× ই-পেপার প্রচ্ছদ সর্বশেষ বাংলাদেশ রাজনীতি দেশজুড়ে বিশ্বজুড়ে বাণিজ্য খেলা বিনোদন মতামত চাকরি শিক্ষা আজকের কার্টুন ফিচার সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

পোস্টিং পেতে মরিয়া পুলিশ

তানভীর হাসান

প্রকাশ : ২৪ নভেম্বর ২০২৫ ১২:৪০ পিএম

ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

ভালো পদে পোস্টিং পেতে মরিয়া হয়ে উঠেছে একশ্রেণির পুলিশ কর্মকর্তারা। এজন্য তারা নিয়মিত সরকারের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাদের সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা করে চলছেন। এমনকি রাজনৈতিক মতাদর্শের সিনিয়র পুলিশ কর্মকর্তাদের দপ্তরেও নিয়মিত হাজিরা দিচ্ছেন।

 সম্প্রতি পুলিশে বড় রদবদলের পর আবারও বদলির কানাঘুষা শুরুর পর এমন চিত্র দেখা যাচ্ছে। এ নিয়ে বিএনপি ও জামায়াতপন্থী পুলিশ কর্মকর্তারা এখন দুই ভাগে বিভক্ত। একই সঙ্গে ভালো পদ পেতে টাকা লেনদেনের অভিযোগ উঠছে বিভিন্ন পর্যায় থেকে। এ বিষয়ে পুলিশের দায়িত্বশীল পর্যায় থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো মন্তব্য না করলেও একাধিক কর্মকর্তা বিষয়টি স্বীকার করেছেন। এমন পরিস্থিতিতে গত শনিবার সন্ধ্যায় ৩৫ হেয়ার রোডের একটি বাসায় জরুরি বৈঠকে বসেন স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টার নেতৃত্বে একটি কমিটি। সেখানেও বিষয়টি মীমাংসা হয়নি বলে জানিয়েছে দায়িত্বশীল সূত্র। 

জানা গেছে, নির্বাচনকালীন সময়ে জেলা পুলিশের এসপি নিয়োগ নিয়ে শনিবার (২২ নভেম্বর) সন্ধ্যায় ৩৫ হেয়ার রোডের স্বরাষ্ট্র ও কৃষি উপদেষ্টার সরকারি বাসভবনে গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক হয়। ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের নিয়োগ ও বদলি তদারকির জন্য গঠিত আইনশৃঙ্খলা বিষয়ক কমিটি এই বৈঠক আয়োজন করে। কমিটির সভাপতি হিসেবে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী ও অন্তর্বর্তী সরকারের আইন উপদেষ্টা আসিফ নজরুল, আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া, প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী মো. খোদা বখস চৌধুরী, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব নাসিমুল গনি এবং পুলিশ মহাপরিদর্শক বাহারুল আলম ছিলেন। সেখানে নৌপরিবহন উপদেষ্টা এম সাখাওয়াত হোসেন সদস্য সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। 

এই কমিটি জেলা পুলিশের এসপি, ডিআইজি এবং তার ওপরের পদে নিয়োগ, বদলি ও শৃঙ্খলা বিষয়ে আলোচনা করে। কিন্তু কমিটির প্রভাবশালী দুজনের মতবিরোধের কারণে সমাধান ছাড়াই বৈঠকটি শেষ হয়। চলতি সপ্তাহেই আবারও এই কমিটির বৈঠকে বসার কথা। চলতি বছরের জানুয়ারিতে জনপ্রশাসন, পুলিশ ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের নিয়োগ, বদলি ও তদারকি করতে তিনটি কমিটি গঠন করে সরকার। তাদের মধ্যে আইনশৃঙ্খলা বিষয়ক এই কমিটি অন্যতম।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে আইজিপি বাহারুল আলম বলেন, বৈঠকে গুরুত্বপূর্ণ কিছু বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। এ বিষয়ে এখনই কোনো মন্তব্য করা ঠিক হবে না।

জানা গেছে, গত ১৬ নভেম্বর পুলিশের শীর্ষ পর্যায়ে রদবদল হয়। এর মধ্যে পুলিশ সদর দপ্তরের ডিআইজি (অ্যাডমিন) সুপার নিউমারারিতে অতিরিক্ত আইজি পদোন্নতি পাওয়া কাজী ফজলুল করিমকে পুলিশ সদর দপ্তর থেকে সরিয়ে পুলিশ স্টাফ কলেজে পদায়ন করা হয়। এ ছাড়া শিল্পাঞ্চল পুলিশের ডিআইজি ইসরাইল হাওলাদারকে গাজীপুরের কমিশনার ও আরও দুই ডিআইজিসহ ৬ জেলায় এসপি পদে রদবদল করা হয়। একই দিন আরও দুটি আদেশে দুজন এআইজিসহ ঊর্ধ্বতন অন্তত ২৩ কর্মকর্তাকেও রদবদল করা হয়। এদের মধ্যে কাজী ফজলুল করিমকে জামায়াতপন্থী হিসেবে সবাই চেনে। তাকে সরিয়ে অপেক্ষাকৃত কম গুরুত্বপূর্ণ জায়গায় পদায়ন করার জামায়াতপন্থী পুলিশ কর্মকর্তারা নাখোশ। 

এই রদবদলের পর পুলিশ সদর দপ্তরের সব থেকে গুরুত্বপূর্ণ পদ ডিআইজি অ্যাডমিনে পোস্টিং পেতে অনেকে জোর লবিং চালিয়ে যাচ্ছেন। এর মধ্যে ১৭ ব্যাচের ডিআইজি মো. রেজাউল করিম ও কামরুল আহসান এবং ১৮ ব্যাচের এজাজ আহমেদ অন্যতম। এদের একজনকে ফজলুর অনুসারী হিসেবে চিহ্নিত করে তার পদায়ন ঠেকাতে মরিয়া অন্য একটি পক্ষ। এ ছাড়া আরও অন্তত ১৭ জেলায় এসপি পদায়ন করা হবে বলে জোর গুঞ্জন রয়েছে। জেলাগুলোর তালিকায় ঢাকা, গাজীপুর, মানিকগঞ্জ, যশোর, ঝিনাইদহ ও মুন্সীগঞ্জ অন্যতম। পুলিশে এই জেলাগুলোকে প্রাইজ পোস্টিং হিসেবে ধরা হয়। এ কারণে ওই জেলায় পোস্টিং পেতে মরিয়া হয়ে উঠেছে অনেকে। 

অভিযোগ রয়েছে, সরকারের প্রভাবশালী দুই ব্যক্তিসহ বিভিন্ন স্থানে তদবির চালাচ্ছেন অনেকে। এর মধ্যে জেলায় পদায়নে এক থেকে ৫ কোটি টাকা দর উঠেছে বলে পুলিশের ভেতরই গুঞ্জন রয়েছে। বিষয়টি সরকারের গোয়েন্দা সংস্থা ঊর্ধ্বতনদের জানানোর পর গত শনিবার ওই গোপন বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে সাবেক আইজিপি নূর মোহাম্মদ প্রতিদিনের বাংলাদেশকে বলেন, পুলিশের ভেতর এই দলবাজির বিষয়টা এক দিনে গড়ে ওঠেনি। এটা সব সরকারের আমলেই ছিল। আওয়ামী লীগ আমলে এক পুলিশের ভেতরই ১০ থেকে ১২ গ্রুপ ছিল। ওইসব গ্রুপের নেতারা কারও নির্দেশই মানত না। এর মধ্যে ডিআইজি হারুন, নুরুল ইসলাম, বাতেন, আনিস, বিপ্লব সরকার, হাবিব, মনিরুল, প্রলয় জোয়ার্দার অন্যতম। ওই সময় তাদের বিরুদ্ধে যদি ডিপার্টমেন্টাল ব্যবস্থাসহ চাকারিচ্যুত করা যেত তাহলে পুলিশের মনে দলবাজির বিষয়ে একটা ভয় থাকত। বর্তমানে যারা দলবাজি করছেন তারাও একসময় চরম অবহেলিত ছিল। তাদেরকে দিনের পর দিন প্রমোশন ও পোস্টিং দেওয়া হয়নি। এখন হয়তো তাদের চাকরির সময় আর অল্প কিছুদিন আছে। এ কারণে তারা ভালো পোস্টিং ও প্রমোশনের জন্য কোনো কোনো রাজনৈতিক দলের পক্ষ নিচ্ছে।

জানা গেছে, বাংলাদেশ পুলিশের ভেতর এখন দুটি বলয় গড়ে উঠেছে। জামায়াতপন্থীদের নেতৃত্ব দিচ্ছেন সদ্য পদোন্নতি পাওয়া একজন অতিরিক্ত আইজিপি। এ ছাড়াও মদদ দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে একজন বিশেষ সহকারীর বিরুদ্ধেও। তারাই এএসপি, এডিশনাল এসপি, পুলিশ সুপার ও এডিশনাল ডিআইজি বদলির বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছেন। এমনকি কোনো কোনো ক্ষেত্রে আইজিপিকেও নানাভাবে প্রভাবিত করছেন। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়েও রয়েছে তার ব্যাপক প্রভাব। আসন্ন নির্বাচনে বিএনপিপন্থী কোনো পুলিশ সদস্য যেন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে দায়িত্বে না থাকে সে বিষয়ে ব্যাপক তৎপরতা চালাচ্ছে এই চক্রটি। একইভাবে বিএনপিপন্থী গ্রুপের নেতৃত্ব দিচ্ছেন একজন ডিআইজি। তার পেছনে আছেন সাবেক ও বর্তমান অনেক পুলিশ কর্মকর্তা। 

দুই দলের এমন রেষারেষিতে সতর্ক সরকার এখন ভিন্নপথে এগোচ্ছে। তারা ওয়ান ইলেভেন সরকারের সময় সুপারিশকৃত ২৭ ও ২৮ ব্যাচের কর্মকর্তাদের এসপি নিয়োগের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। কারণ এই দুই ব্যাচে দলীয় বিবেচনায় নিয়োগ পাওয়া ক্যাডারের সংখ্যা অনেক কম।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজকল‍্যাণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের সহযোগী অধ্যাপক এবং সমাজ ও অপরাধ বিশেষজ্ঞ ড. তৌহিদুল হক প্রতিদিনের বাংলাদেশকে বলেন, অতীতেও পুলিশের মধ্যে দলবাজির ঘটনা দেখা গেছে। এ কারণে জনগণের একটি বড় অংশের ক্ষোভ ছিলে পুলিশের ওপর। যার বহিঃপ্রকাশ ঘটে ৫ আগস্টের পর। ওই সময় প্রতিষ্ঠান হিসেবে সব থেকে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বাংলাদেশ পুলিশ। বর্তমান সরকার পুলিশকে সংস্কারের উদ্যোগ নিয়েছে। এরই মধ্যে সংস্কার কমিশন পুলিশকে রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত রাখতে সুপারিশ করেছে। তাপরও যদি পুলিশ দলবাজিতে জড়িয়ে পড়ে সেটা কোনোভাবেই কাম্য নয়।


শেয়ার করুন-

মন্তব্য করুন

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মারুফ কামাল খান

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮১০, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০ | ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০, +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮০৭, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৩৩২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা