× ই-পেপার প্রচ্ছদ সর্বশেষ বাংলাদেশ রাজনীতি দেশজুড়ে বিশ্বজুড়ে বাণিজ্য খেলা বিনোদন মতামত চাকরি শিক্ষা আজকের কার্টুন ফিচার সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

ডিজিটাল সেবার প্রতি আগ্রহ বাড়ছে ভ্রমণপিপাসুদের

সাক্ষাৎকার

প্রকাশ : ৩০ অক্টোবর ২০২৫ ০০:২৮ এএম

আপডেট : ২৭ নভেম্বর ২০২৫ ১৩:৪৩ পিএম

শেয়ারট্রিপের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা সাদিয়া হক

শেয়ারট্রিপের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা সাদিয়া হক

এক দশকেরও বেশি সময়ের অভিজ্ঞতা তার মার্কেটিং ও লিডারশিপে। স্বপ্নই তাকে বাংলাদেশের অন্যতম শীর্ষ ট্রাভেলÑটেক উদ্যোক্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে। তার গল্প শুধু একটি ট্রাভেল বুকিং কোম্পানি গড়ে তোলার নয়; বরং এক বিচ্ছিন্ন ও অফলাইন-ভিত্তিক খাতকে ডিজিটাল ইকোসিস্টেমে রূপান্তরের গল্প। পর্যটনের বিভিন্ন দিক নিয়ে কথা বলেছেন শেয়ারট্রিপের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা সাদিয়া হক

প্রশ্ন : কীভাবে শেয়ারট্রিপ নিজেকে বাজারের অন্যান্য ট্রাভেল এজেন্সি থেকে আলাদা করেছে?

উত্তর : শেয়ারট্রিপে আমরা সব সময় গ্রাহকের সুবিধা, সন্তুষ্টি ও মানসম্মত সেবাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিই, একই সঙ্গে দিই সবচেয়ে সাশ্রয়ী ভাড়ার নিশ্চয়তা। বাংলাদেশের প্রথম অনলাইন ট্রাভেল এজেন্সি (OTA) হিসেবে প্রযুক্তি ও উদ্ভাবন আমাদের কাজের মূল ভিত্তি। আমাদের নিজস্ব প্রযুক্তি দল দ্রুত সমস্যার সমাধান করে এবং নতুন ফিচার কার্যকরভাবে চালু করতে সক্ষম। আমরা বাংলাদেশের প্রথম প্রতিষ্ঠান হিসেবে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) নির্ভর ফ্লাইট বুকিং সমাধান চালু করেছিÑযা গ্রাহকদের জন্য এনেছে ব্যক্তিগত ও নিরবচ্ছিন্ন অভিজ্ঞতা। এক্সক্লুসিভ NDC ভাড়ার মাধ্যমে আমরা দিই এমন সর্বনিম্ন মূল্য, যা পাওয়া যায় শুধু শেয়ারট্রিপে। পাশাপাশি, আমাদের সাপোর্ট টিম প্রতিদিন সকাল ৯টা থেকে রাত ১টা পর্যন্ত সেবা দিয়ে থাকে। এই উৎকর্ষতা ও উদ্ভাবনের প্রতিশ্রুতির ফলেই শেয়ারট্রিপ হয়েছে বাংলাদেশের ভ্রমণ খাতের প্রথম সুপারব্র্যান্ড।

প্রশ্ন : বাংলাদেশের ভ্রমণকারীদের মধ্যে কী ধরনের নতুন ভ্রমণপ্রবণতা লক্ষ্য করছেন?

উত্তর : বর্তমানে সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য প্রবণতাগুলোর একটি হলো ডিজিটাল সেবার দিকে আগ্রহ। আগে ফ্লাইট বুকিং মানে ছিল একাধিক অফিস বা ট্রাভেল এজেন্টের কাছে যাওয়াÑযা ছিল সময়সাপেক্ষ ও ঝামেলাপূর্ণ। এখন জেনারেশন জেড এবং তরুণ ভ্রমণকারীরা অনলাইন বুকিংয়ের সুবিধা ও দ্রুততাকে বেশি পছন্দ করেন। শেয়ারট্রিপ অনেক আগেই এই পরিবর্তনটি উপলব্ধি করেছে এবং সেই অনুযায়ী আধুনিক ওয়েবসাইট ও মোবাইল অ্যাপে বিনিয়োগ করেছে, যাতে গ্রাহকদের প্রত্যাশা পূরণ করা যায়। আমরা গুরুত্ব দিই ব্যবহারকারীর অভিজ্ঞতা, সহজ বুকিং প্রক্রিয়া এবং প্রযুক্তির এমন সংযোজনের ওপর, যা সময়ের সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলে। এর ফলে ভ্রমণকারীরা আরও দক্ষভাবে পরিকল্পনা করতে পারেন, নতুন গন্তব্য আবিষ্কার করতে পারেন এবং পান একদম নিরবচ্ছিন্ন অনলাইন অভিজ্ঞতা।

প্রশ্ন : শেয়ারট্রিপ গড়ে তোলার শুরুর দিকে কী ধরনের চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হতে হয়েছিল?

উত্তর : শুরুটা ছিল সত্যিই চ্যালেঞ্জপূর্ণ। তখন ডিজিটাল ট্রাভেল প্লাটফর্মের ধারণাটাই ছিল নতুন, প্রযুক্তিগত বাধা ছিল প্রচুর, আর বিনিয়োগকারীদের আস্থাও সীমিত ছিল। সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ ছিল গ্রাহকদের আস্থা অর্জন করা, কারণ তখন মানুষ স্থানীয় কোনো প্লাটফর্মের বদলে Booking.com, Agoda-এর মতো আন্তর্জাতিক সাইট ব্যবহারেই বেশি স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করতেন। আমরা অনেক সময় ব্যয় করেছি গ্রাহকদের সচেতন করতে, বিশ্বাস ও আস্থা অর্জন করতে এবং প্লাটফর্মকে আরও উন্নত করতে। ২০১৮ সালে আমরা প্রথমে আমাদের মোবাইল অ্যাপ চালু করি, এরপর ওয়েবসাইট। আসল পরিবর্তন আসে যখন আমরা প্রথম বিনিয়োগকারীদের সঙ্গে যুক্ত হই, তারা আমাদের ভিশনে আস্থা রাখেন এবং সেই সহায়তাই আমাদের শেয়ারট্রিপ হিসেবে পূর্ণাঙ্গ ডিজিটাল সমাধান নিয়ে পুনঃব্র্যান্ডিং করতে সাহায্য করে।

প্রশ্ন : কোভিড মহামারি বিশ্বজুড়ে ভ্রমণ শিল্পের জন্য ছিল এক বড় ধাক্কা। শেয়ারট্রিপ কীভাবে এই পরিস্থিতি সামলেছে?

উত্তর : কোভিড-১৯ সবার জন্যই ছিল কঠিন সময়, তবে এটি আমাদের জন্য কিছু নতুন সুযোগও তৈরি করে। সরাসরি ভ্রমণ বন্ধ হয়ে গিয়েছিল, কিন্তু ডিজিটাল সেবার প্রয়োজন তখনও ছিল অব্যাহত। আমরা দ্রুতই আমাদের B2B প্লাটফর্ম চালু করি, যার মাধ্যমে ছোট ছোট অফলাইন ট্রাভেল এজেন্টরা ঘরে বসেই অনলাইনে টিকিট বিক্রি করতে পারেন। আমরা তখন বলেছিলাম, ‘আপনার দোকান বন্ধ থাকতে পারে, কিন্তু আপনি এখনও আপনার গ্রাহকদের সেবা দিতে পারেন।’ একই সঙ্গে আমরা চালু করি ST Rooms, একটি হোটেল ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম, যার মাধ্যমে ১,৫০০-এরও বেশি হোটেলকে এক প্লাটফর্মে যুক্ত করা হয়। এসব উদ্যোগ আমাদের শুধু টিকে থাকতে নয়, বরং সংকট মোকাবিলায় আরও সক্ষম হতে এবং পরবর্তী সময়ের জন্য ব্যবসায়িক কাঠামোকে আরও শক্তিশালী করতে সহায়তা করেছে।

প্রশ্ন : এ দেশে আপনাদের মতো স্টার্টআপগুলোর সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ কী?

উত্তর : সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হলো নীতিমালা ও বিধিবিধানের জটিল পরিবেশে কাজ করা। স্টার্টআপগুলো মূলত ঐতিহ্যবাহী ব্যবসা প্রতিষ্ঠান থেকে ভিন্ন, তাই তাদের জন্য প্রয়োজন নমনীয় নীতি ও ডিজিটাল-বান্ধব কাঠামো। কিন্তু বাস্তবে দেখা যায়, ভ্রমণ, পর্যটন, বিমান পরিবহন ও অর্থনীতি-সংক্রান্ত নীতিমালাগুলো প্রায়ই বিচ্ছিন্ন ও অসংগত। আমাদের মতো একটি প্লাটফর্ম পরিচালনা করতে গিয়ে একই সঙ্গে প্রযুক্তি উন্নয়ন, বিনিয়োগ সংগ্রহ, গ্রাহক সচেতনতা তৈরি এবং অনিশ্চিত বিধিনিষেধ মোকাবিলা, সবই করতে হয়।

তবুও আশার জায়গা আছে। অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের স্টার্টআপ ও ডিজিটাল রূপান্তরে যে মনোযোগ দেখা যাচ্ছে, তা সত্যিই উৎসাহজনক। আমি আশাবাদী, ভবিষ্যতে আরও স্পষ্টতা ও সহায়তা আসবে, যা শেয়ারট্রিপের মতো প্রতিষ্ঠানগুলোকে আরও বড় পরিসরে এগিয়ে যেতে এবং দেশের স্টার্টআপ ইকোসিস্টেমে কার্যকর অবদান রাখতে সহায়তা করবে।

প্রশ্ন : শেষ প্রশ্ন, একজন প্রতিষ্ঠাতা হিসেবে আপনার সবচেয়ে বড় শিক্ষাটি কী?

উত্তর : সহনশীলতা। উদ্যোক্তা হিসেবে আমি শিখেছি যে, বাস্তবতার মুখোমুখি হলে কোনো পরিকল্পনাই পুরোপুরি অপরিবর্তিত থাকে না, আর সেটাই স্বাভাবিক। পরিস্থিতির সঙ্গে মানিয়ে নেওয়া, দিক পরিবর্তন করা এবং সামনে এগিয়ে চলা, এই মানসিকতাই টিকে থাকার মূল চাবিকাঠি। আমার কাছে এই যাত্রা শুধু একটি প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলার বিষয় নয়; এটি দেশের ডিজিটাল রূপান্তরে অবদান রাখা, মানুষের ভ্রমণকে সহজ করা এবং তাদের দুনিয়াকে নতুনভাবে দেখার সুযোগ করে দেওয়ার বিষয়।

আমরা এই যাত্রা শুরু করি ভ্রমণের প্রতি ভালোবাসা থেকে। আজ আমরা এগিয়ে যাচ্ছি কারণ লাখ লাখ মানুষ আমাদের ওপর তাদের ভ্রমণের দায়িত্ব অর্পণ করেছেন। তাদের সেই বিশ্বাস আমাদের জন্য এক গভীর দায়িত্ব, যা আমরা কখনোই হালকাভাবে নিই না।

শেয়ার করুন-

মন্তব্য করুন

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মারুফ কামাল খান

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮১০, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০ | ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০, +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮০৭, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৩৩২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা