× ই-পেপার প্রচ্ছদ সর্বশেষ বাংলাদেশ রাজনীতি দেশজুড়ে বিশ্বজুড়ে বাণিজ্য খেলা বিনোদন মতামত চাকরি শিক্ষা আজকের কার্টুন ফিচার সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

সাক্ষাৎকার : মাহফুজ আলম

আওয়ামী লীগ দানব হয়ে ওঠায় গণঅভ্যুত্থান অনিবার্য ছিল

প্রবা প্রতিবেদক

প্রকাশ : ০৫ আগস্ট ২০২৫ ১১:৪২ এএম

মাহফুজ আলম

মাহফুজ আলম

গত কয়েক বছরের আওয়ামী দুঃশাসনের চিত্রটা চোখের সামনে পরিষ্কার দৃশ্যমান ছিল। ২০১৫ সালে বিএনপির অসহযোগ আন্দোলন আর আওয়ামী সরকারের দমন নিপীড়নের মাধ্যমে ‘বিরোধী দলের অস্তিত্বহীন’ একটা স্টাইলে বাংলাদেশকে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল বলে মন্তব্য করেন তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা মাহফুজ আলম। জুলাই গণঅভ্যত্থানের বর্ষপূর্তি উপলক্ষে গণমাধ্যমকে দেওয়া এক সাক্ষাতকারে তিনি এসব কথা বলেন।

জুলাই অভ্যুত্থান চলাকালীন আন্দোলনকে বেগবান করতে আড়ালে থেকে নেতৃত্ব দিয়েছেন মাহফুজ আলম। ছিলেন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের লিঁয়াজো কমিটির সমন্বয়ক। আওয়ামী সরকারের ব্যাপক হত্যাকাণ্ড ও গণ গ্রেফতারের মধ্যেও আন্দোলনটিকে সচল রাখার কাজ করেছিলেন। জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৭৯তম অধিবেশনের ফাঁকে সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট বিল ক্লিনটনের ‘ক্লিনটন গ্লোবাল ইনিশিয়েটিভ লিডার্স স্টেজ’ অনুষ্ঠানে অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস তাকে চব্বিশের জুলাই অভ্যুত্থানে নেপথ্যের নায়ক হিসেবে পরিচয় করিয়ে দেন। চলতি বছরে ফেব্রুয়ারিতে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা হিসেবে শপথ নেন। 

মাহফুজ আলম বলেন, আওয়ামী লীগ মূলত শাপলা-শাহবাগের বাইনারির দ্বারা এমন একটা রাষ্ট্রীয় বিভাজন সামনে এনেছিল, যেখানে রাষ্ট্রকে হয় ইসলামিস্ট না হয় সেক্যুলার করার একটা দৃশ্য দেখানো হয়েছিল। ১৮ সালের রাতের নির্বাচনের পর ধীরে সুস্থে একটা ঘটনা ঘটছিল। আর সেটা হলো, মুজিববাদী সংগঠনগুলোর বাইরে তরুণদের একটা ডেমোক্রেটিক প্রেসার গ্রুপের আবির্ভাব ঘটছিল। নিয়মতান্ত্রিক রাজনীতির বাইরে থাকলেও তারা কিন্তু আসলে একটা পলিটিক্যাল ফ্রন্টই ছিল, যা আমরা এখন দেখতে পাচ্ছি। ফলে এই আন্দোলনে রাজনৈতিক সচেতনভাবে তাদের অংশ নেওয়াটা সহজ ছিল। আওয়ামী লীগের এমন দানব হয়ে ওঠা, আরেকদিকে ধীরে ধীরে আওয়ামী লীগ তৈরিকৃত বয়ানগুলোকে ধরে ধরে প্রতিরোধ গড়ে ওঠা, সব মিলিয়েই একটি ছাত্র-নাগরিক অভ্যুত্থান অনিবার্য হয়ে উঠেছিল।

তিনি বলেন, ভারতের আগ্রাসনের কারণে যে সীমান্তে অহরহ হত্যাকাণ্ড হচ্ছে, হাসিনা যে একটা পুতুল সরকারে পরিণত হয়েছিল -এই আন্দোলনটা ভারতের এই ভয়ঙ্কর আগ্রাসনের বিষয়গুলো প্রথম পাবলিক ফেয়ারে এনে দিলো। অন্যদিকে বিশ্বজিৎ দাস হত্যাকাণ্ডের মাধ্যমে ২০১৩ সাল থেকে ১৮ সাল পর্যন্ত ছিল শিবির সন্দেহে পিটিয়ে মেরে ফেলার একটি কালচার বজায় রাখা হয়েছিল। আবরার ফাহাদের শাহাদাতের পর এটা অনেকটা কমে আসে। আবরার ফাহাদের শহীদ হওয়ার ঘটনাটা আমাদের ভেতর বড় একটা সংবেদনশীলতা তৈরি করেছিল। সত্যি বলতে নিয়মতান্ত্রিক আন্দোলন বা রাজনীতি করে স্বৈরাচারী আওয়ামী লীগকে নামানোর কোন উপায় ছিল না। কারণ গণতান্ত্রিকভাবে ক্ষমতা হস্তান্তরের প্রক্রিয়া নির্বাচন ব্যবস্থাকে আওয়ামী লীগ সম্পূর্ণরূপে নষ্ট করে দিয়েছিল, ১৮ সালে নির্বাচনে গিয়ে বিএনপি প্রতারিত হয়েছিল। তাছাড়া বিরোধী দলের অস্তিত্বকে বিলীন করে দেওয়ার মাধ্যমে আসলে আওয়ামী লীগ ক্ষমতা থেকে নামার সব পথ বন্ধ করে দিয়েছিল। সেনাবাহিনী টেক ওভার করার একটা পদ্ধতি ছিল। বিডিআর ম্যাসাকার থেকে শুরু করে বিভিন্ন পলিটিক্যাল বিষয়ে জড়িয়ে নৈতিক শক্তি যেটাকে বলে, তা ভেঙে দেওয়া হয়েছিল। এছাড়াও ১/১১ সরকারের ব্যর্থতা সেনাবাহিনীর মাথায় ছিল। যেভাবে শেখ হাসিনা ও তার নিরাপত্তা উপদেষ্টা তারেক সিদ্দিকী দ্বারা যেভাবে সেনাবাহিনী ব্যবহার হয়েছিল, তাতে আসলে সেনাবাহিনীর মোরালিটি ভেঙে পড়েছিল। তাই আর্মির ক্ষমতা টেক ওভার করার প্রক্রিয়াও আসলে বাস্তবিক ছিল না।

তাই এই কাজ এমন একটা ফ্রন্টেরই করা দরকার ছিল, যারা অতোটা শত্রুভাবাপন্ন নয়। জনতা অপেক্ষা করছিল সত্যিকারের নেতৃত্ব। তাই ছাত্ররা সামনে এলেই শ্রমিক-জনতা নেমে গিয়েছিল। তাই বলা যায়, শেখ হাসিনা পতনের জন্য গণঅভ্যুত্থান অনিবার্য ছিল।

মাহফুজ আলম বলেন, সব আন্দোলনেই কম্প্রোমাইজিং এলিমেন্ট থাকে। এই আন্দোলনে ছিল না তা না; বরং এই আন্দোলনেও কম্প্রোমাইজিং বিষয় ছিল। কিন্তু আমরা ৭-৮ বছর ধরে ক্যাম্পাসে এক্টিভিজম করার কারণে কম্প্রোমাইজিং বিষয়গুলো সম্পর্কে আমরা জানতাম। আর প্রত্যেকটা জায়গাতেই কিছু কম্প্রোমাইজিং চরিত্র থাকে, আমরা তাদের চিনতাম। তাই এবার শুরুতেই আমরা বিষয়টা নিয়ে কনসার্ন ছিলাম এবং যেসব জায়গায় মতানৈক্য থাকতে পারে তা আমরা আগেই ডিল করে ফেলেছিলাম। কিছু মানুষ তো ছিলই যারা বিভাজন তৈরি করতে পারতো, তবে আমরা আর সেই সুযোগ রাখেনি। তাই স্বাভাবিকভাবেই গণঅভ্যুত্থানের দিকে আমরা ঐক্যবদ্ধভাবে এগিয়ে যেতে পেরেছিলাম।

মাহফুজ আলম বলেন, এটা বেশ গুরুত্বপূর্ণ আলাপ। আমি কিন্তু কথাই শুরু করেছিলাম শাপলা-শাহবাগের বিভাজন নিয়ে। শাপলা-শাহবাগ কিন্তু মূলত সাংস্কৃতিক বিভাজনই। সাংস্কৃতিক বিভাজন যে কত শক্তিশালী, তার প্রমাণ তো ১৩ সালে দেখতেই পাই। কালচারালি আপনি দেশটাকে দুই ভাগে ভাগ করে ফেলেছিলেন। ফলে আমাদের এমন একটা গ্রুপের দরকার ছিল, যারা সরাসরি ইসলামিস্টও না, আবার যারা ইসলামোফোবিকও না। এরকম একটা রেয়ার ব্র্যান্ড দরকার ছিল, বা রেয়ার প্রজন্মও বলা যায়। এরকম একটা গ্রুপের দরকার ছিল যারা ইসলামফোবিক না। যাদের কারণে দেখা যাবে আলেমরা তাদের প্রতি অস্বস্তি বোধ করে না কিংবা এটা বোধ করে না যে তাদের সাথে চললে প্রতারিত হবে। আবার অ্যাট দা সেম টাইম ইসলামিস্ট না, এর ফলে সেক্যুলাররা মনে করবে না যে এরা বোধহয় ইসলামি রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার জন্য বা অন্য কোন ভিন্ন মোটিভে কাজ করছে। সেক্ষেত্রে একটা মধ্যপন্থার দরকার ছিল। আর এই মধ্যপন্থাটা আমরা খুঁজে পেয়েছিলাম মাদ্রাসার শিক্ষার্থীদের মাঝে, কলেজ-ভার্সিটির ছেলেমেয়েদের মাঝে, এমনকি গ্রাম ও শহুরে জীবন যাপন করা মানুষের মাঝে। আর এর মাধ্যমেই বৈচিত্রপূর্ণ মানুষের একটা ঐক্য ঘটেছিল।

যেহেতু মুজিববাদী রাজনীতির মূলমন্ত্রই ছিল বিভাজন, তাই বিএনপির মতো দলও অস্বস্তিতে থাকতো যে তাদের সাথে আলেমদের নেয়া উচিত কিনা। আলেমরাও ধীরে ধীরে বিরোধী দলগুলো থেকে প্রতারিত হচ্ছিল। তাই বিভাজনের যে রাজনীতি আওয়ামী লীগ করতো, তা আরও সফল হচ্ছিল।

তিনি আরও বলেন, তখন আমরা ভাবছিলাম, জিনিসটা কীভাবে করা যায়। কী এমন ম্যানিফেস্টো তৈরি করা যায়, যাতে একটা গ্রুপ নিয়ে আরেকটা গ্রুপের অস্বস্তি থাকবে না, আরেকটা গ্রুপ আদারিং ফিল করবে না, মুজিববাদী বিভাজনের রাজনীতির বাইরে বৈচিত্রপূর্ণ ভিন্ন ভিন্ন দলের মানুষের মত ও আদর্শকে কীভাবে একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক সাংস্কৃতিক বোঝাপড়ার ভেতর নিয়ে আসা যায়, তা নিয়ে আমরা বহুদিন ধরে কাজ করেছি। কিছু কাজ পেছনে হতো, কিছু এক্টিভিটি সামনে হতো। এজন্য একেক সময় একেকজন সামনে থাকতো।

কখনও আখতার (এনসিপির সদস্য সচিব) সামনে থাকতো, কখনও আকরাম (এনসিপির যুগ্ম সদস্য সচিব), অথবা কখনও সামনে থাকতো নাসির উদ্দিন পাটোয়ারি। এরা সবাই আসলে আমাদের একই সার্কেলের ছিল, প্রয়োজন অনুযায়ী একেক সময় একেকজন সামনে আসতো। যেমন নাহিদ ইসলাম পলিটিক্যাল সার্কেলে তেমন পরিচিত ছিল না। আগে সে হয়তো ডাকসুতে সংস্কৃতি সম্পাদক হিসেবে দাঁড়িয়েছিল। তারপর সে অবলিভিয়নে চলে যায়। নাহিদ আমাদের সাথে যুক্ত ছিল, নিয়মিত বইটই পড়তো কিন্তু সেসময় পলিটিক্যালি এতটা মুভ করেনি। আসিফ (স্থানীয় সরকার উপদেষ্টা) পলিটিক্যাল এক্টিভিজম করতো। অন্যদিকে আরেকজন শোয়েব আব্দুল্লাহ চলে গেল গবেষণায়। নাসির উদ্দিন পাটোয়ারী সেসময় এবি পার্টিতে জয়েনও করেছিল। এসব ব্যক্তি কিন্তু ভিন্ন জায়গায় ভিন্ন উপায়ে আসলে একই কাজ করছিল, একটা অন্তর্ভুক্তিমূলক মধ্যপন্থার উপায় খুঁজছিল।

শেয়ার করুন-

মন্তব্য করুন

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মারুফ কামাল খান

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮১০, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০ | ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০, +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮০৭, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৩৩২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা