× ই-পেপার প্রচ্ছদ সর্বশেষ বাংলাদেশ রাজনীতি দেশজুড়ে বিশ্বজুড়ে বাণিজ্য খেলা বিনোদন মতামত চাকরি শিক্ষা আজকের কার্টুন ফিচার সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

ইন্টারনেট স্বাধীনতা সুরক্ষিত হচ্ছে

ফসিহ উদ্দীন মাহতাব

প্রকাশ : ২০ নভেম্বর ২০২৫ ০৯:১৫ এএম

ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

 দেশের টেলিযোগাযোগ খাতে আধুনিকায়ন ঘটাতে এবং নাগরিকদের ডিজিটাল অধিকার সুরক্ষার লক্ষ্যে টেলিযোগাযোগ আইনের ক্ষেত্রে বড় পরিবর্তন আনা হচ্ছে। এ ছাড়াও এই প্রথমবারের মতো ইন্টারনেট বন্ধের ক্ষমতা পুরোপুরি রহিত করা হচ্ছে আইনে। যুক্ত হচ্ছে অবৈধ নজরদারির কারণে সর্বোচ্চ ১০ বছরের কারাদণ্ড জরিমানাসহ একাধিক নতুন বিধান। তবে কেউ যদি কোনো ধরনের যোগাযোগব্যবস্থা, যোগাযোগ প্লাটফর্ম, নেটওয়ার্ক বা ডেটা ইন্ফ্রাস্ট্রাকচার ব্যবহার করে রাষ্ট্রের নিরাপত্তা, সার্বভৌমত্ব, অখণ্ডতা বা জনশৃঙ্খলার ক্ষতি করে, ষড়যন্ত্রমূলক যোগাযোগ করে তা হলে তাকে সর্বোচ্চ ৫ বছর কারাদণ্ড, অথবা সর্বোচ্চ কোটি টাকা জরিমানা অথবা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত হতে হবে।

এমন সব বিধান রেখে ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগ ‘বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ (সংশোধন) অধ্যাদেশ ২০২৫’Ñএর খসড়া প্রস্তুত করেছে, যা চূড়ান্ত করার পর অনুমোদনের জন্য উপদেষ্টা পরিষদের আগামী বৈঠকে উপস্থাপন হতে পারে। এসব নতুন বিধান প্রণয়নে অংশীজন ও সাধারণ মানুষের মতামত নেওয়া হয়েছে।

খসড়া আইনে বলা হয়েছে, ‘কোনো অবস্থাতেই টেলিযোগাযোগ বা ইন্টারনেট পরিষেবা বন্ধ করা যাবে না।’ সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এতে ইন্টারনেট শাটডাউনের সংস্কৃতি বন্ধ হবে। ব্যবসা-বাণিজ্য ও দৈনন্দিন জীবন ব্যাহত হবে না। এই আইন নাগরিকদের যোগাযোগের অধিকার রক্ষায় বড় ভূমিকা রাখবে।

এ প্রসঙ্গে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক টেলিযোগাযোগ বিভাগের এক কর্মকর্তা বলেন, ‘হঠাৎ ইন্টারনেট বন্ধ হওয়ার কারণে দেশে আর্থিক খাত থেকে শিক্ষাক্ষেত্রে পর্যন্ত ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। আইনে এ-সংক্রান্ত নিষেধাজ্ঞা যুক্ত হওয়া অত্যন্ত ইতিবাচক উদ্যোগ।’ তবে তিনি এও বলেন, ‘আইনের ব্যতিক্রমগুলো স্পষ্ট করতে হবে, নইলে বাস্তব প্রয়োগে জটিলতা তৈরি হতে পারে।’

আইনের খসড়ায় অবৈধ নজরদারি বা অনুমোদনহীন ‘ইন্টারসেপশন’ কঠোরভাবে নিষিদ্ধ করা হয়েছে। অনুমতি ছাড়া ফোন বা ইন্টারনেট যোগাযোগে অনুপ্রবেশ করলে সর্বোচ্চ ১০ বছরের কারাদণ্ড ও সর্বোচ্চ এক কোটি টাকা জরিমানা হবে বলে উল্লেখ করা হয়েছে। কোম্পানি বা প্রতিষ্ঠানগুলোর ক্ষেত্রে এই জরিমানা আরও বেশি হতে পারে। এই নজরদারি কাঠামো পরিচালনার জন্য ন্যাশনাল টেলিযোগাযোগ মনিটরিং সেন্টারকে (এনটিএমসি) বিলুপ্ত করারও প্রস্তাব এসেছে। এর বদলে গঠন করা হবে সেন্ট্রাল লফুল ইন্টারসেপশন প্লাটফর্ম (সিএলআইপি) বা কেন্দ্রীয় আইনানুগ ইন্টারসেপশন প্লাটফর্ম, যা থাকবে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অধীনে। নজরদারির যেকোনো সিদ্ধান্ত আদালত বা নির্দিষ্ট বিচারিক কাউন্সিলের অনুমোদন সাপেক্ষে হবে বলে উল্লেখ করা হয়েছে। 

সাইবার অধিকারকর্মী কামরুজ্জামান বলেন, ‘বৈধ অনুপ্রবেশে বিচারিক নিয়ন্ত্রণ যুক্ত হওয়া ইতিবাচক। কিন্তু প্রক্রিয়াটি কতটা স্বচ্ছ হবে, কে নজরদারি করবেন এবং কে নজরদারিকারীকে নিয়ন্ত্রণ করবেনÑ এসব প্রশ্নের পরিষ্কার উত্তর থাকতে হবে, যা এখনও নেই।’

সোশ্যাল মিডিয়া ও ওটিটি প্লাটফর্মে নতুন বিধিনিষেধ : খসড়ায় প্রথমবারের মতো সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, মেসেজিং অ্যাপ, ওটিটি এবং স্ট্রিমিং প্লাটফর্মকে বাংলাদেশে নিবন্ধন করতে বাধ্য করার প্রস্তাব রয়েছে। প্রয়োজনে নিরাপত্তা সংস্থাকে তথ্য দিতে হবেÑ এমন বিধানও খসড়ায় যুক্ত হয়েছে।

আইন বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই নিবন্ধন কাঠামো আন্তর্জাতিক মানদণ্ডের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ হতে হবে। তা না হলে বৈশ্বিক প্লাটফর্মগুলোর পক্ষে বাংলাদেশে কার্যক্রম চালানো কঠিন হয়ে পড়তে পারে।

আইনজীবী ব্যারিস্টার ড. গাজী সিরাজুল ইসলাম বলেন, ‘খসড়ায় ‘রাষ্ট্রবিরোধী প্রচারণা’-র মতো অস্পষ্ট শব্দ ব্যবহৃত হয়েছে। এর অপব্যবহার হলে সাধারণ ব্যবহারকারীরা বেশি ঝুঁকিতে পড়বেন।’

স্বাধীন নিয়ন্ত্রক কমিশন : খসড়া আইনে প্রস্তাব করা হয়েছে যে, একটি স্বাধীন বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ কমিশন (বিটিসি) গঠন করা হবে। কমিশনে পাঁচজন সদস্য থাকবেন, যাদের দায়িত্ব হবে লাইসেন্স দেওয়া, স্পেকট্রাম বণ্টন, শিল্প খাতে তদারকি নীতি প্রণয়ন এবং টেলিযোগাযোগ খাত নিয়ন্ত্রণ।

টেলিকম শিল্প সংশ্লিষ্ট এক কর্মকর্তা মন্তব্য করেন, ‘স্বাধীন কমিশনের ধারণা ভালো, তবে সদস্য নিয়োগে রাজনৈতিক বা প্রশাসনিক প্রভাব থাকলে কমিশন প্রকৃত স্বাধীনতা পাবে না।’

খসড়ায় বেশ কিছু নতুন অপরাধ সংযোজন করা হয়েছে। যেমন, বারবার কল দিয়ে হয়রানি, অশোভন বা উস্কানিমূলক বার্তা, অনুমতিহীন ওটিটি পরিচালনা, ভুয়া জাতীয় পরিচয়পত্রে সিম নিবন্ধন ও সামাজিক মাধ্যমে ‘রাষ্ট্রবিরোধী প্রচারণা’। এর মধ্যে রাষ্ট্রবিরোধী ধারাটি সবচেয়ে বিতর্কিত বলে মনে করা হচ্ছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ‘সংজ্ঞা স্পষ্ট না হলে এই ধারা অপব্যবহারের ঝুঁকি রাখে।’ 

এদিকে ডিজিটাল অধিকারকর্মীরা বলছেন, ‘নতুন আইন গোপনীয়তা রক্ষা ও নাগরিক অধিকার শক্তিশালী করার সুযোগ তৈরি করেছে ঠিকই, কিন্তু নজরদারির ক্ষমতা কার হাতে যাবে এবং কীভাবে তার জবাবদিহি নিশ্চিত হবেÑ এটি এখনও পরিষ্কার নয়।’

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক বিশ্লেষক বলেছেন, ‘বৈধ অনুপ্রবেশের অনুমোদন কাঠামো স্পষ্ট না হলে এটি নিরাপত্তা ও নজরদারির নামে পুরনো সমস্যাকেই নতুন রূপে ফিরিয়ে আনতে পারে।’

ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, সব মতামত গ্রহণ করে খসড়ায় সংশোধন আনা হবে। এরপর এটি উপদেষ্টা পরিষদে উপস্থাপন করা হবে। তারপরই অধ্যাদেশটি আইন আকারে কার্যকর হবে। বিশেষজ্ঞদের মতে, আইনটির যথাযথ সংশোধন, সংজ্ঞা স্পষ্টকরণ এবং স্বচ্ছ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে পারলে দেশের ডিজিটাল শাসনব্যবস্থায় বড় পরিবর্তন আসতে পারে। তবে এখনও মূল প্রশ্ন হলো, গোপনীয়তা রক্ষা ও নিরাপত্তার প্রয়োজনীয়তাÑ এই দুইয়ের ভারসাম্য কতটা রাখা সম্ভব হবে এবং এই আইন বাস্তব প্রয়োগে কতটা ‘স্বাধীন’ ও ‘নিরপেক্ষ’ থাকতে পারবে।


শেয়ার করুন-

মন্তব্য করুন

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মারুফ কামাল খান

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮১০, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০ | ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০, +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮০৭, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৩৩২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা