× ই-পেপার প্রচ্ছদ সর্বশেষ বাংলাদেশ রাজনীতি দেশজুড়ে বিশ্বজুড়ে বাণিজ্য খেলা বিনোদন মতামত চাকরি শিক্ষা আজকের কার্টুন ফিচার সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

আন্দোলন যেভাবে অভ্যুত্থানে রূপ নেয়

আবু রায়হান তানিন, চট্টগ্রাম

প্রকাশ : ০৫ আগস্ট ২০২৫ ১৬:০৪ পিএম

আন্দোলন যেভাবে অভ্যুত্থানে রূপ নেয়

শান্তিপূর্ণ বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনে উত্তাপ ছড়িয়ে পড়ে চট্টগ্রামের মুরাদপুর থেকে। ১৬ জুলাই মুরাদপুরে চরম প্রতিরোধের মুখে পড়ে ছাত্রলীগ। এতে আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ছাত্রলীগ নেতাকর্মীদের মনোবল ভেঙে যায়, অন্যদিকে প্রচণ্ড আত্মবিশ্বাসী হয়ে ওঠে আন্দোলনকারীরা। যার ধারাবাহিকতায় অবসান হয় আওয়ামী লীগের ১৬ বছরের কতৃত্ববাদী শাসনের। হঠাৎ ছড়িয়ে পড়া সেদিনের সহিংসতায় সিদ্ধান্তহীনতায় পড়েন আন্দোলনের সমন্বয়কারীরা। অন্যদিকে পেছন থেকে ঘটনাপ্রবাহ নিয়ন্ত্রণ করছিল ছাত্রশিবির ও ছাত্রদলের নেতারা। 

কী ঘটেছিল মুরাদপুরে

১৫ জুলাই থেকে উত্তাপ বাড়তে থাকে। তবে পরদিন চট্টগ্রাম মহানগর ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক নুরুল আজিম রনির নেতৃত্বে স্টেশনে অবস্থান নেয় ছাত্রলীগ। তবে আন্দোলনকারীরা ২ নম্বর গেটের বদলে মুরাদপুর মোড়ে অবস্থান নেয়। বেলা ৩টার দিকে স্টেশন থেকে মিছিল নিয়ে ছাত্রলীগ মুরাদপুর গেলে সংঘর্ষের শুরু হয়।

ওই সংঘর্ষের সময় মুরাদপুরের বেলাল মসজিদ কমপ্লেক্সের পাশে ৫ তলা মিরদাদ ভবনের ছাদে আটকে পরা আটজন ছাত্রলীগ নেতাকর্মী গুরুতর আহত হন। ছাত্রলীগ দাবি করে ওই নেতাকর্মীদের ভবন থেকে ফেলে দিয়েছিল আন্দোলনকারীরা। আন্দোলনে সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ওই ভবন থেকে পাথর ছুড়ে মারছিল ছাত্রলীগ নেতাকর্মীরা। এক পর্যায়ে ক্ষুব্ধ হয়ে শিক্ষার্থীরা ওই ভবনে উঠে ছাদের দরজা ভেঙে ছাদে প্রবেশ করে। সেই সময় ভয়-আতঙ্কে ছাত্রলীগ নেতাকর্মীরা ভবনের পাইপ বেয়ে নিচে নামার চেষ্টা করে। তারাই মূলত নিচে পড়ে আহত হয়েছে। এই ঘটনার জের ধরে সংঘাতে গুলিবিদ্ধ হয়ে ছাত্রদল নেতা ওয়াসিম, শিবির নেতা ফয়সাল আহমেদ শান্ত ও ফার্নিচার মিস্ত্রি ফারুক নিহত হন।

আন্দোলনের মোড় ঘুরানো মুরাদপুরে মূল নেতৃত্ব ছিল 

সরকারি সিটি কলেজের শিক্ষার্থী নয়ন বলেন, ‘দুপুরে স্টেশন গিয়ে শুনি ছাত্রলীগ স্টেশন দখল করেছে। তখন মূল রাস্তা ফেলে বিকল্প রাস্তা দিয়ে মুরাদপুর যাই। সেখানে গিয়ে দেখি বিশাল জমায়েত। এক পর্যায়ে ছাত্রলীগ স্টেশন থেকে এসে সেখানে হামলা করে। এর মধ্যে সমন্বয়করা সিদ্ধান্তহীন হয়ে পড়ে। এক পর্যায়ে দেখি সিএনজিতে করে লাঠিসোটা আনা হয় আন্দোলনকারীদের জন্য। মূলত শিবির এই লজিস্টিক সাপোর্ট দিয়েছিল। ছাত্রদলের নেতাকর্মীরাও সেখানে এসে জড়ো হয়। সেখান থেকে পাল্টা প্রতিরোধের শুরু হয়।’

সমন্বয়ক নাফিজা সুলতানা অমি বলেন, ‘সমন্বয়করা সিদ্ধান্তহীন হয়ে গেছিল কি না এটা আমার জানা নেই। আমরা যখন মুরাদপুর যাই তখন সংঘর্ষ শুরু হয়। আমাদের ২০ মিনিট পর রাফি সেখানে আসে। সে রিকশায় উঠে স্লোগান দিচ্ছিল। তবে এটা সত্য সেদিনের ঘটনাপ্রবাহ ছিল রাজনৈতিক সংগঠনগুলোর নিয়ন্ত্রণে। যেমনÑ এমইএস কলেজ ছাত্রদলের সায়েদ হোসাইনসহ কয়েকজন একটা টিম করে আহতদের মেডিকেলে আনা-নেওয়া করছিল।’

ছাত্রশিবিরের পক্ষ থেকে ওই সময়ে আন্দোলনের কর্মসূচি সমন্বয় করছিলেন শিবিরের জাহেদুল আলম জয়। মূলত পতেঙ্গা থেকে জয়ের সঙ্গেই মুরাদপুর এসেছিলেন শান্ত। প্রতিদিনের বাংলাদেশকে তিনি বলেন, ‘হামলা শুরু হলে আমরা প্রতিরোধের প্রস্তুতি নেই। ওই সময় মিরদাদের ঘটনা ঘটে। আমাদের একটি টিম সেখানে সক্রিয় ছিল। সমন্বয়করা যখন সিদ্ধান্তহীন হয়ে পড়ে তখন আমরা সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিয়েছিলাম কীভাবে শিক্ষার্থীদের নিরাপদে মুরাদপুর থেকে সরিয়ে নেব। ধাপে ধাপে সেটি আমরা করতে থাকি। পরে আমরা শহীদদের লাশ গ্রহণ করতে চট্টগ্রাম মেডিকেল যাই। শান্তের মায়ের দাবি ছিল যেন তার লাশ কাটাছেঁড়া না হয়। মেডিকেলে অবস্থান নিয়ে সেই দাবি আমরা জানাই। তখন সেখান থেকে দক্ষিণ শাখা শিবিরের তৎকালীন সাধারণ সম্পাদক ইলিয়াস শাহরিয়ার ও আকিব ইবনে ইউসুফসহ আমি গ্রেপ্তার হই। আমাদের গ্রেপ্তার দেখানো হয় ওয়াসিম, শান্ত ও ফারুকের হত্যা মামলায়।

ওইদিন নগর ছাত্রদলের পক্ষ থেকে পুরো ঘটনা তদারকি করছিলেন চট্টগ্রাম মহানগর ছাত্রদলের সদস্য সচিব শরিফুল ইসলাম তুহিন। মাঠে নেতৃত্ব দিচ্ছিলেন যুগ্ম আহ্বায়ক খন্দকার রাজিবুল হক বাপ্পী। চট্টগ্রাম মহানগর ছাত্রদলের আরেক যুগ্ম আহ্বায়ক সাব্বির আহমেদ প্রতিদিনের বাংলাদেশকে বলেন, ‘আমরা নেতাকর্মীদের দুই ভাগে ভাগ করি। যারা চিহ্নিত তাদের নিয়ে আমরা ওয়াসা এলাকায় অবস্থান নেই। যারা একটু কম পরিচিত তাদের কলেজের শিক্ষার্থীদের সঙ্গে মুরাদপুর পাঠাই। যখন ছাত্রলীগ স্টেশন আর আন্দোলনকারীরা মুরাদপুরে অবস্থান নিল তখন আমরা ওয়াসা থেকে স্টেশনের দিকে মিছিল নিয়ে যাই। সেখানে একটা ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া হয়। এর জের ধরে ছাত্রলীগ মুরাদপুরের দিকে যায়। সেখানে আমরাও যুক্ত হই। ওয়াসিম আগে থেকে মুরাদপুর ছিল। চট্টগ্রাম কলেজ ছাত্রদলের সদস্য সচিব ফারুক খানও ছিল। ছাত্রদলকে একেবারে সামনে থেকে নেতৃত্ব দিয়েছে বাপ্পী। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের আহ্বায়ক আলাউদ্দিন মহসীনও তৎপর ছিলেন। পুরো বিষয়টা সমন্বয় করেছেন সদস্য সচিব তুহিন। পরদিন গায়েবানা জানাজা থেকে তুহিনকে পুলিশ গ্রেপ্তার করে।’

শেয়ার করুন-

মন্তব্য করুন

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মারুফ কামাল খান

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮১০, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০ | ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০, +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮০৭, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৩৩২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা