ধানমণ্ডির ৩৬৫ ফটোগ্রাফি লাইব্রেরি
হাসনাত শাহীন
প্রকাশ : ০৮ নভেম্বর ২০২৫ ০৯:১৫ এএম
দেশ-বিদেশের বরেণ্য আলোকচিত্রশিল্পীদের ফটোগ্রাফি-বিষয়ক বইয়ের পাশাপাশি নানা বিষয়ের প্রায় সাড়ে ৪ হাজার বইয়ের সমৃদ্ধ ভান্ডার নিয়ে গড়ে উঠেছে ‘৩৬৫ ফটোগ্রাফি লাইব্রেরি’। রাজধানীর ধানমন্ডির দুই নম্বর রোডের ৩৩ নম্বর বাড়ির দ্বিতীয় তলার ছোট্ট একটি ঘরে দেশের একমাত্র ফটোগ্রাফি বা আলোকচিত্রভিত্তিক এই বিশেষায়িত লাইব্রেরিটির বর্তমান অবস্থান। আলোকচিত্রশিল্পীদের লেখা বইয়ের পাশাপাশি ফটোগ্রাফি সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সংস্থা-সংগঠন ও প্রতিষ্ঠান থেকে প্রকাশিত বই, ম্যাগাজিন, ফটো এজেন্সি, মিউজিয়াম ও বিভিন্ন গ্যালারির প্রদর্শনী ক্যাটালগ এই লাইব্রেরির সম্পদ।
আলোকচিত্র-বিষয়ক বইগুলো যেমন দামি, তেমনি ভারীও। সহজে সবাই সংগ্রহ করতে পারেন না। তাই তরুণ প্রজন্মের জন্য এই রত্নভান্ডার উন্মুক্ত করে দিয়েছেন সাইফুল আমিন কাজল। গ্রন্থাগারটি তিনি একক প্রচেষ্টায় গড়ে তোলেন। এক্ষেত্রে সহযোগিতাও পেয়েছেন দেশ-বিদেশের অসংখ্য মানুষ ও প্রতিষ্ঠানের।
এ ধরনের বিশেষায়িত গ্রন্থাগার প্রতিষ্ঠার পেছনের কথা বলতে গিয়ে প্রতিষ্ঠাতা সাইফুল আমিন কাজল প্রতিদিনের বাংলাদেশকে বলেন, ‘গ্রন্থাগার বলতে যা বোঝায় ঠিক সে রকম নয় এটি। নাম ‘৩৬৫ ফটোগ্রাফি লাইব্রেরি’; কিন্তু সংগ্রহশালা বললেই একে বেশি মানায়। এখানে ১৯৫২ সাল থেকে বিভিন্ন সময়ের বিখ্যাত সব বইসহ প্রায় সাড়ে ৪ হাজার বই আছে। এর মধ্যে ফটোগ্রাফি-বিষয়ক বইয়ের সংখ্যা তিন হাজারের মতো। বাকিগুলো ম্যাগাজিন, ফটো এজেন্সি, মিউজিয়াম ও বিভিন্ন গ্যালারির প্রদর্শনীর ক্যাটালগসহ বিভিন্ন ফটোগ্রাফি।
গ্রন্থাগারের সমৃদ্ধ সংগ্রহ সম্পর্কে তিনি বলেন, ‘দেশের প্রায় ২০০ ফটোগ্রাফারের এককভাবে প্রকাশিত বই, প্রায় ৫০ জন বিদেশি ফটোগ্রাফারের বাংলাদেশ বিষয়ে ফটোগ্রাফির বইসহ প্রায় ৪০টি দেশের ওপর ট্রাভেল ফটোগ্রাফির কফিটেবিল বই এখানের সংগ্রহে আছে।’
তরুণ বা নতুন ফটোগ্রাফারদের লিজেন্ডারি ফটোগ্রাফারদের কাজ ও ব্যক্তির সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেওয়া বা চেনানোর উদ্দেশ্য থেকে গড়ে ওঠা এই গ্রন্থাগারের আজীবন সদস্য এবং বার্ষিক সদস্য হওয়া যায়। আজীবন সদস্য হতে ৮ হাজার এবং বার্ষিক সদস্য পদের চাঁদা দুই হাজার ৫০০ টাকা। তবে সদস্য না হলেও যে-কারও প্রবেশাধিকার রয়েছে গ্রন্থাগারে। গ্রন্থাগার খোলা থাকার সময়ে বই পড়ার সুযোগ রয়েছে, তবে সদস্যের বাইরে কারও বই নিয়ে যাওয়ার সুযোগ নেই।
এ ধরনের বিশেষায়িত গ্রন্থাগার সম্পর্কে ‘ক্যামেরার কবি’খ্যাত ফটোগ্রাফার নাসির আলী মামুন বলেন, শহরের অনেক ছেলেমেয়ে ফটোগ্রাফি চর্চা করে। প্রতিনিয়ত ফটোগ্রাফিকে পেশা হিসেবে নিতে চাওয়া তরুণদের সংখ্যাও বাড়ছে। কিন্তু দেশে নতুনদের ফটোগ্রাফি চর্চার প্রয়োজন মেটাতে তেমন বই নেই। ‘৩৬৫ ফটোগ্রাফি লাইব্রেরি’ সেই অভাব ঘুচিয়েছে।
দেশে এ ধরনের গ্রন্থাগার প্রথম এবং পূর্ণাঙ্গ বলে মন্তব্য করে তিনি আরও বলেন, ‘কাজল (সাইফুল আমিন) একেবারে ব্যক্তিগত উদ্যোগে এই গ্রন্থাগার প্রতিষ্ঠা করে যে দুঃসাহস দেখিয়েছে এবং ভাড়া করা ঘরে গ্রন্থাগার চালু রেখেছে সেজন্য তাকে ধন্যবাদ।’