× ই-পেপার প্রচ্ছদ সর্বশেষ বাংলাদেশ রাজনীতি দেশজুড়ে বিশ্বজুড়ে বাণিজ্য খেলা বিনোদন মতামত চাকরি শিক্ষা আজকের কার্টুন ফিচার সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

অবসরপ্রাপ্তদের চুক্তিভিত্তিক সচিব নিয়োগে রেকর্ড

প্রশাসনে সচিব পদ প্রত্যাশী কর্মকর্তারা বঞ্চিত ও ক্ষুব্ধ

ফসিহ উদ্দীন মাহতাব

প্রকাশ : ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৫ ১১:১০ এএম

প্রশাসনে সচিব পদ প্রত্যাশী কর্মকর্তারা বঞ্চিত ও ক্ষুব্ধ

ড. ইউনূসের নেতৃত্বাধীন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর প্রশাসনে একের পর এক চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ ও বদলি নিয়ে ব্যাপক ঝড় উঠেছে। দীর্ঘদিন অবসরে থাকা অতিরিক্ত সচিব ও যুগ্ম সচিবদের সচিব পদে পুনর্নিয়োগ এবং পরবর্তীতে তাদের বদলি করার নজির বাংলাদেশের প্রশাসনে আগে ছিল না। সরকারের পক্ষ থেকে এসব নিয়োগকে ‘জনস্বার্থে’ বলা হয়েছে। মন্ত্রিপরিষদ সচিব, মুখ্য সচিব, স্বরাষ্ট্র, জনপ্রশাসনসহ আরও কয়েকটি মন্ত্রণালয়ে সচিব পদে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ দেওয়া হয়। এর মধ্যে বিসিএস প্রশাসন ৮২ ব্যাচের কর্মকর্তারাই প্রাধান্য পেয়েছেন। তারা এভাবে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ পাওয়ায় সচিব হিসেবে পদোন্নতির অপেক্ষায় থাকা দলনিরপেক্ষ, বঞ্চিত ও যোগ্য কর্মকর্তাদের মধ্যে ক্ষোভ এবং অসন্তোষ ক্রমেই বাড়ছে। সর্বশেষ ২১ সেপ্টেম্বর দীর্ঘদিন অবসর থেকে চুক্তিতে ফিরে আসা জনপ্রশাসন সচিব মোহাম্মদ মোখলেস উর রহমানকে পরিকল্পনা কমিশনে বদলির ঘটনায় আলোচনার ঝড় ওঠে। তার বিরুদ্ধে মন্ত্রণালয় পরিচালনায় অদক্ষতা, দুর্নীতি ও অনিয়মের অভিযোগ ওঠে। তা ছাড়া এই সচিবের সঙ্গে মাঠ প্রশাসনের সমন্বয়হীনতা ফুটে উঠেছিল। 

জানা গেছে, ড. ইউনূসের সরকার গঠনের পর কিছুদিনের মধ্যে দীর্ঘদিন অবসরে থাকা বিসিএস প্রশাসন ৮২ ব্যাচের পাঁচজন অবসরপ্রাপ্ত অতিরিক্ত সচিবকে একসঙ্গে বিভিন্ন বিভাগে সচিব পদে চুক্তিভিত্তিক পুনর্নিয়োগ দেওয়া হয়। সচিব থেকে সিনিয়র সচিব পদে পদোন্নতি দিয়ে তাদের বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ে পদায়ন করা হয়। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি সমালোচিত হয় দীর্ঘদিন অবসরে থাকা সাবেক অতিরিক্ত সচিব মোখলেস উর রহমানকে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে সচিব নিয়োগ নিয়ে। জনপ্রশাসন অভিজ্ঞ ও নিয়মিত কোনো কর্মকর্তাকে এ পদে নিয়োগ না দিয়ে প্রশাসন থেকে বিচ্ছিন্ন থাকা এই কর্মকর্তা পদে বসার পরপরই বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হয়। নতুন প্রজম্মের কর্মকর্তাদের নিয়ন্ত্রণে তিনি ব্যর্থ হন। এই সুযোগে গড়ে ওঠে একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেট। সেই সিন্ডিকেটের মাধ্যমে জনপ্রশাসন পরিচালিত হতে থাকে। 

প্রশাসন বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দীর্ঘদিন অবসরে থাকা কর্মকর্তাদের চাকরিতে ফিরিয়ে এনে গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয় ও বিভাগে চুক্তিতে নিয়োগে প্রশাসনে নজিরবিহীন পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। তারা বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে পদোন্নতি বঞ্চিত হয়েছিলেন। অন্তর্বর্তী সরকার তাদেরকে ‘সম্মানিত’ করতে সচিব পদে চুক্তিতে নিয়োগ দিয়েছে। এতে তরুণ ও যোগ্য কর্মকর্তাদের ক্ষোভ ও হতাশা সৃষ্টি হওয়া স্বাভাবিক।

প্রশাসনে তরুণ ও পদোন্নতি প্রত্যাশী কর্মকর্তারা ভেবেছিলেন, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট গণঅভ্যুত্থানের পর অন্তর্বর্তী সরকার নিতান্তই প্রয়োজন না হলে ঢালাওভাবে পুনঃচুক্তির পুনরাবৃত্তি ঘটাবে না। কিন্তু সব ধারণা পাল্টে দিয়ে দীর্ঘদিন অবসরে যাওয়াদের মন্ত্রিপরিষদ, মুখ্য সচিবসহ উচ্চপদে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ দিয়েছে। শুধু তাই নয়, তাদের কেউ কেউ চুক্তিভিত্তিক অবস্থায় বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ে বদলি হয়েছেন। এসব নিয়োগ ‘জনস্বার্থে’ করা হচ্ছে বলে সরকারি ব্যাখ্যায় বলা হচ্ছে। এভাবে নিয়োগ যেমন অস্বাভাবিক, তেমনি তাদের বদলি করাও বিস্ময়কর। তাদের মতে, এটা শুধু প্রশাসনে নয়, রাষ্ট্র পরিচালনার ক্ষেত্রেও নতুন প্রশ্ন আসতে পারে। অবসরে যাওয়া কর্মকর্তাদের ফিরিয়ে আনা কি সত্যিই জনস্বার্থে হচ্ছে, নাকি এটি রাজনৈতিক বা ব্যক্তিগত আনুগত্যের প্রতিফলন? 

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক সাবেক এক শীর্ষ কর্মকর্তা প্রতিদিনের বাংলাদেশকে বলেন, ‘যেকোনো সরকার তার পছন্দমতো নিয়োগ দিতে পারে, এটা সত্য। তবে অন্তর্বর্তী সরকারের দায়িত্বই ছিল একটি নিরপেক্ষ প্রশাসন দাঁড় করানো। 

পাবলিক সার্ভেন্টস (রিটায়ারমেন্ট) অ্যাক্ট ১৯৭৪ অনুযায়ী, অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের পুনর্নিয়োগ সাধারণত নিষিদ্ধ। তবে রাষ্ট্রপতি জনস্বার্থে অবসরপ্রাপ্ত কাউকে চুক্তিভিত্তিক পুনর্নিয়োগ দিতে পারেন। সরকারি কর্মকর্তারা বলছেন, দীর্ঘ অভিজ্ঞতাসম্পন্ন একজন কর্মকর্তা সংকটকালে তাৎক্ষণিক কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারেন। বিশেষত বিশেষায়িত কাজ, প্রকল্প বা আন্তর্জাতিক আলোচনায় অভিজ্ঞ কর্মকর্তাদের পুনর্নিয়োগ সরকারকে অনেক সময় বাড়তি সুবিধা দেয়। তবে যাদেরকে অবসর থেকে এনে চুক্তিভিত্তিক সিনিয়র সচিব নিয়োগ দেওয়া হয়েছে, তাদের অভিজ্ঞতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। এভাবে চলতে থাকলে প্রশাসনিক, ক্যারিয়ার কাঠামো ও প্রশাসনিক ভারসাম্যের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে। সেবা ব্যবস্থার মান মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে।

এ বিষয়ে বৈষম্যবিরোধী কর্মচারী ঐক্য ফোরামের সভাপতি এবং সাবেক সচিব এবিএম আবদুস সাত্তার প্রতিদিনের বাংলাদেশকে বলেন, আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে প্রশাসনে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ পাওয়া সচিবদের চুক্তি বাতিল করতে হবে। তা না হলে অবাধ, সুষ্ঠু নির্বাচন হবে না। তিনি আরও বলেন, উপদেষ্টা পরিষদের কয়েকজন সদস্য একটি রাজনৈতিক দলের পক্ষ হয়ে কাজ করছেন। তারা তাদের পক্ষ হয়ে প্রশাসনের এসব কর্মকর্তাকে প্রভাবিত করছেন। তাদের পরোক্ষ আশীর্বাদ পেয়ে প্রশাসনে দুর্নীতিবাজদের নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। ফলে গত এক বছরে মাঠ প্রশাসনে সমন্বয়হীনতা ফুটে উঠেছে। এখন যোগ্যদের পদায়ন করতে হবে।

শেয়ার করুন-

মন্তব্য করুন

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মারুফ কামাল খান

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮১০, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০ | ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০, +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮০৭, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৩৩২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা