× ই-পেপার প্রচ্ছদ সর্বশেষ বাংলাদেশ রাজনীতি দেশজুড়ে বিশ্বজুড়ে বাণিজ্য খেলা বিনোদন মতামত চাকরি শিক্ষা আজকের কার্টুন ফিচার সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

সাক্ষাৎকার : রাশেদ খাঁন

নেপথ্যে থেকে সব ধরনের সহযোগিতা দিয়ে গেছে রাজনৈতিক দলগুলো

প্রবা প্রতিবেদক

প্রকাশ : ০৫ আগস্ট ২০২৫ ১১:৫০ এএম

গণঅধিকার পরিষদের সাধারণ সম্পাদক রাশেদ খাঁন।

গণঅধিকার পরিষদের সাধারণ সম্পাদক রাশেদ খাঁন।

২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের সাধারণ ছাত্র-জনতা সামনে ছিল; পেছন থেকে রাজনৈতিক দলগুলো সহযোগিতা করে আন্দোলন সফল করেছে বলে জানিয়েন গণঅধিকার পরিষদের সাধারণ সম্পাদক রাশেদ খাঁন। তিনি বলেন, ১৭ বছর ধরে দলগুলো মাঠে ছিল, তারা তো সব সময় কিছু না কিছু করেছে। আন্দোলন অব্যাহত রেখেছে। রাজনৈতিক দলগুলোর ব্যানারে আন্দোলন করলে, সেটাকে সহজে থামানো যায়। সাধারণ ছাত্র-জনতার ব্যানারে আন্দোলন হলে সেটা দমন করা কঠিন হয়ে পড়ে। গণঅভ্যুত্থানের বর্ষপূর্তি উপলক্ষে প্রতিদিনের বাংলাদেশকে দেওয়া এক সাক্ষাতকারে তিনি এসব কথা বলেন। 

রাশেদ খাঁন বলেন, গণঅভ্যুত্থানে হাসিনার দমন-পীড়ন থেকে জনমনে জমা ক্ষোভের বিস্ফোরণ ঘটেছে। ১৭ বছরের দমন পীড়নে ৯০ পার্সেন্ট ক্ষোভ জমা ছিল এবং যখন ছাত্র-জনতার ওপর গুলি হলো, তখন শতভাগ ক্ষোভ তৈরি হয়। আর তখনই সবাই রাস্তায় নেমে আসে। রাজনৈতিক দলগুলোর ভূমিকা এখানে অনেক। যারা বলে রাজনৈতিক দলগুলো ১৭ বছর ধরে ব্যর্থ হয়েছে, তারা যদি ১৭ বছরে রাজনৈতিক দলের সাথে মাঠে নামতো, তাহলে হাসিনার পতন তখনই হয়ে যেতো। 

তিনি বলেন, যুগে যুগে যত আন্দোলন হয়েছে, ছাত্রদের ছাড়া কোনো আন্দোলন বাংলাদেশে সফল হয়নি। ১৯৯০ এ স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলন, ৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধসহ সব গণতান্ত্রিক আন্দোলনে ছাত্ররা সফল হয়েছে। ক্যাম্পাসে আন্দোলনে আমরা ছাত্রদের ওপর আস্থা রেখেছি। রাজনৈতিক নেতৃত্ব যেমন ছাত্রদের ওপর আস্থা ও বিশ্বাস রেখেছে, আমরাও বিশ্বাস রেখেছি এবং তারাও তাদের জায়গা থেকে সেই কাজটা করেছে। ছাত্ররাও রাজনৈতিক নেতাদের ওপর এই বিশ্বাস রেখেছে তাদের ডাক দেওয়া হলে জনতা তাদের পাশে এসে দাড়িয়েছে। আন্দোলন সফল হয়েছে। 

রাশেদ খাঁন বলেন, ২০১৮ সালে কোটা আন্দোলন আমাদের নেতৃত্বে হয়েছিল। ২০১৮ সালের আন্দোলনে নেতৃত্ব দিয়েছিল বাংলাদেশ সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদ। পরবর্তীতে এর নাম রাখা হয় ছাত্র অধিকার পরিষদ। এ সংগঠন থেকে এখন রাজনৈতিক দলও গঠন করা হয়েছে। কোটা সংস্কার আন্দোলন মূলত একটি সামাজিক আন্দোলন। ২০২৪ সালে কোটা আন্দোলন আবার ফিরে আসল, তখন আমি আবার মাঠে নেমেছি। আমি বলতে চাচ্ছি, প্রত্যেকে প্রত্যেকের জায়গায় থেকে মাঠে নেমেছে। আমরা বিএনপিকে বলেছি, আপনারা এই আন্দোলনকে কাজে লাগাতে পারেন। আমরা পুরো সাপোর্ট দেবো। আমি বিএনপিকে ধন্যবাদ দিতে চাই, তারা আমাদের নিরাশ করেনি। তারা আমাদের কথা রেখেছিল। জনগণের সাথে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে আমরা সেতুবন্ধন হিসেবে কাজ করেছি। যারা বলে ১৭ বছর রাজনৈতিক দলগুলো কিছু করেনি, তারা ১৭ দিনও রাস্তায় ছিল না। এই আন্দোলনে সবার ভূমিকা রয়েছে, কাউকে আমরা ছোট করতে চাই না। আমরা ছাত্র অধিকার পরিষদকে বলেছি, আপনারা এ আন্দোলনে থাকেন। শিক্ষার্থীদের সাথে সমন্বয় করে আন্দোলনে নেতৃত্ব দিন, ভূমিকা রাখুন। ২০১৮ সালে আমি কোটা আন্দোলনের নেতৃত্বে ছিলাম এবং ১৮ দিন পুলিশের হেফাজতে ছিলাম। পুলিশি নির্যাতনের শিকার হয়েছিলাম।

রাশেদ খাঁন বলেন, ২০২৪ সালে আন্দোলন শুরু হওয়ার চার পাঁচদিনের মধ্যে আমরা এই পরিকল্পনা করি। ছাত্রদলকে আন্দোলনে সম্পৃক্ত হওয়ার জন্য বলা হয়। আমি আখতারকে (এনসিপির বর্তমান সদস্য সচিব) কয়েকবার জিজ্ঞেস করি, অন্যান্য ছাত্র সংগঠন সম্পৃক্ত আছে কিনা? তারপর আমি জিজ্ঞেস করলাম আন্দোলনে ছাত্রশিবির সম্পৃক্ত আছে কিনা? আখতার বলল, ‘তাদের সাথে কথা হয়েছে। তারা আন্দোলনে থাকবে।’ তবে বিষয়টা যেটা হয়েছিল, শুরুতে এ আন্দোলন কোটা সংস্কার আন্দোলনের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে কিনা? আখতার বলেছিল, ‘আপাতত কোটা সংস্কার আন্দোলনের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে’। আমি তখন বিএনপিকে বলেছিলাম আন্দোলন যেটাই হোক, আন্দোলনে ছাত্রদলকে সম্পৃক্ত করেন। এ আন্দোলনকে কাজে লাগানোর জন্য একটা ‘গোপন’ আলোচনা হয়। আমি আন্দোলনকারীদের বললাম, আন্দোলন বড় হলে হাসিনা বাধা দেবে। বাধা দিলে সাধারণ মানুষ ও শিক্ষার্থীরা ওভাবে থাকবে না। তখন রাজনৈতিকভাবে সেটা মোকাবিলা করতে হবে। সুতরাং বাধা দেওয়ার আগ পর্যন্ত আন্দোলনে আসা-যাওয়া করতে হবে। যখন বাধা দেবে, তখন পাল্টা-প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে। এটি ছিল আমার নিজস্ব চিন্তা। আমাদের সভাপতি (নুরুল হক নুর) নিজেও এটি চিন্তা করছিলেন বলে জানান। আমরা নিজেরা আলাপ আলোচনাও করলাম। সব জিনিস সবার সাথে আলোচনা করে আসলে হয় না।

শেয়ার করুন-

মন্তব্য করুন

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মারুফ কামাল খান

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮১০, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০ | ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০, +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮০৭, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৩৩২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা