× ই-পেপার প্রচ্ছদ সর্বশেষ বাংলাদেশ রাজনীতি দেশজুড়ে বিশ্বজুড়ে বাণিজ্য খেলা বিনোদন মতামত চাকরি শিক্ষা আজকের কার্টুন ফিচার সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

পর্যটন শিল্পের সবচেয়ে বড় বিনিয়োগকারী খাত রিসোর্ট

সাক্ষাৎকার

প্রকাশ : ৩০ অক্টোবর ২০২৫ ০০:৫৫ এএম

আপডেট : ২৭ নভেম্বর ২০২৫ ১৩:৩৮ পিএম

পর্যটন শিল্পের সবচেয়ে বড় বিনিয়োগকারী খাত রিসোর্ট

বাংলাদেশের পর্যটন শিল্পে রিসোর্টগুলো শুধু থাকার সুবিধা নয়, বরং এক ধরনের অভিজ্ঞতা। পাহাড়, নদী বা সমুদ্রের কোল ঘেঁষে গড়ে উঠা আধুনিক রিসোর্টগুলো পর্যটকদের আরাম, নিরাপত্তা ও প্রকৃতির সান্নিধ্য দেয়। রিসোর্ট শিল্প দেশের পর্যটন বাজার প্রসার, বিদেশি ও অভ্যন্তরীণ পর্যটন বৃদ্ধিতে এবং স্থানীয় অর্থনীতি ও কর্মসংস্থানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। টেকসই উন্নয়নে পর্যটনের বিভিন্ন দিক নিয়ে প্রতিদিনের বাংলাদেশের সঙ্গে কথা বলেছেন অরুণিমা রিসোর্ট গলফ ক্লাবের চেয়ারম্যান ও ট্যুরিজম রিসোর্ট ইন্ডাস্ট্রিজ এসোসিয়েশন অফ বাংলাদেশ (ট্রিয়াব)Ñএর ফাউন্ডার প্রেসিডেন্ট খবির উদ্দিন আহমেদ

প্রশ্ন : টেকসই উন্নয়নের প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশের পর্যটন সম্ভাবনাকে কীভাবে মূল্যায়ন করেন?

বাংলাদেশের সম্ভাবনাময় সব শিল্পের মধ্যে পর্যটন একটি গুরুত্বপূর্ণ শিল্প হিসেবে স্বল্প সময়ে আবির্ভূত হয়েছে। এ শিল্পে যদি সরকার সদয় সুনজর এবং আর্থিক বরাদ্দসহ প্রাইভেট সেক্টরে যথাযথ প্রণোদনা দেয় তাহলে এটি স্বল্প সময়েই গার্মেন্টস সেক্টরকে অতিক্রম করবে। সমাজে বহুমাত্রিক ইতিবাচক প্রভাব সৃষ্টিতে পর্যটন শিল্প যেহেতু শক্তিশালী ভূমিকা রাখতে পারে, সরকারের উচিত এই শিল্পকে আরও বেশি গুরুত্ব দেওয়া। পর্যটন আকর্ষণগুলোর যথাযথ উন্নয়ন, অবকাঠামোগত উন্নয়ন, রাস্তাঘাট এবং ফেরি স্থাপনসহ যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন একান্ত জরুরি।

প্রশ্ন : পর্যটন শিল্পে রিসোর্টের ভূমিকা, সংকট ও সম্ভাবনা কতটুকু?

বর্তমান সময়ে বাংলাদেশের পর্যটন শিল্পের সবচেয়ে বড় বিনিয়োগকারী খাত হচ্ছে রিসোর্ট। প্রাইভেট সেক্টরে রিসোর্টের মাধ্যমে যেমন সবচেয়ে বেশি বিনিয়োগ হয়েছে, তেমনি কর্মসংস্থানও ঘটেছে। রিসোর্ট সেক্টরে বিনিয়োগের পরিমাণ প্রায় ৩,০০০ (তিন হাজার) কোটি টাকা। অথচ রিসোর্ট সেক্টর সরকারের কাছ থেকে কোনও প্রণোদনাই পাচ্ছে না। ট্র্যাভেল এজেন্সিগুলোর ওপর ভ্যাট আরোপ শিথিল হলেও রিসোর্টের আবাসন এবং রেস্তোরাঁ, গলফ, স্পোর্টস, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ইত্যাদির ওপর থেকে সামগ্রিকভাবে ভ্যাট লাঘব হয়নি। বরং ভ্যাট কর্তৃপক্ষের চাপাচাপিতে রিসোর্ট মালিকরা তটস্থ থাকেন। স্টাফ ও কর্মচারীদের বেতন দিয়ে বিনিয়োগ অনুযায়ী তেমন লাভ কিছুই থাকে না। অথচ রিসোর্টগুলোর মাধ্যমে পর্যটন শিল্পে সবচেয়ে দ্রুত ও বেশি কর্মসংস্থান সৃষ্টি হতে পারে। পাশাপাশি গ্রামীণ সমাজব্যবস্থায় সার্কুলার ইকোনমি সৃষ্টি করে আর্থ-সামাজিক পরিস্থিতির উন্নতি করতে পারে।

প্রশ্ন : এ শিল্পে রিসোর্টের সংকট ও সম্ভাবনা কেমন?

বাংলাদেশের রিসোর্টগুলোতে বিভিন্ন ধরনের সেবা দেওয়া হয়। যেমনÑ আবাসন, আহার, পরিবহন, স্পোর্টস (বিভিন্ন আঞ্চলিক, জাতীয় এবং আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্ট), সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানসহ বিভিন্ন ইভেন্ট আয়োজন, তাই রিসোর্টে কর্মসংস্থান বেশি সৃষ্টি হয় এবং সরকারের জন্য বেশি পরিমাণ রেভিনিউ জেনারেটেড হয়। বাংলাদেশে রিসোর্টগুলোতে বর্তমানে প্রায় ৫ লাখ লোক কাজ করে। এখানে নারীদের জন্যও কর্মসংস্থানের সৃষ্টি হয়েছে। অথচ সরকার এ খাতে কোনো সুবিধা দিচ্ছে না। বাংলাদেশের রিসোর্টগুলোই মূলত এখন দেশের পর্যটন আকর্ষণগুলো বা ট্যুরিজম প্রোডাক্টসমূহকে সবার কাছে তুলে ধরছে এবং সমাদৃত হচ্ছে। ট্যুর অপারেটররাও রিসোর্টগুলোর ফ্যাসিলিটিজ সেল করছে। রিসোর্টগুলো প্রাকৃতিক পরিবেশে গড়ে উঠছে এবং প্রকৃতিকে যত্ন করে রাখছে । সবুজ পর্যটন এবং গ্রিন প্র্যাকটিসের ক্ষেত্রে রিসোর্ট সর্বাগ্রে থাকছে। এক্ষেত্রে অরুনিমা রিসোর্ট গলফ ক্লাব শীর্ষে রয়েছে। বলার অপেক্ষা রাখে না, দেশের টেকসই পর্যটন উন্নয়নে রিসোর্টসমূহের ভূমিকা অনস্বীকার্য।

প্রশ্ন : টেকসই উন্নয়নে পর্যটন নিয়ে কী উদ্যোগ গ্রহণ করেছেন?

এবারের বিশ্ব পর্যটন দিবসের থিম ছিলÑ Tourism and Sustainable Transformation; টেকসই উন্নয়নে পর্যটন আমাদের পরিবেশের ওপর গুরুত্বারোপ করতে বলছে; অর্থাৎ গ্রিন ট্যুরিজমের ওপর জোর দিতে বলছে। বাংলাদেশে রিসোর্টগুলোতে গ্রিন ট্যুরিজমের প্র্যাক্টিস হচ্ছে। কিছুদিন আগে, গত ৪-৭ আগস্টে Asia Productivity Organization (APO) এবং বাংলাদেশ সরকারের Industry Ministry-এর যৌথ উদ্যোগে Sustainable Green Practices নিয়ে চার দিনব্যাপী সেমিনারের আয়োজন করা হয়। ওই সেমিনারে আমি Resource Person হিসেবে দুটি কি-নোট উপস্থাপন করেছি। সেখানে বিস্তারিত ব্যাখ্যা দিয়েছি কেন এবং কীভাবে গ্রিন ট্যুরিজম এবং টেকসই পর্যটনের উন্নয়ন সম্ভব।

প্রশ্ন : পর্যটনের বিকাশে রিসোর্টকে সময়োপযোগী করে তুলতে কি আপনারা কোনো উদ্যোগ নিচ্ছেন?

বর্তমান ট্যুরিজমের আরেকটা নতুন মাত্রা হচ্ছে গলফ। বাংলাদেশে ইদানীং গলফ প্লেয়ারের সংখ্যা বেশ বাড়ছে। বাংলাদেশে গলফ উন্নয়নে সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান এসবিপি, ওএসপি, এসজিপি, পিএসসি অত্যন্ত সচেষ্ট। তিনি বলেছেন, গলফকে সর্বত্র ছড়িয়ে দিতে হবে। বাংলাদেশ গলফে উন্নতি করলে বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে এখানে বিদেশিরা খেলতে আসবে। এতে দেশের পর্যটন শিল্পের উন্নয়ন হবে। বৈদেশিক মুদ্রা আয় হবে। গলফ ট্যুরিজম ‍উন্নয়নের মাধ্যমে ইন-বাউন্ড ট্যুরিজমের উন্নয়ন হয়। কারণ গলফার্সরা শুধু এক দেশে খেলেন না। তারা বিভিন্ন দেশে খেলতে যান। বাংলাদেশের প্রাইভেট সেক্টরে একমাত্র গলফ রিসোর্ট হচ্ছে অরুনিমা রিসোর্ট গলফ ক্লাবÑযা বাংলাদেশ গলফ ফেডারেশন (বিজিএফ) এফিলিয়েটেড ।

প্রশ্ন : এই শিল্পের উন্নয়নে প্রশাসনের কাছে আপনার প্রত্যাশা কী?

বাংলাদেশে যোগাযোগ ব্যবস্থার আরও উন্নতি করতে হবে, বিশেষ করে রিসোর্ট অধ্যুষিত এলাকায় যেমনÑফেরি, ব্রিজ, কালভার্ট এবং সংযোগ সড়কের প্রয়োজন। আমি আশা করছি বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা দেশের পর্যটন উন্নয়নে গুরুত্ব দেবেন। সরকারকে বাংলাদেশের পর্যটন শিল্পের টেকসই উন্নয়ন করতে বিদেশি বিনিয়োগ আনতে হবে এবং এ সেক্টরের জন্য প্রাইভেট সেক্টরকে সঙ্গে নিয়ে নিবিড়ভাবে কাজ করতে হবে।

শেয়ার করুন-

মন্তব্য করুন

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মারুফ কামাল খান

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮১০, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০ | ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০, +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮০৭, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৩৩২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা