× ই-পেপার প্রচ্ছদ সর্বশেষ বাংলাদেশ রাজনীতি দেশজুড়ে বিশ্বজুড়ে বাণিজ্য খেলা বিনোদন মতামত চাকরি শিক্ষা আজকের কার্টুন ফিচার সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

খুন অপহরণ মব ঘিরে এক আতঙ্কের বসতি

ওবাইদুল আকবর রুবেল, ফটিকছড়ি (চট্টগ্রাম)

প্রকাশ : ০১ সেপ্টেম্বর ২০২৫ ১২:০১ পিএম

প্রতীকী ছবি

প্রতীকী ছবি

চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি উপজেলা এখন আর কেবল শান্তিপ্রিয় মানুষের আবাসভূমি নয়, বরং খুন, অপহরণ ও মব সন্ত্রাসের জনপদে রূপ নিয়েছে। ছুরিকাঘাত, মব সৃষ্টি, পিটিয়ে ও কুপিয়ে মানুষ হত্যা এখন নিত্যনৈমিত্তিক ব্যাপার। গত এক বছরে এই উপজেলার দুটি থানায় (ফটিকছড়ি ও ভুজপুর) ১৮টি খুনসহ প্রায় প্রতিদিনই ঘটেছে মারামারি, চুরি-ডাকাতি, রাহাজানি, রাজনৈতিক সহিংসতা, লুটতরাজ, সরকারি সংরক্ষিত বনের গাছ পাচার, পাহাড় নিধন, খুনসহ বিভিন্ন এলাকায় জমি দখল-বেদখলের ঘটনা। এর মধ্যে ভুজপুর থানা এলাকায় খুনের সংখ্যা সবচেয়ে বেশি।

স্থানীয়দের অভিযোগ, গত বছরের ৫ আগস্ট দেশের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর থেকে ফটিকছড়িতে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির চরম অবনতি হয়েছে। সন্ধ্যার পর এলাকাজুড়ে সৃষ্টি হয় অজানা আতঙ্ক। প্রতিদিনই কোথাও না কোথাও ঘটছে মারামারি, চুরি-ডাকাতি কিংবা সন্ত্রাসী হামলা।

উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, ৭৭৬ বর্গকিলোমিটার আয়তনের ফটিকছড়ি উপজেলায় রয়েছে ফটিকছড়ি ও ভুজপুর থানা। গত এক বছরে এই দুই থানা এলাকায় যে ১৮ জন খুন হয়েছেন তন্মধ্যে ফটিকছড়ি থানা এলাকায় ৮ জন এবং ভুজপুর থানা এলাকায় ১০ জন। ভুজপুর থানা এলাকায় দুটি অপহরণ ও একাধিক বাড়িঘর ভাঙচুর করে অগ্নিসংযোগের ঘটনাও ঘটে। ফটিকছড়ি থানা এলাকায় সর্বশেষ গত ২২ আগস্ট মব সৃষ্টি করে গণপিটুনিতে ঘটনাস্থলেই খুন হয়েছে মো. মাহিন (১৫) নামে এক স্কুলছাত্র। এ ঘটনায় আরও দুই কিশোর আহত হয়। বর্তমানে তারা চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে। 

এর আগে গত ২০ জুলাই লেলাং খাল থেকে সন্তোষ নাথ (৪০) নামে এক ট্যাক্সি ড্রাইভারের হাত-পা বাঁধা লাশ উদ্ধার, ১৮ জুলাই নাজিরহাট পৌরসভার পূর্ব ফরহাদাবাদ গ্রামে পুকুর থেকে মো. এনাম (৬০) নামে এক ব্যক্তির লাশ উদ্ধার করে পুলিশ।

৫ জুলাই নাজিরহাট পৌরসভা এলাকায় মো. জাহাঙ্গীর আলমকে (৫৫) তার বাড়ির সিঁড়ি রুম থেকে, ২২ জুলাই মাইজভান্ডারে মো. আরমান (২৮) নামে এক যুবককে নিজ ঘরের বাথরুম থেকে ও ৮ আগস্ট ফটিকছড়ি পৌরসভার রাঙামাটিয়া আশ্রয়ণ প্রকল্পের একটি ঘর থেকে আবুল মনছুর প্রকাশ ওরফে মনছুর বৈদ্য (৪৫) নামে এক ব্যক্তির গলাকাট লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। পরে এ ঘটনায় মুহাম্মদ মুছা নামে পল্লীচিকিৎসকে আটক করা হয়। এর আগে, গত বছরের ৩ সেপ্টেম্বর আলমগীর আলম (৪০) ও জাহাঙ্গীর আলম (৪৫) নামে দুই সহোদরকে মব সৃষ্টি করে পিটিয়ে হত্যা করে দুর্বত্তরা।

এদিকে, ভুজপুর থানা এলাকায় গত ১ বছরে নারী-পুরুষ ও শিশুসহ অন্তত ১০ জন হত্যাকাণ্ডের শিকার হয়েছে। সর্বশেষ গত ১ মাসে অপহরণ করা হয়েছে এক এনজিও কর্মকর্তা ও স্কুলছাত্রকে। স্কুল ছাত্রকে অপহরণের দুদিন পর মুক্তি পেলেও এনজিও কর্মকর্তার মুক্তিপণ হিসেবে গুনতে হয়েছে ৭ লাখ টাকা। ৫ আগস্ট বেলা সাড়ে ৩টার দিকে ভুজপুর কাজিরহাট বাজারের জেনারেল হাসপাতালের পাশে এক ভাড়াবাসা থেকে এনজিও পরিচালক মোহাম্মদ জসীম উদ্দীনকে (৩৮) তুলে নিয়ে যায় অপহরণকারীরা। পরে ৭ লাখ টাকা মুক্তিপণের বিনিময়ে ছাড়া পান তিনি। 

একইভাবে ৯ আগস্ট গভীর রাতে এলাকার রাঙাপানি চা বাগান থেকে ১৭ বছরের কিশোর সাজু ত্রিপুরাকে অপহরণের দুদিন পর বিবিরহাট বাসস্ট্যান্ডে তাকে ছেড়ে দেয় অপহরণকারীরা।

এ ছাড়া ভুজপুর ইউপি এলাকায় গত ৬ এপ্রিল জুলেখা খাতুন (৫৫) নামে এক মহিলা নিজের ছেলের হাতে খুন হয়েছেন। ৩ এপ্রিল মো. মাসুম (৩৩) নামে একই এলাকার এক যুবক প্রতিপক্ষের হাতে খুন হন। একই দিনে জঙ্গল হারুয়ালছড়ি গ্রামের সুরেণ রায়ের ছেলে তন্ময় রায় (১৩) তার বন্ধুদের দায়ের কোপে নিহত হয়েছে। ১৮ মার্চ দাঁতমারা শান্তিরহাট বাজারে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে রমজান আলী (২২) নামে এক যুবককে প্রকাশ্যে ছুরিকাঘাতে খুন করে প্রতিপক্ষরা। ৫ জুলাই উদালিয়া চা-বাগান এলাকায় সুপ্তা মাজি (১৫) নামে এক চা-শ্রমিককে কুপিয়ে হত্যা করে তারই আপন চাচাতো ভাই। গত ২৭ ফেব্রুয়ারি নিউ দাঁতমারা চা বাগানের ভেতর নিখোঁজের দুই দিন পর মো. বেলাল উদ্দিন (৪৫) নামে এক অটোচালকের গলাকাটা লাশ উদ্ধার করে থানা পুলিশ। 

এ ছাড়া গত ১ ফেব্রুয়ারি দাঁতমারা ইউপির বড় বেতুয়া গ্রামে মো. শহীদ (৩২) নামে এক বিএনপি কর্মীকে প্রতিপক্ষের লোকজন পিটিয়ে হত্যা করে। ১২ জানুয়ারি হারুয়ালছড়ি ইউপিতে আনিকা আক্তার (১৮) নামে এক যুবতীকে পারিবারিক কলহের জেরে তার মা ও ছোটভাই ছুরিকাঘাতে হত্যা করে। ৯ জানুয়ারি বাগানবাজার ইউপিতে বালু উত্তোলনে বাধা দিলে দুলায়েত হোসেন (৬০) নামে এক কৃষককে পিটিয়ে হত্যা করে অবৈধভাবে বালি উত্তোলনকারীরা। গত বছরের ২৯ নভেম্বর নিখোঁজের ১৩ দিন পর একটি পরিত্যক্ত টয়লেট থেকে তাবাচ্ছুম (৬) নামে এক শিশুর লাশ উদ্ধার করে ভুজপুর থানা পুলিশ।

এবিষয়ে ফটিকছড়ি থানার ওসি নূর আহমদ ও ভুজপুর থানার ওসি মো. মাহাবুবুল হক দাবি করেন, গত এক বছরে সংঘটিত সব হত্যাকাণ্ডে জড়িত অধিকাংশ আসামিকেই ইতোমধ্যে গ্রেপ্তার করে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে। বাকিদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।

এ বিষয়ে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (হাটহাজারী সার্কেল) কাজী মো. তারেক আজিজ বলেন, আমরা আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় সর্বোচ্চ চেষ্টা করছি। হত্যাকণ্ডে জড়িত আসামিদের গ্রেপ্তার করে আদালতে সপোর্দসহ রাত্রিকালীন পুলিশিং টহল বাড়ানো হয়েছে। পাশাপাশি গোয়েন্দা নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। তবে এ ধরনের অপরাধ রোধে জনসচেতনতা ও সামাজিক ঐক্য অপরিহার্য।

শেয়ার করুন-

মন্তব্য করুন

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মারুফ কামাল খান

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮১০, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০ | ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০, +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮০৭, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৩৩২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা