× ই-পেপার প্রচ্ছদ সর্বশেষ বাংলাদেশ রাজনীতি দেশজুড়ে বিশ্বজুড়ে বাণিজ্য খেলা বিনোদন মতামত চাকরি শিক্ষা আজকের কার্টুন ফিচার সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

আমদানিনির্ভর নীতিতে সংকটে বিদ্যুৎ খাত

দীপক দেব

প্রকাশ : ১১ নভেম্বর ২০২৪ ০৯:০৮ এএম

গ্রাফিক্স : প্রবা

গ্রাফিক্স : প্রবা

ফের সংকটে পড়েছে দেশের বিদ্যুৎ খাত। প্রয়োজনীয় গ্যাস ও কয়লা আমদানি করতে না পারায় এবং বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোর বকেয়া পরিশোধ না হওয়ায় বন্ধ থাকছে অনেক বিদ্যুৎকেন্দ্র। ফলে শীত মৌসুম শুরুর আগে বিদ্যুতের চাহিদা অপেক্ষাকৃত কম থাকলেও লোডশেডিং করতে হচ্ছে। বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমদানিনির্ভর জ্বালানি নীতির ভুল পন্থার জন্য এ খাতের এমন অবস্থা সৃষ্টি হয়েছে বলে মনে করছেন জ্বালানি বিশেষজ্ঞরা। তাদের মতে, যেভাবে এই খাত গড়ে তোলা হয়েছে, তাতে চলমান সংকট কাটবে না। অন্য দেশের ওপর নির্ভর করে একটি খাত এভাবে চলতে পারে না। তেল-গ্যাস-খনিজ সম্পদ ও বিদ্যুৎ-বন্দর রক্ষা জাতীয় কমিটি ২০১৭ সালে জ্বালানি ও বিদ্যুতের যে মহাপরিকল্পনা করেছিল, সে অনুযায়ী প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়ার প্রস্তাবও এ ক্ষেত্রে বিবেচনা করা যেতে পারে। 

এদিকে, বিগত আওয়ামী লীগ আমলে করা এলএনজি সরবরাহকারী কেম্পানির তালিকা নিয়ে বিতর্ক দেখা দিয়েছে। এলএনজি আমদানিকারী কোম্পানির তালিকা তৈরি করতে আজ রবিবার উন্মুক্ত দরপত্র আহ্বান করছে সরকার।

প্রসঙ্গত, গত আওয়ামী লীগ সরকার জ্বালানির প্রাথমিক উৎস নিশ্চিত না করেই একের পর এক বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপন করেছিল। দেশে বর্তমানে বিদ্যুৎ উৎপাদনের সক্ষমতা কাগজে-কলমে প্রায় ২৬ হাজার মেগাওয়াট। অথচ বর্তমানে সর্বোচ্চ চাহিদার ১৩ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন করাও সম্ভব হচ্ছে না। অন্যদিকে আসন্ন শীত মৌসুমের শুরুতেই তুলনামূলকভাবে বিদ্যুতের চাহিদা কম থাকলেও গত কয়েক দিন ঘণ্টায় সর্বোচ্চ ৭০০ মেগাওয়াট লোডশেডিং করতে হয়েছে। বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (বিপিডিবি) হিসেবে গত শনিবার দেশে বিদ্যুতের চাহিদা ছিল ১২ হাজার মেগাওয়াট। অন্যদিকে গত শুক্রবার ১২ হাজার মেগাওয়াটের বিপরীতে বিদ্যুৎ উৎপাদন হয়েছিল ১০ হাজার ৮৯৯ মেগাওয়াট। সেই হিসেবে প্রায় ১০০০ মেগাওয়াটের বেশি লোডশেডিং ছিল। 

এই অবস্থায় নতুন করে সংকট সৃষ্টি হয়েছে আদানির বিদ্যুৎ আমদানি নিয়ে। ভারতের ঝাড়খণ্ডের গড্ডায় ১৬০০ মেগাওয়াট ক্ষমতার কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের দুটি ইউনিট থেকে বাংলাদেশে বিদ্যুৎ সরবরাহ করছিল আদানি পাওয়ার। গত আগস্টের শুরুতেও তারা ১৪০০-১৫০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ দিয়েছে। গত ৩১ অক্টোবর প্রতিষ্ঠানটি ঘোষণা দেয় যে, প্রায় ৮৫ কোটি ডলারের বকেয়া নিষ্পত্তির সুরাহা না হলে আদানি পাওয়ার ৭ নভেম্বর থেকে বাংলাদেশে বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ করে দেবে। এর পর নির্ধারিত সময়ে বকেয়া না পাওয়ায় একটি ইউনিটের বিদ্যুৎ উৎপাদন বন্ধ করে দেওয়া হয় প্রতিষ্ঠানটি থেকে। বকেয়া পাওনা নিয়ে টানাপড়েনের মধ্যে উৎপাদন ৭০০–৭৫০ মেগাওয়াটে নামিয়েও আনে আদানি। এই অবস্থায় বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড সরবরাহ নিশ্চিত করার জন্য আদানি পাওয়ারকে ১৭৩ মিলিয়ন ডলারের (২ হাজার ৬১ কোটি টাকার বেশি) একটি নতুন লেটার অব ক্রেডিট (এলসি) জারি করেছে। কিন্তু বকেয়া পরিশোধের পরও গত বৃহস্পতিবার রাতে আদানি পাওয়ার থেকে প্রাপ্ত বিদ্যুতের পরিমাণ প্রায় ৫২০ মেগাওয়াটে নেমে এসেছে।

এ প্রসঙ্গে জ্বালানি বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ড. এজাজ হোসাইন বলেন, ‘আমরা যে পথে চলছি তাতে ২০৩০ সাল নাগাদ বিদ্যুতের জন্য প্রয়োজনীয় জ্বালানির ৯২ ভাগ আমদানি করতে হবে। এতে ডলারের ওপর চাপ অনেক বেড়ে যাবে।’ তিনি বলেন, ‘আমাদের গ্যাস আছে, কিন্তু উত্তোলন করছি না, আবার কয়লাও নানা কারণে উত্তোলন করা যাচ্ছে না। এ ছাড়া আমরা সরাসরি বিদ্যুৎ আমদানিও করছি। ফলে বিদ্যুৎ খাত বলতে গেলে পরনির্ভরশীল। এটা অব্যাহত থাকলে এই সংকট থাকবেই। আবার আমরা যে বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলো নির্মাণ করেছি, তা অপরিকল্পিত। সেগুলো বসিয়ে বসিয়ে ক্যাপাসিটি চার্জ দিতে হচ্ছে। আদানির সঙ্গে চুক্তির সময়ও আমরা দক্ষতার পরিচয় দিতে পারিনি। ফলে এখন আমরা সেটা নিয়ে ভুগছি।’

জ্বালানি সংকট বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোতে

এদিকে পর্যবেক্ষকরা বলছেন, বাংলাদেশের বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলো আগে থেকেই জ্বালানি সংকটে আছে। দেশে ছোট-বড় মিলিয়ে মোট ১৪৪টি বিদ্যুৎকেন্দ্র আছে। তবে এর মধ্যে বেশ কিছু কেন্দ্র মেরামতের জন্য বন্ধ আছে। জ্বালানির অভাবেও বন্ধ আছে বড় বড় কেন্দ্র। এর মধ্যে ১,১৫০ মেগাওয়াট সক্ষমতার মাতারবাড়ী কয়লাভিত্তিক কেন্দ্রটি কয়লা সংকটের কারণে পুরোপুরি বন্ধ রয়েছে। কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র রামপাল ও এস আলম গ্রুপের এসএস পাওয়ারের একটি করে ইউনিট কয়লার অভাবে বন্ধ রয়েছে। রামপালে ১,২৩৪ মেগাওয়াট সক্ষমতার কেন্দ্রটির সরবরাহ অর্ধেকে নেমেছে। ১,২২৪ মেগাওয়াট সক্ষমতার এসএস পাওয়ারের গড় উৎপাদন ৬১২ মেগাওয়াট। গ্যাস সংকটে মোট ২২টি বিদ্যুৎকেন্দ্র পুরোপুরি বা আংশিক বন্ধ রয়েছে। জ্বালানি তেলের সংকটে ২৭টি ফার্নেস অয়েল ও ডিজেলচালিত কেন্দ্র পুরোপুরি বা আংশিক বন্ধ রয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে নভেম্বরে কম চাহিদার সময়েও দেশে লোডশেডিং করতে হচ্ছে। ভারতের আদানি পাওয়ার সম্প্রতি যে আচরণ শুরু করেছে, তাতে বিদ্যুৎ খাতে সংকট আরও ঘনীভূত হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এরই মধ্যে দেশের বিভিন্ন বিভাগীয় ও জেলা শহরসহ গ্রামাঞ্চলে লোডশেডিংয়ের তথ্য পাওয়া যাচ্ছে।

‘উৎপাদন ঘাটতি নেই, সিস্টেমের কারণে লোডশেডিং’ 

বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের পরিচালক মোহাম্মদ শামীম হাসান বলেন, ‘আসলে এখন উৎপাদনে তেমন ঘাটতি নেই। তবে যে লোডশেডিং হচ্ছে তা সিস্টেমের কারণে আর সামনে শীতকাল আসছে। তখন বিদ্যুতের চাহিদা কমে যাবে। তবে এই পরিস্থিতি থাকলে গরমের সময় সমস্যা হবে।’ 

শামীম হাসান বলেন, ‘এখন গ্যাসের সংকট আছে। কয়লার সংকটও আছে। এলএনজিও পর্যাপ্ত পাওয়া যায় না। কয়লার সংকটের কারণে বড় বড় বিদ্যুৎকেন্দ্র বন্ধ আছে। আদানির বিদ্যুৎ এখন অর্ধেকে নেমে এসেছে।’ এদিকে শীতকাল আসছে। বিদ্যুতের চাহিদা কমছে। কিন্তু এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে গরমকালে সমস্যা হবে।’

প্রসঙ্গত, বাংলাদেশে গরমের সময় বিদ্যুতের চাহিদা থাকে ১৭,০০০ মেগাওয়াটের বেশি। আর শীতের সময় ৯০০০ মেগাওয়াটে নেমে যায়। কিন্তু মূল সমস্যা হলো, উৎপাদনের সক্ষমতা থাকলেও বাংলাদেশের বিদ্যুৎ উৎপাদনের প্রয়োজনীয় কাঁচামাল নেই।

কয়লা সরবরাহ স্বাভাবিক পর্যায়ে নেই 

এদিকে বর্তমানে কয়লা থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতা এখন ৭ হাজার মেগাওয়াটের বেশি। অথচ উৎপাদন হচ্ছে তিন হাজার মেগাওয়াটের কম। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, বকেয়া বিদ্যুৎ বিল, ডলারের সংকট ও দরপত্র জটিলতায় কয়লা সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে পারছে না বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলো। এতে সাতটি কয়লা বিদ্যুৎকেন্দ্রের দুটিই পুরোপুরি বন্ধ আছে। আর চারটিতে উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে। পরিবেশবাদীদের আপত্তি থাকলেও সস্তায় বিদ্যুৎ উৎপাদনের কথা বলে কয়লাচালিত বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণের পথে পা বাড়ায় সাবেক আওয়ামী লীগ সরকার। কিন্তু সময়মতো এসব কেন্দ্র উৎপাদনে আসেনি। আবার উৎপাদনে আসার পর নিয়মিত বিল পরিশোধও করতে পারেনি বিদ্যুৎ বিভাগ। বকেয়া বিল জমতে থাকায় এসব কেন্দ্র চাপে পড়েছে। ধাপে ধাপে বিল পরিশোধ বাড়াচ্ছে অন্তর্বর্তী সরকার।

এদিকে বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (পিডিবি) সূত্র বলছে, তাপমাত্রা একটু কম থাকায় এখন বিদ্যুৎ চাহিদা তুলনামূলক কম। রাতে সর্বোচ্চ চাহিদা হচ্ছে ১৩ হাজার মেগাওয়াট। কয়লা থেকে উৎপাদন কমে যাওয়ায় বাড়তি খরচে জ্বালানি তেলচালিত বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে বাড়তি উৎপাদনের চেষ্টা করা হচ্ছে। এতেও চাহিদা মেটানো যাচ্ছে না। বাধ্য হয়ে ঢাকার বাইরে অনেক জায়গায় লোডশেডিং করতে হচ্ছে।

নতুন তালিকা করা হচ্ছে এলএনজি সরবরাহকারীদের 

অভিযোগ রয়েছে, আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে করা তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) সরবরাহকারীদের তালিকা নিয়ে নানা অনিয়ম ও বিতর্ক রয়েছে। এ কারণে নতুন করে তালিকা তৈরি করতে দরপত্র আহ্বান করছে অন্তর্বর্তী সরকার। মূলত দুইভাবে এলএনজি আমদানি করা হয়। একদিকে আমদানি করা হয় মধ্যপ্রাচ্যের দেশ ওমান ও কাতার থেকে সরকারি পর্যায়ে চুক্তির আওতায় দীর্ঘ মেয়াদে আর অন্যদিকে চাহিদা বুঝে তালিকায় থাকা কোম্পানির কাছ থেকে দর নিয়ে খোলাবাজার থেকে। খোলাবাজার থেকে এলএনজি সরবরাহকারী কোম্পানির তালিকা তৈরি করতে আজ রবিবার উন্মুক্ত দরপত্র আহ্বান করছে সরকার। 

পেট্রোবাংলা ও আরপিজিসিএলের দায়িত্বশীল কর্মকর্তারা বলছেন, প্রতিবার এলএনজি কিনতে উন্মুক্ত দরপত্র করার সুযোগ নেই। তাই যাদের সঙ্গে ক্রয়-বিক্রয় চুক্তি আছে, তাদের থেকেই দর নিতে হয়। এলএনজি জরুরি পণ্য, তাই আমদানি বন্ধ না করে আগের সরকারের করা তালিকার কোম্পানি থেকে দর নিয়ে এলএনজি কেনা হয়েছে। তবে নতুন দরপত্রের পর প্রতিযোগিতার মাধ্যমে কোম্পানি চূড়ান্ত করা হবে।

নিজেদের সক্ষমতা বাড়াতে হবে : আনু মুহাম্মদ

বিদ্যুতের সমস্যা সমাধানে গ্যাস অনুসন্ধান ও উত্তোলনে নিজেদের সক্ষমতা বাড়ানোর ওপর জোর দিয়ে তেল-গ্যাস-খনিজ সম্পদ ও বিদ্যুৎ-বন্দর রক্ষা জাতীয় কমিটির সাবেক সদস্য সচিব অর্থনীতিবিদ অধ্যাপক আনু মুহাম্মদ বলেন, বিদেশি কোম্পানির সঙ্গে কোনো চুক্তি করা যাবে না। রামপাল-রূপপুরের মতো ভয়াবহ প্রকল্পগুলো বাতিলের প্রক্রিয়া শুরু করতে হবে। জাতীয় কমিটি ২০১৭ সালে জ্বালানি ও বিদ্যুতের ক্ষেত্রে একটি মহাপরিকল্পনা গ্রহণ করেছিল। সে অনুযায়ী প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নিতে হবে। 

জাতীয় কমিটির সাবেক এই সদস্য সচিব অভিযোগ করে বলেন, ‘ক্ষমতায় টিকে থাকতে (আওয়ামী লীগ সরকার) জ্বালানি ও বিদ্যুৎ খাতে বেশ কিছু সর্বনাশা চুক্তি করেছে। দেশের কিছু ব্যবসায়ী গোষ্ঠীকে সুবিধা ও অন্য দেশকে খুশি করতে এসব চুক্তি হয়েছে। আর এসব চুক্তির সুবাদে হাজার হাজার কোটি টাকা লুটপাট হয়েছে। অথচ নিজেদের গ্যাস অনুসন্ধান এবং উত্তোলনে মনোযোগ দেওয়া হয়নি।

শিগগির বিদ্যুৎ আসবে নেপাল থেকে

জলবিদ্যুৎ প্রকল্পগুলোকে ত্বরান্বিত করতে সম্মত হয়েছে ভারত ও নেপাল। ফলে ভারত হয়ে শিগগির বাংলাদেশে আসছে নেপালের বিদ্যুৎ। সম্প্রতি ভারতের সংবাদমাধ্যম দ্য প্রিন্টের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে। ওই প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বাংলাদেশে ৪০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ রপ্তানিতে নেপাল ভারতের অনুমতি চেয়েছে। কেননা দেশটির ভূখণ্ড ব্যবহার করে বাংলাদেশে বিদ্যুৎ রপ্তানি করতে হবে। নেপালের এ আহ্বানে ভারত সাড়া দিয়েছে। ফলে শিগগির ভারত হয়ে নেপালের বিদ্যুৎ বাংলাদেশে রপ্তানির অনুমতি মিলবে। এরই মধ্যে গত ৩ থেকে ৬ নভেম্বর নেপালের জ্বালানি ও পানিসম্পদমন্ত্রী দীপক খাড়কা ভারত সফর করেছেন। এ সময় তিনি ভারতের বিদ্যুৎমন্ত্রী মনোহর লাল খাট্টার ও পানিসম্পদমন্ত্রী সি আর পাতিলের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। সাক্ষাতে জ্বালানি, পানিসম্পদ এবং সেচ খাতে সহযোগিতার অগ্রগতি নিয়ে তারা আলোচনা করেছেন। পাশাপাশি বাংলাদেশে বিদ্যুৎ রপ্তানিতে ভারতের সহযোগিতার বিষয়েও আলোচনা করেন তারা।

সফর শেষে দেশে ফিরে নেপালের কাঠমান্ডুর ত্রিভুবন আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন দীপক খাড়কা। এ সময় তিনি বলেন, ‘ত্রিপক্ষীয় চুক্তি অনুসারে বাংলাদেশে ৪০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ রপ্তানির জন্য ভারতীয় ট্রান্সমিশন লাইন ব্যবহারের অনুমতি চাওয়া হয়েছে।’

উল্লেখ্য, দ্য প্রিন্টে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বাংলাদেশ সরকারের কাছ থেকে নেপাল ভারতের মাধ্যমে ১৫ জুলাই থেকে ১৫ নভেম্বর পর্যন্ত পাঁচ মাস ৪০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ রপ্তানির অনুমতি চেয়েছে। ফলে নেপালকে এ বিদ্যুৎ রপ্তানির জন্য ভারতের সঞ্চালন লাইন ব্যবহার করতে হবে। এ বিষয়ে মন্ত্রী বলেন, ‘নেপালের অনুরোধে ভারত ইতিবাচক সাড়া দিয়েছে। তারা দ্রুত অনুমতির আশ্বাস দিয়েছে।’

শেয়ার করুন-

মন্তব্য করুন

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মারুফ কামাল খান

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮১০, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০ | ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০, +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮০৭, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৩৩২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা