মুনীরা খান
প্রকাশ : ২৪ জুলাই ২০২৪ ১১:৫৪ এএম
আপডেট : ২৪ জুলাই ২০২৪ ১২:০০ পিএম
কোটা সংস্কারে উচ্চ আদালতের রায়ের পরিপ্রেক্ষিতে পরিপত্র জারি- এই দুটি বিষয়কেই স্বাগত জানাই। তবে কোটার বিষয়ে সরকারের হাতে কোটা বাড়ানো-কমানো এবং বাতিলের সুযোগ রয়েছে। আমাদের সমাজে বৈষম্যের ছায়া এখনও প্রলম্বিত। আমি মনে করি, এই পরিপ্রেক্ষিতে নারীর জন্য কোটা দরকার। যেখানে মেধার প্রয়োজন আছে, সেখানে অবশ্যই মেধাভিত্তিক নিয়োগ প্রত্যাশা করি। সব খাতে কিন্তু মেধার প্রয়োজন নেই। তবে যেহেতু আমাদের সমাজে পরিবার থেকে শুরু করে প্রায় সর্বত্র নারী-পুরুষের মধ্যে অধিকারের ক্ষেত্রে দৃষ্টিভঙ্গিগত ব্যবধান দৃশ্যমান, সেখানে নারীর জন্য কোটার বিষয়টি এড়িয়ে যাওয়ার নয়। আমি মনে করি যতদিন বৈষম্য থাকবে ততদিন নারীর জন্য কোটা সংরক্ষণ আবশ্যক।
যে ঘটনা ঘটে গেছে কিংবা এখনও যার রেশ রয়ে গেছে তা অনাকাঙ্ক্ষিত-অনভিপ্রেত এবং অত্যন্ত মর্মস্পর্শী। এই ঘটনার দায় সরকার এড়াতে পারে না। সংশ্লিষ্ট অন্য পক্ষগুলোরও দায় এড়ানোর সুযোগ নেই। আমি মনে করি, সরকারের খতিয়ে দেখা উচিত জননিরাপত্তা ও জনসম্পদ সুরক্ষার ক্ষেত্রে সরকারের দায়িত্বশীল সংস্থাগুলোর কোথায় ঘাটতি ছিল। এত সব রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা ধ্বংস করে দেওয়া হলো অথচ আমাদের গোয়েন্দারা তা আগাম জানতে পারলেন না, এটা বিস্ময়কর। আমি একজন নাগরিক হিসেবে নিরাপত্তা সরকারের কাছেই চাইব। কেউ যদি নাশকতামূলক ঘটনার প্রস্তুতি নিয়ে থাকে কিংবা ঘটায় তার সবকিছু প্রতিহত করার দায়-দায়িত্ব সর্বাগ্রে সরকারের।
সরকারের দায়িত্বশীল সংস্থাগুলো আমার মনে হয় না যথাযথভাবে দায়িত্ব পালন করতে পেরেছে। সবকিছু মিলিয়ে পুরো ঘটনার রহস্য উদঘাটন সরকারকেই করতে হবে। আমরা প্রকৃত সত্য জানতে চাই। এক পক্ষ আরেক পক্ষের ওপর দোষারোপ করবে আর নাগরিকরা অসহায় অবস্থায় অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার শিকার হবে, তা হতে পারে না। আমি মনে করি, গোয়েন্দা সংস্থাসহ জননিরাপত্তায় নিয়োজিত দায়িত্বশীল প্রত্যেকটি সংস্থাকে ঢেলে সাজানো উচিত এবং জবাবদিহি নিশ্চিত করা প্রয়োজন। শুধু বলা হবে ষড়যন্ত্র হচ্ছে, অথচ ষড়যন্ত্রের প্রকৃত রহস্য উন্মোচন করা যাবে না কিংবা দোষারোপের ওপর দিয়ে সবকিছু চলে যাবে, তা হতে পারে না। যদি তাই হয়, তাহলে এত সব সংস্থার কাজ কী?
আমি আরও মনে করি, সর্বাগ্রে সুনীতির অনুশীলন ও প্রতিপালন জরুরি। সুনীতির প্রতিফলন ঘটলে সুশাসন এমনিতেই নিশ্চিত হবে। আর সুশাসন নিশ্চিত হলে জননিরাপত্তাসহ নেতিবাচক কোনো কিছুর জন্যই আমাদের উদ্বেগ-উৎকণ্ঠার মধ্যে থাকতে হবে না। নাশকতা কিংবা জননিরাপত্তাজনিত বিঘ্ন যে পক্ষের দ্বারাই ঘটুক না কেন তাদের চিহ্নিত করে দ্রুত বিচার নিশ্চিত করতে হবে।