মিত্রদের সঙ্গে বিএনপির বৈঠক
মজুমদার ইমরান
প্রকাশ : ১৯ ডিসেম্বর ২০২৫ ১১:৪৬ এএম
যুগপৎ আন্দোলনে থাকা রাজনৈতিক দল ও জোটগুলোকে আগামী নির্বাচনে কতটি আসন ছেড়ে দেওয়া হবে সে বিষয়ে আজ-কালের মধ্যেই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানাবে বিএনপি। ইতোমধ্যে যুগপৎ আন্দোলনের শরিক দলগুলোর কোনো কোনো শীর্ষ নেতাকে প্রার্থী করার বিষয়ে সবুজ সংকেত দিয়েছে বিএনপি। এ ছাড়াও বিএনপির পক্ষ থেকে শরিক দলগুলোর নেতাদের জানানো হয়েছে, যাদের মনোনয়ন দিয়ে মূল্যায়ন করা সম্ভব হবে না, তাদের সংসদের উচ্চকক্ষে নেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। গণতন্ত্র ও দেশের স্বার্থে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বানও জানানো হয়। আসন নিয়ে সৃষ্ট মতবিরোধ নিষ্পত্তিতে যুগপৎ আন্দোলনে থাকা দল ও জোটগুলোর সঙ্গে ‘ওয়ান টু ওয়ান’ ধারাবাহিক বৈঠকে বিএনপির পক্ষ থেকে দলগুলোর নেতাদের এসব সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়েছে।
ধারাবাহিক বৈঠকের অংশ হিসেবে গতকাল বৃহস্পতিবার বিএনপি নেতারা বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টি, গণসংহতি আন্দোলন, লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টি (এলডিপি), ৬ দলীয় জোট, গণতন্ত্র মঞ্চ ও গণফোরামের নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করেন। আজ শুক্রবার জাতীয়তাবাদী গণতান্ত্রিক আন্দোলন (এনডিএম), বাম গণতান্ত্রিক ঐক্য ও বাংলাদেশ জাতীয় পার্টি-বিজেপির সঙ্গে বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে। সব দলের সঙ্গে আলোচনা শেষে জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের সঙ্গেও বৈঠকে বসবে বিএনপি। বৈঠকে বিএনপির পক্ষে দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, নজরুল ইসলাম খান ও ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু প্রতিনিধিত্ব করেন।
জানা গেছে, প্রথম দিনের বৈঠকে ১২ দলীয় জোট ও জাতীয়তাবাদী সমমনা জোটকে একটি করে সংসদীয় আসন ছাড়ের ইঙ্গিত দিয়েছে দলটি। পাশাপাশি ১২ দলীয় জোটকে আরও একটি আসন ছাড় দেওয়ার বিষয়েও আলোচনা হয়েছে। দুই জোটের অন্যান্য শরিক দলকে ভিন্নভাবে মূল্যায়নের আশ্বাসও দিয়েছে বিএনপি।
নির্ভরযোগ্য সূত্র জানায়, পিরোজপুর-১ আসনে ১২ দলীয় জোটের প্রধান ও জাতীয় পার্টি (জাফর) নেতা মোস্তফা জামাল হায়দার এবং নড়াইল-২ আসনে জাতীয়তাবাদী সমমনা জোটের সমন্বয়ক ও এনপিপি চেয়ারম্যান ফরিদুজ্জামান ফরহাদকে আসন দেওয়ার ব্যাপারে সবুজ সংকেত দেওয়া হয়েছে। এসব সিদ্ধান্তের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসতে পারে আগামীকাল শনিবার।
১২ দলীয় জোট ও সমমনা জোটের বৈঠক সূত্র জানায়, কিশোরগঞ্জ-৫ ও কুষ্টিয়া-২ আসনসহ কয়েকটি আসন পুনর্বিবেচনার দাবি জানিয়েছে জোট মিত্ররা। এসব দাবি ইতিবাচকভাবে বিবেচনা করা হচ্ছে বলে বিএনপির হাইকমান্ড তাদের আশ্বস্ত করেছে। একই সঙ্গে যুগপৎ আন্দোলনে থাকা সব দলকে নিয়ে ভবিষ্যতে জাতীয় সরকার গঠনের দাবি তোলা হয়। জোট নেতারা বলেন, জাতীয় সরকারে যেন সব দলকেই যথাযথভাবে মূল্যায়ন করা হয়।
বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক প্রতিদিনের বাংলাদেশকে বলেন, বিএনপির সঙ্গে আসন সমঝোতার আলোচনা ফলপ্রসূ হয়েছে। ঢাকা-১২ আসন থেকে আমি নির্বাচন করব। এই রকম আশ্বাস দেওয়া হয়েছে। দুয়েক দিনের মধ্যেই বিএনপি আসন সমঝোতার বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানিয়ে দেবে।
দলীয় প্রার্থীদের নিয়ে বিএনপির ধারাবাহিক বৈঠক শেষ হচ্ছে আজ
নির্বাচনী প্রচারের কৌশল ও আচরণবিধি সম্পর্কে দলীয় প্রার্থীদের ধারণা দিতে ধারাবাহিক বৈঠক করছে বিএনপি। রাজধানীর গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত এসব বৈঠকে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে দলীয় প্রার্থীদের দিকনির্দেশনা দিয়েছেন। গতকাল বৃহস্পতিবার গুলশান কার্যালয়ে সংসদীয় আসনের ১০১ থেকে ২০০ আসনের প্রার্থীদের নিয়ে বৈঠক হয়। বৈঠক উদ্বোধন করেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। সভাপতিত্ব করেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী আহমেদ। এর আগে গত বুধবার ১ থেকে ১০০ সংসদীয় আসনের প্রার্থীদের নিয়ে বৈঠক হয়। আগামীকাল শনিবার ২০১ থেকে ৩০০ সংসদীয় আসনের দলীয় প্রার্থীদের নিয়ে সমাপনী বৈঠক হবে।
জানা গেছে, এসব বৈঠকে দলীয় প্রার্থীদের নির্বাচনী আচরণবিধি মেনে চলা, মনোনয়নপত্র সংগ্রহ, পূরণ করাসহ সার্বিক বিষয়ে ব্রিফ করা হয়েছে। এ ছাড়াও নির্বাচনে দলীয় প্রচারণা, দলের ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা কীভাবে জনগণের সামনে উপস্থাপন করা হবে তা নিয়ে প্রার্থীদের দিকনির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান ছাড়াও বিভিন্ন বিষয়ে যারা বিশেষজ্ঞ, তারা প্রার্থীদের উদ্দেশে বক্তব্য দিয়েছেন।
সেমিনারে নির্বাচনের আচরণবিধি সংক্রান্ত বিভিন্ন বিষয় উপস্থাপন করেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা ড. মাহদী আমিনসহ বেশ কয়েকজন বিশেষজ্ঞ প্রশিক্ষক। দিনব্যাপী সেমিনারে ভোটের প্রচারের কৌশল ও নির্বাচনী আচরণবিধি সম্পর্কে প্রার্থীদের অবহিত করা হয়। এ ছাড়া ফি নিয়ে মনোনয়ন ফরম, প্রচারণার সিডি, ক্যাপসহ প্রচারণার সরঞ্জামের একটি বক্স প্রার্থীদের সরবরাহ করা হয়।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে প্রথম দফায় ২৩৭টি আসনে প্রার্থীর নাম ঘোষণা করে বিএনপি। দ্বিতীয় দফায় আরও ৩৬ আসনে দলীয় প্রার্থী ঘোষণা করে দলটি। এ নিয়ে দুই দফায় ৩০০ আসনের মধ্যে ২৭২টি আসনে দলীয় প্রার্থী মনোনয়ন দিয়েছে বিএনপি। এই প্রার্থীদের নিয়েই ধারাবাহিক বৈঠক করছে বিএনপি হাইকমান্ড। আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠানের কথা রয়েছে।