নূর আলম, দুর্গাপুর (নেত্রকোণা)
প্রকাশ : ০১ সেপ্টেম্বর ২০২৫ ১২:২৬ পিএম
সখিনা বেগম। প্রবা ফটো
জীবনের শেষ প্রান্তে না আছে আপনজন, না আছে তিনবেলা খাবারের নিশ্চয়তা। এমনই এক অসহায় অবস্থায় পড়েছেন বৃদ্ধা সখিনা বেগম। প্রতিদিন কাটছে তার অর্ধাহারে-অনাহারে। অথচ সরকারের দেওয়া বয়স্ক ভাতা হতে পারত তার ভরসা। অভিযোগ রয়েছে, তিন বছর ধরে সেই টাকাও হাতিয়ে নিচ্ছেন অন্যরা।
নেত্রকোণার দুর্গাপুরের চন্ডিগড় ইউনিয়নের কচুয়াডহর গ্রামের বাসিন্দা সখিনা বেগম দূরসম্পর্কের আত্মীয়ের এক জরাজীর্ণ ঘরে আশ্রিত। মাথার ওপর ছাদ থাকলেও নেই খাবারের নিশ্চয়তা। ক্ষুধা মেটানোর জন্য তিনি আশপাশের বাড়ি থেকে খাবার নিয়ে কোনো রকমে দিন কাটাচ্ছেন।
জানা যায়, প্রথম স্বামী মারা যাওয়ার পর সখিনা দ্বিতীয় বিয়ে করেছিলেন। প্রথম সংসারের একমাত্র ছেলেও মারা গেছেন অনেক আগে। দ্বিতীয় সংসারে সন্তান না হওয়ায় সতীনের সংসারেও জায়গা হয়নি তার। বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে সতীনের সন্তানদের অবহেলার শিকার হন তিনি। অভিযোগ উঠেছে, ওই সতীনের সন্তানরাই তিন বছর ধরে তার প্রাপ্য বয়স্ক ভাতার টাকা তুলে নিচ্ছেন।
কান্নাজড়িত কণ্ঠে সখিনা বেগম বলেন, তিন বছর ধরে আমার টাকা (ভাতা) দেয় না। চাইলে বলে টাকা আসেনি। যদি টাকা আসত, তবে আমার হাতেই আসত, অন্য কারোর হাতে না।
তিনি আরও বলেন, আগে জঙ্গলে পইরা থাকতাম, পরে আত্মীয়রা আশ্রয় দিছে। যা পাই তাই খাই। আজ সকালে কে এসে খাবার দিয়েছে জানি না, ওটাই খেয়েছি।
সখিনাকে আশ্রয় দেওয়া আত্মীয়া তহিদা আক্তার বলেন, তিন বছর ধরে খালার ভাতার টাকা পায় না। এ নিয়ে সতীনের মেয়েদের সঙ্গে ঝগড়াও হয়েছে। পরে তারা খালাকে জঙ্গলে ফেলে দেয়, তখন আমি আশ্রয় দিই।
প্রতিবেশী সোহেল রানা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, এই দুনিয়ায় উনার আপনজন বলতে কেউ নেই। কান্না করতে করতে চোখের পানি শুকিয়ে গেছে। তার প্রাপ্য ভাতার টাকা যেন সরাসরি তার হাতে পৌঁছায়, এটাই আমাদের দাবি। অভিযুক্ত পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাদের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
উপজেলা সমাজসেবা দপ্তর সূত্রে জানা যায়, সখিনা বেগম দীর্ঘদিন ধরেই ভাতা পাচ্ছেন। তবে সার্ভার সমস্যায় এ পর্যন্ত কতবার টাকা তোলা হয়েছে, তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
দুর্গাপুর সমাজসেবা কর্মকর্তা মাসুল তালুকদার বলেন, সখিনা বেগম নিয়মিত ভাতা পান। তবে যে নম্বরে টাকা যাচ্ছিল, সেটি বর্তমানে বন্ধ। তার প্রাপ্য টাকা সরাসরি যেন তার হাতে পৌঁছায়, সেজন্য নম্বর পরিবর্তনের ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
তিনি আরও বলেন, এত দিন যে টাকা অন্যেরা তুলেছে। সেটিও উদ্ধারের উদ্যোগ নেওয়া হবে।