অমান্য করে জোট এবং ধানের শীষের বিরুদ্ধে প্রার্থী হওয়ায় ৯ নেতাকে বহিষ্কার করা হয়েছে। অন্যান্য আসনেও যারা বিদ্রোহী প্রার্থী হয়েছেন, তাদের বিরুদ্ধেও শিগগির সিদ্ধান্ত নিতে যাচ্ছে বিএনপি। ১৯ জানুয়ারি অর্থাৎ মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের শেষ দিন ২০ ডিসেম্বরের আগের দিন পর্যন্ত বিদ্রোহী প্রার্থীদের সঙ্গে সমঝোতার চেষ্টা করা হবে। প্রয়োজন বোধে দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানেরও তাদের সঙ্গে কথা বলার সম্ভাবনা রয়েছে। বিএনপির অধিকাংশ দায়িত্বশীল নেতার ধারণা, হাইকমান্ড সক্রিয় হলে বিদ্রোহী প্রার্থীরা মাঠে থাকবে না। 

উদ্ভূত পরিস্থিতি সম্পর্কে আলোচনা করতে গত রোববার বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক। তিনি ঢাকা-১২ থেকে বিএনপির সমর্থন পেয়েছেন। অন্যদিকে ধানের শীষ না পেয়ে ঢাকা-১২ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়েছেন বিএনপির সাইফুল আলম নীরব। দল থেকে তাকে বহিষ্কার করা হয়েছে। তারপরও তিনি মাঠ ছাড়েননি। সূত্র জানাচ্ছে, তারেক রহমানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে এ বিষয়ে পদক্ষেপ নেওয়ার অনুরোধ জানিয়েছেন সাইফুল হক। ওই বৈঠকে তিনি ঢাকা-১২ আসনে তার প্রতিনিধিত্বের গুরুত্ব তুলে ধরার পাশাপাশি রাষ্ট্র পরিচালনার সুযোগ এলে বিএনপির জন্যেও এ আসনটি কতটুকু গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ‍উঠতে পারে, সে বিষয়ে আলোচনা করেছেন। 

এ প্রসঙ্গে ঢাকা-১২ আসনে বিএনপি-সমর্থিত যুগপৎ জোটের প্রার্থী ও বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক প্রতিদিনের বাংলাদেশকে বলেন, ‘ঢাকা-১২ আসনে বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থী মাঠে থাকার বিষয়টি নিয়ে খানিকটা হলেও আস্বস্তিতে রয়েছি। বিষয়টি নিয়ে এরই মধ্যে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের সঙ্গে আমার কথা হয়েছে। বিদ্রোহী প্রার্থী না থাকার বিষয়ে তিনি (তারেক রহমান) আমাকে আশ্বস্ত করেছেন। এমনকি আনুষ্ঠানিক প্রচার শুরু হলে তারেক রহমান যেসব আসনে প্রচারে যাবেন তার মধ্যে ঢাকা-১২ আসনও থাকবে বলেও আমাকে আশ্বস্ত করা হয়েছে। শেষ পর্যন্ত বিদ্রোহী প্রার্থী মাঠে থাকবে না বলে তিনি আশা প্রকাশ করেছেন।’

এদিকে বগুড়া-২ আসন নিয়ে বিএনপির সঙ্গে টানাপড়েন চলছে নাগরিক ঐক্যের। আসনটি যুগপৎ আন্দোলনের শরিক নাগরিক ঐক্যের সভাপতি মাহমুদুর রহমান মান্নাকে ছেড়ে দেওয়া হলেও মনোনয়ন জটিলতা নিয়ে এখানে বর্তমানে বিএনপি প্রার্থীকে প্রার্থী করার ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। মাহমুদুর রহমান মান্না অভিযোগ করেছেন, মনোনয়ন প্রক্রিয়ার সময় অনেক সমস্যা ও জটিলতা সৃষ্টি করে তাকে বাধা দেওয়া হয়েছে। তিনি জানান, বিএনপির হাইকমান্ড আগেই তাকে ওই আসন থেকে প্রার্থী হতে বলেছিল। কিন্তু মনোনয়ন জমা দিতে গেলে তিনি বাধার মুখে পড়েন। মনোনয়ন জমা দেওয়ার দিন বিএনপির ওই প্রার্থী ছাড়াও জেলা বিএনপির নেতাকর্মী এবং ঢাকা থেকে আনা আইনজীবীরাও জড়ো হয়ে তার মনোনয়নের বিরোধিতা করেন। যিনি বাধা দিয়েছিলেন, তাকেই পরে বিএনপির টিকিট দেওয়া হয়েছে। তিনি জানান, এ বিষয়ে তিনি আপিল করবেন এবং এরপর সিদ্ধান্ত নেবেন।

শরিকদের ছেড়ে দেওয়া আরেকটি আলোচিত আসন হচ্ছে ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২। আসনটি জমিয়তের সহসভাপতি মাওলানা জুনায়েদ আল হাবিবকে ছেড়েছে বিএনপি। তবে এই আসন থেকে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মাঠে আছেন সদ্য বহিষ্কৃত বিএনপির আলোচিত নেত্রী ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা। এ আসনে জোটের প্রার্থী সঠিক হলো কি না, সে প্রসঙ্গে জানতে চাইলে রুমিন ফারহানা বলেন, ‘মানুষ যদি ভোট দেয়, সঠিক সিদ্ধান্ত। যদি মানুষ ভোট না দেয়, ভুল সিদ্ধান্ত। যদি কোনো বে-ইনসাফ হয়ে থাকে সেই বিচার আমি আমার ভোটারদের হাতে ছেড়ে দিয়েছি। মানুষ কী বলে আপনি দেখেন।’ 

গণঅধিকার পরিষদের সাধারণ সম্পাদক পদ থেকে পদত্যাগ করে বিএনপিতে যোগ দেওয়া রাশেদ খান নির্বাচন করছেন ঝিনাইদহ-৪ আসন থেকে ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে। এই আসনে তাকে চিন্তায় ফেলেছে বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থী স্বেচ্ছাসেক দলের সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সাইফুল ইসলাম ফিরোজ। ২০১৮ সালে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তাকে দলীয় প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন দেওয়া হয়। এদিকে যুগপৎ আন্দোলনের শরিক দলের প্রার্থী হিসেবে মনোনয়নের প্রতিশ্রুতি পাওয়ার পর বিজয় নিশ্চিত করতেই রাশেদ খান বিএনপিতে যোগ দিয়ে এ আসনে প্রার্থী হয়েছেন। তিনি বলেন, ‘আমি তো বিএনপিরই মনোনীত প্রার্থী। স্থানীয় নেতাকর্মীদের সহযোগিতা পাওয়ার কথা। কিন্তু বিএনপির অন্য একজন বিদ্রোহী প্রার্থীর সমর্থকরা আমাকে ভয় দেখাচ্ছে। এমনকি নির্বাচনী অফিস ভাড়া নিতেও বাধা দিচ্ছে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে আমার প্রাণনাশের হুমকিও এসেছে।’ তিনি বিষয়টি সমাধানে দলের হাইকমান্ডের হস্তক্ষেপ প্রত্যাশা করেন।

এ ছাড়া কিশোরগঞ্জ-৫ (বাজিতপুর-নিকলী) আসনে বিএনপি প্রথমে মনোনয়ন দিয়েছিল দলেরই নেতা শেখ মুজিবুর রহমান ইকবালকে। কিন্তু পরে বাংলাদেশ জাতীয় দলের চেয়ারম্যান সৈয়দ এহসানুল হুদাকে ধানের শীষের প্রার্থী করা হয়। তিনি তার দল বিলুপ্ত করে বিএনপিতে যোগ দিলে তাকে এই আসনে মনোনয়ন দেওয়া হয়। মনোনয়ন পরিবর্তনের প্রতিবাদে গত কয়েক দিন ধরে নিকলী-বাজিতপুর এলাকায় শেখ মুজিবুর রহমান ইকবালের সমর্থকরা বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করে আসছিলেন। কিন্তু শেষ পর্যন্ত মনোনয়ন পরিবর্তন না হওয়ায় তিনি স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মনোনয়নপত্র জমা দেন। তবে মনোনয়নপত্র বাতিল হয়ে যায়। যদিও তিনি আপিল করবেন বলে জানা গেছে। 

এ প্রসঙ্গে সৈয়দ এহসানুল হুদা প্রতিদিনের বাংলাদেশকে বলেন, ‘আমি কারও বিরুদ্ধে অভিযোগ করব না। দলের কাছে সব তথ্য আছে, দলই সিদ্ধান্ত নেবে কী করবে। আমি দলের সিদ্ধান্তের দিকে তাকিয়ে আছি।’ এদিকে এই আসনের ১১টি ইউনিয়নের সবগুলো থেকে প্রচারাভিযানে পূর্ণ সমর্থন পাওয়া যাচ্ছে না বলে জানিয়েছেন সৈয়দ হুদার একজন ঘনিষ্ঠ সহযোগী। নিকলী উপজেলার নেতাকর্মীরা সমর্থন দিলেও বাজিতপুর উপজেলার নেতাকর্মীরা এখনও বিদ্রোহী প্রার্থীর পক্ষেই রয়েছেন বলেও জানান তিনি। 

এ ছাড়া বিএনপি যুগপৎ আন্দোলনের শরিক দল গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি নুরুল হক নুরের জন্য পটুয়াখালী-৩ আসন ছেড়ে দিলেও সেখানেও দলটির এক নেতা বিদ্রোহী প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। ফলে তৃণমূল বিএনপির পুরো সমর্থন পাচ্ছেন না নুরুল হক নুর।

শেয়ার করুন-

মন্তব্য করুন

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মারুফ কামাল খান

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮১০, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০ | ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০, +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮০৭, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৩৩২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা