× ই-পেপার প্রচ্ছদ সর্বশেষ বাংলাদেশ রাজনীতি দেশজুড়ে বিশ্বজুড়ে বাণিজ্য খেলা বিনোদন মতামত চাকরি শিক্ষা আজকের কার্টুন ফিচার সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

গুজবের পাতানো ফাঁদ!

পারভেজ খান

প্রকাশ : ০৮ ডিসেম্বর ২০২৪ ০৯:২৮ এএম

গ্রাফিক্স : প্রবা

গ্রাফিক্স : প্রবা

বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যকার সম্পর্ক এক অনন্য উচ্চতায় পৌঁছেছেÑ গত দেড় দশক ধরে এ কথা বলা হলেও গত ৫ আগস্ট রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর থেকে এই পারস্পরিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে বহুমুখী নতুন সমীকরণ দেখা দিয়েছে। অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক সম্পর্ক মোটামুটি কার্যকর থাকলেও ভারতের পক্ষ থেকে ভিসা অনুমোদন বন্ধ রয়েছে। ভারতীয় বিভিন্ন সামাজিক ও গণমাধ্যমে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ওপর হামলা, নির্যাতন ও অত্যাচারের নানা তথ্য, অপতথ্য ও গুজব এমনভাবে প্রচার হচ্ছে; যা দুই দেশের সাধারণ জনগণের মধ্যকার সম্পর্কের ক্ষেত্রেও নানা প্রভাব ফেলছে। বিষয়টি এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে, আওয়ামী লীগ ও তার শাসনামলের রাজনৈতিক মিত্র দলগুলো বাদে সকল রাজনৈতিক দল, ধর্মীয় সংগঠন ও ছাত্র সংগঠনগুলোর সঙ্গে সংলাপের মধ্য দিয়ে জাতীয় ঐক্যের ডাক দিয়েছেন বাংলাদেশের অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস। অন্যদিকে বিভিন্ন দল ও সংগঠনের পক্ষ থেকে প্রধান উপদেষ্টাকেও দেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও মর্যাদা রক্ষায় ঐক্যবদ্ধ থাকার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে। 

রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক পর্যবেক্ষকরা মনে করেন, দুই দেশের মধ্যে সম্পর্কে যে টানাপড়েন দেখা দিয়েছে, সেক্ষেত্রে উত্তেজনা ও গুজব ছড়ানোর পেছনে কলকাঠি নাড়ছে মূলত ভারতের গুটিকয়েক হর্তাকর্তার পাশাপাশি কিছু গণমাধ্যম। একের পর এক গুজব ছড়িয়ে তারা অশান্ত করে তুলছে দুই দেশের সম্পর্ককে। দুই দেশে সাধারণ মানুষের মধ্যে ছড়িয়ে পড়া উত্তেজনায় ঘি ঢালছে তারা। এই গুজব এবং অপতথ্যকে এক ধরনের পাতানো ফাঁদ হিসেবে দেখছেন তারা। তাদের মতে, ভারতীয় গণমাধ্যমের এ ধরনের ফাঁদে কোনোভাবেই পা দেওয়া যাবে না। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এ ধরনের গুজবের বিষয়ে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে আন্তর্জাতিক প্লাটফর্মের মাধ্যমে কঠোর ও কড়া প্রতিক্রিয়া দেখানো এখন জরুরি হয়ে দেখা দিয়েছে। একই সঙ্গে ভারত সরকারকেই বাংলাদেশবিরোধী গুজবের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া উচিত বলে তারা মনে করেন।

বাংলাদেশের দুটি গোয়েন্দা সংস্থা এভাবেই স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে তাদের প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষক, জাতীয় নিরাপত্তা গোয়েন্দা সংস্থা এনএসআই এবং পুলিশের বিশেষ শাখা এসবি এবং পুলিশ সদর দপ্তরের একাধিক সূত্রের সঙ্গে কথা বলে এসব তথ্য জানা গেছে। পুলিশ জানিয়েছে, এমন প্রেক্ষাপটে অধিকতর সতর্ক অবস্থা জারি করা হয়েছে সীমান্ত এলাকায়, মাঠেও আরও বেশি তৎপর রয়েছে সাইবার ক্রাইম টিম। 

পুলিশের বিশেষ শাখার একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা গতকাল শনিবার প্রতিদিনের বাংলাদেশকে বলেন, ‘গত ৫ আগস্ট সরকারের পটপরিবর্তনের পর থকে দেশে সত্যিকার অর্থেই অস্থিরতা বিরাজ করছে। সার্বিক প্রচেষ্টা চালিয়েও বর্তমান সরকার নানা প্রতিকূলতার কারণে সেই অস্থিরতা দূর করতে পারছে না, তবে চেষ্টা অব্যাহত রেখেছে। দেশে যে কোথাও কোথাও সংখ্যালঘুদের ওপর অত্যাচার হয় নাই, সেটা নয়। হয়েছে এবং হচ্ছেও। তবে সেসব ঘটনার নেপথ্যের কারণ খুঁজতে গিয়ে বা তদন্ত করে দেখা গেছে, সেগুলো সাম্প্রদায়িক ঘটনা নয়। সেগুলোকে কোনোভাবেই সংখ্যালঘুদের ওপর হামলার ঘটনা বলা যাবে না। যারা হামলার শিকার হয়েছে, তারা রাজনৈতিক পরিস্থিতির শিকার। আক্রান্তরা আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিল। এখন আওয়ামী লীগ সরকার না থাকার কারণে তারা প্রতিকূল পরিস্থিতির শিকার।’

এসবির কর্মকর্তার বক্তব্যের সূত্র ধরে জাতীয় নিরাপত্তা গোয়েন্দা সংস্থা এনএসআইয়ের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বলেন, ‘এই হামলাকারীরাও এক বা একাধিক বিশেষ রাজনৈতিক দলের সঙ্গে সম্পৃক্ত। তবে এটাও ঠিক যে, তারা তাদের দলীয় হাইকমান্ড থেকে আদিষ্ট হয়ে বা তাদের প্রশ্রয় পেয়ে এগুলো করছে না। বরং দলীয় শীর্ষ অবস্থান থেকে তাদেরকে নিষেধ করা হচ্ছে। কিন্তু তারা নিজেরা অতি উৎসাহী হয়ে, দীর্ঘদিনের জমে থাকা ক্ষোভের প্রকাশ দেখাতে গিয়ে কিংবা স্থানীয় আধিপত্য প্রতিষ্ঠার বিরোধ থেকে এসব ঘটনা ঘটাচ্ছে। সংখ্যালঘুদের চাইতে আওয়ামী লীগ সমর্থিত মুসলমানরাই এই ধরনের নির্যাতনের শিকার হয়েছে বা হচ্ছে বেশি। ফলে ভারতের কিছু প্রচার মাধ্যম বা ইউটিউবাররা যা প্রচার করছে, সেটা ঠিক নয়। তারা অসৎ উদ্দেশ্য বাস্তবায়ন করতে এবং বর্তমান সরকারকে বিব্রতকর পরিস্থিতিতে ফেলতেই এসব মিথ্যা আর বানোয়াট গুজব রটিয়ে পরিস্থিতিকে অস্থির ও উত্তপ্ত করে তুলছে। শুধু সরকার বা পুলিশ নয়, সাধারণ মানুষকেও এসব গুজবে কান না দিয়ে প্রতিবাদ করা উচিত।

ভারতীয় গণমাধ্যম ব্যক্তিত্বরাও বলছেন অপপ্রচার চলছে

ভারতের বেশ কয়েকটি সংবাদ মাধ্যম যে অপপ্রচার চালাচ্ছে, সেটা সেখানকার দুজন পরিচিত সাংবাদিকের কথাতেই উঠে এসেছে। সর্বভারতীয় টিভি নিউজ নেটওয়ার্ক ১৮-এর পূর্বাঞ্চলীয় সম্পাদক বিশ্ব মজুমদার গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন, কোনো তথ্য বা ভিডিও পেলে সেটা যাচাই-বাছাইয়ের ব্যাপারটা এখন উঠে গেছে। কোনো কোনো চ্যানেল কোনো ঘটনার খবর বা ভিডিও পেলে সেটা যাচাই না করেই চালিয়ে দেয়। চারদিকে এখন ব্রেকিং নিউজের প্রতিযোগিতা চলছে। বাংলাদেশের সাম্প্রতিক ঘটনাবলি নিয়ে যা সংবাদ মাধ্যমে দেখানো হচ্ছে, তা সত্য সাংবাদিকতা নয়। 

তিনি আরও বলেন, বিভিন্ন ভারতীয় টিভি চ্যানেলে উঁচু গলায়, চিৎকার করে কথা বলে এমনভাবে বাংলাদেশ সংক্রান্ত প্রতিবেদন পরিবেশন হচ্ছে, যেন ভারতের সঙ্গে একটা যুদ্ধ বেধেছে বাংলাদেশের। সেই ‘যুদ্ধে’ একদিকে বাংলাদেশের হিন্দুরা, অন্যদিকে মুসলমানরা। এমনভাবেই পরিবেশন করা হচ্ছে খবর।

অল্ট নিউজের (সফটওয়্যার প্রকৌশলী প্রতীক সিনহা এবং মোহাম্মদ জুবায়ের প্রতিষ্ঠিত ও পরিচালিত ভারতীয় অলাভজনক তথ্য যাচাইয়ের ওয়েবসাইট ) সম্পাদক প্রতীক সিনহা বলেছেন, এ ধরনের ভুয়া তথ্য পরিবেশন যে শুধু বাংলাদেশের সাম্প্রতিক ঘটনা নিয়ে হচ্ছে তা নয়। ভারতের বাইরের নানা ঘটনা যেমন ইসরায়েল-ফিলিস্তিন সংঘাত বা রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ নিয়েও এরকম ভুয়া তথ্য পরিবেশন আমরা দেখেছি।

সম্পর্ক স্বাভাবিক করতে আলোচনা দরকার : এম হুমায়ুন কবির

সাবেক কূটনীতিক এম হুমায়ুন কবির বলেন, ভারতে বাংলাদেশ হাইকমিশনে তার কাজের অভিজ্ঞতা রয়েছে। কিন্তু এখন যে পরিস্থিতি, বিশেষ করে দুই দেশের মানুষের মধ্যে সম্পর্কের এই নেতিবাচক অবস্থাটি একেবারেই নজিরবিহীন। দুই দেশেই একেবারে জনগণ পর্যায়ে কেমন একটা সাজসাজ রব মনে হচ্ছে। এটা কিন্তু এক ধরনের আশঙ্কার কারণও। ভারতে বাংলাদেশিদের কোনো হোটেলে থাকতে দেওয়া হচ্ছে না। সীমান্তে এসে ভারতীয়রা বিক্ষোভ প্রদর্শন করছে। চিকিৎসাসেবাসহ পণ্যসামগ্রী আদান-প্রদানে বাধা দেওয়ার চেষ্টা চলছে। ভারতের পক্ষ থেকে ভিসা দেওয়া, বলা চলে বন্ধ হয়ে গেছে। দ্বিপাক্ষিক চলমান এই সম্পর্ক স্বাভাবিক করতে শিগগির আলাপ-আলোচনা দরকার বলে জানান তিনি।

প্রয়োজনে ভারতের মিডিয়া টিম এদেশে আসুক : অধ্যাপক ইমতিয়াজ আহমেদ

এ প্রসঙ্গে আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশ্লেষক অধ্যাপক ইমতিয়াজ আহমেদ প্রতিদিনের বাংলাদেশকে বলেন, ‘এই মুহূর্তে বেশ কয়েকটি বিষয় গুরুত্বের সঙ্গে দেখতে হবে। এর মধ্যে একটি হলোÑ ভারতের একশ্রেণির মিডিয়া যে ধরনের মিথ্যা, বানোয়াট গুজব ও অপতথ্যে ভরা খবর ছড়াচ্ছে, সেসব কীভাবে থামানো যায়। প্রয়োজন হলে ভারতের মিডিয়া টিম বাংলাদেশে আসতে পারে। সেটা পররাষ্ট্র সচিবের সঙ্গে না হলেও আলাদাভাবে আসতে পারেÑ সেই সুযোগটা তৈরি করতে হবে। তাহলে যে নেতিবাচক খবর হচ্ছে, সেটা হয়তো থামবে। 

ভারতীয় একদেশদর্শী অপপ্রচারের বিরুদ্ধে নামতে হবে : আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও দলটির চেয়ারপারসনের ফরেন অ্যাফেয়ার্স অ্যাডভাইজরি কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী গতকাল প্রতিদিনের বাংলাদেশকে বলেন, ‘ভারতীয় সরকার ও মিডিয়া বাংলাদেশবিরোধী অপপ্রচার চালাচ্ছে। আমাদের সরকারকে বিশ্ববাসীর কাছে সঠিক তথ্য তুলে ধরতে হবে। এজন্য সরকারের সব ম্যাশিনারিজকে ব্যবহার করতে হবে। দেশি-বিদেশি সব স্টেকহোল্ডারকেও ভারতীয় একদেশদর্শী অপপ্রচারের বিপরীতে নামাতে হবে।’

তিনি বলেন, ‘সরকারের নৈতিক ভিত্তি শক্তিশালী আছে। এরই মধ্যে দেশি-বিদেশি নানা সংস্থা প্রমাণ করেছে যে, ভারতীয় মিডিয়ার খবর সঠিক নয়। সামনে আরও স্পষ্ট হবে, বাংলাদেশকে নিয়ে ভারতীয় মিডিয়ার খবর অপতথ্য দিয়ে রচিত। এসব বেশি বেশি করে তুলে ধরার ব্যবস্থা করতে হবে। এক্ষেত্রে সরকারকে আরও পদক্ষেপ নিতে হবে।’

প্রকৃত সত্যকে আন্তর্জাতিকভাবে উপস্থাপন করতে হবে : মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম

এ ব্যাপারে বাংলাদেশ কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিবি) সাবেক সভাপতি মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম প্রতিদিনের বাংলাদেশকে বলেন, ‘বিগত ফ্যাসিস্ট সরকারের পদত্যাগের পর তাদের দোসর হিসেবে চিহ্নিত ভারতের শোষকশ্রেণিও ক্ষুব্ধ, তারা গোস্বা করেছে। এখন নানা ঘটনাকে অতিরঞ্জিত করে উপস্থাপন করে তারা সেই রাগ ও গোস্বার বহিঃপ্রকাশ ঘটাচ্ছে। সরকারের উচিত আলোচনার বিষয়গুলোকে আটকে না রেখে প্রকৃত সত্যকে আন্তর্জাতিকভাবে উপস্থাপন করে সবার সামনে তুলে ধরা। কোনোভাবেই নতজানু হওয়া যাবে না। কারও পাতানো ফাঁদে পা না দিয়ে কঠোর এবং সতর্ক অবস্থানে থেকে এই পরিস্থিতিকে মোকাবিলা করতে হবে।’ একই সঙ্গে একটা চূড়ান্ত সমাধানে আসার জন্য স্থায়ী সরকার গঠনের প্রক্রিয়াও দ্রুত সম্পন্ন করতে হবে বলে মনে করেন তিনি।

আরও সতর্কাবস্থায় পুলিশের সাইবার টিম

আলোচ্য বিষয়ে পুলিশ সদর দপ্তরের ভূমিকা নিয়ে সহকারী মহাপুলিশ পরিদর্শক (এআইজি) এনামুল হক সাগর গতকাল এই প্রতিবেদককে বলেন, ‘এ ধরনের অপপ্রচার প্রতিরোধে পুলিশ সব সময়ই সোচ্চার। আমাদের সাইবার টিমকে আরও সতর্ক করা হয়েছে। যারা বাংলাদেশে এসব বানোয়াট সংবাদ বিভিন্ন মাধ্যমে ছড়াচ্ছে এবং প্রচার মাধ্যমে (ফেসবুক-ইউটিউব) শেয়ার করছে, তাদেরও চিহ্নিত করা হচ্ছে। পুলিশের পক্ষ থেকে প্রতিমুহূর্তে সরকারের সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন মহলকে এসব বিষয় অবগত করা হচ্ছে।’

ভারতে যা ঘটছে

পত্রিকান্তরে জানা যায়, আরএসএস দিল্লি ইউনিটের জনসংযোগ কর্মকর্তা রজনিশ জিন্দাল বলেছেন, আগামী ১০ ডিসেম্বর ‘দিল্লির নাগরিক সমাজ’-এর ব্যানারে তারা বাংলাদেশ দূতাবাসের দিকে পদযাত্রা করবেন। তারা বাংলাদেশ দূতাবাসসহ জাতিসংঘ, ইউএনএইচআরসি, ডব্লিউএইচও, অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল এবং এডিবিসহ সব আন্তর্জাতিক সংস্থার কাছে স্মারকলিপি জমা দেবেন। তার মতে, বাংলাদেশে হিন্দু এবং অন্যান্য সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের সদস্যদের বিরুদ্ধে চলমান অত্যাচারের জন্য ভারতের জনগণ ক্ষুব্ধ। ভারতের জনগণ চায়, বাংলাদেশের হিন্দুদের রক্ষায় ভারত সরকার এখনই পদক্ষেপ নিক। ২০০টিরও বেশি সামাজিক, সাংস্কৃতিক এবং ধর্মীয় সংগঠনের প্রতিনিধিরা প্রতিবাদ মিছিলে যোগ দেবেন বলে জানিয়েছেন তিনি। 

অন্যদিকে পশ্চিমবঙ্গ বামফ্রন্ট বলছে, বাংলাদেশের মতো ভারতেও সংখ্যালঘুদের ওপর নির্যাতন চলছে। বাংলাদেশ ও ভারতে ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের জীবন-জীবিকার ওপর হামলা বন্ধের দাবি জানিয়েছে তারা। বামফ্রন্ট কলকাতা জেলা কমিটির ডাকে গত শুক্রবার এক প্রতিবাদ মিছিল থেকে এ দাবি জানানো হয়। 

বিজেপি নেতা শুভেন্দু অধিকারী বলেছেন, ‘আমরা চাই অবিলম্বে বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকার হিন্দু নির্যাতন বন্ধ করুক।’

ড্রোন মোতায়েনের অভিযোগ ভারতের, প্রতিবাদ বাংলাদেশের

উদ্ভূত পরিস্থিতিতে পশ্চিমবঙ্গ সীমান্তবর্তী এলাকায় বাংলাদেশ ড্রোন মোতায়েন করেছেÑ এমন দাবিও করেছে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম। দেশটির পত্রিকা ‘নবভারত টাইমস’ এক প্রতিবেদনে এ দাবি করে। প্রতিবেদনে বলা হয়, ভারতের পশ্চিমবঙ্গ সীমান্তবর্তী এলাকায় তুরস্কের তৈরি অত্যাধুনিক ‘বায়রাকতার টিবি ২’ ড্রোন মোতায়েন করেছে বাংলাদেশ। ধারণা করা হচ্ছে, ভারতের সঙ্গে সম্পর্কের উত্তেজনা বৃদ্ধি পাওয়ায় এ ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। ভারতের কৌশলগত গুরুত্বপূর্ণ ‘চিকেন নেক’ অঞ্চল ঘিরে এই ড্রোন মোতায়েন উদ্বেগ আরও বাড়িয়েছে। এজন্য বাংলাদেশ সীমান্তে নজরদারি জোরদার করেছে ভারত। 

তবে ভারতের পশ্চিমবঙ্গ সীমান্তবর্তী এলাকায় বাংলাদেশ ড্রোন মোতায়েন করেছে বলে যে দাবি করা হয়েছে, সেটা হাস্যকর ও ভিত্তিহীন বলে জানান এদেশের গোয়েন্দা কর্মকর্তারা। খবরটিকে ‘মিথ্যা ও বানোয়াট’ হিসেবে অভিহিত করেছে প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইংও। গতকাল দুপুরে প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইংয়ের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে বলা হয়েছে, সীমান্তে ড্রোন মোতায়েনের খবরটি ভুয়া ও বানোয়াট। প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের একজন মুখপাত্র বলেছেন, বাংলাদেশ তার রুটিন কার্যক্রম ছাড়া দেশের কোনো অংশে কোনো ড্রোন মোতায়েন করেনি।

বাংলাদেশে সংখ্যালঘু নির্যাতন নিয়ে হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের একটি প্রতিবেদনকেও ‘পরিকল্পিত এবং অতিরঞ্জিত’ বলে মন্তব্য করেছেন শফিকুল আলম। 

তিনি বলেন, ‘এই অতিরঞ্জিত প্রতিবেদন আন্তর্জাতিক মঞ্চে বাংলাদেশকে অন্যায়ভাবে চিত্রিত করছে। আমি বিশ্বের স্বাধীন সংবাদপত্র ও অধিকার গোষ্ঠীগুলোর প্রতি আহ্বান জানাই, আপনারা বাংলাদেশে আসুন এবং নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করে দেখুন।’

তিনি আরও বলেন, ‘বাংলাদেশের বিরুদ্ধে যেভাবে অপপ্রচার করা হচ্ছে তা অত্যন্ত গুরুতর। আমরা আশা করি, শীর্ষ ধর্মনিরপেক্ষ এবং উদারপন্থি সংবাদপত্রগুলো কাউন্সিল দ্বারা প্রকাশিত বিভ্রান্তিকর প্রতিবেদনকে বিশ্বাস না করে তারা নিজেরা তদন্ত করবেন।’ 

এদিকে কাল সোমবার দুই দেশের ফরেন অফিস কনসালটেশনে (এফওসি) যোগ দিতে ঢাকায় আসছেন ভারতের পররাষ্ট্র সচিব বিক্রম মিশ্রি। এ বৈঠকে দুদেশের দ্বিপক্ষীয় বিষয়গুলো পর্যালোচনা, রাজনৈতিক বোঝাপড়া, ভারতে বসে শেখ হাসিনার তৎপরতা, ভিসার জট খোলা, সীমান্ত হত্যা, অভিন্ন নদীর পানিবণ্টন, ভারত থেকে নিত্যপণ্য আমদানি এবং বাংলাদেশ থেকে দেশটিতে রপ্তানির নানা বাধা সরানোসহ বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা হতে পারে। বৈঠকে ভারতীয় গণমাধ্যমে বাংলাদেশবিরোধী অপপ্রচার নিয়েও কথা উঠবে বলে মনে করা হচ্ছে। আলোচনাক্রমে উভয়দেশের পক্ষ থেকে এই জটিল বিষয়টির সমাধানও বেরিয়ে আসতে পারে।

শেয়ার করুন-

মন্তব্য করুন

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মারুফ কামাল খান

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮১০, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০ | ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০, +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮০৭, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৩৩২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা