হাবিব ওসমান, কালীগঞ্জ (ঝিনাইদহ) প্রতিবেদক
প্রকাশ : ১৫ আগস্ট ২০২৫ ১৫:০৮ পিএম
প্রভাবশালীদের অবৈধ দখল আর কর্তৃপক্ষের উদাসীনতায় মানচিত্র থেকে হারিয়ে যাচ্ছে ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ পৌর এলাকার আড়পাড়া-পরামানিক পাড়ার ওয়াপদা খাল। এক সময় এই খাল দিয়েই চিত্রা নদীতে পড়ত দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের সবচেয়ে ভারী শিল্প প্রতিষ্ঠান মোবারকগঞ্জ চিনিকলের বর্জ্যের পানি। চিত্রা নদীর সঙ্গে সংযোগ থাকায় আড়পাড়ার মাঠের পানিও এই খাল দিয়ে নদীতে পড়ত। খালটি দখল করে গড়ে তোলা হয়েছে বড় বড় ইমারত, মার্কেট। দেশ স্বাধীনের পর থেকে ধারাবাহিকভাবে চলছে দখল। ফলে এখন আর দেখে চেনার উপায় নেই। ভূমিদস্যুদের হাত থেকে এই পুরাতন খালটি দখলমুক্ত করার দাবি এলাকাবাসীর।
কালীগঞ্জ শহরের প্রাণকেন্দ্র দিয়ে বয়ে যাওয়া দুই কিলোমিটার দৈর্ঘ্যের ওয়াপদা খালটির উৎপত্তি শহরের আড়পাড়ার গ্রামের পরামানিক পাড়া থেকে। পরামানিকপাড়া থেকে মহিলা কলেজের উত্তরপাশ দিয়ে বয়ে গিয়ে হাসপাতালের নিকটবতী চিত্রা নদীতে মিশেছে। খালের দু’পাশে বাড়ি এবং অবশিষ্ট অংশ ময়লা-আবর্জনা দিয়ে ভরাট করে ফেলা হয়েছে। বর্জ্য ফেলায় দূর্গন্ধ সৃষ্টি হচ্ছে প্রতিনিয়ত, ফলে দু’পাড়ের বাসিন্দাদের চরম দূর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। পানি নিষ্কাশনের সঠিক ব্যবস্থা না থাকায় বর্তমানে পানিবন্দী হয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছে শতাধিক পরিবার।
দীর্ঘদিন ধরে সংস্কার না হওয়ায় আগাছা ও ঘন জঙ্গলে ভরে গেছে খালটি। বোঝার উপায় নেই, যে এটা একটা খাল। দু’পাড় দখল করে বড় বড় ইমারত নির্মাণ আর দোকান বসিয়েছে অবৈধ দখলদাররা। অন্যদিকে ময়লা-আবর্জনা ফেলে পরিবেশ দুষণ হচ্ছে প্রতিনিয়ত। মশা-মাছি সহ নানা রোগব্যাধিতে আক্রান্ত হচ্ছে এই অঞ্চলের মানুষ। প্রতিবছর বর্ষাকাল এলেই চিত্র পাল্টে যায়, খাল দিয়ে পানি নদীতে প্রবাহের উপযুক্ত ব্যবস্থা না থাকায় বর্তমানে খালের দুকুল ছাপিয়ে বসতবাড়িতে পানি ঢুকে তলিয়ে গেছে আড়পাড়া গ্রামের পরামানিক পাড়ার শতাধিক বসতবাড়ি।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, এসব জলাশয় তদারকি করার কেউ না থাকায় ইচ্ছামত খালটি দখল করে নিচ্ছে ভূমিদস্যুরা। আড়পাড়া নদীপাড়ার মিরু খাঁ বলেন, খালটির দূ’পাড় দীর্ঘদিন ধরে প্রভাবশালীরা দখল করে নির্মাণ করেছেন দৃষ্টিনন্দন বাড়ি, ঘর, মার্কেট ও দোকানঘর। যখন যে সরকার ক্ষমতায় আসে, সেই সরকারের জনপ্রতিনিধিদের সহায়তা ও প্রশাসনের সঠিক নজরদারির অভাবে এভাবে দখল হয়ে আসছে, যেটা এখনও অব্যহত আছে। বর্তমানে পানিবন্দী শতাধিক পরিবার মানবেতর জীবনযাপন করছেন। এই এলাকায় নিম্ন-আয়ের মানুষের খাবার ও বিশুদ্ধ খাবার পানির সংকট দেখা দিয়েছে।
এই খাল দখল নিয়ে গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশিত হলেও টনক নড়ে না কর্তৃপক্ষের। এটা নিয়ে অনেকবার সরকারি কর্তা ব্যক্তি ও জনপ্রতিনিধিদের কাছে একাধিকবার অভিযোগ দিলেও কোনো ব্যবস্থা নেননি তারা। আমরা চাই, উপজেলা প্রশাসন এবং পানি উন্নয়ন বোর্ড খুব দ্রুত সময়ের মধ্যে অবৈধ দখলদারদের উচ্ছেদ করে খালটি দখলমুক্ত এবং খনন করে পানি প্রবাহ স্বাভাবিক করবেন।
খাল অবৈধ দখলদারদের হাত থেকে দখরমুক্ত করার বিষয়ে কথা বললে কালীগঞ্জ নির্বাহী কর্মকর্তা দেদারুল ইসলাম বলেন, শহরের প্রাণকেন্দ্রের এই খালটি দীর্ঘদিন ধরে ভূমিদস্যূরা দখল করছে। অচিরেই উপজেলা প্রশাসন ও পানি উন্নয়ন বোর্ডের সহয়তায় অবৈধ দখলদারদের তালিকা করে খালটি দখলমুক্ত করব এবং পুরাতন রূপ ফিরিয়ে আনব।