ফসিহ উদ্দীন মাহতাব
প্রকাশ : ১৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৫ ১০:১৯ এএম
ফাইল ফটো
জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব নেয় অন্তর্বর্তীকালীন সরকার। সেই সরকারের সময়ে প্রথমবারের মতো জেলা প্রশাসক সম্মেলন শুরু হচ্ছে আগামী রবিবার। সম্মেলনে দেশে অংশগ্রহণমূলক বিশ্বাসযোগ্য নির্বাচন আয়োজনে সঠিকভাবে দায়িত্ব পালনে সরকারের পক্ষ থেকে নিদের্শনা থাকছে। অপরদিকে মাঠ পর্যায়ের এই শীর্ষ কর্মকর্তাদের পক্ষ থেকে ৩৫৪টি প্রস্তাব উত্থাপন করা হচ্ছে। তার মধ্যে পুলিশের ওপর সবার আস্থা ফেরানো এবং মাঠ প্রশাসনে বিশ্বাসযোগ্য ক্ষমতা প্রদানসহ বেশকিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয় থাকছে।
ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে ৫ আগস্ট গোপনে দেশ ছেড়ে যান পতিত আওয়ামী লীগ সরকারের প্রধান শেখ হাসিনা। পালিয়ে যান ওই সরকারের দোর্দণ্ড প্রতাপশালীরাও। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী পুলিশ হয়ে পড়ে পুরোপুরি অকার্যকর। জেলায় জেলায় পুলিশ বাহিনীর সদস্যরা জনরোষের ভয়ে আড়ালে চলে যান। ঠিক সেই সময়ে মাঠ প্রশাসনের কর্মকর্তারা সরকারি সম্পদের পাশাপাশি জনগণের জান-মাল রক্ষায় দায়িত্ব পালন করেন।
স্থানীয় সরকারের নানা পর্যায়ে ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান, উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান, পৌরসভা ও সিটি করপোরেশনের মেয়রসহ নানা পদে অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন করেন প্রশাসন ক্যাডারের কর্মকর্তারা। মাঠ প্রশাসনের বিভাগীয় কমিশনার, জেলা প্রশাসক, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এবং সরকারের নীতি বাস্তবায়নের সঙ্গে জড়িত কোর অফিসগুলো এই বাড়তি দায়িত্বগুলো যথাযথভাবে পালন করে যান।
সরকারের নীতিনির্ধারক ও ডিসিদের মধ্যে সামনাসামনি মতবিনিময় এবং প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনার জন্য প্রতিবছর ডিসি সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। তারই ধারাবাহিকতায় এবারও অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে জেলা প্রশাসক (ডিসি) সম্মেলন-২০২৫।
আগামী রবিবার শুরু হয়ে ১৮ ফেব্রুয়ারি মঙ্গলবার পর্যন্ত চলবে এই সম্মেলন। প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ের শাপলা হলে তিন দিনব্যাপী এ সম্মেলনের উদ্বোধন করবেন প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস। রবিবার সকাল ১০টায় এখানে সম্মেলনের উদ্বোধন শেষে বিকালে ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে কর্ম-অধিবেশনগুলো শুরু হবে।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করবেন মন্ত্রিপরিষদ সচিব আব্দুর রশিদ।
ডিসি সম্মেলন সামনে রেখে জেলা পর্যায়ে রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে বৈঠক করেছেন ডিসিরা। কর্মলব্ধ অভিজ্ঞতা এবং দলগুলোর সঙ্গে বৈঠকের মধ্য দিয়ে প্রাপ্ত প্রস্তাবনা ও সারা দেশের সমস্যাগুলো তারা এই প্রথম সরাসরি প্রধান উপদেষ্টার কাছে তুলে ধরবেন। সব মিলে এবারের ডিসি সম্মেলনে প্রাধান্য পাচ্ছে আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন।
সারা দেশের মাঠ প্রশাসনের শীর্ষ কর্মকর্তারা সম্মেলনে অংশ নেওয়ার আগে ৮২৬টির মতো লিখিত প্রস্তাব মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে পাঠিয়েছেন। জনস্বার্থকে গুরুত্ব দিয়ে সেসব প্রস্তাব থেকে বাছাই ৩৫৪টি সম্মেলনে উঠছে।
ডিসি সম্মেলন আয়োজন ঘিরে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ ব্যস্ততম সময় পার করছে। ইতোমধ্যে কার্যপত্র প্রকাশ করা হয়েছে। মাঠ প্রশাসনের শীর্ষ কর্মকর্তা বিভাগীয় কমিশনার এবং জেলা প্রশাসকরা (ডিসি) স্থানীয় প্রশাসনে তাদের নিয়ন্ত্রণ ইস্যুতে প্রস্তাব জমা দিয়েছেন। কর্মচারী নিয়োগের পাশাপাশি বদলির কর্তৃত্বও চান তারা।
মাঠ প্রশাসন থেকে আসা প্রস্তাবগুলোতে সরকারি কর্মচারীদের স্থানীয় রাজনীতিতে জড়িয়ে পড়ার চিত্র ফুটে উঠেছে। এতে স্থানীয় প্রশাসনে চেইন অব কমান্ড হুমকির মুখে বলে মনে করেন জেলা প্রশাসকরা। এই অবস্থা থেকে বের হয়ে আসার জন্য স্থানীয় কর্মচারীদের তিন বছর পর পর বদলির কথা বলেছেন তারা।
ডিসিদের প্রস্তাবে দেশের ভূমি ব্যবস্থাপনায় সাধারণ মানুষের হয়রানির চিত্র এসেছে। পুলিশের সঙ্গে দ্বন্দ্বের বিষয়গুলোও প্রস্তাবে স্থান পেয়েছে।
নতুন যে ক্ষমতা চাইছেন জেলা প্রশাসকরা
মাঠ প্রশাসনের শীর্ষ কর্মকর্তা বিভাগীয় কমিশনার ও জেলা প্রশাসকরা (ডিসি)। সরকারের প্রতিনিধি হিসেবে মাঠ প্রশাসন তারাই নিয়ন্ত্রণ করে থাকেন। একজন ডিসি জেলায় অন্তত ৩০২টি দায়িত্ব পালন করে আসছেন। তারা নতুন করে যে ক্ষমতা চাইছেন সেগুলোর মধ্যে রয়েছেÑ ৬৪টি জেলা প্রশাসকের কার্যালয় ও আটটি বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয়ে লিগ্যাল অ্যাফেয়ার্স লিয়াজোঁ অফিসারের পদ সৃজন ত্বরান্বিতকরণ।
অন্যগুলোর মধ্যে রয়েছেÑ জেলা পুলিশের এসিআর দেওয়া, কনস্টেবল নিয়োগ কমিটিতে তাদের প্রতিনিধি রাখা, ডিসির অধীনে বিশেষ ফোর্স গঠন, অপরাধ ডেটাবেজ ও এনআইডি ডেটাবেজ সার্ভারে ডিসি-ইউএনওদের প্রবেশাধিকার, উপজেলা পরিষদে কর্মচারী নিয়োগ ও বদলির ক্ষমতা এবং উপজেলা চেয়ারম্যানের বদলে উপজেলার সরকারি বাসা বরাদ্দের ক্ষমতা। মোটকথা, স্থানীয় প্রশাসনের সবকিছুতে তাদের নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করতে চান।
ঢাকার জেলা প্রশাসক তানভীর আহমেদের দেওয়া প্রস্তাবে বলা হয়েছেÑ ভূমি অপরাধ প্রতিরোধ ও প্রতিকার আইন, ২০২৩-এর উদ্দেশ্য বাস্তবায়নকল্পে ভূমি রেকর্ড, নামজারি, ভূমি হস্তান্তর ও দেওয়ানি মামলার তথ্য সমন্বিত ডাটাবেজ প্রস্তুতকরণে প্রস্তাব। পুলিশ বিভাগে স্বতন্ত্র তদন্ত বিভাগ প্রতিষ্ঠা করা হলে ফৌজদারি মামলাগুলো যথাসময়ে এবং অধিকতর সুষ্ঠুভাবে তদন্ত সম্পন্ন করা সহজ হবে। এতে করে ফৌজদারি মামলা দ্রুত নিষ্পত্তি হবে, জনমনে ইতিবাচক ধারণা তৈরি হবে। পুলিশের প্রতি আস্থা অধিকতর বৃদ্ধি পাবে। এজন্য স্বতন্ত্র পুলিশ তদন্ত বিভাগ প্রতিষ্ঠার প্রস্তাব করা হয়েছে।
তার প্রস্তাবে আরও রয়েছেÑ ঢাকা ইনার সার্কুলার রোড নেটওয়ার্ক জরুরিভিত্তিতে নির্মাণ করা প্রয়োজন। তাহলে রাজধানীসহ আশপাশের জেলার যানজট নিয়ন্ত্রণ ও গাড়ির গতিবেগ বৃদ্ধি পাবে। বহুমুখী যোগাযোগ সৃষ্টিসহ রাজধানী শহরে বাসযোগ্য পরিবেশ তৈরি এবং অর্থনৈতিক উন্নতি হবে। ঢাকা জেলার ধলেশ্বরী, বুড়িগঙ্গা, বালু, তুরাগ, ইছামতি নদীর অংশে মাছের খাঁচা স্থাপন করে মাছ চাষ প্রকল্প বাস্তবায়ন হবে। ঢাকা জেলার নদনদীগুলোর অবৈধ দখল ও দূষণমুক্ত করার জন্য কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ করতে হবে।
পুলিশের এসিআর নিয়ে প্রস্তাব দিয়েছেন একাধিক জেলা প্র্রশাসক। তারা পুলিশ প্রবিধান ১৯৪৩-এর ‘৭৫/এ’ ধারা উল্লেখ করে বলেছেন, জেলা ম্যাজিস্ট্রেট প্রতি বছরের জানুয়ারিতে জেলায় কর্মরত পুলিশের শীর্ষ কর্মকর্তাদের কাজ নিয়ে তার সাধারণ মূল্যায়ন বিভাগীয় কমিশনারকে দেবেন। বিভাগীয় কমিশনার সেই প্রতিবেদনে নিজের মতামত যুক্ত করে তা পাঠাবেন সংশ্লিষ্ট রেঞ্জের উপ-পুলিশ মহাপরিদর্শকের (ডিআইজি) কাছে।
গাইবান্ধার ডিসি জানান, জেলার আইনশৃঙ্খলা রক্ষা করা জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের প্রধান দায়িত্ব। আইনশৃঙ্খলা রক্ষা কার্যক্রমে জেলা ম্যাজিস্ট্রেটকে মূলত পুলিশ বাহিনীর ওপর নির্ভর করতে হয়। কিন্তু পুলিশ কর্মকর্তাদের সার্বিক আচার-আচরণ ও জনগণের সঙ্গে সম্পর্ক প্রতিফলিত হয়Ñ এমন বার্ষিক প্রতিবেদন বিধানসংবলিত পুলিশ প্রবিধানের ধারাটি কার্যকর নেই। এ কারণে প্রায়ই সরকার ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেটদের বিব্রতকর পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হয়।
সাতক্ষীরার ডিসি মোস্তাক আহমেদ প্রস্তাবে লিখেছেন, জেলা পর্যায়ে আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভাপতি ডিসি। উপজেলা পর্যায়ে সভাপতি থাকেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও)। তবে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ওপর ডিসি ও ইউএনওদের কোনো দাপ্তরিক নিয়ন্ত্রণ নেই। ফলে অনেক ক্ষেত্রে সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন কঠিন হয়ে পড়ে। এ কারণে আইনশৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনীর কর্মকর্তাদের কাজ নিয়ে প্রতিবেদন দেওয়ার বিষয়টি ডিসি ও ইউএনওদের নিয়ন্ত্রণে রাখা প্রয়োজন।
গত ২৫ ডিসেম্বর রাজধানীর বিয়াম মিলনায়তনে ‘জনপ্রশাসনের সংস্কারকে ভিন্ন খাতে পরিচালিত করে দেশকে অস্থিতিশীল করার গভীর ষড়যন্ত্রের’ প্রতিবাদে যৌথভাবে প্রতিবাদ সভা করেন বিসিএস প্রশাসন ক্যাডারের বর্তমান ও সাবেক কর্মকর্তারা। সেখানেও তারা পুলিশের এসিআর দেওয়ার দাবি জানান।
বগুড়ার ডিসি হোসনা আফরোজা প্রস্তাব করেছেনÑ সার্কিট হাউস, জেলা প্রশাসকের কার্যালয়, জেলা ও দায়রা জজ আদালত, পুলিশ সুপারের কার্যালয় ও ডিসির বাসভবনকে কেপিআই (কি পয়েন্ট ইনস্টলেশন) ঘোষণা করা এবং সে অনুযায়ী নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, বগুড়ায় সিটি করপোরেশন করা ও উড়োজাহাজের বাণিজ্যিক ফ্লাইট চালুর পরিকল্পনা বাস্তবায়ন।
জেলা পর্যায়ে পুলিশ কর্মকর্তাদের নিয়ে ডিসিদের প্রতিবেদন দেওয়ার বিষয়টি অকার্যকর হয়ে যায়। এটি চালু করা নিয়ে পুলিশের আপত্তি রয়েছে। জেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভাপতি ডিসি। প্রতি মাসে কমিটির সভা হয়। তবে সেখানে বেশিরভাগ ক্ষেত্রে যান না জেলার পুলিশ সুপার। তার বদলে নিম্ন পর্যায়ের কর্মকর্তাদের পাঠানো হয়।
পুলিশ কর্মকর্তারা মনে করেন, জেলা প্রশাসন নির্বাহী বিভাগের অধীন, পুলিশও তা-ই। একটি নির্বাহী বিভাগ কেন আরেকটি নির্বাহী বিভাগের কাছে জবাবদিহি করবে। এই জবাবদিহি হওয়া উচিত নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি অথবা বিচার বিভাগের কাছে।
সম্মেলনে উপস্থাপনের জন্য পাঠানো একাধিক জেলা প্রশাসকের প্রস্তাবে এ বিষয়টি জোরালোভাবে তুলে ধরা হয়েছে। পুলিশের কনস্টেবল নিয়োগ কমিটিতে ডিসির প্রতিনিধি রাখার প্রস্তাব দিয়েছেন অন্তত দুজন ডিসি।
মাগুরার ডিসি অহিদুল ইসলাম প্রস্তাবে উল্লেখ করেছেনÑ কনস্টেবল নিয়োগ প্রক্রিয়াটি স্থানীয়ভাবে হয়ে থাকে। তাই এই জেলা প্রশাসকের প্রতিনিধি থাকলে নিয়োগ প্রক্রিয়া অধিকতর স্বচ্ছ, ফলপ্রসূ ও গ্রহণযোগ্য হবে। এ ছাড়া পিআরবি এবং ১৯৪৩ সালের পরিদর্শক ও এর নিচের পদমর্যাদার পুলিশ সদস্যদের সক্ষমতা ও পারফরম্যান্স দেখার দায়িত্ব জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের এখতিয়ারভুক্ত।
অনুরূপ ব্যাখ্যা তুলে ধরে একই প্রস্তাব করেছেন মানিকগঞ্জের ডিসি।
জেলা প্রশাসকের অধীনে বিভিন্ন বাহিনীর সমন্বয়ে ১০ থেকে ১৫ জনের একটি বিশেষ ডিটেক্টিভ ফোর্স গঠনের প্রস্তাব দিয়েছেন মাগুরার ডিসি অহিদুল ইসলাম। তিনি বলেছেন, এ ধরনের ফোর্স থাকলে অবৈধ উচ্ছেদ অভিযান, মোবাইল কোর্ট পরিচালনাসহ ঝুঁকিপূর্ণ কাজে সুরক্ষা পাওয়া যাবে। এ ধরনের তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা গ্রহণে বিদ্যমান বিভিন্ন বাহিনীর সম্পৃক্ততার ক্ষেত্রে প্রস্তুতি নিতে সময়ক্ষেপণ হয়।
অহিদুল ইসলাম অপরাধ ডেটাবেইস ও এনআইডি ডেটাবেইস সার্ভারে ডিসি ও ইউএনওদের প্রবেশাধিকারের প্রস্তাব করেছেন। কারণ হিসেবে তিনি বলেছেন, জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে আইনশৃঙ্খলাসংক্রান্ত কমিটির সভাপতি ডিসি ও ইউএনওরা। তাদের এ ক্ষমতা দেওয়া হলে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি হবে।
ইউএনওদের বাসভবন ও শারীরিক নিরাপত্তায় অঙ্গীভূত আনসারের বদলে সার্বক্ষণিক ব্যাটালিয়ন আনসার সদস্য নিয়োগেরও প্রস্তাব করেছেন তিনি।
উপজেলার সরকারি বাসা বরাদ্দ ও ব্যবস্থাপনা কমিটি পুনর্গঠনের প্রস্তাব করেছেন পিরোজপুরের ডিসি মোহাম্মদ আশরাফুল আলম খান। তিনি বলেছেন, বর্তমানে সরকারি বাসা বরাদ্দ কমিটির সভাপতি উপজেলা চেয়ারম্যান ও সদস্য সচিব উপজেলা প্রকৌশলী। উপজেলায় বিদ্যমান সরকারি বাসাবাড়ি ও ভবনাদি ব্যবস্থাপনা টেকসইভাবে কার্যকর করতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাদের দায়িত্ব দিলে কার্যক্রম বেগবান হবে।
এ ছাড়াও জনস্বার্থ-সংশ্লিষ্ট কিছু প্রস্তাব দিয়েছেন অনেক ডিসি। পুলিশের হাতে চাইনিজ রাইফেল, সাব-মেশিনগান (এসএমজি), ৯ এমএম পিস্তলের মতো প্রাণঘাতী অস্ত্র না রাখার প্রস্তাব দিয়েছেন সিলেটের ডিসি মোহাম্মদ শের মাহবুব মুরাদ। তিনি বলেন, জনবিশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণের ক্ষেত্রে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাবাহিনীর প্রাণঘাতী অস্ত্র ও ছররা গুলি নিষিদ্ধ করা প্রয়োজন। জুলাই-আগস্টে ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের সময়ের অভিজ্ঞতায় দেখা যায়, ছররা গুলিও মানবদেহে দীর্ঘমেয়াদে ক্ষতিকর প্রভাব ফেলে। একই সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী কর্তব্যরত অবস্থায় বাধ্যতামূলকভাবে বডি ক্যামেরা ব্যবহার নিশ্চিত করার প্রস্তাব দিয়েছেন তিনি।