× ই-পেপার প্রচ্ছদ সর্বশেষ বাংলাদেশ রাজনীতি দেশজুড়ে বিশ্বজুড়ে বাণিজ্য খেলা বিনোদন মতামত চাকরি শিক্ষা আজকের কার্টুন ফিচার সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

আওয়ামী অনুপ্রবেশ রোখা যাচ্ছে না বিএনপিতে

শর্ষের মধ্যেই ভূত

মজুমদার ইমরান

প্রকাশ : ২৯ আগস্ট ২০২৫ ১১:৪০ এএম

ফাইল ছবি

ফাইল ছবি

কাল ৩০ আগস্ট, রাত পোহালেই নেত্রকোণা জেলা বিএনপির সম্মেলন। কাউন্সিলের ১০ দিন আগে চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশ করার কথা থাকলেও ২৬ তারিখ পর্যন্ত তা হয়নি। অভিযোগ রয়েছে, জেলা বিএনপির আহ্বায়ক ডা. আনোয়ার ও সদস্য সচিব রফিকুল ইসলাম হিলালীর স্বেচ্ছাচারিতায় এই অবস্থার সৃষ্টি। সম্মেলন সামনে রেখে বিভিন্ন ইউনিটে কমিটি গঠনে ত্যাগী ও পরীক্ষিত নেতাদের বাইরে রাখা হয়েছে। নিজেদের অনুগত লোকদের দিয়ে পকেট কমিটি গঠন, পতিত স্বৈরাচার আওয়ামী লীগের লোকদের বিভিন্ন পদে রাখায় ক্ষুব্ধ নেতাকর্মীরা।

জেলার বিএনপির আহ্বায়ক ডা. আনোয়ার যথাক্রমে সভাপতি ও সদস্য সচিব রফিকুল ইসলাম হিলালী সাধারণ সম্পাদক পদপ্রার্থী। এ কারণেই তারা অনুগতদের দিয়ে বিভিন্ন ইউনিট কমিটি করছেন। আটপাড়া উপজেলা কমিটি থেকে ত্যাগী ও যোগ্যদের বাদ দিয়ে কমিটি গঠনের প্রতিবাদে গত সোমবার বিক্ষোভ মিছিল করেছেন নেতাকর্মীরা। জেলা বিএনপির সদস্য সচিব রফিক হিলালী ভোটার তালিকা তৈরি করেছেন। সেখানে তেলিগাতী ইউনিয়নের যুবলীগের যুগ্ম আহ্বায়ক শ্রীরামপাশা গ্রামের মাসুদ রানাকে সদ্যঘোষিত কমিটিতে ত্রাণ ও পুনর্বাসন সম্পাদক করা হয়েছে। এ বিষয়ে ময়মনসিংহ বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক শরীফুল আলমের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি। তার বাসায় গিয়েও সাক্ষাৎ মেলেনি। অভিযোগ রয়েছে, হিলালীর সঙ্গে সখ্যের কারণে তিনি আটপাড়া উপজেলা, কেন্দুয়া উপজেলা এবং পৌর কমিটি গঠনে পক্ষপাতিত্ব করেছেন। তেলিগাতী ইউনিয়ন যুবলীগের ৮নং যুগ্ম আহ্বায়ক মাসুদ রানাকে উপজেলা বিএনপির ৪৮নং সিরিয়ালে ত্রাণ ও পুনর্বাসন সম্পাদক করা হয়েছে। শুধু আটপাড়া নয়, কেন্দুয়া উপজেলা কমিটি গঠনেও রয়েছে অনিয়ম ও স্বজনপ্রীতির অভিযোগ।

জানতে চাইলে দলটির ময়মনসিংহ বিভাগীয় সহসাংগঠনিক সম্পাদক মো. শরিফুল আলম প্রতিদিনের বাংলাদেশকে বলেন, ভোটিংয়ের মাধ্যমে উপজেলায় সভাপতি-সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত করা হয়। সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক উপজেলা, ইউনিয়ন পর্যায়ে পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠন করেন। আওয়ামী লীগের লোক দিয়ে কমিটি গঠন হয়ে থাকলে এটা দুঃখজনক। কোথাও এই ধরনের ঘটনা ঘটে থাকলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।

এমন ঘটনা শুধু একটি জেলায়ই সীমাবদ্ধ নয়। সম্প্রতি জামালপুরের মেলান্দহে বিএনপির কমিটিতে ঠাঁই পেয়েছেন গোলাম মতিউর রহমান মুক্তা নামের এক আওয়ামী লীগ নেতা। এ ঘটনার প্রতিবাদ জানিয়ে ত্যাগীদের সমন্বয়ে ফের কমিটি গঠনের দাবি জানিয়েছেন নেতাকর্মীরা। গোলাম মতিউর রহমান মুক্তা উপজেলার কুলিয়া ইউনিয়ন বিএনপির ১ নম্বর সদস্য পদ পেয়েছেন। তিনি ওই ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের ১ নম্বর সদস্য ও টনকী জোবায়দা জব্বার উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক।

