প্রবা প্রতিবেদন
প্রকাশ : ২১ নভেম্বর ২০২২ ২১:১৫ পিএম
আপডেট : ২১ নভেম্বর ২০২২ ২১:৪০ পিএম
বে অব বেঙ্গল কনভারসেশনে বক্তব্য দিচ্ছেন সার্বিয়ার সাবেক প্রেসিডেন্ট বরিস টাডিক। ছবি : প্রবা
ঢাকায় শুরু হয়েছে তিন দিনের ‘বে অব বেঙ্গল কনভারসেশন’। সংকটের সময় আঞ্চলিক সহযোগিতা, কানেকটিভিটি ও স্থিতিশীলতার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।
বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর গভর্ন্যান্স স্টাডিজের (সিজিএসস) উদ্যোগে সোমবার (২১ নভেম্বর) সকালে রাজধানীর সোনারগাঁও হোটেলে এই আয়োজন করা হয়।
অনুষ্ঠানে বিশেষ বক্তা হিসেবে অংশ নিয়েছেন সার্বিয়ার সাবেক প্রেসিডেন্ট বরিস টাডিক। সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের বিশেষ ফেলো ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য, ঢাকায় নিযুক্ত যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত পিটার ডি হাস, যুক্তেরাজ্যের হাইকমিশনার রবার্ট চ্যাটারসন ডিকসন, জাপানের রাষ্ট্রদূত ইতো নাওকি, অস্ট্রেলিয়ার হাইকমিশনার জেরেমি ব্রুয়ার, অস্ট্রেলিয়ার কার্টিন ইউনিভার্সিটির ড. আসিফ ইকবাল, পাকিস্তানের সাবেক পররাষ্ট্রসচিব আইজাজ আহমেদ চৌধুরী, সিজিএসের চেয়ারম্যান মনজুর এ চৌধুরী, নির্বাহী পরিচালক জিল্লুর রহমান অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন। সঞ্চালনা করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক সায়মা হক।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য বলেন, একটা সংকটময় সময়ে আঞ্চলিক সহযোগিতা ও কানেকটিভিভিটির ওপর সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতে হবে। বিশেষ করে সমুদ্রভিত্তিক সুনীল অর্থনীতি সংযুক্তির বিষয়ে বেশি গুরুত্ব দিতে হবে।
যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত বলেন, ইন্দো-প্যাসিফিকে যা কিছুই হয় সেটা সারা বিশ্বে প্রভাব ফেলে। এ অঞ্চলকে তিনি সবচেয়ে গতিময় অঞ্চল উল্লেখ করে বলেন, ‘এ অঞ্চলে এখন দুই ধরনের চ্যালেঞ্জ রয়েছে। কর্তৃত্ববাদী সরকারগুলোর উত্থান এবং জলবায়ু পরিবর্তন।’
যুক্তরাষ্ট্র এ অঞ্চলের দেশগুলোকে কোনো পক্ষ নিতে জোর করছে না। বরং যুক্তরাষ্ট্র নিজ দেশে এবং সারা বিশ্বে মানবাধিকার রক্ষায় কাজ করে যাচ্ছে এবং যাবে। গণতন্ত্রের চ্যাম্পিয়ন হতে চাই—এটা বলতে যুক্তরাষ্ট্রের কোনো লজ্জা নেই।’
কোভিড-১৯ মোকাবেলায় বাংলাদেশ সরকারের ভূমিকার প্রশংসা করেন তিনি।
ইউক্রেনের ওপর রাশিয়ার হামলার প্রভাব থেকে বাংলাদেশও মুক্ত নয় বলে স্মরণ করিয়ে দেন মার্কিন রাষ্ট্রদূত। তিনি বলেন, সারা বিশ্বের উন্নতির জন্য যুক্তরাষ্ট্র ও চীনকে একসাথে কাজ করতে হবে।
ব্রিটিশ হাইকমিশনার বলেন, পরবর্তী দশকগুলোতে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ধরে রাখতে এবং বিদেশি বিনিয়োগকারীদের আকৃষ্ট করতে গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে শক্তিশালী করতে হবে। এ কারণে আগামী বছর বাংলাদেশে অনুষ্ঠিতব্য জাতীয় নির্বাচন সুষ্ঠু এবং স্বচ্ছ হওয়ার বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ। যুক্তরাজ্য বাংলাদেশের তৃতীয় বৃহত্তম রপ্তানি বাজার উল্লেখ করে তিনি জাতিসংঘে ভোটাভুটিতে বাংলাদেশ ইউক্রেনের পক্ষে ভোট দেওয়ায় সাধুবাদ জানান।
জাপানের রাষ্ট্রদূত ইতো নাওকি বলেন, জাপান তিনটি বিষয়কে সব সয় গুরুত্ব দেয়। এ তিনটি বিষয় হচ্ছে গণতন্ত্র, অর্থনীতি এবং শান্তি ও স্থিতিশীলতা। অস্ট্রেলিয়ার হাইকমিশনার তার বক্তব্যে অবাধ ও মুক্ত ইন্দো-প্যাসিফিকের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।