আহমদ মারুফ, সিলেট
প্রকাশ : ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৫ ১২:০৯ পিএম
সিলেট নগরের ব্যস্ততম সড়ক-ফুটপাতগুলো এখন ভাসমান দোকানের দখলে থাকায় সড়কে থাকে অসহনীয় যানজট। সম্প্রতি বন্দরবাজার এলাকা থেকে তোলা। প্রবা ফটো
সিলেট নগরের ব্যস্ততম সড়ক-ফুটপাতগুলো ভাসমান দোকানের দখলে। এ ছাড়া রাস্তার পাশে করা হয় অবৈধ গাড়ি পার্কিং। ফলে এসব সড়কে রাত-দিন থাকে অসহনীয় যানজট। ফুটপাত-রাস্তা দিয়ে স্বস্তিতে হাঁটতে পারেন না পথচারীরা। যৌথ বাহিনীর অভিযানেও দখলমুক্ত হচ্ছে না ফুটপাত। এর কারণ হিসেবে সিটি করপোরেশন ও জেলা প্রশাসনের ব্যর্থতাকে দায়ী করছেন সংশ্লিষ্টরা।
হকারমুক্ত ও নগরীর তীব্র যানজট নিরসনে হকার উচ্ছেদ ও অনুমোদনহীন গাড়ি চলাচল বন্ধের দাবিতে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেছে মানবকল্যাণ পরিষদ। গত শনিবার নগরীর চৌহাট্টাস্থ কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের সামনে অনুষ্ঠিত কর্মসূচি থেকে আট দফা দাবি জানানো হয়।
এর আগে ফুটপাত-সড়ক দখলমুক্ত করার দাবিতে গত ১৬ জুলাই সিলেট সিটি করপোরেশনের (সিসিক) নগর ভবনের সামনের রাস্তায় দুই ঘণ্টার ‘শোয়া’ কর্মসূচি পালন করে সিলেট কল্যাণ সংস্থা ও সিলেট প্রবাসী কল্যাণ সংস্থা।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, সিলেট সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী মহানগরের হকার পুনর্বাসনে উদ্যোগী হন। তবে গত বছরের ৫ আগস্টের পর থেকে পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে বেপরোয়া হয়ে ওঠে হকাররা। বিশেষ করে বন্দরবাজার প্রধান ডাকঘরের সম্মুখ, জিন্দাবাজার, তালতলা থেকে আম্বরখানা পয়েন্ট পর্যন্ত সড়কের অর্ধেক ফুটপাত দখল করে রাত-দিন ব্যবসা চালাতে থাকে হকাররা।
এ অবস্থায় গত বছরের শেষদিকে বেশ কিছু অভিযান চালানো হলেও নগরীর বন্দরবাজার, জিন্দাবাজার, তালতলা (ভিআইপি রোড), চৌহাট্টা, আম্বরখানা, ক্বীন ব্রিজ এলাকাসহ বিভিন্ন এলাকার ব্যস্ততম ফুটপাত ফের হকারদের দখলে চলে গেছে।
সিলেট কল্যাণ সংস্থার সভাপতি এহসানুল হক তাহের বলেন, জেলা প্রশাসন ও পুলিশ প্রশাসনের ব্যর্থতার কারণে সিলেট নগরীর সড়ক ও ফুটপাত বেদখল হয়ে গেছে। হকাররা দখল করে নিয়েছে ফুটপাত। আর যানবাহন চালকরা পুরো সড়ককে স্ট্যান্ড বানিয়ে ফেলছে। এতে নাগরিক দুর্ভোগ বাড়ছে।
তিনি বলেন, মহানগরের বাসিন্দা, ব্যবসায়ী, পথচারীÑ সবাই চান সড়ক-ফুটপাত দখলমুক্ত হোক। কিন্তু অদৃশ্য কোন শক্তির বলে যেন সড়ক-ফুটপাত থেকে সরানো যায় না হকারদের।
সাবেক মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী জানান, ‘জনসাধারণের চলাচলে ফুটপাত বিরাট বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। আদালত ও সিটি করপোরেশন থেকে হকারদের বারবার নির্দেশনা দেওয়ার পরও তারা আইন মানছে না। যার কারণে ফুটপাত দিয়ে পথচারীদের চলাচল অনেকটা কষ্টসাধ্য হয়ে উঠেছে।’
তিনি বলেন, ‘নগর ভবনের পেছনের লালদীঘির পাড় মাঠে তাদের পুনর্বাসনের জন্য শেড তৈরি করে দেওয়া হয়েছে। যাতে তারা ব্যস্ততম সড়ক ও ফুটপাতে পসরা নিয়ে না বসে। তারপরও তারা সড়ক-ফুটপাত দখল করে নিয়েছে।’
সিলেট জেলা প্রশাসক মো. সারওয়ার আলম বলেন, ‘ফুটপাত দেখে সিটি করপোরেশন। আমি এই মুহূর্তে বিষয়টি নিয়ে মন্তব্য করব না। তবে আমার একটা প্ল্যান আছে।’