সম্প্রতি নওগাঁয় এক অনুষ্ঠানে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেন, আগামী দিনে আল্লাহ চাহে তো দেশ আপনাদের হাতে থাকবে। তবে খেয়াল রাখতে হবেÑ আপনাদের চারপাশে অনেক ঘুঘু ঘুরছে। এরা স্বার্থ বুঝে আপনাদের ব্যবহার করবে, সুনাম নষ্ট করবে, দুঃসময়ে পালিয়ে যাবে। তাই ঘুঘুদের বিষয়ে সাবধান থাকতে হবে। ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের এমন সতর্কবার্তার পরও দল পুনর্গঠনে আওয়ামী অনুপ্রবেশের ঘটনা ঘটছে। 

সূত্রমতে, বিএনপির ৮২ সাংগঠনিক জেলার বেশিরভাগই আহ্বায়ক কমিটি। এ ছাড়া তৃণমূলে অনেক জায়গায় রয়েছে আহ্বায়ক কমিটি, অনেক জায়গায় কমিটিই নেই। বিএনপির দপ্তর সূত্রে জানা গেছে- সম্প্রতি মেহেরপুর, কুড়িগ্রাম, মাগুরা, নাটোর, বান্দরবান, চট্টগ্রাম দক্ষিণ, মানিকগঞ্জ, মুন্সীগঞ্জ, নারায়ণগঞ্জ, গাজীপুর, নোয়াখালী, সাতক্ষীরা, কুমিল্লা দক্ষিণ, কুমিল্লা মহানগর, নরসিংদী, খুলনা, ব্রাহ্মণবাড়িয়াসহ আরও কয়েকটি জেলার নতুন কমিটি দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে নরসিংদীর কমিটি হয়েছে সরাসরি ভোটে। তৃণমূলের ইউনিয়ন, পৌর ও উপজেলায় অনেক কমিটি দেওয়া হয়েছে। বাকি কমিটি গঠনে দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতারা কাজ করছেন। 

২০০৭ সালের ১১ জানুয়ারি থেকে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট পর্যন্ত প্রতিকূল পরিবেশে রাজনীতি করেছে বিএনপি। অভ্যুত্থানের পর পুরোপুরি সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডে ফেরে দলটি। গত বছরের নভেম্বরে ঢাকা বাদে ৯ সাংগঠনিক বিভাগের অন্তর্ভুক্ত ইউনিয়ন, উপজেলা, পৌর, থানা কমিটি থেকে শুরু করে মহানগর ও জেলা কমিটি সম্মেলন ও কাউন্সিলের মাধ্যমে পূর্ণাঙ্গ কমিটি শেষ করতে ৯ নেতাকে চিঠি দিয়ে দায়িত্ব দেওয়া হয়। ৩ মাসের মধ্যে এসব কমিটি করার নির্দেশনা ছিল ওই চিঠিতে। রাজশাহী বিভাগের দায়িত্ব দেওয়া হয় চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আব্দুস সালামকে, সিলেট বিভাগে স্থায়ী কমিটির সদস্য অধ্যাপক এজেডএম জাহিদ হোসেন, ময়মনসিংহ বিভাগে যুগ্ম মহাসচিব হাবিব-উন-নবী খান সোহেল, খুলনা বিভাগে চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আমানউল্লাহ আমান, বরিশাল বিভাগে ভাইস চেয়ারম্যান আব্দুল আউয়াল মিন্টু, রংপুর বিভাগে ভাইস চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান দুদু, কুমিল্লা বিভাগে ভাইস চেয়ারম্যান বরকতউল্লা বুলু, ফরিদপুর বিভাগে ভাইস চেয়ারম্যান ড. আসাদুজ্জামান রিপন ও চট্টগ্রাম বিভাগে ভাইস চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট আহমেদ আযম খানকে। দায়িত্বপ্রাপ্তরা বিভাগের সাংগঠনিক সম্পাদক, সহসাংগঠনিক সম্পাদক এবং মহানগর ও জেলার সভাপতি/আহ্বায়ক, সাধারণ সম্পাদক/সদস্য সচিবদের সঙ্গে বৈঠক করে সম্মেলনের কার্যক্রম শুরু করার নির্দেশনা ছিল। তবে দায়িত্ব পাওয়ার পর নেতারা ইতোমধ্যে ৭ মাস পার করেছেন। শুধু তা-ই নয়, নির্দেশনা দিয়ে বলা হয়Ñ বিএনপির এবং এর অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের ওয়ার্ড থেকে কেন্দ্রীয় কমিটি পর্যন্ত কোনো স্তরের কমিটিতে অন্য কোনো রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মী বা অরাজনৈতিক ব্যক্তিকে যোগদান করানো যাবে না।

জানতে চাইলে বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব ও ময়মনসিংহ বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতা হাবিব-উন-নবী খান সোহেল প্রতিদিনের বাংলাদেশকে বলেন, আমাদের দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের কঠোর নির্দেশনা রয়েছে অনুপ্রবেশকারীদের বিষয়ে। দলের কোনো পর্যায়ের কমিটিতেই অনুপ্রবেশকারীদের স্থান দেওয়ার সুযোগ নেই। তারপরও কোথাও এর ব্যত্যয় ঘটলে আমরা ব্যবস্থা গ্রহণ করব। কেউ কেউ অনুপ্রবেশ করে নানা অপকর্মে জড়িয়ে বিএনপির ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করছেন। এই বিষয়ে আরও সজাগ থাকব।

শেয়ার করুন-

মন্তব্য করুন

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মারুফ কামাল খান

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮১০, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০ | ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০, +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮০৭, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৩৩২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা