মালয়েশিয়ার পার্লামেন্ট
রেজুওয়ান কোরেশী, জগন্নাথপুর (সুনামগঞ্জ)
প্রকাশ : ২৪ নভেম্বর ২০২৫ ০৯:৪৮ এএম
সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুর উপজেলার সৈয়দপুরের সন্তান সৈয়দ আবুল হোসেন মালয়েশিয়ার পার্লামেন্টের স্পিকার নির্বাচিত হয়েছেন। এ খবরে জগন্নাথপুর উপজেলার সৈয়দপুরে থাকা আত্মীয়-স্বজন ও লন্ডনের স্বজনদের মধ্যে আনন্দ-উচ্ছ্বাস দেখা গেছে।
জানা গেছে, উপজেলার সৈয়দপুর গ্রামের বাসিন্দা সৈয়দ আবুল ফজল ১৯৫৫ সালে সৈয়দপুর থেকে মালয়েশিয়ায় গিয়ে বসবাস শুরু করেন। মালয়েশিয়ার নাগরিকত্ব লাভ করে মালয়েশিয়ান তরুণীকে বিয়ে করেন। তাদের গর্ভে সৈয়দ আবুল হোসেনের জন্ম। মা মালয়েশিয়ান এবং পিতা বাঙালি হলেও সৈয়দ আবুল হোসেন তার পিতৃপরিচয় এবং পূর্বপুরুষদের নিয়ে গর্ববোধ করেন। যদিও ভালো বাংলা বলতে পারেন না, তারপরও তিনি নিকটাত্মীয় এবং পিতার জন্মভূমিকে ভালোবাসেন। ইংরেজিতে এক ফেসবুক স্ট্যাটাসে তিনি লিখেছেন, আমার পূর্বপুরুষ বাঙালি হওয়াতে আমি গর্বিত। আমি নিজেকে একজন বাঙালি বলে মনে করি। হাফিজ মাওলানা সৈয়দ আবুল ফজলের সাত পুত্র ও পাঁচ কন্যার মধ্যে সৈয়দ আবুল হোসেন দ্বিতীয়। তার বড় ভাই সৈয়দ আবুল হাসান মালয়েশিয়া সরকারের বৃত্তি নিয়ে ঢাকা মেডিকেল কলেজে ১৯৮৬ সালে ডাক্তারি পাস করেছেন। তিনি ২০০০ সালে ইন্তেকাল করেন। সৈয়দ ছাবির আহমদ বলেন, কয়েক বছর অন্তর অন্তর বাংলাদেশে যাতায়াত করতেন তার চাচা, সাথে সন্তানদেরও নিয়ে যেতেন। ১৯৬০ সালের ২৯ জুলাই মালয়েশিয়ার তাইপিং পেরেক এলাকায় জন্ম নেওয়া সৈয়দ আবুল হোসেন মালয়েশিয়ান বিএন পার্টি থেকে নির্বাচিত এমপি। এর আগে তিনি মিনিস্ট্রি অব হাউজিং অ্যান্ড লোকাল গভর্নমেন্টের চেয়ার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। মালয়েশিয়ার কমিউনিটিতে বিশেষ অবদান রাখায় তিনি সরকার কর্তৃক দাতু খেতাবে ভূষিত হন। মালয়েশিয়ার জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় থেকে কম্পিউটার সায়েন্সে ডিগ্রিধারী সৈয়দ আবুল হোসেন বিভিন্ন সময় মালয়েশিয়া সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেন। সৈয়দ আবুল হোসেন সর্বশেষ ২০১৯ সালে বাংলাদেশ ভ্রমণ করেছেন। এর আগেও তিনি কয়েকবার বাংলাদেশে এসেছেন। তিনি চান তার সন্তানেরাও যেন বাংলাদেশের সাথে সম্পর্ক রাখেÑ সে লক্ষ্যে তিনি তার মেয়েকে তার চাচাতো ভাইয়ের ছেলের সাথে বিয়ে দিয়েছেন। তার মেয়ে এবং মেয়ের জামাতা ইংল্যান্ডের লিডস শহরে বসবাস করেন।
তার চাচাতো ভাই সৈয়দ ছাবির আহমদ জানান, সৈয়দ আবুল হোসেন বাংলাদেশে বসবাসরত আত্মীয়-স্বজনদের প্রতি খেয়াল রাখেন। সবসময় আত্মীয়দের বিভিন্ন সহায়তা করেন।
সৈয়দ আবুল হোসেনের ভাগিনা যুক্তরাজ্যপ্রবাসী সাংবাদিক সৈয়দ জহুরুল হক বলেন, সৈয়দ আবুল হোসেন লন্ডনে এলে আত্মীয়-স্বজন এবং এলাকাবাসীর সাথে দেখা-সাক্ষাৎ করেন। তিনি বলেন, এই খবরে আমি দারুণ আনন্দিত। সৈয়দ আবুল হোসেন ১৬ সন্তানের জনক। তিনি তিনটি বিয়ে করেছেন।
ইংল্যান্ডের ডার্লিংটন শহরে বসবাসতরত সৈয়দ আবুল হোসেনের চাচাতো ভাই কমিউনিটি নেতা ইমাম সৈয়দ ছাবির আহমদ বলেন, সৈয়দ আবুল হোসেন স্পিকার নির্বাচিত হওয়ায় আমরা গর্বিত। এ গৌরব আমাদের একার নয়, সমগ্র বাংলাদেশ ও বাঙালির।
উপজেলার সৈয়দপুর শাহারপাড়া ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান সৈয়দ এমদাদ বলেন, সৈয়দ আবুল হোসেন মালেশিয়ার পার্লামেন্টের স্পিকার নির্বাচিত হওয়ায় সৈয়দপুরের বাসিন্দা হিসেবে আমরা গর্বিত ও আনন্দিত।